সূরাতুল ফাতিহার তাফসীর
কওমি মাদ্রাসায় কেন পড়বো
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ-- "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছন।"
আল্লাহ বাস্তুল আলামিনের শাহী দরবারে অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। এবং আকায়ে নামদার তাজেদারে মদিনা, মাহবুবে কিবরিয়া, জিগার গোশায়ে আমেনা রহমাতুল্লিল আলামিন, রাহমাতুল্লিল আলামিন, মুরাদুল মুস্তাকীন, হাদিয়ে সুবুল, সাইয়েদে উলদে আদম, মুহাম্মাদে আরবী মক্কী, মাদানী, হাশেমী, মুত্তালবী (সা.) এর খেদমতে লাখো কোটি দরুদ ও সালাম এর হাদিয়া, যার আদর্শ আর তরীকার মধ্যে রয়েছে মানব জাতীর জন্য দুনিয়া এবং আখেরাতের কামিয়াবি আর সফলতা। আমি আপনাদের খেদমতে সূরা তাওবার ১১১ নং আয়াত তেলাওয়াত করেছি। এই আয়াতের আলোকে আল্লাহ পাক যতদুর বলার তৌফিক দান করেন, ততটুকু বলা
কুরআন শরীফের প্রতিটা আয়াত প্রতিটা সুরা নাফিল হওয়ার একটা প্রেক্ষাপট আছে, যাকে বলা হয় শানে নুফুল, আমি যেই আয়াতে কারিমা তেলাওয়াত করেছি, এই আয়াত কখন কোন জায়গায়, কোন প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে সেই আলোচনায় আজকে করব। নবীজি নবুওয়াত প্রাপ্ত হওয়ার ১১ তম বছর মদিনা শরীফ থেকে ৬জন লোক এসেছে মক্কা শরীফে হজ্ব করার জন্য, এরা কেন এসেছে? হজ্ব করার জন্য এরা হজ্ব করবে কার নামে? তৎকালীন সময় এরা ছিল মদিনার কাফের, এরা হজ্জ করে লাত, মানাত, জ্জা, মুর্তির নামে, হুবলের নামে, আমরা এবাদত করি কার নামে? আমরা বলতে আমাদের এই যুলের লোকেরা, আল্লাহর নামে। আপনারা বলছেন আল্লাহ অথচ আমি দেখতেছি কেহ করে মায়ের নামে, আর কেহ করে বাবার নামে, আমাদের চার পাশে যত হিন্দু আছে তারা করে মায়ের নামে, মা দুর্গ দুর্গা মা কালি, মা সরস্বতী, মা লক্ষী, মা মনীষা, মা নারায়ন, মা গরু , গরু হিন্দুদের কি? মা। বলেন গরু যদি মা হয়, বাবা কে? ষাড় না গরু? ষাড় হোক, গাভী হোক, বলদ হোক গরুর জাতটাই তাদের মা। তাহলে বাবা কই?
আমি বলি বাবা তারা পাবে কই , বাবা যত আছে সব আমাদের। বাবা ভান্ডারী, বাবা আটরশী, বাবা দেওয়ান বাগী, বাবা রাজারবাগী, বাবা কুতুব বাগী, বাবা সুরেশ্বরী, বাবা চন্দ্রপাড়া, বাবা এনায়েতপুরী, বাবা সুন্দগঞ্জী, বাবা তালা, বাবা সালা, বাবা গাধা, বাবা ঘোড়া, বাবা বদনা, বাবা কেল্লা, বাবা বালু, বাবা লালু, বাবা লেংটু। হাসবেন না, মা পুজারী হিন্দুরা যেমন জাহান্নামী, বাবা পুজারী মুসলমানরাও জাহান্নামী। পুজা তথা সেজদা পাবে কেবল মাত্র আল্লাহ। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা যত বেশী হোক, যত বড় হোক গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন, কিন্তু শিরক ক্ষমা করবেন না। কেন? আল্লাহ বলেন আমি কেন শিরক ক্ষমা করবো? তুমিতো করনা। তুমি বান্দা হয়ে শিরক ক্ষমা করনা, আমি আল্লাহ হয়ে কেন শিরক ক্ষমা করবো? তুমি গোলাম হয়ে কেন শিরক ক্ষমা করনা, আমি মালিক হয়ে কেন শিরক ক্ষমা করবো, আমরা কি শিরক করি?
ধরেন আপনি বাড়ীতে গেলেন খেতে বসলেন তরকারিতে এতো লবন, খাওয়ার উপায় নাই। চোখ রাঙ্গাইয়া বিবিকে জিজ্ঞেস করলন, রান্না করার সময় তোমার মন কোথায় থাকে? হিসাব করে লবন মরিচ পারো না? এতো লবন হলে কি খাওয়া যায়? বউ ক্ষমা করে দাও, আমি যখন রান্না শুরু করেছি, হঠাৎ বাবু ঘুম থেকে উঠে কান্না শুরু করছে ৪/৫ মাসের বাবু, ওকে সামলাতে গেলাম আগে যে লবন দিয়ে ছিলাম ভুলে গিয়েছে, আর কোন দিন এমনটা হবেনা, আমাকে ক্ষমা করে দাও। বলেন স্বামী যদি ভদ্র মানুষ হয়, বিবির এ অন্যায় ক্ষমা করবে কিনা? হায় আল্লাহ সিমিত কিছু মানুষ বলছে আর সব এখানে জালেম, বউকে এরা ক্ষমা করতে রাজি নাই। বলেন স্বামী যদি ভদ্র মানুষ হয় বউয়ের এতটুকু অন্যায় ক্ষমা করবে কিনা? করবে মাশাআল্লাহ। আরেক দিন স্বামী বাজার থেকে রাত ১২টায় বাড়ীতে গেলে ঘরের দরজায় আওয়াজ দিলো, বিবি দরজা খুলে দিলো, দেখা গেল পাশের বাড়ীর এক বখাটে যুবক ঘর থেকে বের হয়ে গেল, স্বামী গর্জন জিজ্ঞেস করল, আমার অনুপস্থিতিতে যুবক এই ঘরে কেন? স্ত্রী বলে তুমি নাই একা একা ভাল লাগছিলোনা, ওকে এনে সাথে রেখেছি আর রাখব না ক্ষমা করে দাও, বলেন স্বামী ক্ষমা করবে? না। কেন আগেরটা তো ক্ষমা করছে? আগেরটা ছিলো ভুল, পৃথিবীর যেই কোন স্বামীর অধিকারের মধ্যে শরীক, স্ত্রীর সাথে থাকা স্বামীর একক অধিকার, দুনয়িার কোন স্ত্রী যদি সেই একক অধিকারের মধ্যে পর পুরুষকে শরীক করে পৃথিবীর কোন রুচিশীল স্বামী ক্ষমা করতে পারে না। আল্লাহ বলেন বান্দা, ঠিক তেমনী ভাবে সেজদা পাওয়া আমি আল্লাহর একক অধিকার, কেহ যদি এই একক অধিকারের মধ্যে মা অথবা বাবাকে শরীক করে, দেবদেবী কে শরীক করে, আমি আল্লাহ ক্ষমা করতে পারিনা। আল্লাহ আমাদেরকে শিরক ত্যাগ করার তৌফিক দান করেন, বলি আমিন। আপাতত এর বেশী এই লাইনে বলার সুযোগ হাতে নাই।
মদিনা হতে কতজন এসেছে? ৬জন। মদিনার এই ৬ জনের সাথে নবীজির দেখা, নবীজির সঙ্গে কিছুক্ষন কথা বলার পর, নবীজির ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে এই ৬জন মুসলমান হয়ে গেল এবং এই ৬জন হল মদিনায় প্রথম মুসলমান, এর আগে মদিনায় কোন মুসলমান ছিলো না। এই ৬জন নবীজির দোয়া নিয়ে মদিনায় গিয়ে অতি গোপনে ১ বছর দাওয়াতি কাজ করে নতুন মুসলমান বানালো ৭জন। পরের বছর নতুন ৭জন, পুরাতন ৬জন থেকে ৫জন, ৭+৫=১২ জন। এই ১২জনে পরের বছর আবারো মক্কায় আসলো।
নবীজির নবুওয়াতের বারোতম বছর, মিনায় আকাবা নামক একটা জায়গা আছে, সেই জায়গায় অতি গোপনে গভীর রাতে নবীজি তাদের কাছে আসলো এবং তারা নবীজির হাতে বায়াত হল। এক দল বলে বাইয়াত নাই। বাইয়াত আছে কিনা দেখেন, এই বাইয়াতকে বলা হয়, বাইয়াতে আকাবায়ে উলা, অর্থাৎ বাইয়াতে আকাবায়ে উলা, এই বাইয়াতে আল্লাহর এবাদত বন্দেগীর উপর অটল অবিচল থাকার বাইয়াত।
বাইয়াত গ্রহন কারীরা নবীজির হাতে বাইয়াত ও দোয়া নিয়ে চলে যাবেন এমন সময় এদের আমির মদিনার খাজরাজ গোত্রের নেতা আসাদ ইবনে যুরারা বল্লেন হুজুর আমরা নতুন মুসলমান, কুরআন তেলাওয়াত জানিনা, মাসয়ালা মাসায়েল জানিনা, আমাদেরকে মক্কা থেকে একজন অভিজ্ঞ পুরো কারী সাহাবী দেন, যিনি আমাদের পড়াবেন ও মাসয়ালা মাসায়েল শিখাবেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নবীজি মক্কায় প্রশিদ্ধ কারী সাহাবী হযরত মুসআব ইবনে ওমায়ের এবং তার সহাযোগী হিসেবে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাখতুম (রা) এই দুই জনকে দিলেন, একজন চোখে দেখে, আর একজন চোখে দেখে না। তারা হলো ১২ জন, নবীজি দিলেন ২জন, মদিনায় আছে একজন, মোট ১৫ জন, ১৩জন ছাত্র, দুই জন শিক্ষক এই ১৫ জনের শিক্ষার জন্য মদিনায় একটা মাদ্রাসা দরকার । কিন্তু মদিনা তখন কাফের বেঈমান-দের দখলে, কে দিবে জায়গা কে করে দিবে ঘর, এদের আমির বল্লেন হতাশ হওয়ার দরকার নাই। তোমরা আমার ঘরেই মাদরাসা শুরু করে দাও, এখান থেকেই মদিনায় প্রথম মাদরাসা চালু হলো। ঘরে হয়রত আসাদ ইবনে যুরারার বসত ঘরে, এবং মক্কার প্রথম মাদরাসাও ঘরে থেকেই শুরু হয় হযরত আরকাম (রা) এর বাড়ীতে, ক্লাস শুরু হয় এশার পর শেষ হয় ফজরের সময়। মক্কার প্রথম মাদরাসা ঘরে মদিনার প্রথম মাদরাসাও ঘরে, বাংলাদেশের প্রথম কওমী মাদরাসা তথা হাটহাজারী মাদরাস্য এটাও চালু হয়েছে ঘরে, বলবো সংক্ষেপে বলছি । হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ হাবীবুল্লাহ রহ তিনি দেওবন্দ থেকে শিক্ষা অর্জন করে বাড়ীতে আসলেন, এসে দেখলেন ব্রিটিশ বেনিয়াদের ছত্র ছায়ায় সমাজের রন্দ্রে বন্দ্রে শিরিকে ভরে গেছে তিনি তার বাবাকে বল্লেন বাবা আমি যদি কোন মসজিদে খেদমত করি, নাদরাসায় খেদমতে করি, কমিটির চাপে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে বিদায়াত করা লাগবে, শিরক বিদায়াত করব? এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমাকে এক জোড়া হলেও গরু কিনে দাও, আমি হাল চাষ করব। জিবিকা নির্বাহের জন্য। আর নিজের ঈমান আমল বজায় রাখবো নিজেরটা নিজে।
চট্টগ্রাম ফটিক ছড়ি বিবির হাট থেকে ১ জোড়া হালের গরু কিনে আনা হলো এতো বড় আলেম হাল চাষ করবে, পরের দিন সকালে গোয়াল ঘরের দরজা খুলে দেখে দুহাটা গরুই মারা গেছে, কোন কারনে মারা যেতেই পারে, বাবা বললো সমস্যা নাই, পরের হাট থেকে আরো এক জোড়া গরু কিনে আনা হল, মাশায়াখে চাটগাম নামে একটা কিতাব আছে সেখানে দেখবেন, পরের দিনে এই দুইটাও মারা গেছে, এবার বাবা বলে হাবীবুল্লাহ তোকে এতো লেখাপড়া শিখিয়েছি, তুই হাল চাষ করবি, এটা আল্লাহর পছন্দ নয়। মসজিদ মাদরাসায় চাকুরী নিলে বেদআত করা লাগবে, বাদ দাও তুমি আমার ঘরেই মাদরাসা চালু করে দাও। ঐ ঘরের মাদরাসাটা আজ দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ মাদরাসা মঈনুল ইসলাম আটহাজারী মাদরাসা। সুবহানাল্লাহ। মক্কার প্রথম মাদরাসা ঘরে, মদিনার প্রথম মাদরাসা ঘরে, বাংলাদেশের প্রথম কওমী মাদরাসা ঘরে, বালেন মক্কার প্রথম মাদরাসা বেসরকারী, মদীনায় প্রথম মাদরাসা বেসরকারী, সরকার মাদরাসা করাতো দূরের কথা, সরকার তো ইসলামকে সহ্য করতেই পারেনা, আমাদের সরকারের কথ্য বলছিনা, ঐ সময় মক্কা মদিনার সরকারের কথা বলছি, বলেন মক্কার প্রথম মাদরাস্য বেসরকারী, মদীনার প্রথম মাদাসা বেসরকারী, এখন আমাদের দেশে যেগুলো বেসরকারী মাদরাসা আছে সেগুলি মক্কা মদিনার মাদরাসার সাথে মিলে গেছে। তো মক্কা মদিনার মাদরাসার সাথে যেই মাদরাসা মিলবে সেটাই তো খাটি মাদরাসা। মাদরাসা শুরু হয়েছে মদিনায় আসাদ ইবনে যুরারার ঘরে, খবরটা বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ল সারা মদিনায় যে, মদিনায় নতুন ধর্মের নতুন মাদরাসা চালু হয়েছে। মদীনায় আউস গোত্রের নেতা সায়াদ ইবনে মুয়াজ, তার এক বন্ধু উসাইদ ইবনে উবাইর, বড় বাহাদুর এই দুই জন সংবাদ পেয়ে রক্ত চক্ষু নিয়ে আসতেছে, মদিনায় নতুন ধর্মের নতুন মাদরাসা চলতে দেওয়া হবে না। এখনি ভেঙ্গে চুরে গুড়িয়ে দিব। সুই নেতা আসতেছে মাদরাসা ভাঙ্গার জন্য মাদরাসায়।
কাছাকাছি এসে সায়াদ ইবনে মুয়াজ দাঁড়িয়ে গেলো, বন্ধু উসাইদকে বলে তুই গিয়ে দেখ কত জন ছাত্র, কতজন উদ্ভাদ, কতজন পাহারাদার, সেই আন্দাজে হামলা করতে হবে। উসাইদ ইবনে ওবাইর মাদরাসায় প্রবেশ করতেই পাইলো বাড়ীর মালিক আসাদ ইবনে জুরারাহ কে। আসাদ তোর এতো বড় সাহস তোর বাড়ীতে বেদীনের তালীমা ঐ সময় কেহ মুসলমান হইলে কাফেররা বলত বেদীন, এই কারী সাহেবকে কোথায় থেকে এনেছো? মদিনার মানুষকে বেদীনের মন্ত্র শেখায়। একে বারে চিৎকার করে একাকার। কারী সাহেব মুসআব ইবনে ওমায়ের (রা) বলেন, ভাই উসাইদ এতো রাগ হচ্ছো কেন? একটু বসো আমাদের নতুন ধর্ম সর্ম্পকে একটু শুনো, যদি ভাল লাগে মানবা, ভাল না লাগলে তোমার যা খুশি তাই করিও। আগে একটু শেনো, উসাইদ বলে এটা তো ভদ্র লোকের কথা শরীফ লোকের কথা। আমি বিরোধিতা করার আগে তো সে সম্পর্কে জানা দরকার, আচ্ছা বসলাম, বলো তোমাদের এই নতুন ধমের থিউরি কি? মুসআব ইবনে ওমায়ের (রা) তাওহীদ, রিসালত, আখেরাত এই তিন বিষয় কিছু কথা বলিলেন তার পরে কুরআন থেকে তেলাওয়াত শুরু করলেন, কিছুক্ষন তেলাওয়াত শুন্যার পর উসাইদ বলে ভাই তেলাওয়াত বন্ধ করো, আগে বলো আমিও যদি মুসলমান হতে চাই তাহলে আমার কি করতে হবে? সুবহানাল্লাহ। কারী সহেব তোমার চার কাজ করলেই হবে, (১) তোমাকে গোসল করতে হবে, কারন কাফের নাপাক (২) তোমাকে পবিত্র কাপড় পরিধান করতে হবে (৩) তোমাকে কালিমা পড়তে হবে (৪) তুমি যে মুসলমান হইলা আল্লাহ যে তোমাকে দয়া করলো শুকরিয়া তান ২ রাকাত নামাজ পড়বা। উসাইদ ইবনে উবাইর বলে বাহিরে বড় নেতা দাঁড়িয়ে আছে, বাড়ীতে যাব, গোসল করব, আবার আসব? সেই পরিস্থিতি নাই, মাদরাসার ভিতরে কি গোসলের ব্যবস্থা আছে? কারী সাহেব বলল, আছে আছে। এখন উসাইদ গোসল করতে ঢুকছে, গোসল করে পাক হয়ে পবিত্র কাপড় পড়ে মুল্লাম হয়ে গেছে সুবহানাল্লাহ।আসছে
মাদরাসা ভাংতে এখন কালিমা পড়ে ফেলছে। তারপরে বলে শোন আমি গিয়ে ছলে বলে কৌশলে সায়াদকে মাদরাসায় পাঠাবো। আমার বিশ্বাস, তোমারা আমার সাথে যেই ব্যবহার করছো, আমার রাগের বদলে রাগ হও নাই, এরকম ব্যবহার করলে সায়াদও মুসলমান হতে পারে, তবে একটা শর্ত, আমি যে মুসলমান হয়েছি এটা আগেই বলে দিওনা, এটা শুনলে মাথায় রক্ত উঠে যাবে, তখন তার মাথায় আর কিছু ঢুকবে না। এখন উসাইদ বের হয়ে গিয়ে সায়াদের সামনে দাড়াইছে, সায়াদ বলে উসাইদ কি দেখেছে, কয়জন ছাত্র, কয় জন উসতাদ, করজন পাহারা দায়, আর কি পড়ায়, কি বলে, উসাইদ বলে, মাদরাসায় আমি কি দেখেছি না দেখেছি এই বিষয়ে আমি তোমাকে কিছুই বলতে পারবো না, সায়াদ ধমক দিয়ে বলে, তোকে পাঠাইছি মাদরাস্য তদন্ত করতে, তুই মাদরাসা থেকে ঘুরে এসে কিছুই বলবিন্য তো বলবে কে? উসাইদ বলে চিল্লা চিল্লি করে লাভনাই, মাদরাসা সর্ম্পকে জানতে হলে তুমি নিজে যাও, উদ্দেশ্য ভিতরে পাঠানো। সায়াদ বলে উসাইদ একটু আগে আমি যেই উসাইদ মাদরাসায় পাঠিয়েছি, আর এখন যেই উসাঈদ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছো আমি দুই উসাইদের মধ্যে মিল খুজে পাচ্ছি না। কিছু একটা ঘটে গেছে যা তুই আমাকে বলছিস না, ঠিক আছে তোর কাছ থেকে আমি কিছু জানতেও চাই না, আমি নিজেই যাচ্ছি, আজ আমার একদিন আর তাদের একদিন। এবার সায়াদ যাচ্ছে আসাদের বাড়ীর মাদরাসাতে। সম্পকে দুই জন আপন খালাতো ভাই। সোবহানাল্লাহ। এক খালাতো ভাইয়ের বাড়ীতে মাদরাসা আরেক খালাতো ভাই যাইতেছে ভাজার জন্য, এটাও একটা কুদরতের কারিশমা। বাড়ীতে প্রবেশ করতেই পাইলো খালাতো ভাই আসাদ কে, আর দেরী করে নাই, তরবারি কোস মুক্ত করে ফেলেছে, তরবারি নাচাইয়ে নাচাইয়ে বলতেছে, খালাতো ভাই আসাদ, লাত মানাত উজ্জার কসম, তুই যদি আমার খালাতো ভাই না হইতি এখনি তোর মাথা উড়িয়ে দিতাম, কিন্তু পারছি না, তোকে মারলে আমার মা মনে দুঃখ পাবে, তুই মায়ের বোন পুত,
তুই এটা করলি কি আমাদেরকে ধর্ম থাকতে তুই নতুন ধর্ম কেন আনলি, আনসোছ ভালো কথা, তোর ঘরে সেই ধর্মের তালীম? মুসয়াব ইবনে ওমায়ের কথা কেড়ে নিয়ে বললো সায়াদ, তোমার খালার বাড়ী হয়েছে, এতো রাগ হচ্ছো কেন? আগে আমাদের এই নতুন ধর্ম সম্পকে শোনো ভালো লাগলে মানবা, ভালো না লাগলে যা খুশি তাই করবা, সাদ বলল, কথা তো মন্দ নয়। আচ্ছা, আমি বসলাম, আমাকে বুঝাও তোমাদের এই নতুন ধর্মের থিউরি কি? কারী সাহেব তাওহীদ, রেসালত, আখেরাত থেকে কিছু বয়ান, তারপরে কিছুক্ষন তেলাওয়াত করার পর, সাদ বলে ভাই তেলাওয়াত বন্ধ কর, আগে বলো, আমিও যদি মুসলমান হতে চাই আমার কি করা লাগবে? সুবহানাল্লাহ। ইসলাম গ্রহণকারীদের ৪ কাজ করলে হবে, ৪কাজ কাজ করে সায়াদও মুসলমান হয়ে গেল। এসেছিলো মাদরাসা ভাঙ্গার জন্য, যখন মাদরাসা সর্ম্পকে জানত না, মাদরাসায় এসে যখন জানলো, নিজেরাই মাদরাসা ওয়ালা হয়ে গেল, সুবাহানাল্লাহ। এখনো অনেকে দুর থেকে বলে জঙ্গী সন্ত্রাস হয়, আমরা বলব না, কওমী মাদরাসা সম্পর্কে বাহিরে প্রোপাগান্ডা করিও না, কওমী মাদরাসায় আসো, দেখো, কওমী মাদরাসায় জঙ্গী, সন্ত্রাস হয় না, কওমী মাদরাসায় পৃথিবীর সেরা মানুষ তৈরী হয়। কওমী মাদরাসায় কি তৈরী হয়, বলার সময় আমার হাতে নাই। মক্কা শরীফের দশ জন ইমাম এই দশ জন ইমামের থাকার জন্য পরিবার সহ সৌদি আরবের সরকার একটা আবাসিক এলাকা তৈরী করে দিয়েছে, আমাদের মন্ত্রীদের মন্ত্রী পাড়ার মতো। ঐ আবাসিক এলাকায় একটা মসজিদ আছে, ইমামদের আবাসিক এলাকায়, আল্লাহর কসম আমার নিজের চোখে দেখা, ঐ মসজিদের ইমাম বাংলাদেশী কওমী আলেম, বাড়ী সিলেট, জকিগঞ্জ, সিলেট দরগা কওমী মাদরাসার ফারেগ। কলুন মক্কায় কতজন ইমামা দশজন একেক জনে একেত ওয়াক্ত ন্যামজ গড়ায় আর বাকীরা মহল্লায় থাকলে মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ে কিনা? পড়ে। কোন ইমামের পিছনে গিয়ে? কওমী ইমামের পিছে, তাহলে ঘটনা কেমন হলো, কাবার ইমামের ইমাম বাংলাদেশী কওমী মাদরাসার ছাত্র। কওমী মাদরাসায় জঙ্গী, সন্ত্রাস বানায় না কাবার ইমামের ইমাম বনায়। আলোচনায় আসি উসাঈদ ও
সায়াদ দুইজন তো মুসলমান হয়ে গেল, সায়াদ বাহিরে এসে উসাইদের হাত ধরে বললো চলো আমার এলাকায় যাই। বাড়ীতে প্রবেশ না করে বাহিরে দাঁড়িয়ে বললো আউস গোত্রের লোকেরা শোনো, এখন এই মুহূর্তে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসো, নারী-পুরুষ জোয়ান বুড়ো, শিশু-কিশোর কেহ বাড়ীতে থাকবানা, আমার সামনে আসো। তোমাদের সাথে জরুরী কথা আছে, নেতার চিৎকার শুনে সবাই এসে পড়েছে।
সায়াদ বললো আমি দীর্ঘ দিন ধরে তোমাদের নেতা, আজ তোমাদেরকে কিছু প্রশ্ন করবো, খবরদার কোনো প্রকার চামচামী ছাড়া, তেলবাজী ছাড়া, যেটা সত্য সেটাই বলবা। সবাই বললো আমারা প্রস্তুত যেহেতু তুমি অভয় দিয়েছো, সত্য বলতে সমস্যা কি? সায়াদ বললো আমি জানতে চাই, আমি তোমাদের নেতা হিসেবে কেমন? সবাই বললো খুব ভালো. আমার সভাব চরিত্র কেমন? সবাই বলল, খুব ভালো। লেনদেন ভালো, বিচার আচার কেমন? ভালো, সব প্রশ্নে সবাই বললো, ভালো। সায়াদ বললো আমি যদি তোমাদের দৃষ্টিতে এতোটাই ভালো হয়ে থাকি, তাহলে শোনো, আজ আমি তোমাদের কাছে পৃথিবীর সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ ইসলাম ধর্মের সাওয়াত নিয়ে এসেছি। এবং ইসলাম ধর্মকে ভালো মনে করে, আগে আমি নিজে গ্রহণ করেছি, তোমাদেরকেও দাওয়াত দিচ্ছি। তোমরা যদি মুসলমান হয়ে না যাও আমি আর তোমাদের নেতা থাকবোনা, তোমাদের পথ ভিন্ন আমার পথ ভিন্ন। উসাঈদ বলে আল্লাহর কসম, সায়াদের এক বক্তব্যে পুরো কওম কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলো।
আসছিলো মাদরাসা ভাঙ্গার জন্য, এরন নিজেও মুসলমান হলো, পুরো কওম মুসলামান হল। একজন শুধু বাকী ছিলো, সেই একজনও ওহুদের যুদ্ধের দিনে মুসলমান হয়ে যুদ্ধেই, শয়ীদ হয়ে গেছে, এই অর্থে সায়াদের পুরা কওম মুসলমান। যেইভাবে নবীজি সেদিন কুরআনের কোন আয়ার তেলওয়াত করে প্রস্তাবিত করেন নাই। নবীজিও সেদিন নিজেকে দেখিয়েছেন। ست فیک عمر! ও মক্কা বাসী তোমাদের মাঝে আমি ৪০ বছর অতিক্রম করেছি, তোমরা আমার শিশুকাল, কিশোর কাল, যৌবন কাল, বাকি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন দেখেছো, আমি জানতে চাই ওয় وحدقوق صادق ام তোমরা আমাকে এই ৪০ বছরে সত্য পেয়েছো না মিথ্যা পেয়েছ? নবীজী নিজেকে পেশ করেছেন সবাই কি বলেছেন جريناك مرارا وما رأينا فيك إلا صادق আমরা বার বার আপনাকে পরীক্ষা করেছি, যতবার পরীক্ষা করেছি সত্যই পেয়েছি।
পরের বছর ৭২জন এসেছে মক্কায়, তার মধ্যে ৭০জন পুরুষ, ২জন নারী, মিনার আকাবা নামক জায়গায় গভীর রাতে এই ৭২জন নবীজিকে দাওয়াত করে আনলো, সাথে নবীজির চাচা আব্বাসও আসছে, আব্বাস তখন মুসলমান হয় নাই, এই ৭০জন নবীজির কাছে আবেদন পেশ করলো, হুজুর, আর কতদিন মক্কাতে মার খাবেন, রক্ত ঝরাবেন, আর কত সাহাবীদের জীবন যাবে, মদীনায় এখন ঘরে ঘরে মুসলমান আপনি মদিনায় চলে আসেন, সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে আমরা সর্ব প্রকার সহোযোগিতা আপনাকে করবো। নবীজি বলালন শুনো, আমি মদিনায় যেতে চাই, সাহাবায়ে কেরামদের পাঠাতে চাই কিন্তু তোমরা যে দূর্বল কথা বলেছো এই দূর্বল কথায় আমি যেতে পারবো না। সাহাবিদের পাঠাইতে পারি। মদিনার মুসলমানেরা বললেন হুজুর কি বললে আপনি যাবেন? নবীজি বললেন তোমরা একেক জন আমার হাতে হাত রেখে আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে হবে, তোমরা তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আমার এবং সাহাবায়ে কেরামের হেফাজত করবা, এই শক্ত অঙ্গিকার করলে আমি নিজেও যাবো। সাহাবিদেরও পাঠাবো। ৭২ জন মদিনার মুসলমান বললো আমরা প্রস্তুত যেমনি বলবেন তেমনি ওয়াদা করবো। একজন দাঁড়িয়ে গেলো, থামো কি করতে যাচ্ছ্যো তোমাদেরকি জানা আছে আজ সারা দুনিয়ায় নবীজির শত্রু, নবীজিকে আশ্রয় দেওয়ার অর্থ হলো, সারা দুনিয়ার শত্রু হওয়া। কারণ নবীজির যারা শত্রু অশ্রেয় দেওয়ার কারণে আমরাও হবো তাদের শত্রু। এতো বড় ঝুঁকি মাথায় নিবে? ৭২জন মুসলমান এক বাক্যে বলে উঠলো যেদিন আলিমা পড়ে মুসলমান হয়েছি, সব ঝুঁকি মাথায় রেখেই মুসলামান হয়েছি। নতুন করে ভাবার কিছু নাই, বায়াত শুরু হবে আরেক জন দাঁড়িয়ে গেল।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা) সুন্দর সুপুরুষ এবং ধনী, সে দাঁড়িয়ে বলে হুজুর। আমার একটা প্রশ্ন ছিলো, কি প্রশ্ন? আপনার স্বজাতি আপনার স্বগোত্রের লোকেরা আপনাকে মেরে ফেলতে চায়, দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়, আমরা আপনাকে মদিনায় আশ্রয় দিবো, আপনার জন্য সাহাবিদের জন্য জানও দিবো, মালও দিবো সব ঠিক আছে, আমায় প্রশ্ন, বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের কি দিবে? এইটার কি কোন বিনিময় আছে? আবেগী সাহাবি জানতে চাইছেন, এত বড় ঝুঁকি যে নিবো কোনো বিনিময় আছে কিনা, নবীজি মুসকি হাসি দিয়ে বললেন, আব্দুল্লাহ। বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদেরকে জান্নাত দিবে, এটা বলার পর তাড়াহুড়া শুরু হয়ে গেছে কার আগে বায়াত হবে, এই বায়াত চলাকালিন সময় মিনার আকাব্য নামক জায়গায় আল্লাহ পাক সুরা তওবার ১১১ নাম্বার নাজিল করেছেন।
"ওয়া আখিরি দেওয়ান া অনিল হামদুলিল্লাহ"
وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ
আল্লাহ তাআলা আমাদের আপনাদের সকলকে বোঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন। ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে কোন এক বরকতপূর্ণ বয়ানের মাধ্যমে।
সকাল-সন্ধ্যার মা'মুলাত ।
" সকাল-সন্ধ্যার মা'মুলাত "
-: ভূমিকা :-
১ নং ওযীফাঃ
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের আমলঃ
হযরত মা'কিল বিন ইয়াছার (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলে কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল বেলায় 'আউযুবিল্লাহিসসামী-ইল আলীমি মিনাশ শায়ত্ব-নির রাজীম, তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করবে, আল্লাহ পাক তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেস্তা নিযুক্ত করে দেন, যারা সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর ঐদিনে যদি তার মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে সে শহীদী মৃত্যু লাভ করবে। কেউ যদি সন্ধ্যা বেলায় একই নিয়মে ঐ আমল করে তাহলে সেও উক্ত ফযীলতের অধিকারী হবে। অর্থ্যাৎ সত্তর হাজার ফেরেস্তা সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে এবং ঐ রাতে যদি তার মৃত্যু হয়ে যায়, তবে সে শহীদী মৃত্যু লাভকরবে। মিশকাত শরীফ ১ম খন্ড ১৮৮ নং পৃঃ
আমার করাচীর হুজুর হযরত মাওলানা শাহ্ হাকীম মুহাম্মদ আখতার সাহেব (রহঃ) বলেন এখানে দুটি জিনিস লক্ষনীয় (১) ফেরেস্তারা নিষ্পাপ ও বেগুনাহ্, ফেরেস্তারা যদি কারো জন্য ক্ষমা চায় আর স্বয়ং আল্লাহ পাক তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য নির্ধারিত করে দেন তবে আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ তায়ালা অবশ্যই তাকে ক্ষমা করবেন। (২) আমাদের মৃত্যু দিনে অথবা রাত্রে হবে, আর হাদীসের মধ্যে শহীদী মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, শহীদী মৃত্যুর জন্য ঈমান শর্ত, ঈমান ব্যতিত কেউ শহীদ হতে পারবে না, তাহলে বুঝা গেল উক্ত আমলকারীকে আল্লাহ্পাক ঈমানী মৃত্যু নছীব করবেন। ছুবহানাল্লাহ।
هُوَ اللّٰهُ الَّذِىْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۚ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ
هُوَ اللّٰهُ الَّذِىْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلٰمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيْزُ الْجَـبَّارُ الْمُتَكَبِّرُؕ سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ
هُوَ اللّٰهُ الْخَـالِـقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَـهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰىؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِۚ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ
২ নং ওযীফা :
জাহান্নাম হতে মুক্তির দু'আঃ
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার (৭বার) হযরত মুসলিম তামীমী (রাঃ) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে চুপে চুপে বলেছেন হে মুসলিম তামীমী যখন তুমি মাগরিবের নামায শেষ কর, তখন কারও সাথে কথা বলার পূর্বে সাতবার উপরোক্ত দু'আ পাঠ কর। যদি তুমি পাঠ কর, আর ঐ রাত্রে যদি তোমার মৃত্যু হয়ে যায়, তবে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তিনামা লিখে দেয়া হবে। অনুরুপভাবে ফজরের নামাজের যদি কারও সাথে কথা বলার পূর্বে এই দু'আ পাঠ কর, আর ঐ দিনে যদি তোমার মৃত্যু হয়ে যায়, তবে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তিনামা লিখে দেয়া হবে। আবু দাউদ-৫০৭৯, মুসনাদে আহমদ-মিশকাত শরীফ - ১ম খন্ড ২১০ পৃঃ
৩ নং ওযীফা: ৭বার ।
حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
হাসবিআল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আলাইহি তা-য়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশীল আযিম।
হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লহ (সাঃ) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার করে উপরোক্ত দু'আ পাঠ করবে, তার দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত সমস্যা সমাধানের জন্য আল্লাহ পাক জিম্মাদার (যথেষ্ঠ) হয়ে যাবেন।
(আবু দাউদ-৫০৮১, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়ালী-হা:নং-৭১, মিশকাত শরীফ ১ম খন্ড-২১০, আফসীরে রুহুল মাআনী-পারা-১১, পৃঃ ৭৩)
উক্ত আমলের একটি আশ্চার্য ঘটনাঃ হযরত মুহাম্মদ ইবনে কা'ব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার একটি ফৌজি কাফেলা রোমের দিকে যাচ্ছিল। তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে তার উরুর হাড্ডি ভেঙ্গে যায়। সঙ্গীগণ তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার কোন উপায় না পেয়ে বড় বিপদে পড়লেন। শেষে নিরুপায় হয়ে তার জন্য কিছু খাদ্য-পানীর করে ঘোড়াটি তার পাশে বেঁধে রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হলেন। তারা যাওয়ার পর এক গায়েবী লোক এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে তোমার কি হয়েছে? উত্তরে সে বলল আমার উরুর হাড্ডি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমার সাথীরা আমাকে রেখে চলে গেছে। তখন গায়েবী লোকটি বললেন, যে স্থানে ব্যথা অনুভব করছো সেখানে হাত রেখে পড়।
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
বাংলা অনুবাদ: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করি, আর তিনি মহান আরশের অধিপতি।
আপনি এটি তাসবীহ, দুআ, কিংবা স্মরণ হিসেবে পাঠ করতেপারেন।
তার ক্ষতস্থানে হাত রেখে উক্ত আয়াত খানা পাঠ করার পর সাথে সাথে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন, নিজের ঘোড়ায় আরোহন করে সঙ্গীদের নিকট পৌছে গেলেন। ছুবহানাল্লাহ।
৪ নং ওযীফা: ৩বার।
মানুষ সাধারণত পাঁচটি জিনিসের হেফাজতের কামনা করে থাকে। দ্বীনের হেফাজত, জানের হেফাজত, সন্তানের হেফাজত, পরিবারের হেফাজত, সম্পদের হেফাজত। হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি (তিনবার) করে পাঠ করবে, আল্লাহপাক তার এই পাঁচটি জিনিসের হেফাজত করবেন।
দু'আটি এই
بِسْمِ اللَّهِ عَلَى دِيْنِي وَ نَفْسِي وَ وَلَدِي وَأَهْلِي وَمَالِي
বিসমিল্লাহি আলা দ্বীনি ওয়া নাফসী ওয়া ওয়ালাদী ওয়া আহ্-লী ওয়া-মালী।
(কানযুল-উম্মাল-৩৫০৬,
আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়ালী হা: নং-৫১)
৫ নং ওযীফা: ৭বার।
আজকাল মানুষ খুব দূর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে ,ক্যান্সার রোগ হচ্ছে, ঈমান হারা হচ্ছে, শত্রুর মুখোমুখি হচ্ছে, যারা সকাল সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি (সাতবার) করে পাঠ করবে, আল্লাহ্ পাক তাকে উক্ত ৪টি বিষয় থেকে হেফাযত করবেন। দু'আটি এই-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُبِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْء
الْقَضَاءِ وَشَمَائَةِ الْأَعْدَاء -
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন জাহিদল বালায়ি ওয়া-দারকিশ শাকায়ি ওয়াসূয়িল কাযা-য়ি ওয়া-শামাতাতিল আ'দায়ি। (বুখারী শরীফ-২৪৫১, মুসলিম শরীফ-২৭০৫, মেশকাত ৫ম খন্ড ২২২ পৃঃ)
৬ নং ওযীফা: ৩ বার ।
আজকাল মানুষের প্যারালাইসিস হচ্ছে, কুণ্ঠ রোগ হচ্ছে, পাগল ও অন্ধ হচ্ছে। হাদীস শরীফে আছে, যারা সকাল সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি (তিনবার) করে পাঠ করবে। আল্লাহপাক তাদের এই চারটি মারাত্মক রোগ থেকে হেফাজত করবেন। দু'আটি এই -
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ وَلَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়াবিহামদিহী ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ।
(আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়ালী হাঃ নং-১৩৩, তাবারানী হা: নং-৯৪০, মুসনাদে আহমাদ-২০৬০২)
৭ নং ওযীফা: ৩ বার ।
হযরত আবান ইবনে উছমান (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতার যবানে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি তিনবার করে পাঠ করবে, কোন কিছুই তার কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারবে না। দু'আটি এই-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা অর্থ:
আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
এটি প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন, বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা রক্ষাকারী হন। (সূত্র: আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; হা
দীসটি হাসান সহীহ)।
বিসমিল্লাহিল্লাযী লা-ইয়াযুররু মা আছমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামায়ি ওয়াহুয়াছছামীউল আলীম। (আবু দাউদ-৫০৮৮, জামে তিরমিজী-৩৩৮৮, মিশকাত শরীফ-২৩৯১)
৮ নং ওযীফা :৭ বার।
হাশরের ময়দানে হিসাব নিকাশ দিয়ে পার হওয়া বড় মুশকিল। তাই হাদীস শরীফে আছে কোন কোন নামাযের পরে নবীজি নিম্নের দু'আটি পড়তেন (মুসনাদে আহমাদ-২৪২১৫)। যারা নিম্নের দু'আটি পাঠ করবে আশা করা যায়, আল্লাহ তায়ালা ময়দানে তাদেরকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন
اَللَّهُمَّ حَاسِبْنِيْ حِسَابًا يَسِيرًا
আল্লাহুম্মা হা-সিবনী হিসাবাঁই ইয়াসীরা।
৯ নং ওযীফা:৭ বার ।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাকে বলেছেন, হে আবু হুরাইরা
لَا حَولَ وَ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ
বেশী বেশী পাঠ কর, কারণ এটা জান্নাতের রত্ন ভান্ডার। (জামে তিরমিজী-৩৬০১)
ফায়দা : উপরোক্ত ওযীফার মোট চারটিফ জিলত রয়েছে -
(১) এ কালিমাটি আরশের নিচে অবস্থিত জান্নাতের একটি রত্ন ভান্ডার। আর জান্নাতের ছাদ হলো আল্লাহ পাকের আরশ। এ দু'আ পাঠ করলে নেক আমল ও সৎকর্ম করার এবং গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকার তওফীক হয়।
(২) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ - দুনিয়া ও আখেরাত সম্পর্কীয় নিরানব্বইটি ব্যাধির ঔষধ। যার মধ্যে সর্বাধিক হালকা ব্যাধি হলো পেরেশানী। (চাই দুনিয়া সম্পর্কীয় হোক বা আখেরাত সম্পর্কীয় হোক।) মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৫৬৯০১।
(৩) বান্দা যখন এ কালিমা পাঠ করে আল্লাহপাক তার আরশের ফেরেস্তাদের কে সম্বোধন করে বলেন- আমার বান্দাটি আমার অনুগত হয়ে গেছে এবং নাফরমানী ও অবাধ্যতা পরিহার করেছে।
মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৫৬৯১০।
(৪) হাদীস শরীফে আছে শবে মে'রাজে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর মধ্যে সাক্ষাতকালে হযরত ইবরাহীম (আঃ) বলেছেন, হে মুহাম্মদ (সাঃ) আপনি আপনার উম্মতকে বলে দিন তারা যেন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্ দ্বারা জান্নাতের বাগান বৃদ্ধি করতে থাকে।
আমার করাচীর হযরত বলেন যারা গুনাহ্ ছাড়তে পারে না তারা যদি প্রত্যেক নামাযের পর, আগে পরে দরুদ শরীফ পড়ে সাতবার এ কালিমাটি পাঠ করে, আল্লাহ পাক তাকে গুনাহ ছাড়ার তওফীক দান করবেন।
১০ নং ওযীফা:৩ বার ।
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন নবীজি (সাঃ) ইরশাদ করেছেন অন্ধকার রাত্রিতে কালো পাথরের উপর কালো পিপীলিকার চলা ফেরা যেমন সুক্ষ, তার চেয়েও অধিকতর সুক্ষ ও গোপনভাবে আমার উম্মতের মধ্যে শিরকের গুনাহ প্রবেশ করে। এতদশ্রবনে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) খুবই ভীত ও পেরেশান হয়ে পড়লেন এবং আরজ করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সাঃ) তাহলে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি?
নবীজী (সাঃ) বললেন- আমি কি তোমাকে এমন একটি দু'আ শিক্ষা দিব? যা পাঠ করলে তুমি অল্প শিরক, বেশী শিরক, ছোট শিরক, বড় শিরক এর গুনাহ্ হতে রক্ষা পাবে, তিনি বললেন জী হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সাঃ) অবশ্যই বলে দিন।হুজুর (সাঃ) বললেন তুমি এই দু'আ পাঠ কর-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ أَنْ أَشْرِكَ بِكَ شَيْئًا وَأَنَا أَعْلَمُ وَاسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ -
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা আন উশরিকা বিকা শাইআঁন ওয়া আনা আ'লামু, ওয়া-আছতাগফিরুকা লিমা-লা-আ'লাম। (৩ বার)
(মুসনাদে আহমাদ-১৯৬০৬, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-২৯৫৪৭, মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৪৬৭০। মিরকাত - ১০ম খন্ড ৭০ নং পৃঃ)
১১ নং অযিফা:৩ বার ।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সাঃ) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি নিম্ন দু'আটি একবার পাঠ করবে, তার ছওয়াব সত্তর জন ফেরেস্তাকে এক হাজার দিন পর্যন্ত ক্লান্ত শ্রান্ত করে দিবে, অর্থাৎ এক হাজার দিন পর্যন্ত লাগাতার তার ছওয়াব লিখতে লিখতে তারা ক্লান্ত হয়ে যায়। দু'আটি এই -
جَزَى ٱللّٰهُ عَنَّا مُحَمَّدًا مَا هُوَ أَهْلُهُ
জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা হুওয়া আহলুহু। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৭৩০৫, হিলয়াতুল আউলিয়া-২০৬৩ ।
১২নং অযিফা:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একদা গভীর অন্ধকার রাত্রিতে বৃষ্টিপাতের মধ্যে আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর খোঁজে বের হলাম, খুঁজতে খুঁজতে এক জায়গায় তিনাকে পেলাম, তখন তিনি বললেন (আব্দুল্লাহ) তুমি পড়। আমি বললাম কি পড়বো? নবীজী (সাঃ) বললেন প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযুবি রাব্বিল ফালাক, কুল আউযুবি রাব্বিননাস, প্রতিটি সূরা তিনবার করে পাঠ করবে, তাহলে তোমার জন্য সর্ব বিষয়ে যথেষ্ট হয়ে যাবে।
(মিশকাত শরীফ - ১ম খন্ড, ১৮৮ পৃঃ)এ কথাটির ২টি অর্থ হতে পারে
(১) যাদু টোনা, বান, মন্ত্র, ভুত-প্রেত, দেও, দস্যু যত কিছু আছে, সব রকমের ক্ষতি থেকে আল্লাহ পাক হেফাজত করবেন। এটা বড় পরীক্ষিত আমল। অনেক বাড়ীতে জ্বিন-পরীর উপদ্রোপ ছিল, এ তিন কুলের আমলের দ্বারা আল্লাহপাক রেহায় দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি মজার কথা হলো করাচীতে আমার হুজুরের নিকট বানে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি আসলে, হুজুর তাকে তিন কুলের আমল দেন। আমল করার ফলে বান উল্টে গিয়ে যে ব্যক্তি বান মেরেছিল তাকে এ্যাটাক করলো। তখন সে তার উস্তাদের নিকট ঘটনা জানালে তিনি বললেন, তুমি যার উপর বান মেরেছো সে এমন একটা দামি আমল করতেছে, যার কারণে তোমার বান তার উপর ক্রিয়া করতে না পেরে তোমাকেই আক্রান্ত করেছে। (২) মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন, অন্য কোন ওযীফা যদি আদায় নাও করতে পারে, এই তিন কুলের ওযীফাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। মেরকাত ৪র্থ খন্ড - ৩৭০ নং পৃঃ ।
১৩ নং ওযীফা:
যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি তিনবার করে পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের সওয়াল-জওয়াব সহজ করে দিবেন, অর্থাৎ সে সওয়াল জওয়াবে আটকিবে না। দু'আটি এই-
رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا ورَسُولاً -
রাযীতু বিল্লাহি রব্বাঁও ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনাঁও ওয়াবি মুহাম্মাদিন (ছাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম) নাবিয়্যাওঁ ওয়া রসূলা। (আবু দাউদ-১৫২৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা-২৬৫৪১)
১৪ নং ওযীফা:
সূরা ইউনুসের ৮১, ৮২ নং আয়াত সকাল সন্ধ্যা তিনবার করে পাঠ করলে আল্লাহপাক ছেহের ও যাদু থেকে হেফাযত করবেন। আয়াত-
فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰى مَا جِئْتُمْ بِهِۙ السِّحْرُؕ اِنَّ اللّٰهَ سَيُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِيْنَ وَيُحِقُّ اللّٰهُ الْحَـقَّ بِكَلِمٰتِهٖ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ
ফালাম্মা আলকও' ক্বলা মূছা মা-জিই্তুম বিহিচ্ছিহ্-রা ইন্নাল্লাহা ছাইউবতিলুহূ ইন্নাল্লাহা লা ইউছলিহূ আমালাল মুফছিদিনা ওয়া ইউহিক্কুল্লাহূল হাক্কা বিকালিমিতিহি ওলাউ কারিহাল মুজরিমুন ।
মূল :
শায়খুল আরব ওয়াল আজম, রূমীয়ে যামানা, কুত্বে আলম, আরেফ বিল্লাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ হাকীম মুহাম্মদ আখতার সাহেব (রহঃ)তরজমা :
আলহাজ্ব হযরত মাওঃ শাহ্ মুহাঃ শামছুল আলম সাহেব (দা. বা.)(পীর সাহেব মোলামগাড়ী)
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শাইখুল হাদীস: জামি'আ ইসলামিয়া এমদাদুল উলুম (মোলামগাড়ী মাদ্রাসা), আখতার নগর, শিবগঞ্জ, বগুড়া।
খলিফা :আরেফবিল্লাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ হাকিম মোহাম্মদ আখতার সাহেব (রহঃ)