Filled Under:

আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বৈচিত্রতা নিহিত আছে

                                                   আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বৈচিত্রতা নিহিত আছে


 আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মহান স্রষ্টা, আল্লাহ পাকের সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ পাক বৈচিত্রতা রেখেছেন, বৈচিত্রময় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিক, ভিন্ন ভিন্ন চেহারা, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন ভিন্ন রং, ভিন্ন ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া, অর্থাৎ বহু রকম ভিন্নতার সমারহে আল্লাহ পাক মহান স্রষ্টা, সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ পাক এত বড় মহান বৈচিত্রময় স্রষ্টা যে এতগুলো মানুষ পৃথিবীতে, অতচ প্রত্যেকটা মানুষের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ আল্লাহ এমন ভাবে অঙ্কন করেছেন যে একজন মানুষের বৃদ্ধাঙ্গুলীর ছাপের সঙ্গে অন্য একজন মানুষের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপের কোন কালে মিল ছিল না. বর্তমানেও মিল নেই, ভবিষ্যতেও মিল হবে না। বন্ধুরা আমার। একটা গাছের পাতার সাথে আরেকটা গাছের পাতার মিল নাই একটা গাছের ভিতরে যতগুলো পাতা আছে একটা পাতার সঙ্গে ঐ গাছের


আর একটা পাতার মিল নাই। আল্লাহ পাক বৈচিত্রময় স্রষ্টা। তবে আল্লাহ পাক যে বৈচিত্রময় স্রষ্টা তার ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি মানুষ, এজন্য আল্লাহপাক কুরআনুল কারীমে সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন।


يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى


ও পৃথিবীর মানুষ আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে।


من ذكر وأنثى


জাকার মানে পুরুষ, উনছা মানে নারী।


وَجَعَلْتُكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ


এবং আমি তোমাদের মাঝে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা এবং বিভিন্ন গোত্রে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। কেন? لتعارفوا যেন তোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পারো, জানতে পাবো, বুঝতে পারো। আমরা কি বুঝবো? এটা আল্লাহ পাক এই আয়াতে বলেন নাই। এখানে শুধু বলেছেন যেন ভোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পারো। পরিচয় লাভ করতে পারো। تعارف এটা আরবি শব্দ। অলংকার অনুযায়ী পারস্পরিক জানা শুনা বুঝায়। আমরা আমাদের আরবি গ্রামার অনুযায়ী বলি مفاعله - تعارف يتعارف পারস্পরিক যোগাযোগ। এখন আমরা কি জানতে পারবো, কি বুঝতে পারবো সেইটা আল্লাহ বললেন না কেন? মুফাসসিরগণ এটার নানাবিদ উত্তর দিয়েছেন যে, মানুষের মাঝে পুরুষ এবং নারীতে বিভক্তি করা এবং বিভিন্ন জাতি এবং বিভিন্ন গোত্রে এবং শাখা-প্রশাখায় বিভক্তি করন এটার মাঝে পারস্পরিক কি জানাশোনা আছে? কি পরিচয় আছে? মুফাচ্ছিরীগণ বলেন মানুষের বৈচিত্রতার মাঝে নারী এবং পুরুষের মাঝে ভাষার ভিন্নতার মাঝে, খাবার দাবারের রুচির ভিন্নতার মাঝে, পোশাক আশাকের ভিন্নতার মাঝে, ভৌগোলিক আঞ্চলিক পরিবেশের ভিন্নতার মাঝে, বিভিন্ন রকম ভিন্নতার মাঝে আল্লাহ পাক তার সৃষ্টি রহস্যের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছেন।


বন্ধুরা আমার, আম গাছের একটা বৈশিষ্ট হলো সে আম দিবে, কাঁঠাল গাছের একটা বৈশিষ্ট হলো সে কাঁঠাল দিবে কাঁঠাল গাছের বৈশিষ্ট কাঠাল দিবে সে কোনদিন আম দিবে না, আম গাছ থেকে কোনদিন আপনি কলা পাবেন না এটা সৃষ্টির একটা নির্ধারিত বৈশিষ্ট। বন্ধু আমার, আপনি সৃষ্টি জগতের বৈশিষ্টকে যদি ভিন্নভাবে খাটাইতে চান তাহলে সৃষ্টি জগতের এই নিয়ম শৃঙ্খলা ধ্বংস হয়ে যাবে। আপনি যদি এখন চিন্তা করেন আমরা বাতের বেলা অফিস করব, রাতের বেলা স্কুল করব, রাতের বেলায় ব্যবসা বাণিজ্য করব, আর সারাদিন আমরা ঘুমিয়ে থাকবো তাহলে আপনার শরীর এটা গ্রহণ করবে না, কারণ আল্লাহপাক রাত্রিকে বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্য, ঘুমের জন্য, ক্লান্তি দূর করবার জনা। যেমন। আল্লাহ তাআলা বলেন,


وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَامًا


বুঝা গেল আল্লাহপাক দিনকে বানিয়েছেন কাজের জন্য, সময়ের ভিন্নতার মাঝে আল্লাহর একটা রহস্য লুকায়িত রয়েছে, এই সময়ের ভিন্নতাকে মানুষ যদি ভেঙ্গেচুরে শেষ করে দিতে চায় তাহলে মানবশৃঙ্খলা মানব সামাজিক ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়বে। আপনি যদি ছাগলকে দিয়ে গাড়ি চালাইতে চান, গরুর গাড়ি বানাইছেন এটা ছাগলের জন্য উপযোগী নয়, আর আপনি যদি চিন্তা করেন বলদের কাছ থেকে আপনি দুধ নিবেন এটা আপনার জন্য উপযোগী নয়, কারণ বলদ এর থেকে দুধ আসে না, দুধ নিতে চাইলে আপনাকে গাভীর ভিতর থেকে দুধ নিতে হবে এটাই সৃষ্টির বৈচিত্র, ভাষার বৈচিত্র রয়েছে। আমাদের এই বগুড়া জেলার বারোটা প্রত্যেক উপজেলার ভাষার আওয়াজের উচ্চারণ ভঙ্গি ভিন্ন। সারিয়াকান্দির মানুষ বগুড়া শহরে বসবাস করে যতই সে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলুক, দুই এক শব্দ সারিয়াকান্দির মত উচ্চারণ বের হয়ে আসবে। একজনের বাড়ি দুপচাঁচিয়া, সে যতই শুদ্ধ বলুক তার কথায় বুঝা যাবে লোকটার বাড়ি বগুড়া হইলেও দুপচাচিয়া। আর নোয়াখালীর মানুষ হইলে তো কথাই নাই, তার ভাষার শব্দের উচ্চারণে


বোঝা যাবে বাড়িটা কোথায়। বন্ধুরা আমার, এটা মানব জীবনের একটা সিকিউরিটি। নোয়াখালীর মানুষ কোন অপরাধ করে যদি আপনার এলাকার ভিতরে আশ্রয় নেয় তাহলে আপনি হঠাৎ করে চিনে ফেলবেন লোকটা আমার দেশের নয় তার মুখের ভাষা উচ্চারণ আপনার ভাষার সঙ্গে মিল খায় না, এটা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে একটা নিরাপত্তা। একই রকম ভাবে চেহারার ভিন্নতা রয়েছে, জাপানের মানুষের চেহারা ভিন্ন রকম, ফিলিপাইনের মানুষের চেহারা ভিন্নরকম, সৌদি আরবের মানুষের চেহারা ভিন্নরকম, বাংলাদেশ পাকিস্তান ভারতের মানুষের চেহারা ভিন্নরকম, কারণ মানুষের চেহারা দেখে বুঝা যাবে এটা কোন অঞ্চলের মানুষ এটা একটা সিকিউরিটি, এটা নিরাপত্তার জন্য আল্লাহ করেছেন যে. তুমি আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে শ্বেতাঙ্গ সাজতে পারবা না।


বন্ধু আমার, খুব সংক্ষেপে বুঝানোর চেষ্টা করছি। ভাষা একটা নিরাপত্তা, আপনি এই ভাষার ভিন্নতাকে যদি তুলে দিতে চান তাহলে নিরাপত্তার সমস্যা হবে এবং আপনি বুঝতে পারবেন না কে কোন অঞ্চলের মানুষ। একই রকম ভাবে খাবার-দাবারের ভিন্নতা এটা মানুষকে বলে দেয় সে কোন অঞ্চলের মানুষ। সৌদি আরবের মানুষকে যদি আপনি সারাদিন আলু ভর্তা, ভাত আর পান্তা ভাত দেন সে খাইতে পারবে আর বাংলাদেশের মানুষকে গরমকালে সকালে যদি পান্তা ভাত দেন তাহলে এর চাইতে মজা আর কিছু নাই ঠিক কিনা? ঠিক। তাহলে খাবার দাবারের ভিন্নতা এটাও সৃষ্টি করেছেন কে? আল্লাহ, কেন? لتعارفوا তোমরা যেন আমার সৃষ্টি বৈচিত্র বুঝতে পারো, তোমরা যেন আমার সৃষ্টির রহস্য বুঝতে পারো, আমি ভাষার ভিতরে ভিন্নতা সৃষ্টি করেছি, তোমাদের চেহারার ডিজাইনের বৈচিত্র সৃষ্টি করেছি, তোমাদের খাবার-দাবারের বৈচিত্র সৃষ্টি করেছি তোমাদের পোশাক আশাকের ভিন্নতা সৃষ্টি করেছি, অনুরূপভাবে তোমাদের নারী এবং পুরুষের মাঝে দুইটা শ্রেণীতে বিভক্ত করেছি, এখন আপনি যদি চিন্তা করেন যে না আমাকে আর নারী হিসেবে


ভালো লাগে না আমি এখন আস্তে করে পুরুষ হতে চাই অথবা কোন পুরুষ যদি চিন্তা করে যে ৩০ বছনা ২৫ বছর পুরুষ ছিলাম আমার মনে চায় আমি এখন থেকে একটু মহিলা হবো। বর্তমানে দুইটা মারাত্মক শয়তানি স্লোগান, একটা শ্লোগানের নাম হল মানবাধিকার, আরেকটা শয়তানের স্লোগানের নাম হল বাক স্বাধীনতা। অর্থাৎ মানুষ হিসেবে আমার একটা অধিকার আছে কথাটা শুনতে ভালই লাগে আরবিতে বলা হয়,


کلمه حق اريد به الباطل


কথা সত্য মতলব খারাপ। মানুষে বলে আমার একটা মানবাধিকার আছে, এর জন্য কি করতে চাও? বলে, আমার মানবাধিকার আছে আমার মনে যা ইচ্ছা তাই আমি করতে চাই। আমার নাম আমি যেভাবে খুশি সেভাবে রাখতে পারি আমার নাম রাখবো ঝন্টু, মন্টু, পিন্টু, বিল্টু কারো নামের সঙ্গে মিলে গেলে রাগ করিয়েন না। বাংলাদেশে বর্তমানে বহু মানুষের নাম এমন আছে যে আপনি নাম দেখলে বুঝতে পারবেন না এটা ছেলে না মেয়ে, যেমন বহু মানুষের নাম আছে মুক্তা, যদি কারো নামের সঙ্গে মিলে যায় আমি মাফ চেয়ে নিচ্ছি, মুক্ত্য নাম ছেলেদেরও আছে মেয়েদেরও আছে। এখন এমন একটা নাম আপনি রাখছেন যেটা ছেলের নামও বোঝায় মেয়ের নামও বোঝায় এরকম ভেজাইল্লা নাম রাখা জায়েজ নাই। একই রকম ভাবে এমন নাম রাখা জায়েজ নাই যে নামের দ্বারা বোঝা যায় না এটা মুসলমান না কাফের, এজন্য হাদিস শরীফে নবীজি বলেছেন, তোমাদের সন্তান যখন ভূমিষ্ঠ হবে তার সুন্দর একটা নাম রাখবা, সপ্তম দিবসে আকিকা করবা ও বন্ধু আমরা সুন্নত থেকে দূরে চলে গেছি এজন্য আমাদের উপরে বিপদ আসতেছে, বিপদ এসে গেছে, আমরা নবীর একটা সুন্নত বাদ দিয়েছি নাম রাখার সুন্নত। এজন্য প্রথমে যে সাংস্কৃতিক অগ্রাসন আমাদের ওপরে চালানো হয়েছে সেটা হল, আমরা যে আমাদের বাচ্চাদের নামগুলো ইসলামী নাম বাদ দিয়া ভেজাল নাম খিচুড়ি মার্কা নাম রাখা শুরু করেছি, মানুষে মেয়ের নাম রাখে সাবরিনা, জাহান, আক্তার, সুমি, রুমী, ঝুমি, চার-পাঁচটা নাম



রাখে একসাথে, আমি বলি এতগুলো নাম কেন? বলে দাদি একটা নাম দিয়েছে, দাদা এক নাম দিয়েছে, বাবা এক নাম দিয়েছে, মা এক নাম দিয়েছে- নাম হয়ে গেছে চারটা। এই নামগুলো রাখা মাকরুহ। বাচ্চাদের এমন নাম রাখবেন না। দুই নাম্বারে, আমরা চিন্তা করছি যার তিনটা মেয়ে হয়, পরপর তিনটা কন্যা সন্তান হয়েছে, এখন পুত্র সন্তান হয় না এখন সে বলে আমার ছেলে না হয় থাক এই মেয়েই আমার ছেলে, অর্থাৎ সে মানুষকে বলে বেড়াচ্ছে আমার ছেলে নাই তো কি হয়েছে এই মেয়েই আমার ছেলে এ কথা বলে তার কন্যা সন্তানকে সে জিন্সের প্যান্ট পরাচ্ছে ঠিক কিনা? ঠিক। এজন্য শহরে আপনি দেখবেন বহু মেয়েরা জিন্সের প্যান্ট পরে আর ছেলেরা এখন চুল লম্বা করে এবং খোপা পরে হাতের মধ্যে বালা দিয়ে ঘুরে এদেরকে হিজরা হতে মনে চাচ্ছে। গায়ক গায়ক ভাব, লালন লালন ভাব একটু দুই কলম সাহিত্য শিখছে, তিন কলাম গিটার বাজানো এজন্য চুল লম্বা করে মহিলা স্টাইল, দাড়িও আছে তো এটা অর্ধেক মহিলা অর্ধেক পুরুষ ঠিক কি না? ঠিক। আমরা বাচ্চাদের খেলাধুলার ভিতরে পার্থক্য করে ফেলেছি তারপরে আমরা আস্তে আছে চিন্তা করছি ছেলেরা যদি ফুটবল খেলতে পারে মেয়েরা ফুটবল খেললে অসুবিধা কি? আমার মানবাধিকার আমাকে মারছে, আমরা এটা মেনে নিয়েছি এখন আমাদের সমাজে এটা গ্রহণীয় হয়ে গেছে ছেলেরা যদি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারে মেয়েরাও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারবে, আগে ছেলেরা শুধু বক্সিং খেলতো আপনার মানবাধিকার আপনাকে খোঁচা মারছে। বলে খালি ছেলেরা কুস্তা বৃদ্ধি আর বক্সিং খেলবে মেয়েরাও খেলুক, তখন মেয়েদেরও বক্সিং নামছে ঠিক না? ঠিক। আস্তে আস্তে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা, মেয়েদের সাঁতার খেলা, মেয়েদেরও সাঁতারের পোশাক পরে শট পোশাক পরে এটা আবার পেপারের মধ্যে ছাপা হয় আমাদের চোখে দেখতে দেখতে সয়ে গেছে আমাদের কাছে আর খারাপ লাগে না। আগে একটা পেপারে ল্যাংটা ছবি দেখলে খারাপ লাগতো এখন পেপারের

যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই

ভিতরে উলঙ্গ ছবি মোবাইলের ভেতরে উলঙ্গ হবি এটা আমাদের আর খারাপ লাগেনা। ক্যালেন্ডার এর ভিতরে উলঙ্গ ছবি এটা আমার আর খারাপ লাগে না। পেপারের খেলাধুলার পাতার মধ্যে মেয়েরা জাংগিয়া পরে সাঁতারের ড্রেস পরে সাতারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, মেয়েরা ফুটবল খেলার জন্য হাফ প্যান্ট পরে খেলতেছে, মেয়েরা ছেলেদের মতো বক্সিং খেলার জন্য হাফ প্যান্ট পরে বুক টাইট করে বেঁধে বক্সিং খেলতেছে। পেপারে ছাপা হচ্ছে টেলিভিশনে দেখা হচ্ছে আমাদের আর খারাপ লাগে না। তার পরে এখন বলা হচ্ছে, আমি বাইলজিক্যালি ভাবে ছেলে যদি আমার মনে চায় আমি কাল থেকে আর ছেলে থাকবোনা মেয়ে হয়ে যাব। তার নাম ছিল শরীফ, সে চিন্তা করছে কাল থেকে শরীফা হয়ে যাব। একজনের নাম হাসান সে চিন্তা করছে কাল থেকে হাসিনা হয়ে যাব। মুসলমান হাসার কথা নয়, হুজুর সাঃ এর সুন্নত থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আমাদের এই অবস্থা। আজকে বাংলাদেশের সপ্তম শ্রেনীর বইতে শরীফ থেকে শরিফা, ট্রান্সজেন্ডার নামে সমকামিতা, উলঙ্গপন্য বেহায়াপনা ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই এদেশ অলি-আওলিয়ার দেশ এ দেশ মসজিদ-মাদ্রাসার দেশ ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে ট্রান্সজেন্ডার এর নামে সমকামিতা, উলঙ্গপনার এই শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে দেওয়া হবে না, হবে ইনশাআল্লাহ। একটা কথা বুঝেন ট্রান্সজেন্ডার আর হিজড়া এক নয়, আমাদেরকে অনেকে ভুল বুঝায় আপনাদেরকেও ভুল বুঝায়, হুজুর হিজড়ারা কি মানুষ না? আমি বলি অবশ্যই হিজড়ারা মানুষ। বলে হিজড়ারাইতো ট্রান্সজেন্ডার। ভুল কথা আমার থেকে শোনেন, ট্রান্স একটা ইংরেজি শব্দ, ট্রান্স মানে পারাপার হওয়া রূপান্তর হওয়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, যেমন ট্রান্সপোর্ট, এক পোর্ট থেকে আরেক পোর্টে মাল নিয়ে যাওয়ার, ট্রান্সফার মানে বিদ্যুতের ভোল্টেজ বড় আকারে এসে মেশিনের মধ্যে ঢুকে ওখান থেকে রূপান্তরিত হয়ে হালকা হয়ে আর এক জায়গায় বিদ্যুৎ পার হয় এর নাম ট্রান্সফরমার। আর জেন্ডার মানে লিঙ্গ, লিঙ্গ দুই


প্রকার, পুরুষ লিঙ্গ আর স্ত্রী লিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গের কাজ ছিল বাচ্চা পেটে ধারণ করা, পুংলিঙ্গের কাজ ছিল শুক্রাণু মহিলার পেটে দিয়ে দেওয়া, এখন কোন কোন মানুষের চিত্তা যে আমার ছেলে নাই তো আমার মেয়েটাই ছেলে এ কথা বলে মেয়েকে বল কিনে দিয়েছে এবং অনেক ফ্যামিলিতে বলতেছে যে আমার মেয়ে হয়েছে তো কি হয়েছে মেয়ে হলে কি রান্না বান্না করে খেতে হবে, মেয়ে হলেই কি আলু ভর্তা করা শিখতে হবে, আমার মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে, রান্না বান্না করার জন্য কাজের লোক রাখবো এটা আমাদের কালচার শুরু হয়েছে। কিন্তু মনে রেখো এমন শিক্ষা ব্যবস্থা এদেশে সহ্য করা হবে না, যে শিক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা তোমরা সমকামিতাকে প্রমোট করবা, তোমরা অশ্লীলতাকে প্রমোট করবা, আমাদের শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকতে এই নাস্তিক্যবাদী এই ব্রাহ্মন্যবাদী এই হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে কোরআন সুন্নাহর আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।


আল্লাহ পাক বলেছেন, إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى আমি তোমাদেরকে পুরুষ আর নারীতে সৃষ্টি করেছি


কেন? পুরুষের বায়োলজিক্যাল শারীরিক গঠন ভিন্ন, মেজাজ ভিন্ন তার চালচলন ভিন্ন তার পোশাক-আশাক ভিন্ন এখন আমরা পুরুষ আর নারীকে সমান পাল্লায় রাখতে চাচ্ছি, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই সমান কোন অসুবিধা নাই, নারী হিসেবে নারীর মর্যাদা ঠিকই থাকবে বরং ইসলাম নারীকে বেশি মর্যাদা দিয়েছে কাজ কম দিয়েছে আর পুরুষের মর্যাদা কম দিয়েছে কাজ দিয়েছে বেশি। ও মহিলা সমিতির লিডারেরা কান শোনো। তোমাদেরকে খ্রিস্টানরা চকলেটের পণ্য বানাতে চায়, বিস্কুটের প্যাকেটে তোমাদের ছবি দিয়া তোমাদেরকে নিয়ে ব্যবসা চায় আর তোমরা তাতে খুশি। আমরা বলতেছি মহিলাদেরকে ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপনের পণ্য বানাইও না মহিলাদের ছবি বিস্কুটের প্যাকেটে দিও না এরা মায়ের জাতি এরা সম্মানের জাতি। আচ্ছা আপনি বিড়ির প্যাকেটের মধ্যে যদি হাসিনার ছবি


দেন সম্মান না অসম্মানের? স্যান্ডেলের মধ্যে যদি মুজিবের ছবি দেন সম্মান না অসম্মান? শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যদি কেহ অবমাননা করে তার জেল হবে না চুমা খাবে? মহিলারা হলো মায়ের জাতি, মহিলা ছাড়া দুনিয়াতে মানুষ আসা সম্ভব না। পৃথিবীর কোন নবী মহিলা ছাড়া দুনিয়াতে আসে নাই, পৃথিবীতে কোন সাহাবী কোন আল্লাহর অলি কোন মানুষ মহিলাদের পেট ছাড়া দুনিয়াতে আসে নাই, এই মহিলাদেরকে সম্মান দেখানোর জন্য আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন ও মহিলারা সাধারণ পুরুষ মানুষ যেভাবে রাস্তায় বের হতে পারে তোমরা সেভাবে রাস্তায় বের হয়ো না। وَلا تَبَزَجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى


তোমরা জাহেলী যুগের মেয়েদের মত উলঙ্গ হয়ে বেপর্দায় রাস্তায় বের হয়ো না। আমার মা বোনেরা। আপনার শরীর ছাড়া কোন নবীর আগমন হয় নাই, আপনার পেট ছাড়া দুনিয়াতে কোন মানুষ আসা সম্ভব না, আপনার শরীরটা হল দামি শরীর, দামি শরীরটাকে বোরকা দিয়ে কাপড় দিয়া ওড়না দিয়া ঢেকে রাখার দরকার আছে কি নাই? আছে। এখন ইউরোপের মানুষেরা বলতেছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হলে আমার শরীর আমি যেরকম ইচ্ছা পোশাক পরবো যে রকম মনে চায় খুলবো। এই ঔষধ এখন আমাদের দেশে খাওয়ানো হচ্ছে আমাদের দেশের শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা এখন এই ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করেছে, ছেলেরা এখন হাতে চুড়ি পরা শুরু করেছে, হাফ প্যান্ট পরা শুরু করেছে, লম্বা চুল রাখা শুরু করেছে আর মেয়েরা পায়জামা টাখনুর উপরে তুলছে। মেয়েরা হুন্ডা চালানো শুরু করেছে, বহু পরিবারে হাজার হাজার যুবক ছেলে মা-বাবার সামনে হাফপ্যান্ট পরে থাকে। আমি এই বগুড়া শহরে দেখেছি শত শত যুবক মোটরসাইকেল চালাইতেছে হাফ প্যান্ট পরে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পরে, দুইদিন পরে যদি জাঙ্গিয়া পরে চালায় আপনি কি বলবেন? ফুলপ্যান্ট থেকে আন্তে আস্তে হাফপ্যান্ট হইল তিনদিন পরে যদি জাঙ্গিয়া হয় চার দিন পরে যদি একেবারে নাই হয়ে যায় আপনি কি করবেন? ও মুসলমান হাসির কথা নয় ইউরোপের মধ্যে আমেরিকার মধ্যে মানুষেরা মিছিল বের করে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হইয়া। সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করে ভদ্র সমাজের মানুষ


শিক্ষিত মানুষ আপনি আমেরিকান শহরে উলঙ্গ শরীরে কেন মিছিল বের করেছেন? তারা বলে আমাদের স্বাধীনতা। মনে চায় জন্মদিনের পোশাক পরে থাকবো, মায়ের পেটের থেকে যেভাবে জনেন্মছি ঐ পোশাক পরে জন্মদিনে একটু রেলি বের করব। এজন্য আপনার আমার জীবনযাত্রাকে ব্যারিকেড দিতে হবে জীবন যাত্রার একটা সীমানা নির্ধারণ করতে হবে, যে আমি আমার জীবন যাত্রার ওই বাহিরে যেতে পারব না ঐ সীমানার নাম হলো কোরআন এবং হাদিস। যদি ফলো না করেন আপনি মানুষ থাকবেন না আপনি পশুতে পরিবর্তন হবেন এমনকি পশুর চাইতেও অধম হবেন।


لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ


এদের চক্ষু আছে চোখ দিয়ে দেখল না এদের কান আছে কান দিয়ে শুনলো না এদের অন্তর আছে অন্তর দিয়া না এরা হলো চতুষ্পদ প্রাণী বরং তার চেয়েও ভয়াবহ খারাপ। মনে করেন একজন পুরুষ নাম শরীফ নাম পাল্টে দিয়েছে শরিফা, এখন জামা কাপড়ও পাল্টে দিয়েছে প্যান্ট শার্ট খুলে থ্রি পিস পরেছে, ঠোটে লিপিস্টিক দিয়েছে, হাতে বালা দিয়েছে, কপালের মধ্যে টিপ দিয়েছে, চুলগুলো লম্বা এখন সে মহিলা দাবি করছে। এখন যদি সে বলে আমাকে ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় মহিলা কলেজে সিট দেওয়া তাহলে একজন বাস্তবে পুরুষ আর নকল মহিলা, এই পুরুষটা যখন মহিলাদের হোস্টেলে থাকবে তখন কি হবে? আপনাদের মেয়ে গুলোকে যে আপনারা ভার্সিটিতে পড়াচ্ছেন, আর সেখানে যেটা ট্রান্সজেন্ডার এর শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে এই বেটিদেরকে আর বিবাহ দেওয়া লাগবে না, বিবাহ হওয়ার আগেই নাতি পুতের মুখ দেখবেন। বিদেশে এটা আছে, এটাই এদেশে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


তাহলে ঐ ছেলের সাথে যে মেয়েটা ঘোরাঘুরি করতেছে সে তো বাস্তবে ছেলে নাম শরীফ, পাল্টে দিয়ে রাখছে শরিফা, এর মানে হল এই অরজিনাল ছেলেই আজ নকল মেয়ে সাজছে। তাহলে মেয়ে মানুষ তো আর মেয়ে মানুষকে বিয়ে করে না তাহলে কাকে বিয়ে করা লাগবে? ছেলেকে। তাহলে শরীফ যদি শরিফা নাম ধারণ করে একটা ছেলেকে বিয়ে করে তাহলে বাস্তবে কার সাথে কার বিয়ে হলো? ছেলে ছেলে বিয়ে হল, এই ছেলে ছেলে বিয়ে বাংলায় বলে সমকামিতা এই শয়তানি রাস্তা খোলার জন্য এই শয়তানি কওমে দূতের চরিত্র এ দেশে বাস্তবায়ন করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদেরকে ধোকা দিয়ে হিজড়া আর ট্রান্সজেন্ডার কে এক নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেছে। ও বোকার দল আমাদেরকে বোকা মনে করিও না। হিজরা ইসলামের সম্মানের পাত্র, হিজড়া একটা যৌন প্রতিবন্ধী। মানুষ যেমন অন্ধ হইলে দৃষ্টিশক্তি প্রতিবন্ধী হয়, কথা না বলতে পারলে বাক প্রতিবন্ধী হয়, না পুরুষ না মেয়ে মাঝা মাঝ হয় তাহলে তাকে যৌন প্রতিবন্ধী বলা হয়। আমাদের আঞ্চলিক ভাষাতে হিজড়া বলে। আর তোমরা যেটা করতেছ, প্রকৃত পুরুষকে মহিলা বানাচ্ছ, প্রকৃত মহিলাকে পুরুষ বানাইয়া ছেলে ছেলে সমকামিতা করছো, জেনে রাখ এ দেশে এই শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে কোরআন সুন্নাহর আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে, নইলে আমরা আমাদের দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জিহাদ ঘোষণা করে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে কোরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার জন্য জান দিতে রাজি আছি ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুক বলেন আমিন।



মাওলানা কাজি ফজলুল করিম রাজু