সালাতে উসবিয়াল আইয়াম
বা সপ্ত সুমার নামাজ
নামাজের ফজিলত :
রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন -
এই নামাজ আদায় কারী আল্লাহর মেহের বাণীতে ততক্ষন মরিবেনা , যতক্ষণ সে তাহার চির স্থায়ী বাস্থান জান্নাত দেখিবে। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বেই পরকাল এবং নিয়ামতের সম্পূর্ণ সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মৃত্যু বরন করিবেন।
নামাজের সময় :
মধ্যে রাত্রে উঠিয়া আদায় করিতে হইবে , প্রতিদিন আলাদা আলাদা নিম্ন বর্ণিত নিয়মে নামাজ আদায় করিতে হইবে । প্রতিদিন রাত্র অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর উঠিয়া আদায় করিতে হইবে। একটা বিষয় বলা প্রয়োজন । দিবাগত রাত হলো দিন শেষে যে রাত আসে তাকেই দিবাগত রাত বলা হয়। অনেকে confusion হন তাই বললাম। তো যাইহোক আমলের বিস্তারিত বলি।
শনিবার দিবাগত রাতের নামাজ :
মধ্যে রাত্র অতিক্ৰান্ত হওয়ার পর উঠিয়া পবিত্র হইয়া এক সালামে চার রাকাত নামাজ "সালাতে উসবিয়িল আইয়াম " এর নিয়াতে পাঠ করিতে হইবে।
প্রথম রাকাত - সূরা ফাতিহার সাথে আয়াতুল কুরসী এক বার + সূরা এখলাস সাতবার।
দ্বিতীয় রাকাতে - সূরা ফাতিহার সাথে সূরায়ে ওয়াস্সামসী একবার পাঠ করিয়া কায়দায় উলা হইতে উঠিয়া।
তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে - সূরা ফাতিহার সাথে আয়াতুল কুরসী একবার + সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করিয়া নামাজ শেষ করিয়া দোয়া পড়িয়া মুনাজাত করিব। প্রথম দিনের নামাজ শেষে।
রবিবার দিবাগত রাতের নামাজ :
শনিবার দিবাগত রাত্রে ন্যায় উঠিয়া উক্ত নিয়তের সহিত নামাজ আদায় করিবার জন্য যায় নামাজে দাঁড়াইয়া যাইবে । গিয়ে হয় এক সালামে চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করিতে হইবে ।
প্রথম রাকাতে :- সূরা ফাতিহার সাথে আমানা রসুল হইতে শুরু করিয়া শেষ পর্যন্ত একবার
ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ ٢٨٥
لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًۭا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ ٢٨٦
এবং যায় দোয়াটি :- لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ هُوَ الْعَزِيزُ الْجَلِيلُ، يَا الْعَزِيزُ الْجَلِيلُ ১০০ বার পাঠ করিয়া প্রথম রাকাত শেষ করিবে।
দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ রাকাতে একই নিয়মে আয়াত দুটি সহ দুয়াটি ১০০ বার পাঠ করে চার রাকাতে শেষ করে আল্লাহর কাছে পূর্বের সকল গুনাহ আর জন্য ক্ষমা চাইবে আর ভবষ্যতে যেন গুনাহ না হয় সেই জন্য আল্লাহর কাজে আচ্রয় চাইবে।
সোমবার দিবাগত রাতের নামাজ :
মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে পবিত্র হয়ে এক সালামে চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করিবে।
প্রতিটি রাকাতে প্রথমে সূরা ফাতিহা সাথে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতে হবে।
এইভাবে প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে চার রাকাত নামাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এবং নিচের তাসবীহ একশত বার পাঠ করিবে :-
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا
ইহার পর আল্লাহর কাজে বিনীত ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করিবে আর দোয়া করিবে
মঙ্গোলবার দিবাগত রাতের নামাজ :
এই রাত্রে এশার নামাজ মধ্যরাতে পাঠ আদায় করিবে । মধ্যরাত অতিক্রম হওয়ার পর দুই সালামের দুই রাকাত করিয়া মোট চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করিতে হইবে । প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে সূরা নাসর তিনবার পাঠ করিবে এতবার সালাম ফিরাইয়া সাতবার ফাতিহা পাঠ করবে ।
এবং দ্বিতীয় দুই রাকাত প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা ইখলাস তিনবার করিয়া পাঠ করিতে হইবে । নামাজ শেষ করিয়া নিচের দোয়াটি একশতবার পাঠ করবে।
দোয়াটি হল এই:-
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ خَالِصًا مُخْلِصًا
বাংলায় :- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু খালিসান মোখলেসান
এরপর আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া ও মোনাজাত করিয়া নিজের নেক উদ্দেশ্যের জন্য কান্না করিবে।
বুধবার দিবাগত রাতের নামাজ :
এই রাতে এশার নামাজ পড়িয়া শুইয়া পড়িবে এবং রাত মধ্য অর্থাৎ দুইটার পরে উঠিয়া পবিত্র হইয়া দুই রাকাত করিয়া 12 রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে হইবে । প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা ইখলাস তিনবার করিয়া পাঠ করিতে হইবে। এবং প্রতি দুই রাকাত অন্তর প্রতি দুই রাকাত পর পর নিজের দোয়া একবার করিয়া পাঠ করিয়া আল্লাহ তাআলার কাছে মোনাজাত করিবে।
দোয়াটি হইলো এই:-
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ خَالِصًا مُخْلِصًا وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বাংলায়:- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু খলিসান মুকলীসান ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির ।
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ خَالِصًا مُخْلِصًا
বাংলায় :- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু খালিসান মোখলেসান
এরপর আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া ও মোনাজাত করিয়া নিজের নেক উদ্দেশ্যের জন্য কান্না করিবে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের নামাজ :
এই রাত্রে মধ্যরাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর দুই রাকাত করিয়া মোট চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করিবে। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে সূরা কাফিরুন ৫ বার এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা ইখলাস ১০ বার পাঠ করবে যথার্থ নামাজ শেষ করে । এইভাবেই দুই রাকাত করিয়া মোট চার রাকাত শেষ করিবে এবং নিম্ন বর্ণিত দোয়াটি একশতবার পাঠ করবে।
দোয়াটি হলো এই:-
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
বাংলায়:- সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার । ওলা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলীয়্যীল আজিম।
এতপর মোনাজাত করিয়া আল্লাহ তায়ালার কাছে নেক উদ্দেশ্যের জন্য কান্না করবেন
শুক্রবার দিবাগত রাতের নামাজ :
শুক্রবারে জুমার নামাজ পরে আদায় করিতে হইবে । যদি জুমার নামাজে উপস্থিত না হতে পারেন তাহলে ফজর নামাজের কিছু পরে অর্থাৎ ইশরাক নামাজের পরে দুই রাকাত নফল নামাজ সালাতুল এরাবি নিয়তে আদায় করিতে হবে । যেহেতু সালাতে এরাবির নামাজ জুমার নামাজ এর পরিবর্তে পড়তে হয় ।
ইহার পর দুই দুই রাকাত করিয়া মোট আট রাকাত সালাতুল উসবিয়াল আইয়ামের নিয়তে আদায় করতে হবে। প্রতির আঘাতে সূরা ফাতেহার সাথে সূরা নাছর একবার এবং সূরা ইখলাস ২৫ বার পাঠ করিবে এইভাবে আট রাকাত নামাজ শেষ করে এবং নিচের দোয়াটি ৭০ বার পাঠ করবেন।
দোয়াটি হলো এই:- لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
বাংলায়:- লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম।
ইহার পরে আল্লাহ তায়ালার কাছে করে দুয়া করিবে হাত তুলে মোনাজাত করিবে ।