সূরা ইখলাস এর ফজিলাত
ইতিকাফের বিধি-বিধান
ইতিকাফের বিধি-বিধান
নবীর প্রতি লাখো কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি, সকলে বলি (সা), আমি আপনাদের সামনে কুরআনে কারিমা থেকে একটি আয়াত এবং হাদীস শরীফ থেকে একটি হাদীস শরীফ পাঠ করেছি, আয়াতে কারিমা ও হাদীসের আলোকে ই'তিকাফ সর্ম্পকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
ই'তিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্ন থাকা, অবস্থান করা ইত্যাদি।
আর শরিয়তের পরিভাষায়- ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, ব্যবসা-বানিজ্যসহ দুনিয়ার সকল প্রকার কার্যকলাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের লক্ষে মসজিদে বা ঘরের নিদিষ্ট স্থানে অবস্থান করাকে ই'তিকাফ বলে। রমজানের শেষ দশকে অর্থাৎ ২০ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ উদয় হওয়া পর্যন্ত ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। যদি গ্রামে বা মহল্লার কেউ ইতেকাফ না করে, তাহলে মহল্লার সকলেই গুনাহগার হবে। (বাদ্দুল মুহতার- ২: ১৪১ পৃ) ই'তিকাফের নিয়ম সংশ্লিষ্ট মাসায়িল:-
ই'তিকাফ তিন প্রকার: ১. ওয়াজিব ২. সুন্নাত ৩.মুস্তাহাব।
১. মান্নত করেন যে ই'তিকাফ করা হয় তা ওয়াজিব।
২. রমজানের শেষ দশকে যে ই'তেকাফ করা হয় তা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
৩. এই দু'প্রকার ব্যতিত সাধারণ অন্যান্য যে ইতিকাফ করা হয় তা মুস্তাহাব।
ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ই'তিকাফের জন্য রোজা রাখা জরুরী, তবে মুস্তাহাব ই'তেকাফের জন্য ঐ দিন রোজা রাখা জরুরী নয়। যে কোনো সময় মুস্তাহাব ই'তিকাফ পালন করা যেতে পারে। এমনকি সামান্য সময়ের জন্যও হতে পারে।
(ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১ ফাতওয়ায়ে শামী- ২: ১৪১ পৃ)
মাসআলা
ই'তিকাফ অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্যও মসজিদের বাহিরে যাওয়া জায়েজ নেই। তবে প্রয়োজনের জন্য যেমন: ওয়াজিব গোসল, বাথরুম ও জুম্মার নামাজ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি আছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন সেরে যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে ফিরে আসা জরুরী।
মাসাআলা:
ই'তিকাফকারী বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লে ই'তিকাফ ছেড়ে চিকিৎসা নিতে পারবে। এত কোনো গুনাহ হবে না। তবে পরবর্তীতে শুধু ঐ একদিনের ই'তিকাফ কায্য করে নিবে।
ইতিকাফ সর্ম্পকে আয়াত ও হাদীস-
ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মেলামেশা নিষেধ:-
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ অর্থ তোমরা মসজিদে ই'তিকাফ অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) সাথে মেলামেশা কর না।
(সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৮৭) রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশকে ই'তিকাফ
করতেন:-
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في كل رمضان عشرة ايام فلما كان العام الذي قبض فيه اعتكاف عشرين يوما অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) প্রতি রমজানের শেষ ১০ দিন ই'তিকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি ইতিকাফ করেন সে বছর বিশ দিন ই'তিকাফ করেছিলেন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং- ১৯১৬)
রাসূল (সা.) প্রতি রমজানে ই'তিকাফ করতেন:
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.) রমজানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করতেন। ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি এই আমল করেছেন। অতঃপর তার সহধর্মিনীগনও (রমজানের শেষ যে দশকে) ইতেকাফ করতেন। (বুখারী-মুসলিম, হাদীস নং ১৮৯৯)
মহিলারাও ঘরে ই'তিকাফ করতে পারবে:
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.)
ইন্তেকাল পর্যন্ত শেষ দশকেই ই'তিকাফ করতেন। তার ইন্তেকালের পর তার সহধর্মিনীগনও ই'তিকাফ করতেন। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং-২৬৫১)
শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করার নির্দেশ: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কুদর অনুসন্ধান করো।
(বুখারী-মুসলিম, হাদীস নং- ১৮৯০)
শবে কদরের ফযীলত:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি জ্বদরের রাতে ঈমানর সাথে সওয়াবের নিয়তে ইবাদত করবে তার অতীতের (সগীরা) গুনাহ সমুহ মাফ হে
যাবে। (সহীহ বুখারী-মুসলিম হাদীস নং ৩৪) রাসূল (সা.) শেষ দশকে সারা রাত ইবাদত করতেন।
হযরতে আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন । রমজানের শেষ দশক শুরু হওয়ার সাথে সাথে (সা.) সারা রাত জেগে থাকতেন ও নিজ পরিবারের লোকদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং তিনি নিজেও ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করতেন। (সহীহ মুসলিম-কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং- ২৬৫৪)
প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া নিষেধ:
হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) (সা. মসজিদে ই'তিকাফে থাকা অবস্থায় আমার দিকে তিনি মাথা ঝুকে দিতেন এবং আমি আচড়িয়ে দিতাম। এবং তিনি ই'তিকাফে থাকা অবস্থায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া গৃহে প্রবেশ করতেন না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ১৯০৩)
মাসাআলা
আলোচ্য হাদসি দ্বারা বুঝা যায় যে, ই'তিকাফ অবস্থায় প্রাকৃতিক প্রয়োজনে অর্থাৎ বাথরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েজ আছে। তবে প্রয়োজন ছেড়ে দ্রুত মসজিদে ফিরে আসা জরুরী।
(আহসানুল ফাতওয়া- ৪, ৫০১ পৃ) আমি ই'তিকাফ সর্ম্পকে কিছু আলোচনা করলাম আল্লাহ তায়ালা আমাকে সহ সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন
হাফেজ মাও. মনসুরুল হক সাহেব দা: বা:
আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বৈচিত্রতা নিহিত আছে
আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বৈচিত্রতা নিহিত আছে
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মহান স্রষ্টা, আল্লাহ পাকের সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ পাক বৈচিত্রতা রেখেছেন, বৈচিত্রময় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিক, ভিন্ন ভিন্ন চেহারা, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন ভিন্ন রং, ভিন্ন ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া, অর্থাৎ বহু রকম ভিন্নতার সমারহে আল্লাহ পাক মহান স্রষ্টা, সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ পাক এত বড় মহান বৈচিত্রময় স্রষ্টা যে এতগুলো মানুষ পৃথিবীতে, অতচ প্রত্যেকটা মানুষের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ আল্লাহ এমন ভাবে অঙ্কন করেছেন যে একজন মানুষের বৃদ্ধাঙ্গুলীর ছাপের সঙ্গে অন্য একজন মানুষের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপের কোন কালে মিল ছিল না. বর্তমানেও মিল নেই, ভবিষ্যতেও মিল হবে না। বন্ধুরা আমার। একটা গাছের পাতার সাথে আরেকটা গাছের পাতার মিল নাই একটা গাছের ভিতরে যতগুলো পাতা আছে একটা পাতার সঙ্গে ঐ গাছের
আর একটা পাতার মিল নাই। আল্লাহ পাক বৈচিত্রময় স্রষ্টা। তবে আল্লাহ পাক যে বৈচিত্রময় স্রষ্টা তার ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি মানুষ, এজন্য আল্লাহপাক কুরআনুল কারীমে সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন।
يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى
ও পৃথিবীর মানুষ আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে।
من ذكر وأنثى
জাকার মানে পুরুষ, উনছা মানে নারী।
وَجَعَلْتُكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ
এবং আমি তোমাদের মাঝে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা এবং বিভিন্ন গোত্রে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। কেন? لتعارفوا যেন তোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পারো, জানতে পাবো, বুঝতে পারো। আমরা কি বুঝবো? এটা আল্লাহ পাক এই আয়াতে বলেন নাই। এখানে শুধু বলেছেন যেন ভোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পারো। পরিচয় লাভ করতে পারো। تعارف এটা আরবি শব্দ। অলংকার অনুযায়ী পারস্পরিক জানা শুনা বুঝায়। আমরা আমাদের আরবি গ্রামার অনুযায়ী বলি مفاعله - تعارف يتعارف পারস্পরিক যোগাযোগ। এখন আমরা কি জানতে পারবো, কি বুঝতে পারবো সেইটা আল্লাহ বললেন না কেন? মুফাসসিরগণ এটার নানাবিদ উত্তর দিয়েছেন যে, মানুষের মাঝে পুরুষ এবং নারীতে বিভক্তি করা এবং বিভিন্ন জাতি এবং বিভিন্ন গোত্রে এবং শাখা-প্রশাখায় বিভক্তি করন এটার মাঝে পারস্পরিক কি জানাশোনা আছে? কি পরিচয় আছে? মুফাচ্ছিরীগণ বলেন মানুষের বৈচিত্রতার মাঝে নারী এবং পুরুষের মাঝে ভাষার ভিন্নতার মাঝে, খাবার দাবারের রুচির ভিন্নতার মাঝে, পোশাক আশাকের ভিন্নতার মাঝে, ভৌগোলিক আঞ্চলিক পরিবেশের ভিন্নতার মাঝে, বিভিন্ন রকম ভিন্নতার মাঝে আল্লাহ পাক তার সৃষ্টি রহস্যের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছেন।
বন্ধুরা আমার, আম গাছের একটা বৈশিষ্ট হলো সে আম দিবে, কাঁঠাল গাছের একটা বৈশিষ্ট হলো সে কাঁঠাল দিবে কাঁঠাল গাছের বৈশিষ্ট কাঠাল দিবে সে কোনদিন আম দিবে না, আম গাছ থেকে কোনদিন আপনি কলা পাবেন না এটা সৃষ্টির একটা নির্ধারিত বৈশিষ্ট। বন্ধু আমার, আপনি সৃষ্টি জগতের বৈশিষ্টকে যদি ভিন্নভাবে খাটাইতে চান তাহলে সৃষ্টি জগতের এই নিয়ম শৃঙ্খলা ধ্বংস হয়ে যাবে। আপনি যদি এখন চিন্তা করেন আমরা বাতের বেলা অফিস করব, রাতের বেলা স্কুল করব, রাতের বেলায় ব্যবসা বাণিজ্য করব, আর সারাদিন আমরা ঘুমিয়ে থাকবো তাহলে আপনার শরীর এটা গ্রহণ করবে না, কারণ আল্লাহপাক রাত্রিকে বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্য, ঘুমের জন্য, ক্লান্তি দূর করবার জনা। যেমন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَامًا
বুঝা গেল আল্লাহপাক দিনকে বানিয়েছেন কাজের জন্য, সময়ের ভিন্নতার মাঝে আল্লাহর একটা রহস্য লুকায়িত রয়েছে, এই সময়ের ভিন্নতাকে মানুষ যদি ভেঙ্গেচুরে শেষ করে দিতে চায় তাহলে মানবশৃঙ্খলা মানব সামাজিক ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়বে। আপনি যদি ছাগলকে দিয়ে গাড়ি চালাইতে চান, গরুর গাড়ি বানাইছেন এটা ছাগলের জন্য উপযোগী নয়, আর আপনি যদি চিন্তা করেন বলদের কাছ থেকে আপনি দুধ নিবেন এটা আপনার জন্য উপযোগী নয়, কারণ বলদ এর থেকে দুধ আসে না, দুধ নিতে চাইলে আপনাকে গাভীর ভিতর থেকে দুধ নিতে হবে এটাই সৃষ্টির বৈচিত্র, ভাষার বৈচিত্র রয়েছে। আমাদের এই বগুড়া জেলার বারোটা প্রত্যেক উপজেলার ভাষার আওয়াজের উচ্চারণ ভঙ্গি ভিন্ন। সারিয়াকান্দির মানুষ বগুড়া শহরে বসবাস করে যতই সে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলুক, দুই এক শব্দ সারিয়াকান্দির মত উচ্চারণ বের হয়ে আসবে। একজনের বাড়ি দুপচাঁচিয়া, সে যতই শুদ্ধ বলুক তার কথায় বুঝা যাবে লোকটার বাড়ি বগুড়া হইলেও দুপচাচিয়া। আর নোয়াখালীর মানুষ হইলে তো কথাই নাই, তার ভাষার শব্দের উচ্চারণে
বোঝা যাবে বাড়িটা কোথায়। বন্ধুরা আমার, এটা মানব জীবনের একটা সিকিউরিটি। নোয়াখালীর মানুষ কোন অপরাধ করে যদি আপনার এলাকার ভিতরে আশ্রয় নেয় তাহলে আপনি হঠাৎ করে চিনে ফেলবেন লোকটা আমার দেশের নয় তার মুখের ভাষা উচ্চারণ আপনার ভাষার সঙ্গে মিল খায় না, এটা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে একটা নিরাপত্তা। একই রকম ভাবে চেহারার ভিন্নতা রয়েছে, জাপানের মানুষের চেহারা ভিন্ন রকম, ফিলিপাইনের মানুষের চেহারা ভিন্নরকম, সৌদি আরবের মানুষের চেহারা ভিন্নরকম, বাংলাদেশ পাকিস্তান ভারতের মানুষের চেহারা ভিন্নরকম, কারণ মানুষের চেহারা দেখে বুঝা যাবে এটা কোন অঞ্চলের মানুষ এটা একটা সিকিউরিটি, এটা নিরাপত্তার জন্য আল্লাহ করেছেন যে. তুমি আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে শ্বেতাঙ্গ সাজতে পারবা না।
বন্ধু আমার, খুব সংক্ষেপে বুঝানোর চেষ্টা করছি। ভাষা একটা নিরাপত্তা, আপনি এই ভাষার ভিন্নতাকে যদি তুলে দিতে চান তাহলে নিরাপত্তার সমস্যা হবে এবং আপনি বুঝতে পারবেন না কে কোন অঞ্চলের মানুষ। একই রকম ভাবে খাবার-দাবারের ভিন্নতা এটা মানুষকে বলে দেয় সে কোন অঞ্চলের মানুষ। সৌদি আরবের মানুষকে যদি আপনি সারাদিন আলু ভর্তা, ভাত আর পান্তা ভাত দেন সে খাইতে পারবে আর বাংলাদেশের মানুষকে গরমকালে সকালে যদি পান্তা ভাত দেন তাহলে এর চাইতে মজা আর কিছু নাই ঠিক কিনা? ঠিক। তাহলে খাবার দাবারের ভিন্নতা এটাও সৃষ্টি করেছেন কে? আল্লাহ, কেন? لتعارفوا তোমরা যেন আমার সৃষ্টি বৈচিত্র বুঝতে পারো, তোমরা যেন আমার সৃষ্টির রহস্য বুঝতে পারো, আমি ভাষার ভিতরে ভিন্নতা সৃষ্টি করেছি, তোমাদের চেহারার ডিজাইনের বৈচিত্র সৃষ্টি করেছি, তোমাদের খাবার-দাবারের বৈচিত্র সৃষ্টি করেছি তোমাদের পোশাক আশাকের ভিন্নতা সৃষ্টি করেছি, অনুরূপভাবে তোমাদের নারী এবং পুরুষের মাঝে দুইটা শ্রেণীতে বিভক্ত করেছি, এখন আপনি যদি চিন্তা করেন যে না আমাকে আর নারী হিসেবে
ভালো লাগে না আমি এখন আস্তে করে পুরুষ হতে চাই অথবা কোন পুরুষ যদি চিন্তা করে যে ৩০ বছনা ২৫ বছর পুরুষ ছিলাম আমার মনে চায় আমি এখন থেকে একটু মহিলা হবো। বর্তমানে দুইটা মারাত্মক শয়তানি স্লোগান, একটা শ্লোগানের নাম হল মানবাধিকার, আরেকটা শয়তানের স্লোগানের নাম হল বাক স্বাধীনতা। অর্থাৎ মানুষ হিসেবে আমার একটা অধিকার আছে কথাটা শুনতে ভালই লাগে আরবিতে বলা হয়,
کلمه حق اريد به الباطل
কথা সত্য মতলব খারাপ। মানুষে বলে আমার একটা মানবাধিকার আছে, এর জন্য কি করতে চাও? বলে, আমার মানবাধিকার আছে আমার মনে যা ইচ্ছা তাই আমি করতে চাই। আমার নাম আমি যেভাবে খুশি সেভাবে রাখতে পারি আমার নাম রাখবো ঝন্টু, মন্টু, পিন্টু, বিল্টু কারো নামের সঙ্গে মিলে গেলে রাগ করিয়েন না। বাংলাদেশে বর্তমানে বহু মানুষের নাম এমন আছে যে আপনি নাম দেখলে বুঝতে পারবেন না এটা ছেলে না মেয়ে, যেমন বহু মানুষের নাম আছে মুক্তা, যদি কারো নামের সঙ্গে মিলে যায় আমি মাফ চেয়ে নিচ্ছি, মুক্ত্য নাম ছেলেদেরও আছে মেয়েদেরও আছে। এখন এমন একটা নাম আপনি রাখছেন যেটা ছেলের নামও বোঝায় মেয়ের নামও বোঝায় এরকম ভেজাইল্লা নাম রাখা জায়েজ নাই। একই রকম ভাবে এমন নাম রাখা জায়েজ নাই যে নামের দ্বারা বোঝা যায় না এটা মুসলমান না কাফের, এজন্য হাদিস শরীফে নবীজি বলেছেন, তোমাদের সন্তান যখন ভূমিষ্ঠ হবে তার সুন্দর একটা নাম রাখবা, সপ্তম দিবসে আকিকা করবা ও বন্ধু আমরা সুন্নত থেকে দূরে চলে গেছি এজন্য আমাদের উপরে বিপদ আসতেছে, বিপদ এসে গেছে, আমরা নবীর একটা সুন্নত বাদ দিয়েছি নাম রাখার সুন্নত। এজন্য প্রথমে যে সাংস্কৃতিক অগ্রাসন আমাদের ওপরে চালানো হয়েছে সেটা হল, আমরা যে আমাদের বাচ্চাদের নামগুলো ইসলামী নাম বাদ দিয়া ভেজাল নাম খিচুড়ি মার্কা নাম রাখা শুরু করেছি, মানুষে মেয়ের নাম রাখে সাবরিনা, জাহান, আক্তার, সুমি, রুমী, ঝুমি, চার-পাঁচটা নাম
রাখে একসাথে, আমি বলি এতগুলো নাম কেন? বলে দাদি একটা নাম দিয়েছে, দাদা এক নাম দিয়েছে, বাবা এক নাম দিয়েছে, মা এক নাম দিয়েছে- নাম হয়ে গেছে চারটা। এই নামগুলো রাখা মাকরুহ। বাচ্চাদের এমন নাম রাখবেন না। দুই নাম্বারে, আমরা চিন্তা করছি যার তিনটা মেয়ে হয়, পরপর তিনটা কন্যা সন্তান হয়েছে, এখন পুত্র সন্তান হয় না এখন সে বলে আমার ছেলে না হয় থাক এই মেয়েই আমার ছেলে, অর্থাৎ সে মানুষকে বলে বেড়াচ্ছে আমার ছেলে নাই তো কি হয়েছে এই মেয়েই আমার ছেলে এ কথা বলে তার কন্যা সন্তানকে সে জিন্সের প্যান্ট পরাচ্ছে ঠিক কিনা? ঠিক। এজন্য শহরে আপনি দেখবেন বহু মেয়েরা জিন্সের প্যান্ট পরে আর ছেলেরা এখন চুল লম্বা করে এবং খোপা পরে হাতের মধ্যে বালা দিয়ে ঘুরে এদেরকে হিজরা হতে মনে চাচ্ছে। গায়ক গায়ক ভাব, লালন লালন ভাব একটু দুই কলম সাহিত্য শিখছে, তিন কলাম গিটার বাজানো এজন্য চুল লম্বা করে মহিলা স্টাইল, দাড়িও আছে তো এটা অর্ধেক মহিলা অর্ধেক পুরুষ ঠিক কি না? ঠিক। আমরা বাচ্চাদের খেলাধুলার ভিতরে পার্থক্য করে ফেলেছি তারপরে আমরা আস্তে আছে চিন্তা করছি ছেলেরা যদি ফুটবল খেলতে পারে মেয়েরা ফুটবল খেললে অসুবিধা কি? আমার মানবাধিকার আমাকে মারছে, আমরা এটা মেনে নিয়েছি এখন আমাদের সমাজে এটা গ্রহণীয় হয়ে গেছে ছেলেরা যদি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারে মেয়েরাও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারবে, আগে ছেলেরা শুধু বক্সিং খেলতো আপনার মানবাধিকার আপনাকে খোঁচা মারছে। বলে খালি ছেলেরা কুস্তা বৃদ্ধি আর বক্সিং খেলবে মেয়েরাও খেলুক, তখন মেয়েদেরও বক্সিং নামছে ঠিক না? ঠিক। আস্তে আস্তে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা, মেয়েদের সাঁতার খেলা, মেয়েদেরও সাঁতারের পোশাক পরে শট পোশাক পরে এটা আবার পেপারের মধ্যে ছাপা হয় আমাদের চোখে দেখতে দেখতে সয়ে গেছে আমাদের কাছে আর খারাপ লাগে না। আগে একটা পেপারে ল্যাংটা ছবি দেখলে খারাপ লাগতো এখন পেপারের
যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই
ভিতরে উলঙ্গ ছবি মোবাইলের ভেতরে উলঙ্গ হবি এটা আমাদের আর খারাপ লাগেনা। ক্যালেন্ডার এর ভিতরে উলঙ্গ ছবি এটা আমার আর খারাপ লাগে না। পেপারের খেলাধুলার পাতার মধ্যে মেয়েরা জাংগিয়া পরে সাঁতারের ড্রেস পরে সাতারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, মেয়েরা ফুটবল খেলার জন্য হাফ প্যান্ট পরে খেলতেছে, মেয়েরা ছেলেদের মতো বক্সিং খেলার জন্য হাফ প্যান্ট পরে বুক টাইট করে বেঁধে বক্সিং খেলতেছে। পেপারে ছাপা হচ্ছে টেলিভিশনে দেখা হচ্ছে আমাদের আর খারাপ লাগে না। তার পরে এখন বলা হচ্ছে, আমি বাইলজিক্যালি ভাবে ছেলে যদি আমার মনে চায় আমি কাল থেকে আর ছেলে থাকবোনা মেয়ে হয়ে যাব। তার নাম ছিল শরীফ, সে চিন্তা করছে কাল থেকে শরীফা হয়ে যাব। একজনের নাম হাসান সে চিন্তা করছে কাল থেকে হাসিনা হয়ে যাব। মুসলমান হাসার কথা নয়, হুজুর সাঃ এর সুন্নত থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আমাদের এই অবস্থা। আজকে বাংলাদেশের সপ্তম শ্রেনীর বইতে শরীফ থেকে শরিফা, ট্রান্সজেন্ডার নামে সমকামিতা, উলঙ্গপন্য বেহায়াপনা ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই এদেশ অলি-আওলিয়ার দেশ এ দেশ মসজিদ-মাদ্রাসার দেশ ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে ট্রান্সজেন্ডার এর নামে সমকামিতা, উলঙ্গপনার এই শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে দেওয়া হবে না, হবে ইনশাআল্লাহ। একটা কথা বুঝেন ট্রান্সজেন্ডার আর হিজড়া এক নয়, আমাদেরকে অনেকে ভুল বুঝায় আপনাদেরকেও ভুল বুঝায়, হুজুর হিজড়ারা কি মানুষ না? আমি বলি অবশ্যই হিজড়ারা মানুষ। বলে হিজড়ারাইতো ট্রান্সজেন্ডার। ভুল কথা আমার থেকে শোনেন, ট্রান্স একটা ইংরেজি শব্দ, ট্রান্স মানে পারাপার হওয়া রূপান্তর হওয়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, যেমন ট্রান্সপোর্ট, এক পোর্ট থেকে আরেক পোর্টে মাল নিয়ে যাওয়ার, ট্রান্সফার মানে বিদ্যুতের ভোল্টেজ বড় আকারে এসে মেশিনের মধ্যে ঢুকে ওখান থেকে রূপান্তরিত হয়ে হালকা হয়ে আর এক জায়গায় বিদ্যুৎ পার হয় এর নাম ট্রান্সফরমার। আর জেন্ডার মানে লিঙ্গ, লিঙ্গ দুই
প্রকার, পুরুষ লিঙ্গ আর স্ত্রী লিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গের কাজ ছিল বাচ্চা পেটে ধারণ করা, পুংলিঙ্গের কাজ ছিল শুক্রাণু মহিলার পেটে দিয়ে দেওয়া, এখন কোন কোন মানুষের চিত্তা যে আমার ছেলে নাই তো আমার মেয়েটাই ছেলে এ কথা বলে মেয়েকে বল কিনে দিয়েছে এবং অনেক ফ্যামিলিতে বলতেছে যে আমার মেয়ে হয়েছে তো কি হয়েছে মেয়ে হলে কি রান্না বান্না করে খেতে হবে, মেয়ে হলেই কি আলু ভর্তা করা শিখতে হবে, আমার মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে, রান্না বান্না করার জন্য কাজের লোক রাখবো এটা আমাদের কালচার শুরু হয়েছে। কিন্তু মনে রেখো এমন শিক্ষা ব্যবস্থা এদেশে সহ্য করা হবে না, যে শিক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা তোমরা সমকামিতাকে প্রমোট করবা, তোমরা অশ্লীলতাকে প্রমোট করবা, আমাদের শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকতে এই নাস্তিক্যবাদী এই ব্রাহ্মন্যবাদী এই হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে কোরআন সুন্নাহর আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
আল্লাহ পাক বলেছেন, إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى আমি তোমাদেরকে পুরুষ আর নারীতে সৃষ্টি করেছি
কেন? পুরুষের বায়োলজিক্যাল শারীরিক গঠন ভিন্ন, মেজাজ ভিন্ন তার চালচলন ভিন্ন তার পোশাক-আশাক ভিন্ন এখন আমরা পুরুষ আর নারীকে সমান পাল্লায় রাখতে চাচ্ছি, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই সমান কোন অসুবিধা নাই, নারী হিসেবে নারীর মর্যাদা ঠিকই থাকবে বরং ইসলাম নারীকে বেশি মর্যাদা দিয়েছে কাজ কম দিয়েছে আর পুরুষের মর্যাদা কম দিয়েছে কাজ দিয়েছে বেশি। ও মহিলা সমিতির লিডারেরা কান শোনো। তোমাদেরকে খ্রিস্টানরা চকলেটের পণ্য বানাতে চায়, বিস্কুটের প্যাকেটে তোমাদের ছবি দিয়া তোমাদেরকে নিয়ে ব্যবসা চায় আর তোমরা তাতে খুশি। আমরা বলতেছি মহিলাদেরকে ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপনের পণ্য বানাইও না মহিলাদের ছবি বিস্কুটের প্যাকেটে দিও না এরা মায়ের জাতি এরা সম্মানের জাতি। আচ্ছা আপনি বিড়ির প্যাকেটের মধ্যে যদি হাসিনার ছবি
দেন সম্মান না অসম্মানের? স্যান্ডেলের মধ্যে যদি মুজিবের ছবি দেন সম্মান না অসম্মান? শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যদি কেহ অবমাননা করে তার জেল হবে না চুমা খাবে? মহিলারা হলো মায়ের জাতি, মহিলা ছাড়া দুনিয়াতে মানুষ আসা সম্ভব না। পৃথিবীর কোন নবী মহিলা ছাড়া দুনিয়াতে আসে নাই, পৃথিবীতে কোন সাহাবী কোন আল্লাহর অলি কোন মানুষ মহিলাদের পেট ছাড়া দুনিয়াতে আসে নাই, এই মহিলাদেরকে সম্মান দেখানোর জন্য আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন ও মহিলারা সাধারণ পুরুষ মানুষ যেভাবে রাস্তায় বের হতে পারে তোমরা সেভাবে রাস্তায় বের হয়ো না। وَلا تَبَزَجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
তোমরা জাহেলী যুগের মেয়েদের মত উলঙ্গ হয়ে বেপর্দায় রাস্তায় বের হয়ো না। আমার মা বোনেরা। আপনার শরীর ছাড়া কোন নবীর আগমন হয় নাই, আপনার পেট ছাড়া দুনিয়াতে কোন মানুষ আসা সম্ভব না, আপনার শরীরটা হল দামি শরীর, দামি শরীরটাকে বোরকা দিয়ে কাপড় দিয়া ওড়না দিয়া ঢেকে রাখার দরকার আছে কি নাই? আছে। এখন ইউরোপের মানুষেরা বলতেছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হলে আমার শরীর আমি যেরকম ইচ্ছা পোশাক পরবো যে রকম মনে চায় খুলবো। এই ঔষধ এখন আমাদের দেশে খাওয়ানো হচ্ছে আমাদের দেশের শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা এখন এই ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করেছে, ছেলেরা এখন হাতে চুড়ি পরা শুরু করেছে, হাফ প্যান্ট পরা শুরু করেছে, লম্বা চুল রাখা শুরু করেছে আর মেয়েরা পায়জামা টাখনুর উপরে তুলছে। মেয়েরা হুন্ডা চালানো শুরু করেছে, বহু পরিবারে হাজার হাজার যুবক ছেলে মা-বাবার সামনে হাফপ্যান্ট পরে থাকে। আমি এই বগুড়া শহরে দেখেছি শত শত যুবক মোটরসাইকেল চালাইতেছে হাফ প্যান্ট পরে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পরে, দুইদিন পরে যদি জাঙ্গিয়া পরে চালায় আপনি কি বলবেন? ফুলপ্যান্ট থেকে আন্তে আস্তে হাফপ্যান্ট হইল তিনদিন পরে যদি জাঙ্গিয়া হয় চার দিন পরে যদি একেবারে নাই হয়ে যায় আপনি কি করবেন? ও মুসলমান হাসির কথা নয় ইউরোপের মধ্যে আমেরিকার মধ্যে মানুষেরা মিছিল বের করে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হইয়া। সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করে ভদ্র সমাজের মানুষ
শিক্ষিত মানুষ আপনি আমেরিকান শহরে উলঙ্গ শরীরে কেন মিছিল বের করেছেন? তারা বলে আমাদের স্বাধীনতা। মনে চায় জন্মদিনের পোশাক পরে থাকবো, মায়ের পেটের থেকে যেভাবে জনেন্মছি ঐ পোশাক পরে জন্মদিনে একটু রেলি বের করব। এজন্য আপনার আমার জীবনযাত্রাকে ব্যারিকেড দিতে হবে জীবন যাত্রার একটা সীমানা নির্ধারণ করতে হবে, যে আমি আমার জীবন যাত্রার ওই বাহিরে যেতে পারব না ঐ সীমানার নাম হলো কোরআন এবং হাদিস। যদি ফলো না করেন আপনি মানুষ থাকবেন না আপনি পশুতে পরিবর্তন হবেন এমনকি পশুর চাইতেও অধম হবেন।
لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
এদের চক্ষু আছে চোখ দিয়ে দেখল না এদের কান আছে কান দিয়ে শুনলো না এদের অন্তর আছে অন্তর দিয়া না এরা হলো চতুষ্পদ প্রাণী বরং তার চেয়েও ভয়াবহ খারাপ। মনে করেন একজন পুরুষ নাম শরীফ নাম পাল্টে দিয়েছে শরিফা, এখন জামা কাপড়ও পাল্টে দিয়েছে প্যান্ট শার্ট খুলে থ্রি পিস পরেছে, ঠোটে লিপিস্টিক দিয়েছে, হাতে বালা দিয়েছে, কপালের মধ্যে টিপ দিয়েছে, চুলগুলো লম্বা এখন সে মহিলা দাবি করছে। এখন যদি সে বলে আমাকে ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় মহিলা কলেজে সিট দেওয়া তাহলে একজন বাস্তবে পুরুষ আর নকল মহিলা, এই পুরুষটা যখন মহিলাদের হোস্টেলে থাকবে তখন কি হবে? আপনাদের মেয়ে গুলোকে যে আপনারা ভার্সিটিতে পড়াচ্ছেন, আর সেখানে যেটা ট্রান্সজেন্ডার এর শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে এই বেটিদেরকে আর বিবাহ দেওয়া লাগবে না, বিবাহ হওয়ার আগেই নাতি পুতের মুখ দেখবেন। বিদেশে এটা আছে, এটাই এদেশে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাহলে ঐ ছেলের সাথে যে মেয়েটা ঘোরাঘুরি করতেছে সে তো বাস্তবে ছেলে নাম শরীফ, পাল্টে দিয়ে রাখছে শরিফা, এর মানে হল এই অরজিনাল ছেলেই আজ নকল মেয়ে সাজছে। তাহলে মেয়ে মানুষ তো আর মেয়ে মানুষকে বিয়ে করে না তাহলে কাকে বিয়ে করা লাগবে? ছেলেকে। তাহলে শরীফ যদি শরিফা নাম ধারণ করে একটা ছেলেকে বিয়ে করে তাহলে বাস্তবে কার সাথে কার বিয়ে হলো? ছেলে ছেলে বিয়ে হল, এই ছেলে ছেলে বিয়ে বাংলায় বলে সমকামিতা এই শয়তানি রাস্তা খোলার জন্য এই শয়তানি কওমে দূতের চরিত্র এ দেশে বাস্তবায়ন করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদেরকে ধোকা দিয়ে হিজড়া আর ট্রান্সজেন্ডার কে এক নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেছে। ও বোকার দল আমাদেরকে বোকা মনে করিও না। হিজরা ইসলামের সম্মানের পাত্র, হিজড়া একটা যৌন প্রতিবন্ধী। মানুষ যেমন অন্ধ হইলে দৃষ্টিশক্তি প্রতিবন্ধী হয়, কথা না বলতে পারলে বাক প্রতিবন্ধী হয়, না পুরুষ না মেয়ে মাঝা মাঝ হয় তাহলে তাকে যৌন প্রতিবন্ধী বলা হয়। আমাদের আঞ্চলিক ভাষাতে হিজড়া বলে। আর তোমরা যেটা করতেছ, প্রকৃত পুরুষকে মহিলা বানাচ্ছ, প্রকৃত মহিলাকে পুরুষ বানাইয়া ছেলে ছেলে সমকামিতা করছো, জেনে রাখ এ দেশে এই শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে কোরআন সুন্নাহর আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে, নইলে আমরা আমাদের দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জিহাদ ঘোষণা করে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে কোরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার জন্য জান দিতে রাজি আছি ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুক বলেন আমিন।
মাওলানা কাজি ফজলুল করিম রাজু
ছয়টি বিষয়ের সমন্বয়ে তওবা পরিপূর্ণতা লাভ করে
মাওলানা আব্দুল মতিন, সেক্রেটারী, ইসলামী সম্মেলন সংস্থা, বগুড়া, সভাপতি, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, বগুড়া জেলা,
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন অনেক কথার প্রতি বান্দাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কসম খেয়েছেন। অনেক কথাই আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কসম খেয়ে বলেছেন যেন কথার গুরুত্বটা বান্দার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যায়। তবে আল্লাহ জন্য আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কিছুর কসম খাওয়া নিষেধ নয়। বান্দার জন্য একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কিছুর কসম খাওয়া হারাম। এই কথাটা অনেকের জানা না থাকায় অনেক মুসলমান আসমানের কসম খায়, জমিনের কসম খায়, বিদ্যা বৃদ্ধির কসম খায়, মাথার কসম খায়, মা-বাবার
কসম খায় এগুলো হারাম। বান্দা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার নাম ছাড়া আর কারো নামে কসম খেতে পারে না। এ বিধান বান্দার জন্য আল্লাহ তায়ালার জনা নয়। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন কোরআনে অনেক কথাই অনেক রকমের কসমের মাধ্যমে বলেছেন। তবে একটি কথা আল্লাহ তায়ালা এত বেশি কসম খেয়ে বলেছেন যে, আর কোন বিষয়ের কথা এত বেশি কসম খেয়ে বলেন নি। এর মানে হল এই বিষয়টা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূরায়ে শামসের প্রথম থেকে আল্লাহ তায়ালা বেশ কতগুলো কসম খেয়ে এরশাদ করেন-
وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَالْقَمَرِ إِذَا ثَلَاهَا وَالنَّهَارِ إِذَا جَلَاهَا وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَاهَا وَالسَّمَاءِ وَمَا بَنَاهَا وَالْأَرْضِ وَمَا طَحَاهَا وَنَفْسٍ وَمَا سَوَاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا
অর্থ: আমি সূর্যের কসম খেয়ে বলছি, আমি রৌদ্রের কসম খেয়ে বলছি, আমি চন্দ্রের কসম খেয়ে বলছি, যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে, দিনের কসম খেয়ে বলছি, দিনের আলোর কসম খেয়ে বলছি, রাতের কসম খেয়ে বলছি, রাতের অন্ধকারের কসম খেয়ে বলছি, আসমানের কসম খেয়ে বলছি, আসমান সৃষ্টি করার কসম খেয়ে বলছি, জমিনের কসম খেয়ে বলছি, জমিন কে সমতল করার কসম খেয়ে বলছি, আমি মানুষের মনের কসম খেয়ে বলছি, মনকে মানুষের উপযোগী করার কসম খেয়ে বলছি। এতগুলো কসম খেয়ে আল্লাহ তায়ালা একটি কথা বলেছেন, সে কথাটির মর্ম হলো,
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَاهَا
وَقَدْ خَابَ مَنْ دَشَاهَا
যে মানুষ তার মনকে পবিত্র রাখে সে মানুষের জীবন সফল। আর যে মানুষ তার মনকে অপবিত্র করে রাখে তার জীবন বিফল। মানুষের জীবন সফল কীভাবে হয় আর বিফল কীভাবে হয়, এ কথাটা মহান আল্লাহ সূরায়ে শামসের শুরুতে ১৪টি কসম খেয়ে বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে এত কসম খেয়ে
আর কোন কথা বলেননি, শুধু মানুষের সফলতা আর বিফলতার কথা বলতে যত কসম খেয়েছেন। মানুষের মনের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকটা গুনাহের কাজের মজা বুঝার যোগ্যতা দান করেছেন। প্রত্যেকটা গুনাহের কাজের সাজা বুঝার যোগ্যতা দান করেছেন। এ দুটি বিষয় একত্রে না কোন জীবজন্তুকে আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন। না কোন ফেরেশতা কে আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন।
বিষয়টা পরিষ্কার হওয়ার জন্য আরেকটু খোলাখুলি বলি। যতকাজে গুনাহ হয় সবগুলো গুনাহের কাজে দুটি করে ফলাফল থাকে, একটি হলো গুনাহের মজা আরেকটি হলো গুনাহের সাজা। যেমন ধরেন- প্রশ্ন: বিয়ের আগে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা কি একটি সওয়াবের কাজ? উত্তর: না, গুনাহের কাজ। এর দুইটা ফলাফল আছে, একটি হলো মজা, অপরটি হলো, সাজা/শান্তি। এভাবে প্রতিটি গুনাহের কাজের দুটি করে ফলাফল আছে। একটি মজা আরেকটি সাজা। গুনাহের কাজের সাজা ফেরেশতারা বুঝে কিন্তু মজা বুঝে না। আর গুনাহের কাজের মজা জানোয়ার বুঝে কিন্তু সাজা বুঝে না। নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার মধ্যে কি মজা? এমন মজা জানোয়ারও বুঝে। কিন্তু এমন মিলামিশার কারণে পরকালে কি সাজা হবে? এটা বুঝার যোগ্যতাই কোন জানোয়ারের নাই। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে, বিয়ে ছাড়া নারী পুরুষের মিলামিশার সাজা পরকালে কি হবে তা ফেরেশতারা ভালই জানে, কিন্তু কোন মজায় মানুষ এ পাপটা করে তা তারা বুঝে না। শুধু মজাটা বুঝে জানোয়ারে, শুধু সাজাটা বুঝে ফেরেশতা, আর আল্লাহ তায়ালা বলেন, মানুষ দুটোই বুঝে। ০১. মানব শ্রেষ্ঠত্বের রহস্য ফেরেশতা যেহেতু মজা বুঝেনা, এজন্য ফেরেশতা আজীবন বেগুনাহ থাকা সত্বেও সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী হতে পারে না। কারণ যে গুনাহের মজা বুঝেনা সে থেকে বিরত থাকলেও পুরষ্কারের যোগ্য হয় না। আর জানোয়ার যেহেতু সাজা বুঝে না, এজন্য জানোয়ার জীবনভর বিয়ে ছাড়া নর-মাদী মিলনে লিপ্ত হওয়া সত্বেও পরকালে এরা আহান্নামে
যাবে না। যেহেতু সাজা বুঝার যোগ্যতা নেই, এজন্য সাজা হবে না। ফেরেশতার যেহেতু মজা বুঝার যোগ্যতা নেই এজন্য ফেরেশতা গুনাহ থেকে বিরত থাকলেও শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী হবে না। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন মানুষকে প্রতিটি গুনাহের মজা বুঝারও যোগ্যতা দান করেছেন, সাজা বুঝারও যোগ্যতা দান করেছেন, এখানে হবে মানুষের পরীক্ষা। তুমি মজার লোভে গুনাহে লিপ্ত হও, না সাজার ভয়ে গুনাহ ছেড়ে দাও। কোন মানুষ যদি মজার লোভে গুনাহে লিপ্ত হয় তখন তার আত্মাটা অপবিত্র হয়ে যায়। সেই আত্মাটা তখন জাহান্নামের শাস্তির যোগ্য হয়ে যায়। আর কোন মানুষ যদি ভয়ঙ্কর জাহান্নামের শান্তির ভয়ে শুনাহের অভ্যাস যথারীতি তওবা করে ছেড়ে দেয় তাহলে ঐ মানুষের আত্মা আবার পাক পবিত্র হয়ে যায়। সেই লোকটা জান্নাতের উপযুক্ত হয়ে যায়। প্রাথমিক দিকের এই কথাগুলো মনে রাখলে পরের কথাগুলো বুঝতে সহজ হবে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যেমনিভাবে গুনাহের মজা বুঝার যোগ্যতা দান করেছেন, তেমনিভাবে গুনাহের সাজা বুঝার যোগ্যতাও দান করেছেন, সুতারাং যোগ্যতার বিচারে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। ফেরেশতার একটি যোগ্যতা আছে অন্যটা নাই, জানোয়ারের অন্য যোগ্যতা তো আছে, অপরটা নাই। কেবলমাত্র মানুষের ফেরেশতাদের যোগ্যতাটাও আছে, জানোয়ারের যোগ্যতাটাও আছে। বুঝা গেল
যোগ্যতার বিচারে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا. وَقَدْ خَابَ مَنْ دَشَاهَا
কোন মানুষ যখন মজার লোভে গুনাহে লিপ্ত হয় তখন তার আত্মাটা বা মন নাপাক/অপবিত্র হয়ে যায় এই মানুষটাই যখন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে অথবা জাহান্নামের শাস্তির ভয়ে যথারীতি তওবা করে গুনাহ ছেড়ে দেয়, তখন সে বেগুনাহ হয়ে যায়। হাদিস শরীফে আল্লাহ তায়ালার রাসুল ও বলেন, التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
যে গুনাহগার যথারিতী তওবা করে গুনাহ ছেড়ে দেয় আল্লাহ তায়ালা তাকে আবার বেগুনাহ বানিয়ে দেয়। ০২. অপবিত্র মনকে পবিত্র করার চমৎকার কুরআনী চিকিৎসা উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে। মানুষের মনের মধ্যে গুনাহের প্রতি সদা সর্বদা লোভ লালসা বিদ্যমান থাকে, এ কারণে মন থেকে গুনাহের মজার লালসা বেরও করতে পারে না, আর তওবা করা তার নসীবও হয় না। গুনাহের মজার লালসা মানুষের অন্তরে থাকার কারণে, হয়তো তওবা নসীব হয় না আর না হয় আগের দিন তওবা করলেও পরের দিন আরো ১০ বার গুনাহ করে। তওবা যখন করেছিলো তখন সাজার ভয় অন্তরে ঢুকেছিলো আবার যখন মজার লোভটা তার অন্তরে বড় আকার ধারণ করেছে তখন সে আবার তওবা ভঙ্গ করে আবার গুনাহে লিপ্ত হয়েছে। প্রশ্ন: একবার তওবা করলেও আবার ১০ বার গুনাহ করে কেন?? উত্তর: গুনাহের মজার লোভতার অন্তরে সবসময় বিদ্যমান থাকে। তাহলে এ তওবাটাতো গুনাহগারের সফলতা বয়ে আনতে পারল না। গুনাহের মজার লোভে হয়তো তওবাই করতে পারে না আর হয় তওবার উপর অটল থাকতে গারে না। গুনাহের মজার লোভের এ দুইটা পরিণতি (১) হয়তো তওবা করতেই পারে না আর না হয় (২) তওবা করলেও তার উপর অটল থাকতে পারে না। প্রশ্ন: সুতরাং সফল তওবা, অর্থাৎ তওবা করার জন্য অনুপ্রাণিত হওয়া এবং তওবার উপর অটল থাকার ব্যবস্থা কি? উত্তর: আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন সেই ব্যবস্থা বলে দিয়ে কুরআনে বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ আল্লাহ তায়ালার শাস্তির ভয় অন্তরে রাখো, আল্লাহ
তায়ালার শাস্তির ভয় অন্তরে রাখলে গুনাহ করার সাহস থাকবে না আল্লাহ তায়ালার শান্তির ভয় অন্তরে বদ্ধমূল হবে না আল্লাহ ওয়ালাদের সংশ্রব অবলম্বন করলে। আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে থাকলে, আল্লাহ কাছে বসা থাকলেও মনের মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ভয় জাগ্রত হতে থাকে।
০৩ জীবনের সব গুনাহ মুছে ফেলার উপায় আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মধ্যে আখেরী জামানার নবীকে তাঁর উম্মতের হেদায়েতের জন্য যে ৪টি পন্থা বলে দিয়েছেন তার মধ্যে চতুর্থ ও সর্বশেষ হল উম্মতের আত্মা পবিত্র করে দেয়া। প্রশ্ন: গুনাহ করতে থাকলে আত্মা পবিত্র হয়? না তওবা করে গুনাহ ছেড়ে দিলে আত্মা পবিত্র হয়? উত্তর: তওবা করে গুনাহ ছেড়ে দিলে আত্মা/মন পবিত্র হয়। আমাদের সমাজে অনেক মুসলমান এমনও আছেন যারা তওবার মর্মও বুঝেন না, তওবার অর্থও বুঝেন না। এরা শুধু তওবা, তওবা জপাকেই তওবা মনে করে অথচ মুফাস্সিরীনে কেরাম তফসীরের কিতাবে লেখেছেন, ৬ কাজের সমষ্টির নাম তওবা। প্রশ্ন: কত কাজের সমষ্টির নাম তওবা? উত্তর: ৬ কাজের সমষ্টির নাম তওবা। প্রশ্ন: কত ফরজ পালন করলে ওজু হয়?? উত্তর: চার ফরজ। এক ফরজ মুখ ধোয়া, দ্বিতীয় ফরজ হাত ধোয়া, তৃতীয় ফরজ মাথা মাসেহ করা, চতুর্থ ফরজ পা ধোয়া। প্রশ্ন: কত ফরজে ওযু হয়? উত্তর: ৪ ফরজে ওযু হয়।।
কেউ যদি মুখ ধুইলো, হাত ধুইলো, মাথা মাসেহ করল কিন্তু পা ধুইল না তার যেমন ওজু হলো না। ঠিক তেমনিভাবে ৬ কাজ একসাথে করলে তওবা হয়, কেউ ৫ কাজ করল বাকি ১ কাজ করল না তার তওবা হলো না। ৪ ফরজ আদায় করা ছাড়া যেমনিভাবে ওজু হয় না, তেমনিভাবে ৬ কাজ না করা পর্যন্ত তওবা হয়না। হযরত আলী (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল: তওবা কি? তিনি বললেনঃ ছয়টি বিষয়ের একত্রে সমাবেশ হলে তওবা হবে- ০১ নম্বর: অতীত মন্দকর্মের জন্য অনুতাপ ০২ নম্বর: যেসব ফরজ ও ওয়াজিব কর্ম তরক করা হয়েছে সেগুলো কাযা করা ০৩ নম্বর: কারও ধন-সম্পদ ইত্যাদি অন্যায়ভাবে কাউকে হাতে অথবা মুখে দিয়ে থাকলে তজ্জন্যে ক্ষমা নেয়া ০৫ নম্বরঃ ভবিষ্যতে সেই গোনাহের কাছে না যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প হওয়া এবং ০৬ নম্বর:
নিজেকে যেমন আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী করতে দেখেছিল, তেমনি আনুগত্য করতে দেখা।
- (মাযহারী) এ ৬ কাজ যে করে নবীজী বলেন,
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
গুনাহ করে আত্মাটা নাপাক করেছিল, এখন ৬ কাজের মাধ্যমে তওবা করেছে, তার গুনাহ তার আমলনামা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, তার অপবিত্র আত্তাটা আবার পবিত্র হয়ে গেছে, আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন, আমীন
কোরআন যালিকাল কিতাব কেন?
ذلك الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
এই আয়াত নিয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই, ওমা তৌফিকী ইল্লাবিল্লাহ। সূরায়ে বাকারার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন ذلك الكتب ঐ কিতাব, ঐ কিতাব বলতে কোনটাকে বোঝায়? ইমাম সুয়ূতী লেখেন اي هذا القران ঐ কিতাব অর্থাৎ এই কুরআন শরীফ, প্রশ্ন জাগে কুরআন শরীফ কি আল্লাহর কিতাব নাকি কালাম? কুরআন শরীফ যদি আল্লাহর কালাম হয় তাহলে এইখানে ذلك الكلام বলিয়া الكتاب কেন বলা হল। মুহতারাম হাজেরিন। এই প্রশ্নের জবাব বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে, কিতাব আর কালাম এর মধ্যে পার্থক্য কি। কিতাব বলা হয় লিখিত বস্তুকে। যেই জিনিস কাগজের মধ্যে কলম দ্বারায় লিখা হয় একে বলা হয় কিতাব, ১১ বলা হয় মুখের ভাষাকে, মুখ নিঃসৃত কথা এটাকে আরবিতে বলা হয় কালাম। লিখিত বস্তুকে বলা হয় কিতাব, এখন কুরআন শরীফ এটা কি আল্লাহর কিতাব নাকি আল্লাহর কালাম? মুফাচ্ছিরগণ বলেন কুরআন শরীফ একদিক দিয়ে আল্লাহর কিতাব, আরেক দিক দিয়ে আল্লাহর কালাম। কোরআন শরীফ ছাড়া অন্য যত আসমানী
গ্রন্থ ছিল, তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, সহিফায়ে ইব্রাহিম সহ অন্য যত আসমানী গ্রন্থ ছিল সব ছিল আল্লাহর কিতাব, ওইগুলো আল্লাহর কালাম ছিল না। কিতাব বলা হয় লিখিত বস্তুকে। লিখতে মাধ্যম লাগে, কালি লাগে, কলম লাগে, কাগজ লাগে, মাধ্যম যদি নষ্ট হয় লিখিত বস্তু নষ্ট হয়ে যায়। কুরআনের আগে যত আসমানী গ্রন্থ ছিল, সব ছিল কিতাব, তাই লিখার যে মাধ্যম কাগজ কালি নষ্ট হয়ে গেছে, যার কারণে কোরআন ছাড়া এর আগের যত আসমানী গ্রন্থ ছিল সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে, এর অস্তিত্ব এখন দুনিয়াতে নাই, কারণ মাধ্যম নষ্ট, মূল বন্ধু নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যতিক্রম কোরআন শরীফ যেটা শুধুমাত্র কিতাব নয় কালামুল্লাহ বা কথা কখনো নষ্ট হয় না, এই কথাটা বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য। বিজ্ঞানীরা বলে মানুষের মুখ দিয়ে যা কিছু বের হয় কোন কিছু নষ্ট হয় নাই, সবগুলোই বাতাসের মধ্যে সংরক্ষিত আছে। বিজ্ঞানের এই থিউরির ভিত্তিতে রেডিও আবিষ্কার হয়েছে, তাহলে নগণ্য মানুষের কথা যদি নষ্ট না হয়, আহকামুল হাকিমীন, আরহামুর রাহিমীন, সকল ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কথা যে নষ্ট হবে না এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। কুরআন এর দ্বিতীয় সংরক্ষণ। ওলামায়ে কেরাম জানেন, একটার নাম كلام النفس আরেকটার নাম كلام اللفظ কালামুন্নফস লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ এখনো আছে, তাহলে আর যেটা কালামুল লফজ, এটা আমাদের সামনে গ্রন্থ আকারে আছে। যেহেতু এর মূল সংরক্ষণ কালামুন্নাফস, আল্লাহর কথা লওহে মাহফুজে সংরক্ষণ আছে, তাই এই কুরআন কেয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত অবিচল থাকবে। এর একটা অক্ষরও কখনো পরিবর্তন হবে না। যেহেতু এটা আল্লাহর কালাম, এটা লাওহে মাহফুজ আছে, আর লাওহে একটা ফটোকপি লিখিত একটা ভার্সন আল্লাহ আমাদের সামনে দিয়েছেন, আল্লাহু আকবার। তাই আমাদের সামনে লিখিত যেটা, এটা হল কিতাবুল্লাহ, লাওহে মাহফুজে যেইটা মাহফুজ আছে, সংরক্ষণ হলো কালামুল্লাহ। ঐটা আল কুরামানের আসল কপি, এটা হইল ফটোকপি,
এইটা যদি কাগজ-কলম নষ্ট হইয়া যায় কোন সমস্যা নাই, মূল ভার্সন, লাওহে মাহফুজে আল্লাহ সংরক্ষন করে দিয়েছেন। তাই আল্লাহ বলে দিয়েছেন,
إلا لحن لالنا الذكر وإنا له لحافظون
আমি আল্লাহ এই কুরআন নাজিল করেছি এবং আমি আল্লাহ একে হেফাজত করব।
লিখিত এই মূল কালামুল্লাহর ফটোকপি যদি সারা দুনিয়ার সমস্ত বেইমানরা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, এরপরেও আল্লাহর কুরআনের একটা অক্ষর, একটা নোকতার ও কোন পরিবর্তন হবে না, কারণ মূল ভার্সন কালামুল্লাহ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ আছে। যেটাকে কালামুন নফস বলা হয়। আর এটা হলো কালামুল লফজ, এটা ফটোকপি। তাহলে কুরআন শরীফ একদিক দিয়ে আল্লাহর কালাম, যেটা লাওহে মাহফুজে আছে। আরেক দিক দিয়ে আল্লাহর কিতাব যেটা আমাদের সামনে লিখিত আছে। তাই আল্লাহ এখানে আমাদের সামনে যেটা লিখিত ঐদিকে ইঙ্গিত করতেছেন এ الكتاب لا ريب فيه ওই কিতাব। এখন প্রশ্ন জাগে যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করে কুরআন শরীফ কি তার সামনে থাকে না দূরে থাকে? কাছে থাকে। আপনারা জানেন এই শব্দটা হইলো ইছমে ইশারা বাইদ, দূরবর্তী কোনো বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করার জন্য আরবিতে এটি শব্দ ব্যবহার করা হয়, যেমন একটা কলম সামনে থাকলে এই কলম, কলমটা যদি অনেক দূরে থাকে ঐ কলম। কাছের বন্ধু ইশারা করার জন্য ইছমে ইশারা করিব। এ ইছমে ইশারা বাইদ, এটা দিয়ে দূরের বন্ধু বুঝায়, এখন কুরআন যখন আমাদের সামনে, আমরা তেলাওয়াত করি, এটা তো কাছে, এই হিসাবে যদি আল্লাহ বলতেন এই কিতাব, কাছের কিতাব, তাহলে জিনিষটা আমাদের মতে সুন্দর হইত। আমাদের অনেকের কলবের মধে একথা সংরক্ষণ আছে যে, যারা কুরআনের হাফেজ তাদের এই কলবে ৩০ পারা কুরআন সব সময় সংরক্ষণ আছে, তাহলে তো কুরআন কাছে, তাই ইমাম সুয়ূতী রহঃ ذلك الكتاب এর তাফসীর করেন
أى هذا الكافر। ইমাম সুন্নতী রহঃ তাফসীরে জালালাইনের মধ্যে الكتب এং এর তাফসীর কি في هذا الكتابর্থাৎ এই কিতার। কিন্তু মুফাচ্ছিরগণ বলেন এটি কে।এএ তাফসীর করাটা ঠিক এর কারণ আল্ল্যাহ এইখানে ইচ্ছে করলে এটি এর পরিবার্ত ১১৯ শব্দ লিখতে পারতেন, সুতরাং এইখানে একে ৩৯ দিয়ে পরিবর্তন করে তাফসীর করার মাকার নাই, ذلك الكتاب এটাই ঠিক আছে। তো এর জাগে কুরআন যদি আমাদের কাছে হয়, নিকটে না, তেলাওয়াতকারীর কাছে হয়, তাহলে আল্লাহ ১৯ এই কিতাব না বলিয়া ذلك الكتب কিতাব দূরের দিকে কেন ইশারা করলেন। মুফাচ্ছিরীণে কেরাম এর জবাবে বলেন ذلك الكتاب ঐ কিতাব, দূরের দিকে ইশারা করার কারণ হলো, অয়াম রাব্বুল আলামীন কুরআন তেলাওয়াতকারীকে কুরআনের আসল বাড়ি কোথায়, সেই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অল্লাহু আকবার। কুরআন শরীফের আসল বাড়ি কোথায় বলেন? (লাওহে মাহফুজ) যেখানেই এর করি সবাই এই কথাটাই বলে কুরআন শরীফের আসল বাড়ি নাকি লাওহে মাহফুজ। অথচ এই কথাটা পরিপূর্ণ সঠিক নয়, মনে রাখবেন লাওহে মাহফুজ কুরআন শরীফের আসল বাড়ি না। লাওহে মাহফুজ কুরআন শরীফের লজিং বাড়ি, বিশ্রামাগার, প্রশ্ন জাগে কুরআন শরীফের আসল বাড়ি কোথায়। এর জবাব শোনার আগে বলেন, কুরআন শরীফটা কার বাণী? আল্লাহর। বাণী কাকে বলে, যা মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয় এটাকে বলা হয় বাণী। মুখ দিয়ে কি উচ্চারণ হয়? অণ্তরের একটা ভাব, যখন অন্তরের ভাবটাকে আমরা মুখে উচ্চারণ করি, তাহলে যেই কোন কথা, যেই কোন ভাব, এর উৎপত্তিস্থল অন্তর, মুখ শুধু ভাষ্যকার।
ان الكلام لفي الفؤاد وانما جعل اللسان على الفواد دنيا যেকোনো কথার উৎপত্তিস্থল অন্তর। মুখ তার ভাষ্যকার। কুরআন শরীফ যেহেতু আল্লাহর কালাম সুতরাং কোরআন শরীফের উৎপত্তিস্থল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুদরতি অন্তর, আল্লাহু আকবার। রাজুল মসামিদের কুদরতি অন্তর ওটা কোরআন শরীফের
আসল বাড়ি। কুদরতি অন্তর থেকে এই কুরআনকে আল্লাম কুদরতি জবানে তেলাওয়াত করিয়া লাগতে মাহফুজ এর মধ্যে কিছুদিন তিনি আমানত রেখে দিয়েছিলেন, দেখেন এই কুরামান শরীফ আল্লাম রাস্তুল আলামীন জগতবাসীর হেদায়েতের জন্য দুনিয়াতে পাঠাবেন কিন্তু আল্লাহ সরাসরি পাঠান নাই। কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন, সেটা কি? কুদরতি মুখে তেলাওয়াত করিয়া কোরআন শরীফকে লাওহে মাহফুজে কিছুদিন বিশ্রামে রেখেছেন। আবার কুরআনের নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ যখন মেরাজের রজনীতে দুনিয়ার জমিন থেকে আরশে আজীমের সফর করে ছিলেন, কোরআনের নবীও মক্কার জমিন থেকে আরশে আজীমে সরাসরি যান নাই, বাইতুল মোকাদ্দাস এর মধ্যে একটু বিশ্রাম করেছিলেন। কুরআনও সেখান থেকে এখানে আসতে লাওয়ে মাহফুজে বিশ্রাম করেছে। কুরআনের নবী এখান থেকে আরশে যাইতে বাইতুল মুকাদ্দাসে বিশ্রাম করেছেন, দুই ঘটনায় মিল আছে। দ্বিতীয়, কুরআন যে দুনিয়াতে আসছে, একসাথে ৩০ পারা কুরআন একসাথে চলে আসছে? না আস্তে আস্তে ক্রমান্বয়ে আসছে
أنا انزلناء في ليلة القدر অর্থাৎ আল্লাহ বলেন, আমি আল্লাহ ৩০ পারা কুরআনকে এক সাথে নামীল করেছি, আবার অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
نزلنا إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون অর্থাৎ আমি আল্লাহ কুরআনকে নাযিল করেছি আছে আন্তে ক্রমান্বয়ে, তো মুহতারাম হাজেরিন এখন কুরআন শরীফ কি একসাথে আসছে না আছে আন্তে ক্রমান্বয়ে আসছে? যদি আছে আন্তে ক্রমান্বয়ে আসে
তাহলে আল্লাহ l কেন বললেন, আর যদি একসাথে চলে আসে তাহলে আল্লাহ ১১। কেন বললেন। ll বললে نزلنا সঠিক হয় না, ১। বললে সঠিক হয় না, আল্লাহ উভয়টা বলেছেন, কেন এখন কোনটা সঠিক? মোফাচ্ছিরগণ বলেন উভয়টা সঠিক, আল্লাহু আকবার।
انزلنا ও সঠিক نزلنا ও সঠিক- কিভাবে? লোহে মাহফুজ থেকে যখন আল্লাহ দুনিয়ার মানুষের হেদায়েতের জন্য কুরআন পাঠাবেন, দুনিয়ার প্রথম আসমানের বাইতুল ইজ্জত নামক একটা ঘর আছে, সেই ঘরের মধ্যে ৭০ হাজার নূরের ফেরেস্তা লাওহে মাহফুজ থেকে ৩০ পারা কুরআনকে একসাথে বহন করে দুনিয়ার বায়তুল ইজ্জাত নামক ঘরের মধ্যে নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের বায়তুল ইজ্জতের মধ্যে কুরআন এসেছে انزلنا একসাথে ৩০ পারা চলে আসছে, তাই আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি আল্লাহ ৩০ পারা কুরআন কদরের রাত্রিতে একসাথে নাফিল করেছি। অর্থাৎ লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার প্রথম আসমানে বায়তুল ইজ্জাত নামক ঘরে একসাথে ৩০ পারা কুরআন চলে এসেছে। এরপর বাইতুল ইজ্জাত থেকে জিব্রাইলের মাধ্যমে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কলব মোবারকে কুরআন শরীফ এসেছে আস্তে আন্তে ক্রমান্বয়ে, কখনো এক আয়াত, কখনো একটা সূরা, কখনো আংশিক সূরা, এইভাবে নবীজির নিকট ২৩ বছর নবুওতী জিন্দেগীতে কুরআন শরীফ এসেছে আস্তে আস্তে ক্রমান্বয়ে। অর্থাৎ দুনিয়ার প্রথম আসমানের বায়তুল ইজ্জত নামক ঘর থেকে কলবে কুরআন আসছে l হিসাবে সুতরাং কুরআন শরীফ نزلنا। এটাও সঠিক نزلنا এটাও সঠিক, লওহে মাহফুজ থেকে বাইতুল ইজ্জাত সাঃ এর কলবে এসেছে, তাহলে কুরআন দুনিয়াতে সরাসরি আসে নাই, প্রথমে লাওহে মাহফুজে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছে লওহে মাহফুজ থেকে বাইতুল
ইজ্জাত নামক ঘরে আরো কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছে, এরপরে আস্তে আস্তে নবীজির বলবে এসেছে। কোরআনের নবীও মেরাজের রাত্রে সরাসরি আরশে আজীমে যায় নাই। বাইতুল মুকাদ্দাস এ বিশ্রাম নিয়েছেন কেন? মুফাসচ্ছিরগণ বলেন পোশাক পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ যে পোশাকের দ্বারা দুনিয়াতে চলাফেরা করতেন এই পোশাকটা লা মাকানের সফরের জন্য বেমানান ছিল, কারণ সব খানে সব পোশাক চলে না। আপনারা ঘরবাড়িতে এক পোশাক পরেন, মাহফিলে আসনে মাহফিলের যোগ্য পোশাক পরেন, ঠিক মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ দুনিয়াতে যেই পোশাক পরতেন, লা মাকানের সফরের জন্য ওই পোশাক বেমানান, তাই পোশাক পরিবর্তন এর জন্য মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ মক্কার জমিন থেকে বাইতুল মোকাদ্দাসের জমিনে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছেন। আপনারা জানেন সম্মানিত নতুন দুলা নিজের পোশাক নিজে পরিবর্তন করে না, বন্ধু-বান্ধবরা পরিবর্তন করাইয়া দেয়।।
দোজাহানের বাদশা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা মাকানের সফরে যাবেন, নবীজিও নিজের পোশাকটা নিজে পরিবর্তন করেন নাই, বিশ্ব নবীর পোশাক পরিবর্তন করিয়ে দেওয়ার জন্য বায়তুল মোকাদ্দাস এর জমিনে আল্লাহ ২ লক্ষ ৪০ হাজার পয়গম্বরকে উপস্থিত করেছিলেন। ২ লক্ষ ২৪ হাজার মতান্তরে ২ লক্ষ ৪০ হাজার পয়গম্বর বিশ্ব নবীর লা মাকানের সফরের পোষাক পরিধান করিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ দুনিয়ার জমিন থেকে আসমানে যাইতে তিনটা বাধ্য আছে। একটা বাধা মধ্যাকর্ষণ শক্তি, বিজ্ঞানীরা বলে এই বাধা অতিক্রম করা কারো দ্বারা সম্ভব না, এর উপরে আরেকটা বাধা আছে যাকে বলা হয় তবকায়ে কাসীর এর মধ্যে আছে দুনিয়ানার, তাফসীরে ইবনে নে যাইতে আরেকটা বাধা আছে, যাকে বলা হয় তবকায়ে নার দেশ আশুন আর আচমা কোন সেইখানে গেলে মহর্তে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, যাওয়া সম্ভব না তবে তবকায়ে নারের উপরে আরেকটা জায়গা আছে, তাকে তবকায়ে জামহারীর (৫৬)
বলে বা বরফের দেশ। যেখানে কোন প্রাণী গেলে মুহুর্তের মধ্যে বরফ হয়ে যাবে, বাঁচতে পারবে না। এখন দুনিয়ার জমিন থেকে আরশে আজীমে যেতে, তিনটা বাধা। মধ্য আকর্ষণ শক্তি একটা বাধা, তবকায়ে নারের বাধা, তবকায়ে জামহারিরের বাধা। কিন্তু আপনারা জানেন দু জাহানের বাদশা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ কে কোন আটকাইতে পারে নাই, মুহূর্তের মধ্যে তিনি মধ্যাকর্ষণ ভেদ করে, তবকায়ে নার পাড়ি দিয়ে, তবকায়ে জামহারির পাড়ি দিয়ে লা মাকানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কেন? মুফাচ্ছিরগণ বলেন ওই পোশাকের বাহাদুরিতে। ২ লক্ষ ২৪ হাজার পয়গম্বর বাইতুল মোকাদ্দাসে বিশ্বনবীকে লা মাকান সফরের যে পোশাকটা পরিধান করিয়ে দিয়েছিলেন, সেই পোশাকের কারণে মধ্যাকর্ষণ শক্তি নবীকে বাধা দিতে পারে নাই, তবকায়ে নার ব্যার্থ হয়ে গেছে, ভবকায়ে জামহারির অক্ষম হয়ে গেছে। দোজাহানের বাদশা মুহূর্তের মধ্যে দুনিয়ার জমিন থেকে আরশে আজিমে পাড়ি দিয়েছিলেন। ঠিক কুরআন ও দুনিয়াতে আসতে সরাসরি আসেনাই, কারণ কুরআন শরীফ আল্লাহর কালাম। আল্লাহ যেমন অনন্ত অসীম, আল্লাহর কালাম অনন্ত অসীম। এখন এই কুরআন ধারণ করবে দূর্বল বান্দা, দূর্বল বান্দা অসীম কুরআন কিভাবে ধারণ করবে? আল্লাহ একটা প্রক্রিয়ায় নিজে কুদরতী জবানে তেলাওয়াত করিয়া লাওহে মাহফুজে রেখে সংরক্ষণ করিয়া এর আওয়াজ, অক্ষর সবকিছু আল্লাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। লওহে মাহফুজে কুরআন আছে, তবে আওয়াজ নাই অক্ষরও নাই কিচ্ছু নাই। এখন প্রশ্ন আওয়াজ নাই অক্ষর নাই কুরআন কেমনে থাকে? এর উদাহরণ আমাদের এখানে হাফেজে কুরআন আছে, তারা জবানে পড়লে কুরআন শোনা যায় কিন্তু তাদের ভিতরে একটা হরফও লেখা নাই বা আওয়াজ নাই।
লাওহে মাহফুজ থেকে আল্লাহ এই পাওয়ারফুল দুনিয়াতে পাঠাবেন। দূর্বল মানুষ যাতে এটাকে সংরক্ষণ করতে পারে, তাই আল্লাহ কালামুন নফস এর মধ্যে আওয়াজ এবং অক্ষরের উপর পোষাক পরিধান করে দিয়েছেন। কভার ওয়ালা তার ধরলে কারেন্ট
সর্ট করেনা, কারণ তারের কভার আছে, যার কারণে ধরলে এখন সমস্যা নাই, যদি তারে এই প্লাষ্টিকের কভার না থাকত, ধরা সম্ভব হইত না, ধরলে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাইতাম। কুরআন শরীফ খোদায়ী বিদ্যুৎ, দুর্বল মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই কুরআনের আওয়াজ ও অক্ষরের উপর পোষাক পরাইযা একে দুনিয়াতে পাঠায়েছেন, তাই দুনিয়ার মানুষ একে এখন ধারণ বাহন করতে পারে। আর এই পরিবর্তনটা আল্লাহ করাইছেন লওহে মাহফুজের মাধ্যমে । ঐ কিতাব কুরআন ইঙ্গিত দিচ্ছে, হে তেলাওয়াত কারী, হে দুনিয়ার মানুষ যদিও তুমি আমাকে দেখতেছো আমি তোমার সামনে, কিন্তু মনে রাখিও আমি এই দেশীয় কিতাব নই, আমি সেই দেশীয় কিতাব, আমার দেশ আল্লাহর কুদরতী অন্তর। সেখান থেকে আমি লওহে মাহফুজে আসছি, লওহে মাহফুজ থেকে আওয়াজ আর অক্ষরের উপর পোশাক পরাইয়া বায়তুল ইজ্জাতে আসছি, বাইতুল ইজ্জাত থেকে নবীর কলবে আসছি, নবী থেকে সাহাবায়ে কেরাম হয়ে ওস্তাদের ধারাবাহিকতায় তোমাদের সামনে আসছি, এই পুরা অবস্থা বোঝার জন্যই আল্লাহ ذلك الكتاب শব্দ ব্যবহার করেছেন। ذلك الكتاب لا ريب فيه কুরআন যেহেতু এই দেশীয় কোন কিতাব নয় সেই দেশীয় কিতাব, সুতরাং কোরআনের ব্যাখ্যা করার জন্য আল্লাহ সেই দেশ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে নবী পাঠাইছেন, সুতরাং কুরআনের তাফসীর কোন মনগড়াভাবে করা যাবে না। ডিকশনারি দেখিয়া গুগুল দেখিয়া কুরআনের তাফসীর করা যাবে না, যে দেশ থেকে কুরআন আসছে সেই দেশ থেকে নবী আসছে, এই পুরা অবস্থা বুঝবার জন্যই ذلك الكتاب لا ريب فيه ঐ কিতাব যার মধ্যে কোন সন্দেহ নাই هدى للمتقين এই কুরআন মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত। এখন প্রশ্ন জাগে কোরআন শরীফ শুধুমাত্র মুত্তাকীনদের জন্যই হেদায়াত? নাকি বিশ্ব মানবতার সবার জন্যই হেদায়েত,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ
এইখানে আল্লাহ বলেন এই কুরআন هدى للناس বিশ্ব মানবতা সবার জন্য হেদায়েত। আর সূরা বাকারার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেন هدى للمتقين কুরআন শরীফ দুনিয়ার সবার জন্য হেদায়াত নয় শুধুমাত্র মুত্তাকীনদের হেদায়াত। এখন বলেন কোনটা সঠিক? কোরআন শুধু মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত এটা সঠিক? না هدى للناس সাবা দুনিয়ার সবার জন্য হেদায়াত এটা মুফাচ্ছিরগণ বলেন উভয়টাই সঠিক, কুরআন মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত এটা যেমন সঠিক, কুরআন সবার জন্য হেদায়াত ঈমানদার, বেঈমান, আস্তিক, নাস্তিক বামপন্থী সবার জন্য হেদায়াত এই কথাটাও সঠিক, কিভাবে এটা বুঝতে হলে আগে হেদায়াতের অর্থ বুঝতে হবে। মুহতারাম হাজেরিন, মনে রাখবেন হেদায়াতের অনেক অর্থ আছে, যেগুলো বিস্তারিত বলতে গে দীর্ঘ সময় দরকার, তবে সংক্ষিপ্ত ভাবে বলি হেদায়াত শব্দের প্রধান অর্থ দুইটা, একটা নাম اراءة الطريق আরেকটার নাম ايصال إلى المطلوبয়াভূত ত্বরিক শব্দের অর্থ রাস্তা দেখানো। ইসাল ইলাল মাতলুব শব্দের অর্থ কাউকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া। উদাহরণ দিলে বুঝবেন, যেমন আমি হুজুরকে বললাম হুজুর ঢাকা তো আমি চিনিনা, হুজুর বললেন ঠনঠনিয়া যান বাসের টিকিট কাটেন, বাসে বসবেন এমনি এমনি সিরাজগঞ্জ হয়ে চলে যাবেন। এই যে হুজুর আমাকে ঢাকার রাস্তা দেখাইছে এটার اراءة الطريق শুধু রাস্তা দেখায় দিছে আমি মনে মনে চিন্তা করলাম আমি তো কিছু চিনি না এভাবে হারিয়ে যাব, হুজুরকে বললাম হযরত ঢাকা কোথায় চিনি না আপনি একটু বলেন, উনি বললেন আপনি আলেম মানুষ চিনবেন না সঙ্গে চলেন, আমিও ঢাকা যাব, আমি যেভাবে চলি আমার সাথে আসেন। উনি সঙ্গে নিয়ে ঢাকা শহরে পৌঁছিয়ে দিয়েছে এর নাম ايصال إلى المطلوب হেদায়াতের দুইটা অর্থ, একটা শুধু রাস্তা দেখানো, আরেকটা হল গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া, এখানে বলা هدى للمتقين E হেদায়াত, এখানে হেদায়াত ايصال إلى المطلوب
এর অর্থে, অর্থাৎ কুরআন শরীফ যারা মুত্তাকীন এদেরকে সঙ্গে করে গন্তব্যস্থলে জান্নাতে পৌঁছে দিবে আর যেখানে বলা হয়েছে هدى للناس কুরআন সব মানুষের জন্য হেদায়েত ওইখানে হেদায়েতের অর্থ اراءة الطريق রাস্তা দেখানো অর্থাৎ এই কোরআন শরীফ কোন বেইমান, নাস্তিক, বামপন্থীকে গন্ধব্যে পৌঁছাবে না, কুরআন তার দুশমনদেরকে জান্নাতে পৌঁছাবে না, শুধুমাত্র রাস্তা দেখাবে।
বামপন্থীদের কুরআন রাস্তা দেখাবে, এভাবে চল, বেইমানকে কুরআন রাস্তা দেখাবে এইভাবে চল, কালেমা পড়, নবী মান, যদি কুরআনের কথা শুনিয়া কেহ কালেমা বিশ্বাস করে রাসূলকে মানে আল্লাহকে মানে, এরপরে সে মুত্তাকী হবে, কুরআন বলে এবার আমি তোমাকে সঙ্গে করে জান্নাতে পৌঁছে দিব এড هেالكتاب لا ريب في কুরআন মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত। অর্থাৎ কুরআন প্রত্যেকটা ইমান ওয়ালাকে, প্রত্যেকটা নামাজী ওয়ালাকে সঙ্গে করে জান্নাতে পৌছে দিবে। কিন্তু যার ভিতবে তাকওয়া নাই, যার ভিতরে ঈমান নাই ঐ রকম কোন বাম পন্থী নাস্তিককে কুরআন জান্নাতে পৌঁছাবে না। শুধু রাস্তা দেখাবে। আগে রাস্তায় আসো, এই দেশের কতিপয় বেইমান বামপন্থী নাস্তিক আছে, কুরআনের বিরোধিতাও করে আবার জান্নাতের আশাও করে। কাবার কসম, মুত্তাকী হতে চাইলে, কুরআনের সব আইন সব বিধান মানতে হবে। আল্লাহ ইরশাদ করেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ
হে আমার বান্দাগণ। রুকু কর, সেজদা কর, আমার এবাদত কর। তবে আগে ঈমান আনো يا ايها الذين منوا' যার ঈমান ঠিক আছে সে রুকু করবে, সেজদা করবে, এবাদত করবে। তাই মুহতারাম হাজেরিন, সবার আগে ঈমানকে শুদ্ধ করতে হবে। ঈমান কাকে বলে?
قال امام الاعظم ابو حنيفة رحمه الله الايمان التصديق بما جاء به النبي عليه السلام
ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলেন ঈমান বলা হয় التصديق بالقلب অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা, ২৯ ৮০০ به النبي রসূল সাঃ দুনিয়াতে যত বিধি বিধান নিয়ে আসছে, এই সব কিছুকে অন্তর দিয়া বিশ্বাস করা মেনে নেওয়া এটাই হলো ঈমান।
هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
এখন মুত্তাকীন কারা, পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ মুত্তাকীনদের কয়েকটি গুণের কথা বলছেন।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ
মুত্তাকীন হওয়ার এক নাম্বার গুন, যারা না দেখিয়া আল্লাহর কথা রাসুলের কথা কুরআনের কথা সবকিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস করে বা মেনে নেয়। বর্তমান যুগে কিছু আধুনিক শিক্ষিত ভাই আছে, যারা আমাদেরকে ধর্মান্ধ বলে গালি দেয়, বলে হুজুররা ধর্মান্ধ তারা কি বোঝে। ওদেরকে আমরা বলতে চাই আল্লাহর কসম, ধর্মান্ধ হওয়া এটা কোন গালি নয় এটাই আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়, কারণ ধর্মান্ধ হওয়া এটাই হলো আসল ঈমান। এটাই হল প্রকৃত ঈমান, যে ব্যক্তি ধর্মান্ধ হইতে পারবেনা সে ঈমানদারও হইতে পারবে না, কারণ কি এক আল্লাহকে আমরা বিশ্বাস করি কিনা? সবাই করি দেখে, না না দেখে? না দেখে। কবর জগত বিশ্বাস করি কিনা? করি, দেখে, না না দেখে? না দেখে। জান্নাত জাহান্নাম বিশ্বাস করি কিনা? করি, দেখে, না না দেখে? না দেখে।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ
না দেখিয়া বিশ্বাস করা এটাই হলো আসল ঈমান, এটাই হইল প্রকৃত ঈমান, সুতরাং যে ব্যক্তি অন্ধবিশ্বাসী হতে পারবেনা ঈমানদারও দাবি করতে পারবে না। এখন প্রশ্ন জাগে আল্লাহকে আমরা চোখে দেখি না কেন? যে চোখ দিয়ে আমরা আল্লাহ দেখতে চাই এই দোষ আছে
১। এই চোখ বেশি দূরের জিনিস দেখে না
২। এই চোখ বেশি কাছেরটাও দেখেনা, যেমন আপন
চোখ দিয়ে নিজের চেহারা দেখেনা।
৩। এই চোখ দিয়ে মধ্যখানে আমরা যা দেখি এটাও কিন্তু নিখুঁত না অধিকাংশই ভুল দেখি। কিভাবে? এই যে বিশাল বড় সূর্য আমরা দেখি কতটুকু
একটা ফুটবলের সমান, আসলে কি এই সূর্য একটা ফুটবলের সমান না দুনিয়া থেকে ১৩ লক্ষ গুণ বড়। তাহলে বোঝা গেল সূর্য ঠিক আছে দুনিয়া ঠিক আছে, আমরা যেটা মধ্যখানে দেখি ফুটবলের মত এটা ভুল, আমাদের দেখার মধ্যে গোলমাল আছে। যাইহোক এবার আসেন, হিসাবে আমার আল্লাহ অনেক অনেক দূরে, তাই এই চোখে আমরা আল্লাহকে দেখি না, আরেক দিক দিয়ে আমার আল্লাহ অনেক অনেক কাছে, কত কাছে,
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ
আল্লাহ বলেন বান্দ্য, তুমি যত তোমার নিকটে, আমি আল্লাহ এর চেয়েও বেশী তোমার নিকটে। حيل الوريد বলা হয় আমাদের দেহের মাঝ সেন্টারে একটা শাহ রগ আছে, এই বগকে বলা হয় حبل الوريد আল্লাহকে দেখা যায় না, মধ্যখানে যা দেখি এটাও ভুল, দেখার দ্বারা ঈমান শুদ্ধ হবে না, তাই স্বল্লাহ মধ্যখানে দেখা দেয় না। দেখার মধ্যে ভুল আছে কিন্তু শোনার মধ্যে কোন ভুল নাই, যদি খবর দাতা সত্যবাদী হয়। তাই ইমাম আযম আবু হানিফা বলেন ও মালিক তুমি বান্দার প্রতি কত দয়ালু, বান্দার সাথে দেখা দাও না কিন্তু লক্ষ লক্ষ নবী পাঠাইয়া খবর দিয়েছো, আমি আল্লাহ একজন আছি, দেখা দেন না, তবে দেখা দিবেন তিনি ময়দানে হাশরে, আল্লাহু আকবার। মনে রাখবেন আল্লাহকে দেখার জন্য আল্লাহর প্রিয় বান্দারা কি চেষ্টা কম করেছেন? আল্লাহর পয়গম্বর মুসা আলাইহিস সালাম একটু জেদি পয়গম্বর ছিলেন, একদিন সরাসরি আল্লাহকে বলেই ফেললেন ربى اربي انظر اليك আল্লাহ দূরের থেকে আর কত কথা বলবেন, আর দূরের থেকে কথা বলতে ভালো লাগে না, আমি এবার সরাসরি তোমাকে দেখতে চাই, সঙ্গে সঙ্গে রব্বুল আলামীন জবাব দিলেন, قال لن ترانی ও আমার পয়গম্বর মুসা
আমাকে তুমি দেখতে চাও. لن تراني কখনো সম্ভব না, আল্লাহ সরাসরি না করে দিয়েছে। এতে পয়গম্বর মুসা আঃ এর মন বেজার, তাই আল্লাহ বন্ধুকে বল্লেন পয়গম্বর মুসা ওই পাহাড়ের দিকে একটু তাকান। আমি আল্লাহ সেই পাহাড়ে একটু নূরের তাজাল্লি দিব, যদি আমার নূরের তাজাল্লি আপনি বরদাস্ত করতে পারেন, আপনি ঠিক থাকেন, আপনার সঠিক জায়গায় থাকতে পারেন فان استقر مكانه فسوف تراني তাহলে হয়তো আমাকে দেখবেন। যাই হোক আল্লাহর পয়গম্বর মুসা সেই পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেখানে আল্লাহ নূরের তাজাল্লি দিবেন। মুসা সেই দিকে তাকিয়ে অপেক্ষায় আছেন। যখন রব্বুল আলামীন সেই তুর পাহাড়ের উপর সামান্য একটু নূরের তাজাল্লি ঢেলে দিলেন,
جَعَلَهُ دَكَّا وَخَزَ مُوسَى صَعِقًا সঙ্গে সঙ্গে পাহাড় ধসে গেছে, জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আল্লাহর পয়গম্বর মুসা বেহুশ হয়ে পড়ে গেছে। فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ যখন হযরত মুসা একটু হুশে আসছে, সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেজদায় পড়ে তাওবা করেছেন, মালিক আমি তওবা করতেছি اني ثنت اليك তাহলে বোঝা গেল এই চৌখ দিয়ে আল্লাহকে দেখা সম্ভব না।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ তো মুহতারাম হাজেরীন, মুত্তাকী হওয়ার এক নম্বার গুণ, ঈমান বিল গাইব, নবীর কথা বুঝে আসুক বা না আসুক শুনে অন্ধ ভাবে মানি এবং বিশ্বাস করি এটাই হলো প্রকৃত ঈমান।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ এরপরে ঈমানদারের আরো কিছু সিফাত/গুণ, মুত্তাকীনের আরো কিছু গুণাবলী, আল্লাহ পরবর্তী
শব্দগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি কখনো বলার তৌফিক দান করেন। وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ এখান থেকে ইনশাআল্লাহ আলোচনা হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত ঈমান নিয়ে, আমল নিয়ে, কবরে যাওয়ার তৌফিক দান করুন, আমীন।
وأخر دعوانا ان الحمد لله رب العلمين
মুফতী উমাইর বিন আল হুসাইনী কুমিল্লা
পাঁচটি বিষয়ের উপর আমল করতে পারলে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন
মোয়াজ্জাজ মোহতারাম হযরাতে ওলামায়ে কেরাম, অতিথি বৃন্দ, আমার সামনে উপবিষ্ট বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দ্বীনদার ইমানদার মুসলমান ভাইয়েরা। পর্দার আড়াল থেকে ওয়াজ শ্রবণকারী আমার মা ও বোনেরা। আল্লাহ তায়ালার দরবারে লাখো কোটি শোকর যে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত দয়া করে আমাদেরকে ভালোবেসে এই শহরের আশেপাশের লক্ষ লক্ষ মুসলমানদের মধ্য হতে বাছাই করে, মহতি মাহফিলে শরীক হওয়ার জন্য তাওফীক এনায়েত করলেন, এজন্য সকলে এক মর্তবা পড়ি আলহামদুলিল্লাহ। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন, আমি আপনাদের সম্মুখে কুরআনে কারীম থেকে একটি আয়াতে কারীমা তেলাওয়াত করেছি, যেই আয়াতে মধ্যে আল্লাহ তাবারকা ও তায়ালা ঘোষণা করেন বান্দা তোমার জীবদ্দশায় যদি তুমি ৫টি আমল ধরে রাখতে পারো তাহলে আমি আল্লাহ তোমার সাথে আছি, তোমার জীবনের সবগুলো গুনাহ আমি মাফ করে দিবো। এবং আমার জিম্মাদারীতে তোমাকে জান্নাতে পৌঁছে দিব। আচ্ছা আল্লাহকে যদি সাথী পান, আর আল্লাহ যদি গুনাহ খাতা মাফ করে জান্নাতে পৌছিয়ে দেন, তাহলে কারো চাওয়ার আর পাওয়ার কিছু বাকী আল্লাহ তায়ালা তাকিদ করে বলেন إلي معكم নিশ্চয় নিশ্চয় আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি। আল্লাহ যদি সাথী হয়ে যায়, গোটা বিশ্ব মিলে মুসলমানদের একটা পশমও বাকা করিতে পারিবে না। ইসরাইল না আজরাইল- সাদা চামড়া ওয়ালা ইহুদি মুসলমানদের আজীবন দুশমন। আল্লাহর লানত তাদের উপরে। আল্লাহর লানতের কারনেই তো হযরত ইসা পয়গম্বর যখন আখেরী যামানায় দুনিয়াতে নেমে আসবেন, আর ইহুদিদেরকে মারা শুরু করবেন, তখন ইহুদিরা বাঁচার জন্য গাছের আড়ালে আর পাথরের আড়ালে লুকাবে। গাছ আর পাথর বলবে, আমার আড়ালে ইহুদি কাফের আছে, তাদেরকে হত্যা কর। গাছও ছাড় দিবে না, পাথরও পানাহ দিবে না। আল্লাহর লানত আর গজব তাদের উপরে হবে।
মোয়াজ্জাজ হাজেরীন আল্লাহকে যদি সাথে পেয়ে যান তাহলে ইহুদি-নাসারা সহ গোটা বিশ্বের সমস্ত বিজাতী
মিলে মুসলমানের একটা পশমও বাকা করতে পারবে না। হযরত ইব্রাহীম পয়গম্বরের সাথে আল্লাহ ছিলেন কি ছিলেন না? ছিলেন। বাপ তার বিরুদ্ধে মা তার বিরুদ্ধে পরিবারের সকলেই তার বিরুদ্ধে গোটা এলাকা তার বিরুদ্ধে, সারা দুনিয়ার রাজা নমরুদ তার বিরুদ্ধে, হযরত ইবরাহীম একা একা জিহাদ শুরু করেছেন, ওদের খোদা গুলোরে মাইরা শুধু বড়টার ঘাড়ের সাথে কুড়াল লটকিয়া রাখছে, কে মারলো? বলে ঐ হারামজাদাকে জিজ্ঞেস কর কে মারছে, দেখেন না মুর্তিদের কত বড় বড় চোখ, কত বড় বড় জিহবা, কত বড় কান, হাত একটা না ২৫টা ৩০টা হাত কিন্তু একটা মশাও তাড়াতে পারে না। দাত
এতো বড় বড় তবুও একটা চকলেটও খাইতে পারে না। আর হযরত ইবরাহীম পয়গম্বরের সাথে আল্লাহ আছে। নমরুদ রাজা বলে যে কেউ আমাদের খোদার সাথে বেয়াদবী করছে, একে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া হবে, আগুনে জ্বালিয়ে মারা হবে।
সবাই বললো ঠিক আছে আগুনে জ্বালিয়ে মারা হবে, একটা মানুষকে আগুনে জালাইতে কত আগুন লাগবে? সামান্য একটা গর্ত খুড়ে তার মধ্যে আগুন জালাইলেই তো হয়, কিন্তু সে বাহাদুরি করে এতো বিশাল বড় আগুন জ্বালাইছে সেই আগুনের কুন্ডের কাছে যাওয়া যায় না, আধা কিলো, দূরের থেকেই তাপ লাগে। এখন হযরত ইব্রাহীম পয়গম্বরকে কিভাবে আগুনে ফেলবে তার বুদ্ধি পাচ্ছে না। এখন ইবলিস শয়তান মাথার মধ্যে পাগড়ী বেধে লাঠি ভর দিয়ে দিয়ে যায়। ওরা বলে চাচা মিয়া বাড়ী কোথায়? কয় আমি নজদের শায়খ, আপনারা একটু বিপদের মধ্যে পড়েছেন তো তাই একটু পরামর্শ দেওয়ার জন্য আসছি। বলে আমরা তো ইবরাহীমকে আগুনে ফেলবো, তো তার বুদ্ধি পাচ্ছি না। ইবলিস বলে যে একটা মিনজানিক বানান, এরকম চাপ দিলে ছিটকে গিয়ে পড়ে, এটা বানান আমি বুদ্ধি বের করে দিচ্ছি। বানাইয়া তার মধ্যে বসাইয়া চাপ দিবেন তাহলে সিটকা গিয়া পড়বে, বুদ্ধিটা কে শিখাইছে? ইবলিস, আমাদের নবীকেও মারার জন্য যখন দারুন নদওয়ার মধ্যে কমিটি বসে মিটিং করতেছিলো তখনও ইবলিস শয়তান মাথায় পাগড়ী বেধে লাঠিতে ভর দিয়ে দিয়ে সেখানে উপস্থিত হইছে। বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলে, ইবলিস বলে না কিছু করা যাবে না, সকলে মিলে হত্যা করে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই, এই বৃদ্ধি কে দিয়েছিলো? ইবলিস। হযরত ইব্রাহিম পয়গম্বর কে মিনজানিকের মধ্যে বসাইছে এখন আগুনে ফেলবে মানুষ আর জ্বীন জাতী বাদে, সারা বিশ্বের প্রাণী আল্লাহর কাছে আপসোস করে কাদে, আপনার খলীলকে আপনার দুশমন নমরুদ আগুনে জ্বালিয়ে দিলো, আপনি বাঁচাবেন না? হা বাঁচাবো। আল্লাহর ফেরেশতা এসে বলে আসসালামু আলাইকুম, হুজুর আমি বাতাসের দায়িত্বে নিয়োজিত
একজন ফেরেশতা, আপনি অনুমতি দিলে এখনি বাতাসকে ওর্ডার করবো, ৫০ হাজার কিলো বেগে বাতাস শুরু হয়ে নমরুদের আগুন উড়িয়ে নিয়ে কোথায় ফালাইয়া দিবে আগুন আর খুজে পাওয়া যাবে না। আল্লাহ মনে চাইলে আমাকে বাঁচাবে না চাইলে জলেই যাবো, তোমার দরকার নাই ভাগো। ফেরেশতা চলে গেছে এবার আরেক ফেরেশতা আসছে এসে বলে হুজুর আসসালামু আলাইকুম আমি একজন ফেরেশতা মেঘের দায়িত্বে আছি, আপনি অনুমতি দিলে এখনি মেঘকে অর্ডার করব, এরকম বড় বড় ফোটা বৃষ্টি হইলে নমরুদের আগুন পানি হয়ে যাবে। ইবরাহিম আ. বলেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহ আমার সাথে আছেন। আল্লাহ চাইলে আমাকে বাঁচাতে চাইলে আমাকে জ্বালিয়ে দিবে, তুমি চলে যাও। এবার আসছে জিব্রাইল। ৬শত পাখা আছে তার। তিনি বলেন, একটা পাথা দিয়ে বাড়ি মারবো আর নমরুদের আগুন একেবারে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়বে। ইবরাহিম আ. বলেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহর মনে চাইলে বাঁচাবে, মনে চাইলে আমাকে জ্বালাবেন। নমরুদ হযরত ইব্রাহিম পয়গম্বরকে আগুনে ফেলেছিল, আগুন জালাইতে পারছে? না। আল্লাহ বলেন, یا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ
আমার ইব্রাহিমের উপরে আরাম দায়ক ঠান্ডা হয়ে যাও। আগুনে ফালানোর পরে, আগুনের মধ্যে উনি আরামে বসে আছেন, আগুন জ্বালায় না, নমরুদ বলে আগুন। তোমার কি জ্বালানোর ক্ষমতা রহিত হয়ে গেছে? আগুন বলে না, না তুমি আমার মধ্যে এসে দেখ আমি কি করি। আমাকে অর্ডার করেছে, ইবরাহীমের উপর আরাম দায়ক ঠান্ডা হয়ে যাও। আল্লাহ সাথে থাকার কারনে হযরত ইব্রাহীম পয়গম্বর বেঁচেছে না বাঁচে নাই? গোটা দনিয়া সারা বিশ্বের রাজা নমরুদ একটা পশমও জ্বালাতে পারেনি। যদি সাথে পান, তাহলে গোটা বিশ্ব মিলে
আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না যেমন হযরত ইবরাহীম পয়গম্বরকে পারেনি।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) কে ঘেরাও করেছে হুজুরকে হত্যা করে দিবে। নবী করীম (সা.) সূরা ইয়াসিনের আয়াত পাঠ করে এক মুটি বালুতে ফু দিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে ওখান থেকে বের হয়ে চলে আসছেন, একটা কাফেরও হুজুরের চেহারা দেখতে পারেনি। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন- আল্লাহ যদি সাথে থাকেন তাহলে গোটা বিশ্ব মিলে তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা কুরআনে এই আয়াতের মধ্যে বলেন, وقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ
হে আমার বান্দারা শোনো। ৫টা আমল যদি তোমারা সকলেই ধরে রাখতে পার তাহলে (১) নাম্বার আল্লাহকে তোমরা সাথে পাইবা (২) নাম্বার, আল্লাহ আমাদের জীবনের সবগুনাহ খাতা মাফ করে আমাদেরকে নিজের যিম্মাদারীতে জান্নাত আর বেহেস্তে পৌঁছিয়ে দিবেন। দোস্তরা আমার বন্ধুনা আমার যেই ৫টি আমল করলে সমস্ত মুসলমান মহিলা/পুরুষ, ছোট/বড় সকলে মিলে যদি এটি আমল ধরে রাখতে পারি, তাহলে আল্লাহকে আমারা সাথে পাব, সারা দুনিয়ার বিজ্ঞাতী মিলে আমার একটা পশমের ক্ষতি করতে পারবে না।
ও আমার মুসলমান ভায়েরা সেই ৫টা আমলের মধ্যে হতে ১ নাম্বার আমলের কথা আল্লাহ বলে এক নাম্বার:- মহিলা/পরুষ, ছোট/বড় সকলে মিলে যদি পাঞ্জেগানা নামাজ জামাতে আদায় কর। নামাজকে তোমরা কাজা না করে সকলে মিলে ঠিক মত পাঞ্জেগানা আদায় করতে পার, এই নামাজটা যদি কায়েম করতে পার তাহলে আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি। জীবনের সব গুনাহ খাতা মাফ করিয়া দিব জান্নাতে দাখিল করিব। এক নাম্বার আমল ছোট বড় মহিলা পুরুষ সকলে মিলে নামাজকে আকড়িয়ে ধরতে হবে। এখন বলেন আমাদের সমাজে নামাজ পড়নে ওয়ালা বেশী, না ছাড়নে ওয়ালা বেশী? পড়নে ওলা কম ছাড়নে গুলা বেশী? শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ এর উর্ধ্বে নামাজ পড়নে ওয়ালা নাই, আবার যারা নামাজ পড়ি তারা আবার অনেকেই জামায়াতে গিয়ে পড়িনা, আবার অনেকেই মাসআলা মাসায়েল ঠিক মত জানিনা, নবীয়ে আকরাম (সা.) এর যুগে একজন সাহাবীও মহিলা হোক আর পুরুষ হোক, বেনামাজী ছিলেন না। তাদের ধনবল ছিলো না, জনবল ছিলো না ৩১৩জন এক হাজার কাফের যোদ্ধাদের মধ্যে ৭০ জনকে হত্যা করেছে আর ৭০ জনকে গ্রেফতার করে মদিনায় নিয়ে গেছে। কেন? তারা আল্লাহকে সাথে পেয়েছেন। তাহলে ১ নাম্বার আমল হল ৫ ওয়াক্ত নামাজ এই আমলের মধ্যে কোন ত্রুটি, অলসতা, গাফলতি করা যাবে না। আজ আমাদের নামাজের ব্যপারে ত্রুটি, নামাজ জানিনা, নামাজের ট্রেনিং নাই, মাসয়ালা-মাসায়েল সর্ম্পকে খবর নাই, কি বলেন কথা ঠিক? ঠিক। নামাজের মধ্যে ১৩টি ফরজ আছে, ১৫টি ওয়াজিব আছে, ৫১টি সুন্নাত আছে। অযুর মধ্যে ৪টি ফরজ আছে, ১৮টি সুন্নাত আছে, গোসলের মধ্যে ৩টি ফরজ আছে।
এক চাচা মিয়াকে জিজ্ঞেস করি চাচা গোসলের ফরজ কয়টি? বলে যে গোসলের আবার ফরজ আছে? মাথার মধ্যে পানি ঢেলে দিব গোসল শেষ, আবার ফরজ কিসের? গোসলে ৩টি ফরজ:- (১) নাম্বার মুখ ভরিয়া কুলি করা, মুখের মধ্যে পানি নিয়ে ঘুরাইয়ে গলা ভিজাইয়া তারপরে গড় গড় করে ফালাইয়া দিতে হবে, মুখের ভিতরে শরিষার দানা পরিমান যদি শুকনা থাকে তাহলে গোসল হবে না। এখন এই মাসয়ালা আমি জানিনা, শীতকালে গোসল ফরজ হইছে,
পুকুরে গেছে গোসল করার জন্য পুকুরের পানি হায়রে ঠান্ডা মুখে দেওয়াই জায় না। খালি ঠোটের মধ্যে পানি দিয়ে চলে গেছে, তাহলে তার গোসল হইছে? কি বলেন বগুড়াতে এমন মানুষ আছে না নাই? পানি যত ঠান্ডাই হোক মুখ ভরে পানি নিয়ে গড় গড় করে না ফালাইলে আপনার গোসলের ফরজিয়াত আদায় হবে না, আপনি সারা জীবন নাপাক, কোনো আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। বলেন এই একটা মাসয়ালা না জানার কারনে আপনার সারা জীবন বরবাদ। ২ নাম্বার: নাকে পানি দেওয়া, নাকের ভিতরে যে হাড্ডি আছে, হাড্ডির নিচে নরম জায়গা আছে, এর মধ্যে আঙ্গুল দিয়া ঘুইটা ঘুইটা শক্ত ময়লা বের করে, এর পরে পানি উপরে টেনে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে। এখন শীতকালে গোসল ফরজ হইছে, পানি নাকের মধ্যে ঢুকাইতে মনে চায় না, নাকের ডগার মধ্যে পানি দিয়ে গোসল করে চলে গেছে, তার গোসল হইছে? পানি যত ঠান্ডাই হোক না কেন নাকের মধ্যে পানি দিয়ে ঘুইটা ঘুইটা নাকের নবম অংশের ভিতরে পানি পৌছাইতে হইবে, এক শরীষার দানা পরিমান শুকনা থাকলে হবে না, পানি উপরে টেনে উঠিয়ে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে, এই একটা মাসয়ালা না জানার কারনে তার গোসল হবেনা। ৩ নাম্বার:-গোটা শরীর ধৌত করতে হবে। এরপরে নামাজের মধ্যে ১৩টি ফরজ আছে, ৩টা ফরজ যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আপনার নামাজ শেষ। নামাজের মধ্যে নিয়ত করা ফরজ, নিয়ত কাকে বলে? এরাদাতুল কলব, অন্তরের ইচ্ছা নিয়ত, মুখ দিয়ে বলার নাম নিয়ত না, এখন
نويت ان اصلي الله تعالى ركعات صلات كعبة الشريفة
الله اكبر
এই নিয়ত আমরা কুদুরিতে পাই নাই, শরহে বেকাতে পাই নাই, হেদায়ায় পাই নাই, কেনো ফেকহার কিতাবে পাই নাই, কে যে এই নিয়ত বানাইছে আল্লাহই জানে। এখন নামাজে দাড়াইলে মন এদিক সেদিক চলে যায়, মনে রাখবেন আপনি যোহরের নামাজ জামাতের সাথে পড়বেন তাহলে ইমামের
পিছনে দাঁড়িয়ে ৫টা কথা অন্তরে জাগ্রত করতে হবে, (১) আমি নামাজ পড়িতেছি, (২) ফরজ নামাজ গড়িতেছি। (৩) যোহারের ফরজ পড়িতেছি (৪) এই ইমাম সাহেবের পিছনে একতেদা করে পড়িতেছি, (৫) আল্লাহ আপনার রেজামন্দিব (সন্তুষ্টির) জন্য পড়িতেছি, আপনার কোটি কোটি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য সওয়াবের আশায় পড়িতেছি। এই ৫টা কথা অন্তরের মধ্যে খেয়াল করা অবস্থায়, দিলের ভিতরে জাগ্রত করা অবস্থায় তাকবীরে তাহরিমা বলা। আমি দৌড়াইয়া এসে জায়নামাজে দাড়াইছি নাওয়াইতুয়ান ঠিকই বলতেছি কিন্তু আমার মন ঢাকায়, আমার মন দিল্লিতে, আমার মন চিটাগাং। মনের ভিতরে নামাজ যে পড়তে দাঁড়াইছি এইটাও খেয়াল নেই, এরকম হয় কি হয় না? হয়। তাহলে আপনার নামাজ হবে না নিয়ত শেষ। আপনাকে যে কোন মূল্যে এক রাকায়াত চলে যাক, দুই রাকায়াত চলে যাক এতে কিছু আসে যায় না, আপনি দাঁড়িয়েই ৫টি কথা আগে অন্তবে রাখেন, আমি নামাজ পড়িতেছি, ফরজ নামাজ পড়িতেছি, যোহরের ফরজ পড়িতেছি, এই ইমামের একতেদা করিতেছি, আল্লাহ আপনার সন্তুষ্টির জন্য পড়িতেছি, এই ৫টা কথা খেয়াল করার পরে তাকবীরে তাহরিমা দিতে হবে। এই নিয়তটা মনে মনে করেন, এই একটা মাসয়ালা না জানার কারনে নিয়তের ফরজ শেষ তারপরে নামাজটা শেষ।
(২) নাম্বার তাকবীরে তাহরিমা বলার সময় হাত উঠানো সুন্নাত, হাত বাধা এটাও সুন্নাত, কিন্তু আল্লাহ আকবার বলা এইটা ফরজ। তাকবীরে তাহরিমা বলা মানে আল্লাহু আকবার বলা। ইমাম সাহেব মাইকে যাতো জোরেই আল্লাহু আকবার পড়ুক, প্রত্যেকটা মুক্তাদিকে আল্লাহ আকবার মুখ নড়াইয়া নিজের কানে শুনা যাওয়ার মতো উচ্চারন করে বলতে হবে। তখন এই মাসয়ালা না জানার কারণে, ইমাম সাহেব তো জোরে বলে আল্লাহু আকবার, কিন্তু পিছনের থেকে মুক্তাদী হাত তোলে আর বাধে, আল্লাহু আকবার বলেই না। কিংবা মনে মনে বলে, এরকম হয় কি হয় না? হয়। যে উচ্চারণ করে মুখ নড়াইয়ে আল্লাহু
আকবার বলেনা তার তাকবীরে তাহরিমা হয় নাই, তার নামাজ বরবাদ। এই ভাবে ১৩টা ফরজের কথা বললে দেখবেন যে অনেক মানুষের নামাজ হয় নাই।। দোস্তর। আমার বন্ধুরা আমার, আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলে, ৫টা আমলের মধ্যে থেকে ১ নাম্বার। আমল, তোমাদের সকলে মিলে নামাজ কায়েম করতে হবে, নামাজের মাসআলা জানতে হবে, এগুলো সব জেনে যত ঝড় হোক, তুফান হোক, নিজের ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলকে সাথে নিয়ে মসজিদের মধ্যে গিয়ে যদি তোমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে ঠিক মতো আদায় করতে পারো, সুন্নাত তরীকায় এই এক নাম্বার আমলটা করতে পারলে আমি আল্লাহ তোমাদের সাথী হয়ে যাবো। গোটা পৃথিবীর মানুষ তোমাদের। বিরোধীতা করে তোমাদের একটা পশম পর্যন্ত বাকা করতে পারবে না। কিন্তু মুসলমানের অবস্থা এমন যে, বিজাতীর লাথি খাবে, গুলি খাবে, লাঞ্চিত হবে, অপমানিত হবে কিন্তু নামাজ পড়তে রাজী নাই। চিন্তা করে দেখেন আপনাদের এলাকায় কত পার্সেন্ট লোক নামাজ পড়ে। মুসলমানের ১ নাম্বার আমল নামাজ, এই যদি ঠিক মত আমল করে, তাহলে আল্লাহকে সাথে পাবো। ৩১৩ জন মুসলমান যেমন ১০০০ জনের বিরুদ্ধে, এবং ৩ হাজার মুসলমান ৩ লক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়লাভ করেছে। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন, আজ নামাজের মধ্যে বড় গাফলত, পড়লেও হক আদায় করে পড়ি না, আর অধিকাংশরা নামাজই পড়ি না, আর যারা পড়ি হক আদায় করতে পড়ি না। নামাজের মধ্যে যেই পরিমান তাড়াহুড়া,ঐ পরিমান তাড়াহুড়া আর কোথাও নেই, ইমাম সাহের দুই মিনিট বেশি হয়ে গেল। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন।
انتظار الصلاة في الصلاة
আপনি মসজিদে বসে যদি ৫ মিনিট দেরিতে নামাজ হয় তাহলে এই ৫ মিনিট যে বসে থাকলেন, এই ৫মিনিট নামাজ পড়লে যেই পরিমান নেকী, নামাজের জন্য অপেক্ষা করলে ঐ পরিমান নেকী। ডিসি অফিসের সামনে গিয়া মশা কামড় দেয় পেশাবের দূর্গন্ধ তাও ২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকি কোন অসুবিধা হয় না, আর মসজিদের মধ্যে মেশক আমরের সুগন্ধ, উপরে ফ্যান জলে, এসি চলে এতো সুন্দর জায়গায় ৫মিনিট দেরিতে নামাজ হইলে অসুবিধা আছে কি? লাভ হবে নাকি ক্ষতি হবে? লাভ হবে। তার পরেও ইমাম সাহেবের চাকুরী যায়, ৫ মিনিট দেরিতে কেন নামাজ হইলো, ইমাম সাহেব কেন দেরি করে আসলেন সেই জন্য ইমাম সাহেবের চাকরী চলে যায়। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন- নামাজের জন্য অপেক্ষা করলে নামাজ পড়ার সওয়াব এর পরেও ইমাম সাহেবের চাকরী চলে যায়। নামাজের ব্যপারে আমাদের গুরুত্ব নেই, নামাজের মধ্যে তাড়াহুড়া, ঐ দোকানের চরাটের মধ্যে গিয়ে বসে বসে গল্প, কোন কাজ নাই কিন্তু মসজিদে মনই টেকেনা, আমার মুসলমান ভায়েরা, এই জন্য আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতায়ালা বলেন-
إِنِّي مَعَكُمْ
ও বান্দা ৫টি আমল যদি সকলে মিলে ধরে রাখতে পারো, ১ নাম্বার লাভ হলো আমি আল্লাহকে তোমার সাথে পাবা, এই ৫টি আমলের মধো হতে ১ নাম্বার আমন হলো-
لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلاة
ঠিক মতো নামাজকে কায়েম করতে হবে। নামাজ কায়েম করার অর্থ হলো আমাদের মাসআলা মাসায়েল জানাতে হাবে, খালি একা পড়লে হবে না নিজের ছেলে সন্তানদের সাথে নিয়ে, এলাকার যারা নামাজ পড়ে না তাদেরকে নামাজের দাওয়াত দিয়া সাথে নিয়া নামাজ যদি কায়েম করতে পার, তাহলে আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি, তোমার জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে তোমাকে নিয়ে জান্নাতে পৌছিয়ে দিব। ও আমার মুসলমান ভায়েরা আল্লাহর পয়গম্বর নবী মুহাম্মাদ (সা.) হাদীস শরীফে এরশাদ করেন।
الصلاة معراج المؤمنين
নামাজ হলো মুমিনের মেরাজ। নামাজের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে মুমিনের সাক্ষাত হয় আল্লাহকে দেখতে
পায়, আল্লাহর সাথে কথা বলে আরেক হাদীসের মধ্যে আল্লাহর পয়গম্বর বলেন।
الصلوات مفتاح الجنة
নামাজ হলো জান্নাতের চাবি। আপনার কমরের মধ্যে যদি ফরজ নামাজের হাজার হাজার চাবি থাকে ওয়াজিব নামাজের যদি হাজার হাজার চাবি থাকে, সুন্নাত নামাজের যদি চাবি থাকে, আওয়াবিন, এশরাক, তাহাজ্জাত এই চাবী গুলো থাকে। কমরের মধ্যে বেধে যদি জান্নাতের গেটে যান তাহলে জান্নাতের দরজা খুলবে কি খুলবে না। ও আমার মুসলমান ভাইয়ের। যারা নামাজ কায়েম করবে আল্লাহ বলেন আমি তাদের সাথে আছি, এই নামাজের কারণে আমি তোমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে তোদেরকে নিরাপদে জান্নাতে পৌছিয়ে দিব। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন, আজ নামাজের গুরুত্ব নাই, আজ সব কাজ করার পর নামাজ। আগে নামাজ তার পরে অন্য কাজ, কিন্তু আমরা কি করি সব কাজ করার পর সময় পাইলে নামাজ পড়ি, আমাদের কাছে নামাজের গুরুত্ব নাই। আমরা আজ নামাজের সাথে যেই ব্যবহার করতেছি তাতে আল্লাহ আমাদেরকে যে কি করবে আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ দয়া করে ক্ষমা না করলে আমাদের কোন উপায় নাই, শুকর পর্যন্ত বলে মাওলা আমাকে শুকর বানাইছেন, নাপাক
দিয়ে বানাইছেন নাপাক খাই। আল্লাহ আমাকে নাজিসুল আইন বানাইছে, নাপাক দিয়ে বানাইছে, নাপাক খাই, কিন্তু বেনামাজী মুসলমান যে বানায় নাই এই জন্য আল্লাহর লক্ষ কোটি
শুকরিয়া। আগে বলে শয়তানের সাথে দেখা হতো, এক লোকের শয়তানের সাথে দেখা হইছে, দেখা হলে শয়তানকে বলে শয়তান আচ্ছা বলো তো দেখি তোমার মতো শয়তান হতে আমার মনে চায়, কি কাজ করলে তোমার মতো শয়তান হতে পারবো, সে বলে আমার মতো শয়তান হয়ে লাভ কি? আমাকে মানুষ গালী দেয়, আমার উপর অভিশাপ করে, আমি আল্লাহর মারদুদ, তো আমার মতো শয়তান কেন হবে? লোকটা বলে একটু মনে চায় আমি তোমার মতো শয়তান হবো। শয়তান বলে, ২টা কাজ করলে
আমার চাইতে বড় শয়তান হবা, ১ নাম্বার ফরজ নামাজের ব্যাপারে অলসতা করবে, ২ নাম্বার মিথ্যা কসম খাইবা, বেশি বেশি মিথ্যা কথা বলবা। দোকানদার বলে নিয়ে যান লুঙ্গী, লুঙ্গির রং তো দূরের কথা রঙ্গের কশও উঠবে না, খোদার কসম নিয়ে গিয়ে বালতিতে ভিজাইছেন খালি রং আর রং, তাহলে সত্য কসম খাইলো মিথ্য কসম? মিথ্যা কসম। সেই ব্যক্তি বলে যাই হোক আগে তো নামাজে যাইতাম আজানের পর, এখন থেকে আজানের দশ মিনিট আগেই নামাজে যাবো, আর আগে মাঝে মধ্যে মিথ্যা কসম খাইতাম, আর এখন থেকে জীবনে কোন দিন মিথ্যা কসম খাইবোনা। শয়তান বলে যাক তোমাকে নসিহত করে আমার বড় লচ হইছে, আমি আর জীবনে কোন দিন কোন মুসলমানকে নসিহত করবো না। তাহলে নামাজ এমন একটা জিনিস যার ভিতরে অলসতা করলে শয়তান বলে তুমি শয়তান হয়ে যাবা, তাই নামাজে অলসতা করলে সে মুসলমান হতে পারবে না। মুসলমানের সব চাইতে বড় আলামত হলো নামাজ, যেই মুসলমান নামাজ পড়ে না তাকে মুসলমান বলা যায় না-
من ترك الصلاة متعمدا فقد كفر
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দিলো, সে যেন কুফরী করলো। সে আর মুসলমান থাকলো না। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন তাই আল্লাহকে সাথে পাওয়ার জন্য ৫টা আমলের ১ নাম্বার আমল হলো নামাজ। ও আমার মুসলমান ভাইয়েরা আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলেন, বান্দা আমাকে যদি তুমি সাথে পেতে চাও জীবনের গুনাহ খাতা যদি মাফ করতে চাও, আমার জিম্মাদারীতে যদি জান্নাতে যেতে চাও ৫টা আমলের মধ্য হইতে নামাজের গুরুত্ব দাও, নামাজ ঠিক মতো কায়েম করো, এটা ১ নাম্বার আমল। ২ নাম্বার আমলের কথা আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলেন-
وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ
তোমাদের মধ্যে যাদের উপরে যাকাত ফরজ হয়েছে, ছায়া টাকা-পয়সা ওয়ালা, ধনী, মালদার তারা যেন
ঠিকমতো পাই পাই হিসাব করে মালের যাকাত আদায় করে। তাহলে আমি আল্লাহ তাদের সাথে আছি, তার মালের সাথে আছি, তাকে হেফাজত করবো, তার মালের হেফাজত করবো এবং আমি আল্লাহ নিজের জিম্মাদারীতে তাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করিয়া জান্নাত আর বেহেস্ত পর্যন্ত পৌছিয়ে দিব। আমাদের সমাজের মানুষ যাকাত বুঝেইনা, যাকাত দেওয়াকে জরিমানা মনে করে, যাকাত জরিমানা না বরকত? বরকত। আপনার ১০০ টাকার উপরে ১ বছর অতিবাহিত হলে আড়াই টাকা যাকাত, হাজারে ২৫ টাকা লাখে আড়াই হাজার টাকা, কোটিতে আড়াই লাখ। আপনার খাওয়া-দাওয়া, বাড়ী-গাড়ী, ছেলে-মেয়ে সব খরচ করার পরে ঋন পরিশোধ কারার পরে, আপনার তহবীলে ১ লক্ষ টাকা জমা আছে, এই টাকার মালিক আপনি না, আপনার প্রয়োজন তো আল্লাহ মিটাইয়া দিছে, তারপরে যে টাকাটা জমা আছে এই টাকাটা আপনার নয় আল্লাহর টাকা। আল্লাহ যদি বলেন তোমার তো প্রয়োজন আমি মিটিয়ে দিয়েছি। তোমার বাড়ী-গাড়ী যা লাগে সব তোমাকে আমি দিয়েছি। এই ১ লক্ষ টাকা পুরাটা মাদরাসায় দান করে দাও। এই কথা যদি আল্লাহ বলতেন, আল্লাহর বলাটা জুলুম হইতো না? কিন্তু আল্লাহ তা বলেননি, অর্ধেক দাও তা বলে নাই, ৪ ভাগের এক ভাগ দাও তা বলেন নাই, বলেছেন যে ৪০ ভাগের ১ ভাগ, শতকরা আড়াই টাকা, হাজারে ২৫ টাকা, লাখে আড়াই হাজার, ৪০ ভাগের ১ ভাগ, তুমি মাদরাসার গরীব দুঃখিকে দান কর, যাকাত দাও তাহলে পুরা টাকা তোমার জন্য হালাল। আর যদি তুমি শতকরা আড়াই টাকা না দাও, ১ হাজারে ২৫ টাকা না দাও, তাহলে এই গোটা টাকা তোমার জন্য হারাম আর নাজায়েজ হয়ে গেলো। কিন্তু এতো সুযোগের পরেও কোটি কোটি টাকা আমার ব্যাংকে, আমার কোন প্রয়োজন নাই, কিন্তু শতকরা আডাই টাকা দেওয়াটাকে জরিমানা মনে করি, যাদের অন্তর ছোট, ১০০ কোটি টাকায় আড়াই কোটি, ৪০ কোটি তে ১ কোটি, ৪০ লাখে এক লাখ, রমজান মাসে ৪০ কোটি টাকা ব্যাংকে আছে, ১ কোটি চকচকে টাকা
তুলে নিয়ে এসে গরীবদেরকে দেওয়া ছোট মোটো আত্মার কাম না, বড় আত্মা লাগবে। টাকা আছে ঠিক, ৪০ কোটি টাকা আমার ব্যাংকে আছে, কিন্তু এই টাকা আমার প্রয়োজন নাই, এটা বাড়তি টাকা, এর মধ্যে হইতে ১ বছর পরে রমজান মাসে ১ কোটি টাকা উঠাইয়া নিয়ে এসে আমি যে গরীবকে ভাগ করে দিবো এটা ছোট অন্তরের কাম না, ছোট অন্তরে পারবে না বড় অন্তর লাগবে। মোয়াজ্জাজ হাজেবীন- তাই আমাদের সমাজে যাকাত বুঝেইনা, যারা বুঝি তারাও ঠিক মত হিসাব করে যাকাত দেই না, ২৫ লক্ষ টাকা যাকাত আসে অথচ ৩ লক্ষ টাকার শাড়ী আর লুঙ্গী কিনে রমজান মাসের ২৭ তারিখে লাইন দেই, গায়ের লাথিতে ২/৪ জন মারাও যায়, এই হালা যাকাত দেওয়া। পাই পাই হিসাব করে যাকাত আমাকে দিতে হবে। তখন গিয়ে আল্লাহকে সাথে পাওয়া যাবে, মালের গুদামের মধ্যে যতো পাহারাদার রাখেন, আল্লাহ যদি সাথে না থাকে তাহলে মাল হেফাজত করা যায় না। দোস্তরা আমার বন্ধুরা আমার, আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা এজন্য বলেন,
وَآتَيْتُمُ الزكاة
তোমারা ঠিকমত যাকাত আদায় করো, হিসেব করে আদায় যাকাত যদি ঠিকমত আদায় করতে পারো, তাহলে আমি আল্লাহকে তোমারা সাথে পাবা, তোমাদের মাল কোনো দিন হারাবে না, হাইজ্যাক হবে না, মাল চুরি হবে না, আমি আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবো, তোমার মালকে হেফাজত করবো, আমি আল্লাহকে তুমি সাথে পাবা, কাল কেয়ামতের দিন কোটি কোটি মানুষের মধ্য হতে আমি আল্লাহ তোমাদের গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দিয়ে আমি নিজের জিম্মাদারিতে তোমাদেরকে ঐ জান্নাত আর বেহেস্ত পর্যন্ত পৌছিয়ে দিব। কিন্তু আমাদের সমাজে যারা মালদার তারা সিঙ্গাপুর আর লন্ডন ঘুরে ঘুরে টাকা নষ্ট করে, মালের যাকাত দেয় না জীবনে একবার হজ্বও করতে পারে না, এরকম আছে না নাই? আছে। আমি তো বলি, যে মক্কা আর মদিনা দেখেছে সে গোটা বিশ্ব দেখেছে, আর যে কানাডা দেখেছে লন্ডন দেখেছে, আমেরিকা দেখেছে অতচ মক্কা দেখে নাই আমি বলি
যে সে কিচ্ছু দেখে নাই। মক্কা মদিনা যে দেখেছে সে গোটা বিশ্ব দেখেছে, আজ মালদারেরা গরীব দুঃখীকে না দিয়ে, মালের যাকাত না দিয়া ঠিক মত হক আদ্যা না করে মালকে খালি অপচয় করছে। এখন তো চাইনিজ কোন হোটেলে জায়গা নাই, সেদিন একজন বলে হুজুর একটা চাইনিজ হোটেল করব্যে, কেন? এতো হোটেল আছে দেশে আবার তুমি হোটেল দিবা। বলে গিয়ে দেখেন কোন হোটেলে জায়গা নাই, মানে এখন একটাই মাত্র ছেলে একটাই মাত্র মেয়ে, স্বামীও চাকুরী করে স্ত্রীও চাকুরী করে এই চাকুরীর পয়সা দিয়ে ভাত পাকায় না সব গিয়ে চাইনিচ হোটেলে গিয়া খায়। ঐ যে চাকুরী শেষ হওয়ার পর পেনশন পায়, টাকা ব্যাংকের মধ্যে রাখছে, আর সুদ তুলে তুলে খায়, আর আসল টাকাটা রেখে মারা যায়, ঐ গুলো ছেলে পেলেরা মদ খেয়ে শেষ করে দেয়। মোয়াজ্জাজ হাজেবীন- এই জন্য মালের যাকাত ঠিকমত আদায় করলে গরীব দুঃখীকে দান করলে, আল্লাহ বলেন বান্দা আমি তোমার সাথে আছি, তোমার মালকে আমি হেফাজত করবো, আমি তোমাকে হেফাজত করবো নিজের জিম্মাদারীতে তোমাকে জান্নাতের মধ্যে পৌছিয়ে দিবো। সোবহানাল্লাহ।
وَآمَنْتُمْ بِرُسُلِي
আমার নবীগন হযরত আদম থেকে নিয়ে আমাদের আখেরী যামানার নবী মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত যত নবী দুনিয়াতে এসেছেন প্রত্যেকটা নবীর উপরে সঠিক ইমান যদি তোমাদের থেকে থাকে, আর এই আমল যদি তোমরা করো তাহলে আল্লাহকে তোমাদের সাথে পাবে, আমি তোমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে তোমাদের সকলকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিবো। ৩নং আমল হলো নবীদের উপরে সঠিক ঈমান। ইহুদি মার্কা ঈমান চলবেনা। ইহুদিরা হযরত মুসা (আ.) কে মানে হযরত ইসা (আ) কে মানেনা, আমাদের নবীকেও নবী বলে মানে না, অন্য নবীকে তারা হত্যা করে দিয়েছে। খৃষ্টানরা হযরতে মুসা (আ.) কে নবী বলে মানে না, আমাদের নবীকেও নবী বলে মানে না, শুধু ঈসা নবীকে নবী বলে মানে, কিন্তু না মুসলমান কারা, যারা প্রত্যেকটা নবীকে নবী
বলে মানে, প্রত্যেক নবী বরহক, প্রত্যেক নবী তাদের দায়িত্ব উম্মত পর্যন্ত ঠিক মত পৌছিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেক নবী বে গুনাহ মাসুম, নবীগনের প্রতি সঠিক ঈমান, আর আমাদের নবীর প্রতি আমাদের ঈমান এমন হবে-
خاتم النبي لا نبي بعدي . আমাদের নবী সর্বশেষ নবী, আমাদের নবীর পরে
আর কোন নবী আসবে না, এই কথার বিশ্বাস আমাদের মধ্যে থাকতে হবে। কেহ যদি বলে আমাদের নবীর পরে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (পায়খানার মধ্যে পড়ে মারা গেছে) শেষ নবী, এটা মানা যাবে? না। এটা মানলে আমরা কাদিয়ানী হয়ে যাব, কাদিয়ানীরা কাফের। তো আমাদের নবীর প্রতি সঠিক ঈমান, আমাদের নবী খাতামুন্নাবীয়্যীন। আমাদের নবী নিশ্ব নবী আগের নবীবা এলাকা ভিত্তিক ছিলো, আর আমাদের নবী বিশ্ব নবী, আমাদের নবী ইমামুল আম্বিয়া, সমস্ত নবীগনের ইমাম, আমাদের নবী নবীউল আম্বিয়া, আমাদের নবী সমস্ত নবীগনের নবী, আগের নবীরা শুধু উম্মতের নবী ছিলো, আমাদের নবী সমস্ত নবীগণের নবী। আমাদের নবী আফজালুল আম্বিয়া সমস্ত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নবী এটা আমাদের নবীর প্রতি ঈমান থাকতে হবে। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন- আল্লাহ বলেন তাহলে ৩ নাম্বার হলো আমাদের নবীগণের উপর সঠিক ঈমান, ইহুদি মার্কা না, নাসারা মার্কা না। নাসারারা আর ইহুদিরা নবীদেরকে হত্যা করে, কিছু নবীকে মানে আর কিছু নবীকে মানে না, এই ধরনের মানুষের সাথে আমি আল্লাহ নাই, আল্লাহ কাদের সাথে? যাদের অন্তরে নবীগনের প্রতি সঠিক ঈমান আছে, তাদের সাথে আল্লাহ আছে। ইহুদিদের সঠিক ঈমান নাই নাসারাদের সঠিক ঈমান নাই। ইহুদি নাসারাদের সাথে আল্লাহ নাই, দুনিয়াতে আল্লাহ সব দিলেন কিন্তু মারা যাওয়ার পরে আল্লাহকে সাথে পাওয়া যাবে না।
যারা আমার নবীগণের ডাকে সাড়া দেয়, আমার নবীগনকে ইজ্জত করে, আমার নবীগণকে একরাম করে, আমার নবীগণকে সহযোগীতা করে, আমার নবীগণের পাশে দাড়ায় এই সমস্ত মানুষের সঙ্গে আমি আল্লাহ আছি, আমি তাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে দিবো, এবং আমি আমার জিম্মাদারিতে তাদেরকে ঐ জান্নাত পর্যন্ত পৌছিয়ে দিবো। এখন কি নবী আছে? না। নবী নাই কিন্তু নবীগণের ওয়ারিস আছে, হক্কানী আলেম আছে, সুতরাং আপনি যদি হক্কানী আলেমের ডাকে সাড়া দেন তাহলে যেনো আপনি নবীদের ডাকে সাড়া দিলেন। এক হাদীসে দেখলাম,
من صلى خلف عالم فقد صلى خلف نبينا و من صلى
خلف نبينا غفر له.
যে ব্যক্তি কোন আলেমের পিছনে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সে যেন নবীর পিছনে নামাজ পড়লো আর যে নবীর পিছনে নামাজ পড়ে তার জীবনের সব গুনাহ খাতা মাফ, সুবহানাল্লাহ। ৫ নং আমল
وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا
আল্লাহর দেওয়া মালের থেকে আল্লাহর বাস্তায় দান কর, এই ৫টি আমল যদি আমরা ধরে রাখতে পারি আল্লাহ বলেন আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি, তোমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করবো, আমি নিজের জিম্মাদারীতে জান্নাতে পৌছিয়ে দিবো। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই ৫টি আমল করে, আল্লাহকে সাথে পেয়ে, আল্লাহ আমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করিয়ে আমাদেরকে নিজের জিম্মাদারীতে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিন, সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন
মাওলানা আব্দুস সবুর দা: বা:
সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিল মাদরাসা, বগুড়া
যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই
যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদিস থেকে একটি হাদিস যার অর্থ: ঈমানদার তারাই যারা আমানতের হেফাজত করে। হাদিসের অর্থ: যার মধ্যে আমানতদারী নেই তার ঈমান নাই।
আমানতের অর্থ ও প্রকারভেদ: কোন ব্যক্তির উপর আস্থা বিশ্বাস রেখে তার নিকট কোন বস্তু গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয়।
আমানত দুই প্রকার: এক, সম্পদের আমানত। দুই. কথার আমানত। কারো উপর পূর্ণ আস্থা রেখে কোন সম্পদ তার রাখা; এটা সম্পদের আমানত।
কোন ব্যক্তির সাথে জরুরী কোন কথা বলার পর সে আপন গন্তব্যের দিকে ফিরে যাওয়ার সময় তার প্রতি তাকানো প্রমান করে তাকে যে কথাটা বলা হয়েছে, তা তার নিকট আমানত রাখা হয়েছে। এটা কথার আমানত। বর্তমান সম্পদের আমানত কিছুটা থাকলেও কথার আমানত নেই বললেও চলে। কথার যে অংশটি তার স্বার্থের বিপরিত হলে, তা বাদ দিয়ে অথবা অতিরঞ্জিত করে অন্যকে বলে। আমানতের উভয় প্রকার নিয়ে বর্তমান মুসলমানদের মধ্যে কোন গুরুত্বই নেই। অথচ কুরআন হাদীসের কোথাও বলা শুধু আমানতদারীর বিষয়ে কঠোর ঘোষণা দেয়া REHTI তার ঈমান নেই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু এ ঘোষণা দিয়ে দায় মুক্ত হননি, বরং মুনাফিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তখন আরবের প্রত্যেক লোকের কাছে হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতদার, ন্যায়নীতি ইত্যাদির দিক থেকে ভক্তি শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর ছাফা পর্বতে দাঁড়িয়ে আহ্বান করলেন, হে মক্কাবাসী। যদি ইহকাল ও পরকালে শান্তি পেতে চাও মূর্তিপূজা ছেড়ে দিয়ে এক আল্লাহর উপর ঈমান নিয়ে আসো। তখন গুটি কয়েক ঈমানদার ব্যতিত পুরা মক্কাবাসী আল্লাহর হাবিবের দুশমন হয়ে গেল। তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোন ষড়যন্ত্র বাদ রাখেনি, যা তারা করেনি। কিন্তু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা আবু তালেব কাবা শরীফের মুতাওয়াল্লী কুরাইশদের সর্দার বা নেতা ভাতিজা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। একারনে মুশরিকগণ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস করেনি। তার এবং হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার ইন্তেকালের পর মুশরিকদের ষড়যন্ত্র বেড়ে গেল।
অবশেষে তারা হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়া থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার জন্য দারুন নদওয়া নামক একটি হলের রুদ্ধদ্বার কক্ষে গভীর রাত্রে গোপন পরামর্শে বসল। ইবলিস পরনে জুব্বা, মাথায় পাগড়ী, হাতে লাঠি নিয়ে পীরের বেশে কক্ষের নিকট গিয়ে আওয়াজ দিল, দরজা খোল। ইবলিস কক্ষের ছিদ্র দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখার পরও মানুষের বেশে আসার উদ্দেশ্য, তাদের সাথে পরামর্শে শরীক হওয়া। ভিতর থেকে আবু জেহেল জানতে চাইল, তুমি কে? কেন এসেছ? জবাবে ইবলিস বলল, আমি নজদ শহরের একজন পীর সাহেব। তোমাদের সাথে পরামর্শে শরিক হতে এসেছি। আবু জেহেল বলল, গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। পীর দরবেশর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা রাখেনা। যেদিক থেকে এসেছেন ঐ দিকে চলে যান।
ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখগণ রাজনীতি বুঝে না এবং বাজনীতির সিদ্ধান্ত দেওয়ার যোগ্যতা রাখেনা। সুতরাং পীর-মাশায়েখগণ রাজনীতি বুঝেনা পীর হলে রাজনীতি করা যায় না- এ উক্তি আবু জেহেলের। ইবলিস আবার বলল, দরজা খোল। তোমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু আমার জানা আছে। আবু জেহেল আমাদের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আপনার কী জানা আছে? ইবলিস বলল, আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নিয়ে কি করা যায়। তার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমার মাথা ব্যাথা বেশি আছে। আমি তোমাদেরকে তার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করব। তোমাদের তো জোশ আছে হুঁশ নাই, উগ্রতা আছে বুদ্ধিমত্তা নাই। তার কথা শুনে আবু জেহেল অবাক। গভীর রজনী, গোপান কক্ষ আলোচনা বিষয় বস্তু গোপন রাখা হয়েছে অথচ সে নজদ দেশ থেকে আমাদের এই বিষয়গুলো কিভাবে জানতে পারল। তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিল। ইবলিস ভেতরে প্রবেশ করল। তার চেহারায় বুদ্ধির দীপ্তি দেখা যাচ্ছে। তাই সবাই তাকে সভাপতির আসনে বসিয়ে দিল। তার সভাপতিত্বে
তাদের পরামর্শ সভা নেহায়াত গোপনীয়তা রক্ষা করে শুরু করলো। পরামর্শ সভায় ৩টি প্রস্তাব আসলো। তন্মধ্যে ২টি নাকড হয়ে গেল। একটির উপর সবাই একমত। আলিমুল গায়েন আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে তাদের ৩টি প্রস্তাব মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছেন।
আল্লাহ ইরশাদ করেন:َ
অর্থ। আর কাফিরগণ যখন প্রতারনা করত স্থাপনাকে বন্দি অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেওয়ার জন্য। তখন তারা যেমন ষড়যন্ত্র করে তেমনি অম্লাহও (তাঁর নবীকে বাঁচানোর) কৌশল অবলম্বন করেন। বস্তুত। আল্লাহর কৌশল সর্বশ্রেষ্ঠ। (সুরা আনফাল, আয়াত। ৩০)
তাদের প্রথম প্রস্তাব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। খাদ্য-পানি কিছু না দিয়ে তাঁকে তিলে তিলে বিনাশ করে দিতে হবে। ইবলিস বলল, এই প্রস্তাব ফলপ্রসু হবে না। কারণ এর পূর্বে তাকে শিয়াবে আবু তালেবে বন্দি করে রেখেছিল। তাঁর প্রভু তাঁর জন্য খানা-পিনার ব্যবস্থা করেছিল। সুতরাং এই প্রস্তাব বাতিল করা হউক। সবাই একমত। দ্বিতীয় প্রস্তাব তার নাগরিকত্ব বাতিল করে মক্কা থেকে বের করে দিতে হবে। ইবলিস বলল, এটাও বাদ। কারণ, এখন তো সেই তোমাদের কাছে আছে, নির্বাসিত হলে সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন তাঁর আদর্শে দিক্ষিত হয়ে বিরাট জামায়াতে পরিনত হবে। তখন তাঁরা দলবল নিয়ে তোমাদের উপর আক্রমন করে তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। তৃতীয় প্রস্তাবে আবু জেহেল বলল, তাকে জবাই করে হত্যা করব। ইবলিস বলল, এটাই আসল সিদ্ধ্যন্ত এবং বুদ্ধিমত্তার কাজ, এই বলে ইবলিস হাতে তালি দিল। কোন প্রস্থাব পাশ হলে হাতে তালি দেয়া এটার প্রথম প্রবক্তা ইবলিস। মুসলমানরা বর্তমান ইবলিসের এ তরিকাকে অনুসরণ করে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করার পর হাতে তালি দেয়।
এটা ইসলামী কালচার নয়। যাই হোক, এই প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর ইবলিস বলল এটা কার্যকর করবে কিভাবে? আমি এ ব্যাপারে উত্তম পরামর্শ দিচ্ছি, তাকে হত্যা করার জন্য একাকি কেহ যাবেনা। এতে হিতে বিপরীত হবে এবং সে তার মুরিদ হয়ে যাবে। যেমন খাত্তাবের বেটা ওমর একাকি তাকে হত্যা করতে গিয়ে তার দলভুক্ত হয়ে গেছে। উপরন্ত একাকি যদি কেহ খুন করে, তাহলে বনি হাশেমের গোত্র সে খুনির কেছাছ বাং বদলা নেবে। সুতরাং একা না গিয়ে পুরা আরবের ১২ গোত্র থেকে দুইজন করে মোট চব্বিশ জন যুবক তৈরী হও। কিছুক্ষন আগে আমি দেখে এসেছি সে অমুক ঘরে শুয়ে আছে। সুতরাং চব্বিশ জন যুবক খোলা তরবারী নিয়ে এখনই গিয়ে তাকে হত্যা করে আস। দেরী করো না। কারণ দেরী করলে তার খোদা তাকে নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখবে। ইবলিস এখানে ভুল করেছে এবং বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে, দেরী করলে তাঁর খোদা তাকে বাঁচাতে পারে। দেরী না করলেও তাকে বাঁচাতে সক্ষম। ইবলিসের পরামর্শে চব্বিশ জন যুবক চব্বিশটি খোলা তরবারী নিয়ে আল্লাহর হাবিবকে জবেহ করে হত্যার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল (নাউজুবিল্লাহ)। ফেরেশতাকুলর সরদার হজরত জিবরাইল (আঃ) তড়িত গতিতে হাজির হয়ে আল্লাহর হাবিবকে ডেকে বললেন, ওগো আল্লাহর হাবিব মক্কার চব্বিশ জন যুবক আপনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মিলিত হয়েছে। সুতরাং আপনি এখনই এ জায়গা ছেড়ে সুদূর মদীনার দিকে হিজরত করেন। এই ঘটনায় তিনি একটু বিপাকে পড়ে ভাবলেন, মক্কার লোকদের আমানত আমার নিকট গচ্ছিত আছে। আমি যদি হঠাৎ চলে যাই এই আমানত প্রকৃত মালিকদের কাছে কে পৌছিয়ে দেবে? এবং এদের কি অবস্থা হবে? আমি তো উম্মতগণকে খেতাব করে বলেছি, যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নাই। কি তায়াজ্জবের বিষয়? যারা তাঁকে হত্যার জন্য এগিয়ে আসছে আর তিনি তাদের আমানতের মাল রক্ষা করার জন্য অস্থির। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাড়াতাড়ি ১৮/১৯ বছরের যুবক হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা
আনছকে ডেকে বললেন, ভাই আলী। কাফিরদের এই সিদ্ধান্ত আর আল্লাহর নির্দেশ এখনই আমাকে মদীনার দিকে রওয়ানা হওয়া। অতএব এই আমানতের দায়িত্ব তোমায় নিকট সোপর্দ করলাম। এটা অমুকের আমানত, এটা অমুকের মাল ইত্যাদি। সুতরাং তুমি এই আমানত আমানতদারের নিকট পৌছে দিয়ে মদীনায় রওয়ানা করবে। যদিও আমি আপাতত তোমাকে রেখে যাচ্ছি, আমি ওয়াদা করছি আমি মদীনার কাছে অবস্থান করব তুমি আসলে তোমাকে নিয়ে মদীনার প্রবেশ করব। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ওগো আল্লাহর হাবিব। আপনার এ আদেশ অমান্য করার সাহস আমার নাই। দয়া করে আপনার কম্বলটি আমাকে দিন, আমি সেটা মুড়িয়ে আপনার বিছানায় শুয়ে থাকব। মক্কার যুবকরা এসে আপনাকে না পেয়ে হয়ত আমাকে হত্যা করবে, এতে আমার কোন আফসোস নেই। কিন্তু আমার অন্তরে দুঃখ একটাই, আপনাকে না পেয়ে তারা দৃঢ় ধারনা পোষণ করবে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনার দিকে রওয়া হয়েছেন। তখন তারা আপনার তালাশে বের হয়ে যাবে। হয়ত কোন এক জায়গায় আপনাকে শহীদ করে দিবে। আপন চোখে আপনাকে আর দেখব না-এটাই আমার অন্তবের বেদনা।
এদিকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে সোজা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর বাড়ি গেলেন। আস্তে করে তাঁকে ডাক দিলেন, আবু কুহাফার ছেলে আবু বকর সিদ্দিক। ডাকের সাথে সাথে তিনি সফরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থিত। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবাক হয়ে গেলেন। মনে মনে বললেন, আমাকে এখনই হিজরত করে মদিনায় যেতে হবে: এই বিষয়টি কয়েক মিনিট আগেও তো আমি জানতাম না। হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম এসে বলার পর আমি হিজরতের জন্য বের হলাম। অথচ আবু বকর তো আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। হযরত জিবরাইল আলাইহিস
সালাম তাঁকে বলেছে নাকি। হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনের ভাব বুঝতে পেরে বললেন, ওগো আল্লাহর হাবিব। আবু বকরের মত এত নগন্য লোকের কাছে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম আসবে না, তারপরও আমার এই প্রস্তুতি। কারণ এক বছর পূর্বে একদিন আপনি আমাকে কথার ছলে বলেছিলেন, আবু বকর। মনে হয় আমরা মক্কায় থাকতে পারব না। সুতরাং যখন যেখানে যাই তোমাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, একথা পয়গম্বরী জবানের কথা। এ জবান থেকে যা বের হবে, তা একদিন অবশ্যই বাস্তবে রুপান্তরিত হবে। ঐদিন থেকে আজ একটি বছর আরামের ঘুম হারাম করে আমি প্রস্তুত হয়ে আছি।
কারণ জানি না, কোন মুহূর্তে আপনি আমাকে ডাক দিবেন। সাড়া দিতে যদি বিলম্ব হয় আর আল্লাহ যদি নারাজ হয়ে আমাকে বলে, হে আবু বকর। তুমি আমার হাবিবের ডাকে সাড়া দিতে বিলম্ব করেছ, সুতরাং তুমি তাঁর সঙ্গী হওয়ার যোগ্য নও। তখন তো আবু বকরের কোন উপায় থাকবে না।
কথা শেষ করে তিনি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উটের উপর বসিয়ে নিজে পিছনে বসে এক গ্রাম্য রাস্তা দিয়ে (যে রাস্তা দিয়ে সাধারনত: মানুষজন চলাফেরা করেনা। মদিনার দিকে রওয়ানা করলেন।
আবুজেহেল বলল, হে আব্দুল্লাহর ছেলে মুহাম্মাদ। তোমার আর সময় বাকী নেই। কম্বল সরিয়ে দেখে, এটা তো মুহাম্মাদ নয়। এ তো আমাদের সর্দার আবু তালেবের ছেলে আলী। আবু জেহেলের রক্ত মাথায় উঠলো। ক্ষিপ্ত হয়ে চোখ লাল করে বলল, হে আলী। বল,
তোমার ভাই মুহাম্মাদ কোথায়? হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন, কথার পন্ডিত। তিনি বললেন, আশ্চর্যের কথা। তাঁকে তালাশ করছ তোমরা আর জিজ্ঞাসা করছ আমাকে? এখন তোমরাই বল, আমার ভাইকে কি করেছ? আবু জেহেল কোন কথা না বলে সোজা আবু বকর সিদ্দিক বাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ির দিকে রওয়ানা হল। গিয়ে দেখল, ঘরের দরজা খোলা আছে। স্ত্রীর স্বরে আবু জেহেল ডাক দিল, আবু কুহাফার ছেলে আবু বকর বের হও। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বড় মেয়ে সাইয়্যেদিনা হযরত আছমা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘর থেকে বের হলেন। আবু জেহেল জিজ্ঞেস করল, তোমার বাবা কোথায়? হযরত আছমা রাদিয়াল্লাহু আনহা উত্তর দিলেন, বলতে পারবনা। একথা বলেননি, আমি জানি না। অর্থাৎ জানলেও তোমাদের কাছে বলা যাবে। না। কমবখত আবু জেহেল হযরত আছমা বাদিয়াল্লাহু আনহাকে এমন জোরে চড় মারল যে, সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। ইসলামের ইতিহাসে কোন মহিলা সাহাবীর নির্যাতিতা হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা। অতপর আবু জেহেল আদেশ দিল, চারিদিকে তালাশ কর। মদিনার রাস্তা দেখ। ঘোষণা দিল, যে ব্যক্তি তাঁকে জীবিত অথবা মৃত এনে দিতে পারবে, তাকে উত্তম পুরস্কার প্রদান করা হবে।
এদিকে সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু গ্রামের আঁকা-বাঁকা পথ দিয়ে মদিনার দিকে রওয়ানা হলেন। ঘটনাচক্রে একদল ব্যবসায়ীর সামনে পড়ে গেলেন। তারা সবাই মুশরিক। হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহ আনহুকে চিনে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিনে না। তারা জিজ্ঞেস করল, আবু বকর। তোমার সাথে লোকটা কে? এতে তিনি মহা বিপাকে পড়ে গেলেন। কারণ সত্য বললে নবী ধরা পড়ে। আর অসত্য বললে তিনি সিদ্দিক (সত্যবাদী)
তিনি তো জীবনে কোনদিন মিথ্যা বলেননি, বলতে পারেন না। এমন কঠিন মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর মুখ থেকে বের করে দিলেন, هو رحل پدبي السنيل অর্থাৎ তিনি এমন একজন মানুষ যিনি আমাকে রাস্তা দেখান। কাফেররা বুঝলো, আবু বকরা গ্রাম্য রাস্তা চিনেন না, তাই গ্রাম থেকে একজন লোককে নিয়ে এসেছে তাকে রাস্তা দেখানোর জন্য।আর সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উদ্দেশ্য হল, তিনি এমন মানুষ যিনি আমাকে আখেরাতের রাস্তা দেখান।এখান থেকে উভয়ে দূর পর্বতের গুহায় গেলেন। রাত প্রায় শেষ। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা আপাতত: এই গুহায় অবস্থান করি।
অত:পর সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কোলে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন।
এই বিষয়ে অনেক লম্বা আলোচনা আছে, যা আপনারা বিভিন্ন আলেমগণের মুখ থেকে শুনেছেন। তার একটি
সংক্ষিপ্ত কথা যা আল্লামা ইবনে হজর আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কোলে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথা মোবারক। মনে হয় যেন আল্লাহর কুরআন রেহালের মধ্যে আরাম করছেন। অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবন্ত কুরআন আর সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কোল রেহাল।
শীয়াদের ঈমান বিধ্বংসী যুক্তি ও তার জবাব: ইরানী রাষ্ট্রের শীয়ারা কাফের, এতে যারা সন্দেহ করবে তারাও কাফের। কারণ তাদের আকিদা-বিশ্বাস হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবী নয় এবং তারা সকলেই জাহান্নামী। বরং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তিনি রাসুল হওয়ার উপযুক্ত। হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম ভুল করে তার উপর ওহী নাজিল না করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাজিল করেছে। তাদের যুক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের সময় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমানতদার মনে করে আমানতদারদের নিকট আমানতের মাল পৌছে দেওয়ার জন্য তাঁকে দায়িত্ব প্রদান বারলেন। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দায়িত্বে দিলেন না। এতে প্রমানিত হয় যে, আলাই সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের এ যুক্তির উত্তর হলো, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আমানত আর মক্কার লোকদের গচ্ছিত মাল হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমানত। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমানতের চেয়ে আল্লাহর আমানত অনেক বড়।
আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বৈচিত্রতা নিহিত আছে |
সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর আমানতকে আপন কোলে নিয়ে হেফাজত করেছেন। আর হযরত আলী বাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমানতকে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত: হযরত আলী বাদিয়াল্লাহ আনহু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিছানা পেয়েছেন আর চুর পর্বতের গুহায় সিদ্দিকে আকবর বাদিয়াল্লাহু আনহু আপন কোলকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য বিছানা বানিয়েছেন। অর্থাৎ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিছান। নিয়েছেন। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিছানা দিয়েছেন। উপরন্ত হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিয়েছেন অর্থাৎ ফাতেমা বাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেছেন। আর সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মেয়েকে (হযরত আয়েশা বাদিয়াল্লাহু আনহা) হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিবাহ দিয়েছেন। এখন বলুন দাতা বড় না গ্রহীতা বড়? সুতরাং সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উপর কাউকে শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা যুক্তি সংগত নয়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদা-বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর পর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থান। তাঁর পর সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহ আনছর স্থান। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শানে কবি বলেন,
دنیا کے صداقت میں تیر انام رہیگا
صدیق تیری نام سے اسلام رہیگا۔
অর্থ: দুনিয়াতে সত্যবাদীদের আপনার নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সিদ্দীক আপনার নামের বরকতে ইসলাম জিন্দা থাকবে।
প্রাসঙ্গিক দু'টি কথা:
হক ও বাতিলের দ্বন্দ আবহমান কাল থেকে চলে আসছে। কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। ইসলাম হক, অমুসলিমরা বাতিল। তবে সমাজের কিছু শিক্ষিত মুসলমান যারা ইসলামী নাম ধারন করে নিজেদেরকে মুসলমান দাবী করে এবং মুসলমানের সমাজে বসবাস করে তারা ইসলামের বিরোধিতা কেন করে? হয়ত তারা বিজাতীয় শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ করে অথবা জাগতিক স্বার্থে তাদের মনোরঞ্জনের জন্য ইসলামের বিরোধিতা করে। কিংবা জন্মের পর তাদের এক কানে আজান অপর কানে ইকামত দেয়া হয়নি। নবজাত শিশুর এক কানে আজান অপর কানে ইকামত দেয়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। এর মধ্যে দুইটি ফায়দা নিহিত রয়েছে। এক. নবজাত শিশুদের কানে আজান ও ইকামত, (যার মধ্যে আল্লাহ ও রাসুলের নাম রয়েছে) তাদের আত্মার প্রবেশ করার কারণে বিজাতীয় শিক্ষা গ্রহণ করে ইসলামের রীতি-নীতি পালন না করলেও সে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধাচারণ করবে না।
দুই, হাবিবের এ সুন্নাত মানবজাতিকে সংকেত দিচ্ছে যে, আখেরাতের হায়াতের তুলনায় দুনিয়ার হায়াত অতি নগন্য। অর্থাৎ আজান ও ইকামতের মাঝে যে সময়টুকু থাকে এটাই তোমাদের হায়াত। মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার পর মুসল্লিগণ যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে অজু করে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের দিকে রওয়ানা হয়। অনুরূপভাবে দুনিয়াতে আসার পর তোমাদেরও আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরী।
তাগুতি শিক্ষা-দীক্ষা প্রদান করে ঈমানহারা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর জন্য যুক্তি দিয়ে অতি কৌশলে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তা হলো বিদ্যা-বুদ্ধি, কান্ডজ্ঞানে পূর্বেকার সমাজের মানুষ ছিল নির্বোধ, অজ্ঞ। যে কারণে সন্তান প্রসব হতো বাড়িতে। এতে মায়ের রক্তক্ষরণ বেশি হতো। মায়ের শরীর দুর্বল হয়ে যেত। নবজাত শিশু পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য (দুধ) না গেয়ে তাদের স্বাস্থ্যও সবল হতো না। সুতরাং বাড়িতে সন্তান প্রসব না করিয়ে হাসপাতাল-ক্লিনিকে করলে রক্তরক্ষণ কম হবে। মা ও সন্তানের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তাদের সুন্দর যুক্তি মুসলমানরা গ্রহণ করে সন্তান প্রসবের পূর্বে গর্ভবতী মাকে হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিয়ে যায়। অথচ সেখানে সন্তান জন্মের পর আজান-ইকামত দেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। উপরুন্ত হাসপাতাল-ক্লিনিকে পর্দার ব্যবস্থা নেই। খারাপ লোকদের আনাগোনাও কম নয়। এমতাবস্থায় সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ায় তার দৃষ্টি তাদের প্রতি পড়ার কারণে পরিনত বয়সে ঐ সন্তান বেপর্দা ও খারাপ কর্মকান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়া স্বাভাবিক। তাগুতি শক্তির এ যুক্তিতে কতিপয় মুসলমান নামধারী ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত থেকে সরে যাওয়ার কারণে ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধাচারণ করে। দ্বিতীয় বিষয়: ইসলাম বিরোধী শক্তিও তাদের তল্পীবাহকরা মাদরাসার বিরুদ্ধে সেভাবে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে এবং বলে মাদরাসা জঙ্গি আবিষ্কারের কারখানা। মাদরাসায় যারা পড়াশুনা করে, তারা সমাজের শান্তি-শৃংখলা বিঘ্নকারী। এর বিপরীতে নবী-রাসুল, কুরআন, মসজিদ এবং ইসলামের যাবতীয় কর্মকান্ডের বিরোধিতা সরাসরি করে না। এর কারণ
হলো, মাদরাসায় ইলম শিক্ষা দেওয়া হয়। ইলম ছাড়া ইসলামের কোন কাজই সঠিকভাবে আদায় করা সম্ভব নয়। ইলম হলো সব আমলের মূল শিকড়। যে কোন কলা কৌশলে মাদরাসা যদি ধ্বংস করা যায়, তাহলে ইসলামের যাবতীয় আমল এমনিতেই ধ্বংস হয়ে যাবে। যেমন গাছের ডালপালা, ফলমূল ইত্যাদিকে ধ্বংস করার জন্য যদি শিকড় কেটে দেওয়া হয়, তাহলে অন্য কিছু করার প্রয়োজন হবে না। তাই তারা সরাসরি মাদরাসার উপর আঘাত করে। আল্লাহ আমাদেরকে উভয় প্রকারের আমানতকে হেফাজত এবং তাগুতি শক্তির মুকাবিলা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আই আবদুল হক আজাদ সাহেব সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিল মাদরাসা, বগুড়া সভাপতি, সম্মেলন সংস্থা, বগুড়া