ذلك الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
এই আয়াত নিয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই, ওমা তৌফিকী ইল্লাবিল্লাহ। সূরায়ে বাকারার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন ذلك الكتب ঐ কিতাব, ঐ কিতাব বলতে কোনটাকে বোঝায়? ইমাম সুয়ূতী লেখেন اي هذا القران ঐ কিতাব অর্থাৎ এই কুরআন শরীফ, প্রশ্ন জাগে কুরআন শরীফ কি আল্লাহর কিতাব নাকি কালাম? কুরআন শরীফ যদি আল্লাহর কালাম হয় তাহলে এইখানে ذلك الكلام বলিয়া الكتاب কেন বলা হল। মুহতারাম হাজেরিন। এই প্রশ্নের জবাব বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে, কিতাব আর কালাম এর মধ্যে পার্থক্য কি। কিতাব বলা হয় লিখিত বস্তুকে। যেই জিনিস কাগজের মধ্যে কলম দ্বারায় লিখা হয় একে বলা হয় কিতাব, ১১ বলা হয় মুখের ভাষাকে, মুখ নিঃসৃত কথা এটাকে আরবিতে বলা হয় কালাম। লিখিত বস্তুকে বলা হয় কিতাব, এখন কুরআন শরীফ এটা কি আল্লাহর কিতাব নাকি আল্লাহর কালাম? মুফাচ্ছিরগণ বলেন কুরআন শরীফ একদিক দিয়ে আল্লাহর কিতাব, আরেক দিক দিয়ে আল্লাহর কালাম। কোরআন শরীফ ছাড়া অন্য যত আসমানী
গ্রন্থ ছিল, তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, সহিফায়ে ইব্রাহিম সহ অন্য যত আসমানী গ্রন্থ ছিল সব ছিল আল্লাহর কিতাব, ওইগুলো আল্লাহর কালাম ছিল না। কিতাব বলা হয় লিখিত বস্তুকে। লিখতে মাধ্যম লাগে, কালি লাগে, কলম লাগে, কাগজ লাগে, মাধ্যম যদি নষ্ট হয় লিখিত বস্তু নষ্ট হয়ে যায়। কুরআনের আগে যত আসমানী গ্রন্থ ছিল, সব ছিল কিতাব, তাই লিখার যে মাধ্যম কাগজ কালি নষ্ট হয়ে গেছে, যার কারণে কোরআন ছাড়া এর আগের যত আসমানী গ্রন্থ ছিল সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে, এর অস্তিত্ব এখন দুনিয়াতে নাই, কারণ মাধ্যম নষ্ট, মূল বন্ধু নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যতিক্রম কোরআন শরীফ যেটা শুধুমাত্র কিতাব নয় কালামুল্লাহ বা কথা কখনো নষ্ট হয় না, এই কথাটা বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য। বিজ্ঞানীরা বলে মানুষের মুখ দিয়ে যা কিছু বের হয় কোন কিছু নষ্ট হয় নাই, সবগুলোই বাতাসের মধ্যে সংরক্ষিত আছে। বিজ্ঞানের এই থিউরির ভিত্তিতে রেডিও আবিষ্কার হয়েছে, তাহলে নগণ্য মানুষের কথা যদি নষ্ট না হয়, আহকামুল হাকিমীন, আরহামুর রাহিমীন, সকল ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কথা যে নষ্ট হবে না এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। কুরআন এর দ্বিতীয় সংরক্ষণ। ওলামায়ে কেরাম জানেন, একটার নাম كلام النفس আরেকটার নাম كلام اللفظ কালামুন্নফস লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ এখনো আছে, তাহলে আর যেটা কালামুল লফজ, এটা আমাদের সামনে গ্রন্থ আকারে আছে। যেহেতু এর মূল সংরক্ষণ কালামুন্নাফস, আল্লাহর কথা লওহে মাহফুজে সংরক্ষণ আছে, তাই এই কুরআন কেয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত অবিচল থাকবে। এর একটা অক্ষরও কখনো পরিবর্তন হবে না। যেহেতু এটা আল্লাহর কালাম, এটা লাওহে মাহফুজ আছে, আর লাওহে একটা ফটোকপি লিখিত একটা ভার্সন আল্লাহ আমাদের সামনে দিয়েছেন, আল্লাহু আকবার। তাই আমাদের সামনে লিখিত যেটা, এটা হল কিতাবুল্লাহ, লাওহে মাহফুজে যেইটা মাহফুজ আছে, সংরক্ষণ হলো কালামুল্লাহ। ঐটা আল কুরামানের আসল কপি, এটা হইল ফটোকপি,
এইটা যদি কাগজ-কলম নষ্ট হইয়া যায় কোন সমস্যা নাই, মূল ভার্সন, লাওহে মাহফুজে আল্লাহ সংরক্ষন করে দিয়েছেন। তাই আল্লাহ বলে দিয়েছেন,
إلا لحن لالنا الذكر وإنا له لحافظون
আমি আল্লাহ এই কুরআন নাজিল করেছি এবং আমি আল্লাহ একে হেফাজত করব।
লিখিত এই মূল কালামুল্লাহর ফটোকপি যদি সারা দুনিয়ার সমস্ত বেইমানরা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, এরপরেও আল্লাহর কুরআনের একটা অক্ষর, একটা নোকতার ও কোন পরিবর্তন হবে না, কারণ মূল ভার্সন কালামুল্লাহ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ আছে। যেটাকে কালামুন নফস বলা হয়। আর এটা হলো কালামুল লফজ, এটা ফটোকপি। তাহলে কুরআন শরীফ একদিক দিয়ে আল্লাহর কালাম, যেটা লাওহে মাহফুজে আছে। আরেক দিক দিয়ে আল্লাহর কিতাব যেটা আমাদের সামনে লিখিত আছে। তাই আল্লাহ এখানে আমাদের সামনে যেটা লিখিত ঐদিকে ইঙ্গিত করতেছেন এ الكتاب لا ريب فيه ওই কিতাব। এখন প্রশ্ন জাগে যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করে কুরআন শরীফ কি তার সামনে থাকে না দূরে থাকে? কাছে থাকে। আপনারা জানেন এই শব্দটা হইলো ইছমে ইশারা বাইদ, দূরবর্তী কোনো বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করার জন্য আরবিতে এটি শব্দ ব্যবহার করা হয়, যেমন একটা কলম সামনে থাকলে এই কলম, কলমটা যদি অনেক দূরে থাকে ঐ কলম। কাছের বন্ধু ইশারা করার জন্য ইছমে ইশারা করিব। এ ইছমে ইশারা বাইদ, এটা দিয়ে দূরের বন্ধু বুঝায়, এখন কুরআন যখন আমাদের সামনে, আমরা তেলাওয়াত করি, এটা তো কাছে, এই হিসাবে যদি আল্লাহ বলতেন এই কিতাব, কাছের কিতাব, তাহলে জিনিষটা আমাদের মতে সুন্দর হইত। আমাদের অনেকের কলবের মধে একথা সংরক্ষণ আছে যে, যারা কুরআনের হাফেজ তাদের এই কলবে ৩০ পারা কুরআন সব সময় সংরক্ষণ আছে, তাহলে তো কুরআন কাছে, তাই ইমাম সুয়ূতী রহঃ ذلك الكتاب এর তাফসীর করেন
أى هذا الكافر। ইমাম সুন্নতী রহঃ তাফসীরে জালালাইনের মধ্যে الكتب এং এর তাফসীর কি في هذا الكتابর্থাৎ এই কিতার। কিন্তু মুফাচ্ছিরগণ বলেন এটি কে।এএ তাফসীর করাটা ঠিক এর কারণ আল্ল্যাহ এইখানে ইচ্ছে করলে এটি এর পরিবার্ত ১১৯ শব্দ লিখতে পারতেন, সুতরাং এইখানে একে ৩৯ দিয়ে পরিবর্তন করে তাফসীর করার মাকার নাই, ذلك الكتاب এটাই ঠিক আছে। তো এর জাগে কুরআন যদি আমাদের কাছে হয়, নিকটে না, তেলাওয়াতকারীর কাছে হয়, তাহলে আল্লাহ ১৯ এই কিতাব না বলিয়া ذلك الكتب কিতাব দূরের দিকে কেন ইশারা করলেন। মুফাচ্ছিরীণে কেরাম এর জবাবে বলেন ذلك الكتاب ঐ কিতাব, দূরের দিকে ইশারা করার কারণ হলো, অয়াম রাব্বুল আলামীন কুরআন তেলাওয়াতকারীকে কুরআনের আসল বাড়ি কোথায়, সেই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অল্লাহু আকবার। কুরআন শরীফের আসল বাড়ি কোথায় বলেন? (লাওহে মাহফুজ) যেখানেই এর করি সবাই এই কথাটাই বলে কুরআন শরীফের আসল বাড়ি নাকি লাওহে মাহফুজ। অথচ এই কথাটা পরিপূর্ণ সঠিক নয়, মনে রাখবেন লাওহে মাহফুজ কুরআন শরীফের আসল বাড়ি না। লাওহে মাহফুজ কুরআন শরীফের লজিং বাড়ি, বিশ্রামাগার, প্রশ্ন জাগে কুরআন শরীফের আসল বাড়ি কোথায়। এর জবাব শোনার আগে বলেন, কুরআন শরীফটা কার বাণী? আল্লাহর। বাণী কাকে বলে, যা মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয় এটাকে বলা হয় বাণী। মুখ দিয়ে কি উচ্চারণ হয়? অণ্তরের একটা ভাব, যখন অন্তরের ভাবটাকে আমরা মুখে উচ্চারণ করি, তাহলে যেই কোন কথা, যেই কোন ভাব, এর উৎপত্তিস্থল অন্তর, মুখ শুধু ভাষ্যকার।
ان الكلام لفي الفؤاد وانما جعل اللسان على الفواد دنيا যেকোনো কথার উৎপত্তিস্থল অন্তর। মুখ তার ভাষ্যকার। কুরআন শরীফ যেহেতু আল্লাহর কালাম সুতরাং কোরআন শরীফের উৎপত্তিস্থল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুদরতি অন্তর, আল্লাহু আকবার। রাজুল মসামিদের কুদরতি অন্তর ওটা কোরআন শরীফের
আসল বাড়ি। কুদরতি অন্তর থেকে এই কুরআনকে আল্লাম কুদরতি জবানে তেলাওয়াত করিয়া লাগতে মাহফুজ এর মধ্যে কিছুদিন তিনি আমানত রেখে দিয়েছিলেন, দেখেন এই কুরামান শরীফ আল্লাম রাস্তুল আলামীন জগতবাসীর হেদায়েতের জন্য দুনিয়াতে পাঠাবেন কিন্তু আল্লাহ সরাসরি পাঠান নাই। কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন, সেটা কি? কুদরতি মুখে তেলাওয়াত করিয়া কোরআন শরীফকে লাওহে মাহফুজে কিছুদিন বিশ্রামে রেখেছেন। আবার কুরআনের নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ যখন মেরাজের রজনীতে দুনিয়ার জমিন থেকে আরশে আজীমের সফর করে ছিলেন, কোরআনের নবীও মক্কার জমিন থেকে আরশে আজীমে সরাসরি যান নাই, বাইতুল মোকাদ্দাস এর মধ্যে একটু বিশ্রাম করেছিলেন। কুরআনও সেখান থেকে এখানে আসতে লাওয়ে মাহফুজে বিশ্রাম করেছে। কুরআনের নবী এখান থেকে আরশে যাইতে বাইতুল মুকাদ্দাসে বিশ্রাম করেছেন, দুই ঘটনায় মিল আছে। দ্বিতীয়, কুরআন যে দুনিয়াতে আসছে, একসাথে ৩০ পারা কুরআন একসাথে চলে আসছে? না আস্তে আস্তে ক্রমান্বয়ে আসছে
أنا انزلناء في ليلة القدر অর্থাৎ আল্লাহ বলেন, আমি আল্লাহ ৩০ পারা কুরআনকে এক সাথে নামীল করেছি, আবার অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
نزلنا إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون অর্থাৎ আমি আল্লাহ কুরআনকে নাযিল করেছি আছে আন্তে ক্রমান্বয়ে, তো মুহতারাম হাজেরিন এখন কুরআন শরীফ কি একসাথে আসছে না আছে আন্তে ক্রমান্বয়ে আসছে? যদি আছে আন্তে ক্রমান্বয়ে আসে
তাহলে আল্লাহ l কেন বললেন, আর যদি একসাথে চলে আসে তাহলে আল্লাহ ১১। কেন বললেন। ll বললে نزلنا সঠিক হয় না, ১। বললে সঠিক হয় না, আল্লাহ উভয়টা বলেছেন, কেন এখন কোনটা সঠিক? মোফাচ্ছিরগণ বলেন উভয়টা সঠিক, আল্লাহু আকবার।
انزلنا ও সঠিক نزلنا ও সঠিক- কিভাবে? লোহে মাহফুজ থেকে যখন আল্লাহ দুনিয়ার মানুষের হেদায়েতের জন্য কুরআন পাঠাবেন, দুনিয়ার প্রথম আসমানের বাইতুল ইজ্জত নামক একটা ঘর আছে, সেই ঘরের মধ্যে ৭০ হাজার নূরের ফেরেস্তা লাওহে মাহফুজ থেকে ৩০ পারা কুরআনকে একসাথে বহন করে দুনিয়ার বায়তুল ইজ্জাত নামক ঘরের মধ্যে নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের বায়তুল ইজ্জতের মধ্যে কুরআন এসেছে انزلنا একসাথে ৩০ পারা চলে আসছে, তাই আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি আল্লাহ ৩০ পারা কুরআন কদরের রাত্রিতে একসাথে নাফিল করেছি। অর্থাৎ লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার প্রথম আসমানে বায়তুল ইজ্জাত নামক ঘরে একসাথে ৩০ পারা কুরআন চলে এসেছে। এরপর বাইতুল ইজ্জাত থেকে জিব্রাইলের মাধ্যমে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কলব মোবারকে কুরআন শরীফ এসেছে আস্তে আন্তে ক্রমান্বয়ে, কখনো এক আয়াত, কখনো একটা সূরা, কখনো আংশিক সূরা, এইভাবে নবীজির নিকট ২৩ বছর নবুওতী জিন্দেগীতে কুরআন শরীফ এসেছে আস্তে আস্তে ক্রমান্বয়ে। অর্থাৎ দুনিয়ার প্রথম আসমানের বায়তুল ইজ্জত নামক ঘর থেকে কলবে কুরআন আসছে l হিসাবে সুতরাং কুরআন শরীফ نزلنا। এটাও সঠিক نزلنا এটাও সঠিক, লওহে মাহফুজ থেকে বাইতুল ইজ্জাত সাঃ এর কলবে এসেছে, তাহলে কুরআন দুনিয়াতে সরাসরি আসে নাই, প্রথমে লাওহে মাহফুজে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছে লওহে মাহফুজ থেকে বাইতুল
ইজ্জাত নামক ঘরে আরো কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছে, এরপরে আস্তে আস্তে নবীজির বলবে এসেছে। কোরআনের নবীও মেরাজের রাত্রে সরাসরি আরশে আজীমে যায় নাই। বাইতুল মুকাদ্দাস এ বিশ্রাম নিয়েছেন কেন? মুফাসচ্ছিরগণ বলেন পোশাক পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ যে পোশাকের দ্বারা দুনিয়াতে চলাফেরা করতেন এই পোশাকটা লা মাকানের সফরের জন্য বেমানান ছিল, কারণ সব খানে সব পোশাক চলে না। আপনারা ঘরবাড়িতে এক পোশাক পরেন, মাহফিলে আসনে মাহফিলের যোগ্য পোশাক পরেন, ঠিক মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ দুনিয়াতে যেই পোশাক পরতেন, লা মাকানের সফরের জন্য ওই পোশাক বেমানান, তাই পোশাক পরিবর্তন এর জন্য মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ মক্কার জমিন থেকে বাইতুল মোকাদ্দাসের জমিনে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছেন। আপনারা জানেন সম্মানিত নতুন দুলা নিজের পোশাক নিজে পরিবর্তন করে না, বন্ধু-বান্ধবরা পরিবর্তন করাইয়া দেয়।।
দোজাহানের বাদশা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা মাকানের সফরে যাবেন, নবীজিও নিজের পোশাকটা নিজে পরিবর্তন করেন নাই, বিশ্ব নবীর পোশাক পরিবর্তন করিয়ে দেওয়ার জন্য বায়তুল মোকাদ্দাস এর জমিনে আল্লাহ ২ লক্ষ ৪০ হাজার পয়গম্বরকে উপস্থিত করেছিলেন। ২ লক্ষ ২৪ হাজার মতান্তরে ২ লক্ষ ৪০ হাজার পয়গম্বর বিশ্ব নবীর লা মাকানের সফরের পোষাক পরিধান করিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ দুনিয়ার জমিন থেকে আসমানে যাইতে তিনটা বাধ্য আছে। একটা বাধা মধ্যাকর্ষণ শক্তি, বিজ্ঞানীরা বলে এই বাধা অতিক্রম করা কারো দ্বারা সম্ভব না, এর উপরে আরেকটা বাধা আছে যাকে বলা হয় তবকায়ে কাসীর এর মধ্যে আছে দুনিয়ানার, তাফসীরে ইবনে নে যাইতে আরেকটা বাধা আছে, যাকে বলা হয় তবকায়ে নার দেশ আশুন আর আচমা কোন সেইখানে গেলে মহর্তে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, যাওয়া সম্ভব না তবে তবকায়ে নারের উপরে আরেকটা জায়গা আছে, তাকে তবকায়ে জামহারীর (৫৬)
বলে বা বরফের দেশ। যেখানে কোন প্রাণী গেলে মুহুর্তের মধ্যে বরফ হয়ে যাবে, বাঁচতে পারবে না। এখন দুনিয়ার জমিন থেকে আরশে আজীমে যেতে, তিনটা বাধা। মধ্য আকর্ষণ শক্তি একটা বাধা, তবকায়ে নারের বাধা, তবকায়ে জামহারিরের বাধা। কিন্তু আপনারা জানেন দু জাহানের বাদশা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ কে কোন আটকাইতে পারে নাই, মুহূর্তের মধ্যে তিনি মধ্যাকর্ষণ ভেদ করে, তবকায়ে নার পাড়ি দিয়ে, তবকায়ে জামহারির পাড়ি দিয়ে লা মাকানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কেন? মুফাচ্ছিরগণ বলেন ওই পোশাকের বাহাদুরিতে। ২ লক্ষ ২৪ হাজার পয়গম্বর বাইতুল মোকাদ্দাসে বিশ্বনবীকে লা মাকান সফরের যে পোশাকটা পরিধান করিয়ে দিয়েছিলেন, সেই পোশাকের কারণে মধ্যাকর্ষণ শক্তি নবীকে বাধা দিতে পারে নাই, তবকায়ে নার ব্যার্থ হয়ে গেছে, ভবকায়ে জামহারির অক্ষম হয়ে গেছে। দোজাহানের বাদশা মুহূর্তের মধ্যে দুনিয়ার জমিন থেকে আরশে আজিমে পাড়ি দিয়েছিলেন। ঠিক কুরআন ও দুনিয়াতে আসতে সরাসরি আসেনাই, কারণ কুরআন শরীফ আল্লাহর কালাম। আল্লাহ যেমন অনন্ত অসীম, আল্লাহর কালাম অনন্ত অসীম। এখন এই কুরআন ধারণ করবে দূর্বল বান্দা, দূর্বল বান্দা অসীম কুরআন কিভাবে ধারণ করবে? আল্লাহ একটা প্রক্রিয়ায় নিজে কুদরতী জবানে তেলাওয়াত করিয়া লাওহে মাহফুজে রেখে সংরক্ষণ করিয়া এর আওয়াজ, অক্ষর সবকিছু আল্লাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। লওহে মাহফুজে কুরআন আছে, তবে আওয়াজ নাই অক্ষরও নাই কিচ্ছু নাই। এখন প্রশ্ন আওয়াজ নাই অক্ষর নাই কুরআন কেমনে থাকে? এর উদাহরণ আমাদের এখানে হাফেজে কুরআন আছে, তারা জবানে পড়লে কুরআন শোনা যায় কিন্তু তাদের ভিতরে একটা হরফও লেখা নাই বা আওয়াজ নাই।
লাওহে মাহফুজ থেকে আল্লাহ এই পাওয়ারফুল দুনিয়াতে পাঠাবেন। দূর্বল মানুষ যাতে এটাকে সংরক্ষণ করতে পারে, তাই আল্লাহ কালামুন নফস এর মধ্যে আওয়াজ এবং অক্ষরের উপর পোষাক পরিধান করে দিয়েছেন। কভার ওয়ালা তার ধরলে কারেন্ট
সর্ট করেনা, কারণ তারের কভার আছে, যার কারণে ধরলে এখন সমস্যা নাই, যদি তারে এই প্লাষ্টিকের কভার না থাকত, ধরা সম্ভব হইত না, ধরলে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাইতাম। কুরআন শরীফ খোদায়ী বিদ্যুৎ, দুর্বল মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই কুরআনের আওয়াজ ও অক্ষরের উপর পোষাক পরাইযা একে দুনিয়াতে পাঠায়েছেন, তাই দুনিয়ার মানুষ একে এখন ধারণ বাহন করতে পারে। আর এই পরিবর্তনটা আল্লাহ করাইছেন লওহে মাহফুজের মাধ্যমে । ঐ কিতাব কুরআন ইঙ্গিত দিচ্ছে, হে তেলাওয়াত কারী, হে দুনিয়ার মানুষ যদিও তুমি আমাকে দেখতেছো আমি তোমার সামনে, কিন্তু মনে রাখিও আমি এই দেশীয় কিতাব নই, আমি সেই দেশীয় কিতাব, আমার দেশ আল্লাহর কুদরতী অন্তর। সেখান থেকে আমি লওহে মাহফুজে আসছি, লওহে মাহফুজ থেকে আওয়াজ আর অক্ষরের উপর পোশাক পরাইয়া বায়তুল ইজ্জাতে আসছি, বাইতুল ইজ্জাত থেকে নবীর কলবে আসছি, নবী থেকে সাহাবায়ে কেরাম হয়ে ওস্তাদের ধারাবাহিকতায় তোমাদের সামনে আসছি, এই পুরা অবস্থা বোঝার জন্যই আল্লাহ ذلك الكتاب শব্দ ব্যবহার করেছেন। ذلك الكتاب لا ريب فيه কুরআন যেহেতু এই দেশীয় কোন কিতাব নয় সেই দেশীয় কিতাব, সুতরাং কোরআনের ব্যাখ্যা করার জন্য আল্লাহ সেই দেশ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে নবী পাঠাইছেন, সুতরাং কুরআনের তাফসীর কোন মনগড়াভাবে করা যাবে না। ডিকশনারি দেখিয়া গুগুল দেখিয়া কুরআনের তাফসীর করা যাবে না, যে দেশ থেকে কুরআন আসছে সেই দেশ থেকে নবী আসছে, এই পুরা অবস্থা বুঝবার জন্যই ذلك الكتاب لا ريب فيه ঐ কিতাব যার মধ্যে কোন সন্দেহ নাই هدى للمتقين এই কুরআন মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত। এখন প্রশ্ন জাগে কোরআন শরীফ শুধুমাত্র মুত্তাকীনদের জন্যই হেদায়াত? নাকি বিশ্ব মানবতার সবার জন্যই হেদায়েত,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ
এইখানে আল্লাহ বলেন এই কুরআন هدى للناس বিশ্ব মানবতা সবার জন্য হেদায়েত। আর সূরা বাকারার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেন هدى للمتقين কুরআন শরীফ দুনিয়ার সবার জন্য হেদায়াত নয় শুধুমাত্র মুত্তাকীনদের হেদায়াত। এখন বলেন কোনটা সঠিক? কোরআন শুধু মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত এটা সঠিক? না هدى للناس সাবা দুনিয়ার সবার জন্য হেদায়াত এটা মুফাচ্ছিরগণ বলেন উভয়টাই সঠিক, কুরআন মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত এটা যেমন সঠিক, কুরআন সবার জন্য হেদায়াত ঈমানদার, বেঈমান, আস্তিক, নাস্তিক বামপন্থী সবার জন্য হেদায়াত এই কথাটাও সঠিক, কিভাবে এটা বুঝতে হলে আগে হেদায়াতের অর্থ বুঝতে হবে। মুহতারাম হাজেরিন, মনে রাখবেন হেদায়াতের অনেক অর্থ আছে, যেগুলো বিস্তারিত বলতে গে দীর্ঘ সময় দরকার, তবে সংক্ষিপ্ত ভাবে বলি হেদায়াত শব্দের প্রধান অর্থ দুইটা, একটা নাম اراءة الطريق আরেকটার নাম ايصال إلى المطلوبয়াভূত ত্বরিক শব্দের অর্থ রাস্তা দেখানো। ইসাল ইলাল মাতলুব শব্দের অর্থ কাউকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া। উদাহরণ দিলে বুঝবেন, যেমন আমি হুজুরকে বললাম হুজুর ঢাকা তো আমি চিনিনা, হুজুর বললেন ঠনঠনিয়া যান বাসের টিকিট কাটেন, বাসে বসবেন এমনি এমনি সিরাজগঞ্জ হয়ে চলে যাবেন। এই যে হুজুর আমাকে ঢাকার রাস্তা দেখাইছে এটার اراءة الطريق শুধু রাস্তা দেখায় দিছে আমি মনে মনে চিন্তা করলাম আমি তো কিছু চিনি না এভাবে হারিয়ে যাব, হুজুরকে বললাম হযরত ঢাকা কোথায় চিনি না আপনি একটু বলেন, উনি বললেন আপনি আলেম মানুষ চিনবেন না সঙ্গে চলেন, আমিও ঢাকা যাব, আমি যেভাবে চলি আমার সাথে আসেন। উনি সঙ্গে নিয়ে ঢাকা শহরে পৌঁছিয়ে দিয়েছে এর নাম ايصال إلى المطلوب হেদায়াতের দুইটা অর্থ, একটা শুধু রাস্তা দেখানো, আরেকটা হল গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া, এখানে বলা هدى للمتقين E হেদায়াত, এখানে হেদায়াত ايصال إلى المطلوب
এর অর্থে, অর্থাৎ কুরআন শরীফ যারা মুত্তাকীন এদেরকে সঙ্গে করে গন্তব্যস্থলে জান্নাতে পৌঁছে দিবে আর যেখানে বলা হয়েছে هدى للناس কুরআন সব মানুষের জন্য হেদায়েত ওইখানে হেদায়েতের অর্থ اراءة الطريق রাস্তা দেখানো অর্থাৎ এই কোরআন শরীফ কোন বেইমান, নাস্তিক, বামপন্থীকে গন্ধব্যে পৌঁছাবে না, কুরআন তার দুশমনদেরকে জান্নাতে পৌঁছাবে না, শুধুমাত্র রাস্তা দেখাবে।
বামপন্থীদের কুরআন রাস্তা দেখাবে, এভাবে চল, বেইমানকে কুরআন রাস্তা দেখাবে এইভাবে চল, কালেমা পড়, নবী মান, যদি কুরআনের কথা শুনিয়া কেহ কালেমা বিশ্বাস করে রাসূলকে মানে আল্লাহকে মানে, এরপরে সে মুত্তাকী হবে, কুরআন বলে এবার আমি তোমাকে সঙ্গে করে জান্নাতে পৌঁছে দিব এড هেالكتاب لا ريب في কুরআন মুত্তাকীনদের জন্য হেদায়াত। অর্থাৎ কুরআন প্রত্যেকটা ইমান ওয়ালাকে, প্রত্যেকটা নামাজী ওয়ালাকে সঙ্গে করে জান্নাতে পৌছে দিবে। কিন্তু যার ভিতবে তাকওয়া নাই, যার ভিতরে ঈমান নাই ঐ রকম কোন বাম পন্থী নাস্তিককে কুরআন জান্নাতে পৌঁছাবে না। শুধু রাস্তা দেখাবে। আগে রাস্তায় আসো, এই দেশের কতিপয় বেইমান বামপন্থী নাস্তিক আছে, কুরআনের বিরোধিতাও করে আবার জান্নাতের আশাও করে। কাবার কসম, মুত্তাকী হতে চাইলে, কুরআনের সব আইন সব বিধান মানতে হবে। আল্লাহ ইরশাদ করেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ
হে আমার বান্দাগণ। রুকু কর, সেজদা কর, আমার এবাদত কর। তবে আগে ঈমান আনো يا ايها الذين منوا' যার ঈমান ঠিক আছে সে রুকু করবে, সেজদা করবে, এবাদত করবে। তাই মুহতারাম হাজেরিন, সবার আগে ঈমানকে শুদ্ধ করতে হবে। ঈমান কাকে বলে?
قال امام الاعظم ابو حنيفة رحمه الله الايمان التصديق بما جاء به النبي عليه السلام
ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলেন ঈমান বলা হয় التصديق بالقلب অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা, ২৯ ৮০০ به النبي রসূল সাঃ দুনিয়াতে যত বিধি বিধান নিয়ে আসছে, এই সব কিছুকে অন্তর দিয়া বিশ্বাস করা মেনে নেওয়া এটাই হলো ঈমান।
هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
এখন মুত্তাকীন কারা, পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ মুত্তাকীনদের কয়েকটি গুণের কথা বলছেন।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ
মুত্তাকীন হওয়ার এক নাম্বার গুন, যারা না দেখিয়া আল্লাহর কথা রাসুলের কথা কুরআনের কথা সবকিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস করে বা মেনে নেয়। বর্তমান যুগে কিছু আধুনিক শিক্ষিত ভাই আছে, যারা আমাদেরকে ধর্মান্ধ বলে গালি দেয়, বলে হুজুররা ধর্মান্ধ তারা কি বোঝে। ওদেরকে আমরা বলতে চাই আল্লাহর কসম, ধর্মান্ধ হওয়া এটা কোন গালি নয় এটাই আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়, কারণ ধর্মান্ধ হওয়া এটাই হলো আসল ঈমান। এটাই হল প্রকৃত ঈমান, যে ব্যক্তি ধর্মান্ধ হইতে পারবেনা সে ঈমানদারও হইতে পারবে না, কারণ কি এক আল্লাহকে আমরা বিশ্বাস করি কিনা? সবাই করি দেখে, না না দেখে? না দেখে। কবর জগত বিশ্বাস করি কিনা? করি, দেখে, না না দেখে? না দেখে। জান্নাত জাহান্নাম বিশ্বাস করি কিনা? করি, দেখে, না না দেখে? না দেখে।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ
না দেখিয়া বিশ্বাস করা এটাই হলো আসল ঈমান, এটাই হইল প্রকৃত ঈমান, সুতরাং যে ব্যক্তি অন্ধবিশ্বাসী হতে পারবেনা ঈমানদারও দাবি করতে পারবে না। এখন প্রশ্ন জাগে আল্লাহকে আমরা চোখে দেখি না কেন? যে চোখ দিয়ে আমরা আল্লাহ দেখতে চাই এই দোষ আছে
১। এই চোখ বেশি দূরের জিনিস দেখে না
২। এই চোখ বেশি কাছেরটাও দেখেনা, যেমন আপন
চোখ দিয়ে নিজের চেহারা দেখেনা।
৩। এই চোখ দিয়ে মধ্যখানে আমরা যা দেখি এটাও কিন্তু নিখুঁত না অধিকাংশই ভুল দেখি। কিভাবে? এই যে বিশাল বড় সূর্য আমরা দেখি কতটুকু
একটা ফুটবলের সমান, আসলে কি এই সূর্য একটা ফুটবলের সমান না দুনিয়া থেকে ১৩ লক্ষ গুণ বড়। তাহলে বোঝা গেল সূর্য ঠিক আছে দুনিয়া ঠিক আছে, আমরা যেটা মধ্যখানে দেখি ফুটবলের মত এটা ভুল, আমাদের দেখার মধ্যে গোলমাল আছে। যাইহোক এবার আসেন, হিসাবে আমার আল্লাহ অনেক অনেক দূরে, তাই এই চোখে আমরা আল্লাহকে দেখি না, আরেক দিক দিয়ে আমার আল্লাহ অনেক অনেক কাছে, কত কাছে,
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ
আল্লাহ বলেন বান্দ্য, তুমি যত তোমার নিকটে, আমি আল্লাহ এর চেয়েও বেশী তোমার নিকটে। حيل الوريد বলা হয় আমাদের দেহের মাঝ সেন্টারে একটা শাহ রগ আছে, এই বগকে বলা হয় حبل الوريد আল্লাহকে দেখা যায় না, মধ্যখানে যা দেখি এটাও ভুল, দেখার দ্বারা ঈমান শুদ্ধ হবে না, তাই স্বল্লাহ মধ্যখানে দেখা দেয় না। দেখার মধ্যে ভুল আছে কিন্তু শোনার মধ্যে কোন ভুল নাই, যদি খবর দাতা সত্যবাদী হয়। তাই ইমাম আযম আবু হানিফা বলেন ও মালিক তুমি বান্দার প্রতি কত দয়ালু, বান্দার সাথে দেখা দাও না কিন্তু লক্ষ লক্ষ নবী পাঠাইয়া খবর দিয়েছো, আমি আল্লাহ একজন আছি, দেখা দেন না, তবে দেখা দিবেন তিনি ময়দানে হাশরে, আল্লাহু আকবার। মনে রাখবেন আল্লাহকে দেখার জন্য আল্লাহর প্রিয় বান্দারা কি চেষ্টা কম করেছেন? আল্লাহর পয়গম্বর মুসা আলাইহিস সালাম একটু জেদি পয়গম্বর ছিলেন, একদিন সরাসরি আল্লাহকে বলেই ফেললেন ربى اربي انظر اليك আল্লাহ দূরের থেকে আর কত কথা বলবেন, আর দূরের থেকে কথা বলতে ভালো লাগে না, আমি এবার সরাসরি তোমাকে দেখতে চাই, সঙ্গে সঙ্গে রব্বুল আলামীন জবাব দিলেন, قال لن ترانی ও আমার পয়গম্বর মুসা
আমাকে তুমি দেখতে চাও. لن تراني কখনো সম্ভব না, আল্লাহ সরাসরি না করে দিয়েছে। এতে পয়গম্বর মুসা আঃ এর মন বেজার, তাই আল্লাহ বন্ধুকে বল্লেন পয়গম্বর মুসা ওই পাহাড়ের দিকে একটু তাকান। আমি আল্লাহ সেই পাহাড়ে একটু নূরের তাজাল্লি দিব, যদি আমার নূরের তাজাল্লি আপনি বরদাস্ত করতে পারেন, আপনি ঠিক থাকেন, আপনার সঠিক জায়গায় থাকতে পারেন فان استقر مكانه فسوف تراني তাহলে হয়তো আমাকে দেখবেন। যাই হোক আল্লাহর পয়গম্বর মুসা সেই পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেখানে আল্লাহ নূরের তাজাল্লি দিবেন। মুসা সেই দিকে তাকিয়ে অপেক্ষায় আছেন। যখন রব্বুল আলামীন সেই তুর পাহাড়ের উপর সামান্য একটু নূরের তাজাল্লি ঢেলে দিলেন,
جَعَلَهُ دَكَّا وَخَزَ مُوسَى صَعِقًا সঙ্গে সঙ্গে পাহাড় ধসে গেছে, জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আল্লাহর পয়গম্বর মুসা বেহুশ হয়ে পড়ে গেছে। فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ যখন হযরত মুসা একটু হুশে আসছে, সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেজদায় পড়ে তাওবা করেছেন, মালিক আমি তওবা করতেছি اني ثنت اليك তাহলে বোঝা গেল এই চৌখ দিয়ে আল্লাহকে দেখা সম্ভব না।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ তো মুহতারাম হাজেরীন, মুত্তাকী হওয়ার এক নম্বার গুণ, ঈমান বিল গাইব, নবীর কথা বুঝে আসুক বা না আসুক শুনে অন্ধ ভাবে মানি এবং বিশ্বাস করি এটাই হলো প্রকৃত ঈমান।
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ এরপরে ঈমানদারের আরো কিছু সিফাত/গুণ, মুত্তাকীনের আরো কিছু গুণাবলী, আল্লাহ পরবর্তী
শব্দগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি কখনো বলার তৌফিক দান করেন। وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ এখান থেকে ইনশাআল্লাহ আলোচনা হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত ঈমান নিয়ে, আমল নিয়ে, কবরে যাওয়ার তৌফিক দান করুন, আমীন।
وأخر دعوانا ان الحمد لله رب العلمين
মুফতী উমাইর বিন আল হুসাইনী কুমিল্লা