Filled Under:

ইতিকাফের বিধি-বিধান

                                                       ইতিকাফের বিধি-বিধান


নবীর প্রতি লাখো কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি, সকলে বলি (সা), আমি আপনাদের সামনে কুরআনে কারিমা থেকে একটি আয়াত এবং হাদীস শরীফ থেকে একটি হাদীস শরীফ পাঠ করেছি, আয়াতে কারিমা ও হাদীসের আলোকে ই'তিকাফ সর্ম্পকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।


ই'তিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্ন থাকা, অবস্থান করা ইত্যাদি।


আর শরিয়তের পরিভাষায়- ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, ব্যবসা-বানিজ্যসহ দুনিয়ার সকল প্রকার কার্যকলাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের লক্ষে মসজিদে বা ঘরের নিদিষ্ট স্থানে অবস্থান করাকে ই'তিকাফ বলে। রমজানের শেষ দশকে অর্থাৎ ২০ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ উদয় হওয়া পর্যন্ত ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। যদি গ্রামে বা মহল্লার কেউ ইতেকাফ না করে, তাহলে মহল্লার সকলেই গুনাহগার হবে। (বাদ্দুল মুহতার- ২: ১৪১ পৃ) ই'তিকাফের নিয়ম সংশ্লিষ্ট মাসায়িল:-

ই'তিকাফ তিন প্রকার: ১. ওয়াজিব ২. সুন্নাত ৩.মুস্তাহাব।


১. মান্নত করেন যে ই'তিকাফ করা হয় তা ওয়াজিব।


২. রমজানের শেষ দশকে যে ই'তেকাফ করা হয় তা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।


৩. এই দু'প্রকার ব্যতিত সাধারণ অন্যান্য যে ইতিকাফ করা হয় তা মুস্তাহাব।


ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ই'তিকাফের জন্য রোজা রাখা জরুরী, তবে মুস্তাহাব ই'তেকাফের জন্য ঐ দিন রোজা রাখা জরুরী নয়। যে কোনো সময় মুস্তাহাব ই'তিকাফ পালন করা যেতে পারে। এমনকি সামান্য সময়ের জন্যও হতে পারে।


(ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১ ফাতওয়ায়ে শামী- ২: ১৪১ পৃ)


মাসআলা


ই'তিকাফ অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্যও মসজিদের বাহিরে যাওয়া জায়েজ নেই। তবে প্রয়োজনের জন্য যেমন: ওয়াজিব গোসল, বাথরুম ও জুম্মার নামাজ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি আছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন সেরে যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে ফিরে আসা জরুরী।


মাসাআলা:


ই'তিকাফকারী বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লে ই'তিকাফ ছেড়ে চিকিৎসা নিতে পারবে। এত কোনো গুনাহ হবে না। তবে পরবর্তীতে শুধু ঐ একদিনের ই'তিকাফ কায্য করে নিবে।


ইতিকাফ সর্ম্পকে আয়াত ও হাদীস-


ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মেলামেশা নিষেধ:-


وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ অর্থ তোমরা মসজিদে ই'তিকাফ অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) সাথে মেলামেশা কর না।


(সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৮৭) রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশকে ই'তিকাফ


করতেন:-


عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في كل رمضان عشرة ايام فلما كان العام الذي قبض فيه اعتكاف عشرين يوما অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) প্রতি রমজানের শেষ ১০ দিন ই'তিকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি ইতিকাফ করেন সে বছর বিশ দিন ই'তিকাফ করেছিলেন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং- ১৯১৬)


রাসূল (সা.) প্রতি রমজানে ই'তিকাফ করতেন:


হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.) রমজানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করতেন। ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি এই আমল করেছেন। অতঃপর তার সহধর্মিনীগনও (রমজানের শেষ যে দশকে) ইতেকাফ করতেন। (বুখারী-মুসলিম, হাদীস নং ১৮৯৯)


মহিলারাও ঘরে ই'তিকাফ করতে পারবে:


হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.)


ইন্তেকাল পর্যন্ত শেষ দশকেই ই'তিকাফ করতেন। তার ইন্তেকালের পর তার সহধর্মিনীগনও ই'তিকাফ করতেন। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং-২৬৫১)


শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করার নির্দেশ: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কুদর অনুসন্ধান করো।


(বুখারী-মুসলিম, হাদীস নং- ১৮৯০)


শবে কদরের ফযীলত:


হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি জ্বদরের রাতে ঈমানর সাথে সওয়াবের নিয়তে ইবাদত করবে তার অতীতের (সগীরা) গুনাহ সমুহ মাফ হে


যাবে। (সহীহ বুখারী-মুসলিম হাদীস নং ৩৪) রাসূল (সা.) শেষ দশকে সারা রাত ইবাদত করতেন।


হযরতে আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন । রমজানের শেষ দশক শুরু হওয়ার সাথে সাথে (সা.) সারা রাত জেগে থাকতেন ও নিজ পরিবারের লোকদের ঘুম থেকে জাগাতেন  এবং তিনি নিজেও ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করতেন। (সহীহ মুসলিম-কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং- ২৬৫৪)


প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া নিষেধ:


হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) (সা. মসজিদে ই'তিকাফে থাকা অবস্থায় আমার দিকে তিনি মাথা ঝুকে দিতেন এবং আমি আচড়িয়ে দিতাম। এবং তিনি ই'তিকাফে থাকা অবস্থায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া গৃহে প্রবেশ করতেন না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ১৯০৩)


মাসাআলা


আলোচ্য হাদসি দ্বারা বুঝা যায় যে, ই'তিকাফ অবস্থায় প্রাকৃতিক প্রয়োজনে অর্থাৎ বাথরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েজ আছে। তবে প্রয়োজন ছেড়ে দ্রুত মসজিদে ফিরে আসা জরুরী।


(আহসানুল ফাতওয়া- ৪, ৫০১ পৃ) আমি ই'তিকাফ সর্ম্পকে কিছু আলোচনা করলাম আল্লাহ তায়ালা আমাকে সহ সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন 




হাফেজ মাও. মনসুরুল হক সাহেব দা: বা: