মোয়াজ্জাজ মোহতারাম হযরাতে ওলামায়ে কেরাম, অতিথি বৃন্দ, আমার সামনে উপবিষ্ট বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দ্বীনদার ইমানদার মুসলমান ভাইয়েরা। পর্দার আড়াল থেকে ওয়াজ শ্রবণকারী আমার মা ও বোনেরা। আল্লাহ তায়ালার দরবারে লাখো কোটি শোকর যে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত দয়া করে আমাদেরকে ভালোবেসে এই শহরের আশেপাশের লক্ষ লক্ষ মুসলমানদের মধ্য হতে বাছাই করে, মহতি মাহফিলে শরীক হওয়ার জন্য তাওফীক এনায়েত করলেন, এজন্য সকলে এক মর্তবা পড়ি আলহামদুলিল্লাহ। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন, আমি আপনাদের সম্মুখে কুরআনে কারীম থেকে একটি আয়াতে কারীমা তেলাওয়াত করেছি, যেই আয়াতে মধ্যে আল্লাহ তাবারকা ও তায়ালা ঘোষণা করেন বান্দা তোমার জীবদ্দশায় যদি তুমি ৫টি আমল ধরে রাখতে পারো তাহলে আমি আল্লাহ তোমার সাথে আছি, তোমার জীবনের সবগুলো গুনাহ আমি মাফ করে দিবো। এবং আমার জিম্মাদারীতে তোমাকে জান্নাতে পৌঁছে দিব। আচ্ছা আল্লাহকে যদি সাথী পান, আর আল্লাহ যদি গুনাহ খাতা মাফ করে জান্নাতে পৌছিয়ে দেন, তাহলে কারো চাওয়ার আর পাওয়ার কিছু বাকী আল্লাহ তায়ালা তাকিদ করে বলেন إلي معكم নিশ্চয় নিশ্চয় আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি। আল্লাহ যদি সাথী হয়ে যায়, গোটা বিশ্ব মিলে মুসলমানদের একটা পশমও বাকা করিতে পারিবে না। ইসরাইল না আজরাইল- সাদা চামড়া ওয়ালা ইহুদি মুসলমানদের আজীবন দুশমন। আল্লাহর লানত তাদের উপরে। আল্লাহর লানতের কারনেই তো হযরত ইসা পয়গম্বর যখন আখেরী যামানায় দুনিয়াতে নেমে আসবেন, আর ইহুদিদেরকে মারা শুরু করবেন, তখন ইহুদিরা বাঁচার জন্য গাছের আড়ালে আর পাথরের আড়ালে লুকাবে। গাছ আর পাথর বলবে, আমার আড়ালে ইহুদি কাফের আছে, তাদেরকে হত্যা কর। গাছও ছাড় দিবে না, পাথরও পানাহ দিবে না। আল্লাহর লানত আর গজব তাদের উপরে হবে।
মোয়াজ্জাজ হাজেরীন আল্লাহকে যদি সাথে পেয়ে যান তাহলে ইহুদি-নাসারা সহ গোটা বিশ্বের সমস্ত বিজাতী
মিলে মুসলমানের একটা পশমও বাকা করতে পারবে না। হযরত ইব্রাহীম পয়গম্বরের সাথে আল্লাহ ছিলেন কি ছিলেন না? ছিলেন। বাপ তার বিরুদ্ধে মা তার বিরুদ্ধে পরিবারের সকলেই তার বিরুদ্ধে গোটা এলাকা তার বিরুদ্ধে, সারা দুনিয়ার রাজা নমরুদ তার বিরুদ্ধে, হযরত ইবরাহীম একা একা জিহাদ শুরু করেছেন, ওদের খোদা গুলোরে মাইরা শুধু বড়টার ঘাড়ের সাথে কুড়াল লটকিয়া রাখছে, কে মারলো? বলে ঐ হারামজাদাকে জিজ্ঞেস কর কে মারছে, দেখেন না মুর্তিদের কত বড় বড় চোখ, কত বড় বড় জিহবা, কত বড় কান, হাত একটা না ২৫টা ৩০টা হাত কিন্তু একটা মশাও তাড়াতে পারে না। দাত
এতো বড় বড় তবুও একটা চকলেটও খাইতে পারে না। আর হযরত ইবরাহীম পয়গম্বরের সাথে আল্লাহ আছে। নমরুদ রাজা বলে যে কেউ আমাদের খোদার সাথে বেয়াদবী করছে, একে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া হবে, আগুনে জ্বালিয়ে মারা হবে।
সবাই বললো ঠিক আছে আগুনে জ্বালিয়ে মারা হবে, একটা মানুষকে আগুনে জালাইতে কত আগুন লাগবে? সামান্য একটা গর্ত খুড়ে তার মধ্যে আগুন জালাইলেই তো হয়, কিন্তু সে বাহাদুরি করে এতো বিশাল বড় আগুন জ্বালাইছে সেই আগুনের কুন্ডের কাছে যাওয়া যায় না, আধা কিলো, দূরের থেকেই তাপ লাগে। এখন হযরত ইব্রাহীম পয়গম্বরকে কিভাবে আগুনে ফেলবে তার বুদ্ধি পাচ্ছে না। এখন ইবলিস শয়তান মাথার মধ্যে পাগড়ী বেধে লাঠি ভর দিয়ে দিয়ে যায়। ওরা বলে চাচা মিয়া বাড়ী কোথায়? কয় আমি নজদের শায়খ, আপনারা একটু বিপদের মধ্যে পড়েছেন তো তাই একটু পরামর্শ দেওয়ার জন্য আসছি। বলে আমরা তো ইবরাহীমকে আগুনে ফেলবো, তো তার বুদ্ধি পাচ্ছি না। ইবলিস বলে যে একটা মিনজানিক বানান, এরকম চাপ দিলে ছিটকে গিয়ে পড়ে, এটা বানান আমি বুদ্ধি বের করে দিচ্ছি। বানাইয়া তার মধ্যে বসাইয়া চাপ দিবেন তাহলে সিটকা গিয়া পড়বে, বুদ্ধিটা কে শিখাইছে? ইবলিস, আমাদের নবীকেও মারার জন্য যখন দারুন নদওয়ার মধ্যে কমিটি বসে মিটিং করতেছিলো তখনও ইবলিস শয়তান মাথায় পাগড়ী বেধে লাঠিতে ভর দিয়ে দিয়ে সেখানে উপস্থিত হইছে। বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলে, ইবলিস বলে না কিছু করা যাবে না, সকলে মিলে হত্যা করে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই, এই বৃদ্ধি কে দিয়েছিলো? ইবলিস। হযরত ইব্রাহিম পয়গম্বর কে মিনজানিকের মধ্যে বসাইছে এখন আগুনে ফেলবে মানুষ আর জ্বীন জাতী বাদে, সারা বিশ্বের প্রাণী আল্লাহর কাছে আপসোস করে কাদে, আপনার খলীলকে আপনার দুশমন নমরুদ আগুনে জ্বালিয়ে দিলো, আপনি বাঁচাবেন না? হা বাঁচাবো। আল্লাহর ফেরেশতা এসে বলে আসসালামু আলাইকুম, হুজুর আমি বাতাসের দায়িত্বে নিয়োজিত
একজন ফেরেশতা, আপনি অনুমতি দিলে এখনি বাতাসকে ওর্ডার করবো, ৫০ হাজার কিলো বেগে বাতাস শুরু হয়ে নমরুদের আগুন উড়িয়ে নিয়ে কোথায় ফালাইয়া দিবে আগুন আর খুজে পাওয়া যাবে না। আল্লাহ মনে চাইলে আমাকে বাঁচাবে না চাইলে জলেই যাবো, তোমার দরকার নাই ভাগো। ফেরেশতা চলে গেছে এবার আরেক ফেরেশতা আসছে এসে বলে হুজুর আসসালামু আলাইকুম আমি একজন ফেরেশতা মেঘের দায়িত্বে আছি, আপনি অনুমতি দিলে এখনি মেঘকে অর্ডার করব, এরকম বড় বড় ফোটা বৃষ্টি হইলে নমরুদের আগুন পানি হয়ে যাবে। ইবরাহিম আ. বলেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহ আমার সাথে আছেন। আল্লাহ চাইলে আমাকে বাঁচাতে চাইলে আমাকে জ্বালিয়ে দিবে, তুমি চলে যাও। এবার আসছে জিব্রাইল। ৬শত পাখা আছে তার। তিনি বলেন, একটা পাথা দিয়ে বাড়ি মারবো আর নমরুদের আগুন একেবারে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়বে। ইবরাহিম আ. বলেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহর মনে চাইলে বাঁচাবে, মনে চাইলে আমাকে জ্বালাবেন। নমরুদ হযরত ইব্রাহিম পয়গম্বরকে আগুনে ফেলেছিল, আগুন জালাইতে পারছে? না। আল্লাহ বলেন, یا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ
আমার ইব্রাহিমের উপরে আরাম দায়ক ঠান্ডা হয়ে যাও। আগুনে ফালানোর পরে, আগুনের মধ্যে উনি আরামে বসে আছেন, আগুন জ্বালায় না, নমরুদ বলে আগুন। তোমার কি জ্বালানোর ক্ষমতা রহিত হয়ে গেছে? আগুন বলে না, না তুমি আমার মধ্যে এসে দেখ আমি কি করি। আমাকে অর্ডার করেছে, ইবরাহীমের উপর আরাম দায়ক ঠান্ডা হয়ে যাও। আল্লাহ সাথে থাকার কারনে হযরত ইব্রাহীম পয়গম্বর বেঁচেছে না বাঁচে নাই? গোটা দনিয়া সারা বিশ্বের রাজা নমরুদ একটা পশমও জ্বালাতে পারেনি। যদি সাথে পান, তাহলে গোটা বিশ্ব মিলে
আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না যেমন হযরত ইবরাহীম পয়গম্বরকে পারেনি।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) কে ঘেরাও করেছে হুজুরকে হত্যা করে দিবে। নবী করীম (সা.) সূরা ইয়াসিনের আয়াত পাঠ করে এক মুটি বালুতে ফু দিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে ওখান থেকে বের হয়ে চলে আসছেন, একটা কাফেরও হুজুরের চেহারা দেখতে পারেনি। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন- আল্লাহ যদি সাথে থাকেন তাহলে গোটা বিশ্ব মিলে তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা কুরআনে এই আয়াতের মধ্যে বলেন, وقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ
হে আমার বান্দারা শোনো। ৫টা আমল যদি তোমারা সকলেই ধরে রাখতে পার তাহলে (১) নাম্বার আল্লাহকে তোমরা সাথে পাইবা (২) নাম্বার, আল্লাহ আমাদের জীবনের সবগুনাহ খাতা মাফ করে আমাদেরকে নিজের যিম্মাদারীতে জান্নাত আর বেহেস্তে পৌঁছিয়ে দিবেন। দোস্তরা আমার বন্ধুনা আমার যেই ৫টি আমল করলে সমস্ত মুসলমান মহিলা/পুরুষ, ছোট/বড় সকলে মিলে যদি এটি আমল ধরে রাখতে পারি, তাহলে আল্লাহকে আমারা সাথে পাব, সারা দুনিয়ার বিজ্ঞাতী মিলে আমার একটা পশমের ক্ষতি করতে পারবে না।
ও আমার মুসলমান ভায়েরা সেই ৫টা আমলের মধ্যে হতে ১ নাম্বার আমলের কথা আল্লাহ বলে এক নাম্বার:- মহিলা/পরুষ, ছোট/বড় সকলে মিলে যদি পাঞ্জেগানা নামাজ জামাতে আদায় কর। নামাজকে তোমরা কাজা না করে সকলে মিলে ঠিক মত পাঞ্জেগানা আদায় করতে পার, এই নামাজটা যদি কায়েম করতে পার তাহলে আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি। জীবনের সব গুনাহ খাতা মাফ করিয়া দিব জান্নাতে দাখিল করিব। এক নাম্বার আমল ছোট বড় মহিলা পুরুষ সকলে মিলে নামাজকে আকড়িয়ে ধরতে হবে। এখন বলেন আমাদের সমাজে নামাজ পড়নে ওয়ালা বেশী, না ছাড়নে ওয়ালা বেশী? পড়নে ওলা কম ছাড়নে গুলা বেশী? শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ এর উর্ধ্বে নামাজ পড়নে ওয়ালা নাই, আবার যারা নামাজ পড়ি তারা আবার অনেকেই জামায়াতে গিয়ে পড়িনা, আবার অনেকেই মাসআলা মাসায়েল ঠিক মত জানিনা, নবীয়ে আকরাম (সা.) এর যুগে একজন সাহাবীও মহিলা হোক আর পুরুষ হোক, বেনামাজী ছিলেন না। তাদের ধনবল ছিলো না, জনবল ছিলো না ৩১৩জন এক হাজার কাফের যোদ্ধাদের মধ্যে ৭০ জনকে হত্যা করেছে আর ৭০ জনকে গ্রেফতার করে মদিনায় নিয়ে গেছে। কেন? তারা আল্লাহকে সাথে পেয়েছেন। তাহলে ১ নাম্বার আমল হল ৫ ওয়াক্ত নামাজ এই আমলের মধ্যে কোন ত্রুটি, অলসতা, গাফলতি করা যাবে না। আজ আমাদের নামাজের ব্যপারে ত্রুটি, নামাজ জানিনা, নামাজের ট্রেনিং নাই, মাসয়ালা-মাসায়েল সর্ম্পকে খবর নাই, কি বলেন কথা ঠিক? ঠিক। নামাজের মধ্যে ১৩টি ফরজ আছে, ১৫টি ওয়াজিব আছে, ৫১টি সুন্নাত আছে। অযুর মধ্যে ৪টি ফরজ আছে, ১৮টি সুন্নাত আছে, গোসলের মধ্যে ৩টি ফরজ আছে।
এক চাচা মিয়াকে জিজ্ঞেস করি চাচা গোসলের ফরজ কয়টি? বলে যে গোসলের আবার ফরজ আছে? মাথার মধ্যে পানি ঢেলে দিব গোসল শেষ, আবার ফরজ কিসের? গোসলে ৩টি ফরজ:- (১) নাম্বার মুখ ভরিয়া কুলি করা, মুখের মধ্যে পানি নিয়ে ঘুরাইয়ে গলা ভিজাইয়া তারপরে গড় গড় করে ফালাইয়া দিতে হবে, মুখের ভিতরে শরিষার দানা পরিমান যদি শুকনা থাকে তাহলে গোসল হবে না। এখন এই মাসয়ালা আমি জানিনা, শীতকালে গোসল ফরজ হইছে,
পুকুরে গেছে গোসল করার জন্য পুকুরের পানি হায়রে ঠান্ডা মুখে দেওয়াই জায় না। খালি ঠোটের মধ্যে পানি দিয়ে চলে গেছে, তাহলে তার গোসল হইছে? কি বলেন বগুড়াতে এমন মানুষ আছে না নাই? পানি যত ঠান্ডাই হোক মুখ ভরে পানি নিয়ে গড় গড় করে না ফালাইলে আপনার গোসলের ফরজিয়াত আদায় হবে না, আপনি সারা জীবন নাপাক, কোনো আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। বলেন এই একটা মাসয়ালা না জানার কারনে আপনার সারা জীবন বরবাদ। ২ নাম্বার: নাকে পানি দেওয়া, নাকের ভিতরে যে হাড্ডি আছে, হাড্ডির নিচে নরম জায়গা আছে, এর মধ্যে আঙ্গুল দিয়া ঘুইটা ঘুইটা শক্ত ময়লা বের করে, এর পরে পানি উপরে টেনে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে। এখন শীতকালে গোসল ফরজ হইছে, পানি নাকের মধ্যে ঢুকাইতে মনে চায় না, নাকের ডগার মধ্যে পানি দিয়ে গোসল করে চলে গেছে, তার গোসল হইছে? পানি যত ঠান্ডাই হোক না কেন নাকের মধ্যে পানি দিয়ে ঘুইটা ঘুইটা নাকের নবম অংশের ভিতরে পানি পৌছাইতে হইবে, এক শরীষার দানা পরিমান শুকনা থাকলে হবে না, পানি উপরে টেনে উঠিয়ে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে, এই একটা মাসয়ালা না জানার কারনে তার গোসল হবেনা। ৩ নাম্বার:-গোটা শরীর ধৌত করতে হবে। এরপরে নামাজের মধ্যে ১৩টি ফরজ আছে, ৩টা ফরজ যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আপনার নামাজ শেষ। নামাজের মধ্যে নিয়ত করা ফরজ, নিয়ত কাকে বলে? এরাদাতুল কলব, অন্তরের ইচ্ছা নিয়ত, মুখ দিয়ে বলার নাম নিয়ত না, এখন
نويت ان اصلي الله تعالى ركعات صلات كعبة الشريفة
الله اكبر
এই নিয়ত আমরা কুদুরিতে পাই নাই, শরহে বেকাতে পাই নাই, হেদায়ায় পাই নাই, কেনো ফেকহার কিতাবে পাই নাই, কে যে এই নিয়ত বানাইছে আল্লাহই জানে। এখন নামাজে দাড়াইলে মন এদিক সেদিক চলে যায়, মনে রাখবেন আপনি যোহরের নামাজ জামাতের সাথে পড়বেন তাহলে ইমামের
পিছনে দাঁড়িয়ে ৫টা কথা অন্তরে জাগ্রত করতে হবে, (১) আমি নামাজ পড়িতেছি, (২) ফরজ নামাজ গড়িতেছি। (৩) যোহারের ফরজ পড়িতেছি (৪) এই ইমাম সাহেবের পিছনে একতেদা করে পড়িতেছি, (৫) আল্লাহ আপনার রেজামন্দিব (সন্তুষ্টির) জন্য পড়িতেছি, আপনার কোটি কোটি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য সওয়াবের আশায় পড়িতেছি। এই ৫টা কথা অন্তরের মধ্যে খেয়াল করা অবস্থায়, দিলের ভিতরে জাগ্রত করা অবস্থায় তাকবীরে তাহরিমা বলা। আমি দৌড়াইয়া এসে জায়নামাজে দাড়াইছি নাওয়াইতুয়ান ঠিকই বলতেছি কিন্তু আমার মন ঢাকায়, আমার মন দিল্লিতে, আমার মন চিটাগাং। মনের ভিতরে নামাজ যে পড়তে দাঁড়াইছি এইটাও খেয়াল নেই, এরকম হয় কি হয় না? হয়। তাহলে আপনার নামাজ হবে না নিয়ত শেষ। আপনাকে যে কোন মূল্যে এক রাকায়াত চলে যাক, দুই রাকায়াত চলে যাক এতে কিছু আসে যায় না, আপনি দাঁড়িয়েই ৫টি কথা আগে অন্তবে রাখেন, আমি নামাজ পড়িতেছি, ফরজ নামাজ পড়িতেছি, যোহরের ফরজ পড়িতেছি, এই ইমামের একতেদা করিতেছি, আল্লাহ আপনার সন্তুষ্টির জন্য পড়িতেছি, এই ৫টা কথা খেয়াল করার পরে তাকবীরে তাহরিমা দিতে হবে। এই নিয়তটা মনে মনে করেন, এই একটা মাসয়ালা না জানার কারনে নিয়তের ফরজ শেষ তারপরে নামাজটা শেষ।
(২) নাম্বার তাকবীরে তাহরিমা বলার সময় হাত উঠানো সুন্নাত, হাত বাধা এটাও সুন্নাত, কিন্তু আল্লাহ আকবার বলা এইটা ফরজ। তাকবীরে তাহরিমা বলা মানে আল্লাহু আকবার বলা। ইমাম সাহেব মাইকে যাতো জোরেই আল্লাহু আকবার পড়ুক, প্রত্যেকটা মুক্তাদিকে আল্লাহ আকবার মুখ নড়াইয়া নিজের কানে শুনা যাওয়ার মতো উচ্চারন করে বলতে হবে। তখন এই মাসয়ালা না জানার কারণে, ইমাম সাহেব তো জোরে বলে আল্লাহু আকবার, কিন্তু পিছনের থেকে মুক্তাদী হাত তোলে আর বাধে, আল্লাহু আকবার বলেই না। কিংবা মনে মনে বলে, এরকম হয় কি হয় না? হয়। যে উচ্চারণ করে মুখ নড়াইয়ে আল্লাহু
আকবার বলেনা তার তাকবীরে তাহরিমা হয় নাই, তার নামাজ বরবাদ। এই ভাবে ১৩টা ফরজের কথা বললে দেখবেন যে অনেক মানুষের নামাজ হয় নাই।। দোস্তর। আমার বন্ধুরা আমার, আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলে, ৫টা আমলের মধ্যে থেকে ১ নাম্বার। আমল, তোমাদের সকলে মিলে নামাজ কায়েম করতে হবে, নামাজের মাসআলা জানতে হবে, এগুলো সব জেনে যত ঝড় হোক, তুফান হোক, নিজের ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলকে সাথে নিয়ে মসজিদের মধ্যে গিয়ে যদি তোমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে ঠিক মতো আদায় করতে পারো, সুন্নাত তরীকায় এই এক নাম্বার আমলটা করতে পারলে আমি আল্লাহ তোমাদের সাথী হয়ে যাবো। গোটা পৃথিবীর মানুষ তোমাদের। বিরোধীতা করে তোমাদের একটা পশম পর্যন্ত বাকা করতে পারবে না। কিন্তু মুসলমানের অবস্থা এমন যে, বিজাতীর লাথি খাবে, গুলি খাবে, লাঞ্চিত হবে, অপমানিত হবে কিন্তু নামাজ পড়তে রাজী নাই। চিন্তা করে দেখেন আপনাদের এলাকায় কত পার্সেন্ট লোক নামাজ পড়ে। মুসলমানের ১ নাম্বার আমল নামাজ, এই যদি ঠিক মত আমল করে, তাহলে আল্লাহকে সাথে পাবো। ৩১৩ জন মুসলমান যেমন ১০০০ জনের বিরুদ্ধে, এবং ৩ হাজার মুসলমান ৩ লক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়লাভ করেছে। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন, আজ নামাজের মধ্যে বড় গাফলত, পড়লেও হক আদায় করে পড়ি না, আর অধিকাংশরা নামাজই পড়ি না, আর যারা পড়ি হক আদায় করতে পড়ি না। নামাজের মধ্যে যেই পরিমান তাড়াহুড়া,ঐ পরিমান তাড়াহুড়া আর কোথাও নেই, ইমাম সাহের দুই মিনিট বেশি হয়ে গেল। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন।
انتظار الصلاة في الصلاة
আপনি মসজিদে বসে যদি ৫ মিনিট দেরিতে নামাজ হয় তাহলে এই ৫ মিনিট যে বসে থাকলেন, এই ৫মিনিট নামাজ পড়লে যেই পরিমান নেকী, নামাজের জন্য অপেক্ষা করলে ঐ পরিমান নেকী। ডিসি অফিসের সামনে গিয়া মশা কামড় দেয় পেশাবের দূর্গন্ধ তাও ২ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকি কোন অসুবিধা হয় না, আর মসজিদের মধ্যে মেশক আমরের সুগন্ধ, উপরে ফ্যান জলে, এসি চলে এতো সুন্দর জায়গায় ৫মিনিট দেরিতে নামাজ হইলে অসুবিধা আছে কি? লাভ হবে নাকি ক্ষতি হবে? লাভ হবে। তার পরেও ইমাম সাহেবের চাকুরী যায়, ৫ মিনিট দেরিতে কেন নামাজ হইলো, ইমাম সাহেব কেন দেরি করে আসলেন সেই জন্য ইমাম সাহেবের চাকরী চলে যায়। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন- নামাজের জন্য অপেক্ষা করলে নামাজ পড়ার সওয়াব এর পরেও ইমাম সাহেবের চাকরী চলে যায়। নামাজের ব্যপারে আমাদের গুরুত্ব নেই, নামাজের মধ্যে তাড়াহুড়া, ঐ দোকানের চরাটের মধ্যে গিয়ে বসে বসে গল্প, কোন কাজ নাই কিন্তু মসজিদে মনই টেকেনা, আমার মুসলমান ভায়েরা, এই জন্য আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতায়ালা বলেন-
إِنِّي مَعَكُمْ
ও বান্দা ৫টি আমল যদি সকলে মিলে ধরে রাখতে পারো, ১ নাম্বার লাভ হলো আমি আল্লাহকে তোমার সাথে পাবা, এই ৫টি আমলের মধো হতে ১ নাম্বার আমন হলো-
لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلاة
ঠিক মতো নামাজকে কায়েম করতে হবে। নামাজ কায়েম করার অর্থ হলো আমাদের মাসআলা মাসায়েল জানাতে হাবে, খালি একা পড়লে হবে না নিজের ছেলে সন্তানদের সাথে নিয়ে, এলাকার যারা নামাজ পড়ে না তাদেরকে নামাজের দাওয়াত দিয়া সাথে নিয়া নামাজ যদি কায়েম করতে পার, তাহলে আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি, তোমার জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে তোমাকে নিয়ে জান্নাতে পৌছিয়ে দিব। ও আমার মুসলমান ভায়েরা আল্লাহর পয়গম্বর নবী মুহাম্মাদ (সা.) হাদীস শরীফে এরশাদ করেন।
الصلاة معراج المؤمنين
নামাজ হলো মুমিনের মেরাজ। নামাজের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে মুমিনের সাক্ষাত হয় আল্লাহকে দেখতে
পায়, আল্লাহর সাথে কথা বলে আরেক হাদীসের মধ্যে আল্লাহর পয়গম্বর বলেন।
الصلوات مفتاح الجنة
নামাজ হলো জান্নাতের চাবি। আপনার কমরের মধ্যে যদি ফরজ নামাজের হাজার হাজার চাবি থাকে ওয়াজিব নামাজের যদি হাজার হাজার চাবি থাকে, সুন্নাত নামাজের যদি চাবি থাকে, আওয়াবিন, এশরাক, তাহাজ্জাত এই চাবী গুলো থাকে। কমরের মধ্যে বেধে যদি জান্নাতের গেটে যান তাহলে জান্নাতের দরজা খুলবে কি খুলবে না। ও আমার মুসলমান ভাইয়ের। যারা নামাজ কায়েম করবে আল্লাহ বলেন আমি তাদের সাথে আছি, এই নামাজের কারণে আমি তোমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে তোদেরকে নিরাপদে জান্নাতে পৌছিয়ে দিব। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন, আজ নামাজের গুরুত্ব নাই, আজ সব কাজ করার পর নামাজ। আগে নামাজ তার পরে অন্য কাজ, কিন্তু আমরা কি করি সব কাজ করার পর সময় পাইলে নামাজ পড়ি, আমাদের কাছে নামাজের গুরুত্ব নাই। আমরা আজ নামাজের সাথে যেই ব্যবহার করতেছি তাতে আল্লাহ আমাদেরকে যে কি করবে আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ দয়া করে ক্ষমা না করলে আমাদের কোন উপায় নাই, শুকর পর্যন্ত বলে মাওলা আমাকে শুকর বানাইছেন, নাপাক
দিয়ে বানাইছেন নাপাক খাই। আল্লাহ আমাকে নাজিসুল আইন বানাইছে, নাপাক দিয়ে বানাইছে, নাপাক খাই, কিন্তু বেনামাজী মুসলমান যে বানায় নাই এই জন্য আল্লাহর লক্ষ কোটি
শুকরিয়া। আগে বলে শয়তানের সাথে দেখা হতো, এক লোকের শয়তানের সাথে দেখা হইছে, দেখা হলে শয়তানকে বলে শয়তান আচ্ছা বলো তো দেখি তোমার মতো শয়তান হতে আমার মনে চায়, কি কাজ করলে তোমার মতো শয়তান হতে পারবো, সে বলে আমার মতো শয়তান হয়ে লাভ কি? আমাকে মানুষ গালী দেয়, আমার উপর অভিশাপ করে, আমি আল্লাহর মারদুদ, তো আমার মতো শয়তান কেন হবে? লোকটা বলে একটু মনে চায় আমি তোমার মতো শয়তান হবো। শয়তান বলে, ২টা কাজ করলে
আমার চাইতে বড় শয়তান হবা, ১ নাম্বার ফরজ নামাজের ব্যাপারে অলসতা করবে, ২ নাম্বার মিথ্যা কসম খাইবা, বেশি বেশি মিথ্যা কথা বলবা। দোকানদার বলে নিয়ে যান লুঙ্গী, লুঙ্গির রং তো দূরের কথা রঙ্গের কশও উঠবে না, খোদার কসম নিয়ে গিয়ে বালতিতে ভিজাইছেন খালি রং আর রং, তাহলে সত্য কসম খাইলো মিথ্য কসম? মিথ্যা কসম। সেই ব্যক্তি বলে যাই হোক আগে তো নামাজে যাইতাম আজানের পর, এখন থেকে আজানের দশ মিনিট আগেই নামাজে যাবো, আর আগে মাঝে মধ্যে মিথ্যা কসম খাইতাম, আর এখন থেকে জীবনে কোন দিন মিথ্যা কসম খাইবোনা। শয়তান বলে যাক তোমাকে নসিহত করে আমার বড় লচ হইছে, আমি আর জীবনে কোন দিন কোন মুসলমানকে নসিহত করবো না। তাহলে নামাজ এমন একটা জিনিস যার ভিতরে অলসতা করলে শয়তান বলে তুমি শয়তান হয়ে যাবা, তাই নামাজে অলসতা করলে সে মুসলমান হতে পারবে না। মুসলমানের সব চাইতে বড় আলামত হলো নামাজ, যেই মুসলমান নামাজ পড়ে না তাকে মুসলমান বলা যায় না-
من ترك الصلاة متعمدا فقد كفر
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দিলো, সে যেন কুফরী করলো। সে আর মুসলমান থাকলো না। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন তাই আল্লাহকে সাথে পাওয়ার জন্য ৫টা আমলের ১ নাম্বার আমল হলো নামাজ। ও আমার মুসলমান ভাইয়েরা আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলেন, বান্দা আমাকে যদি তুমি সাথে পেতে চাও জীবনের গুনাহ খাতা যদি মাফ করতে চাও, আমার জিম্মাদারীতে যদি জান্নাতে যেতে চাও ৫টা আমলের মধ্য হইতে নামাজের গুরুত্ব দাও, নামাজ ঠিক মতো কায়েম করো, এটা ১ নাম্বার আমল। ২ নাম্বার আমলের কথা আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা বলেন-
وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ
তোমাদের মধ্যে যাদের উপরে যাকাত ফরজ হয়েছে, ছায়া টাকা-পয়সা ওয়ালা, ধনী, মালদার তারা যেন
ঠিকমতো পাই পাই হিসাব করে মালের যাকাত আদায় করে। তাহলে আমি আল্লাহ তাদের সাথে আছি, তার মালের সাথে আছি, তাকে হেফাজত করবো, তার মালের হেফাজত করবো এবং আমি আল্লাহ নিজের জিম্মাদারীতে তাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করিয়া জান্নাত আর বেহেস্ত পর্যন্ত পৌছিয়ে দিব। আমাদের সমাজের মানুষ যাকাত বুঝেইনা, যাকাত দেওয়াকে জরিমানা মনে করে, যাকাত জরিমানা না বরকত? বরকত। আপনার ১০০ টাকার উপরে ১ বছর অতিবাহিত হলে আড়াই টাকা যাকাত, হাজারে ২৫ টাকা লাখে আড়াই হাজার টাকা, কোটিতে আড়াই লাখ। আপনার খাওয়া-দাওয়া, বাড়ী-গাড়ী, ছেলে-মেয়ে সব খরচ করার পরে ঋন পরিশোধ কারার পরে, আপনার তহবীলে ১ লক্ষ টাকা জমা আছে, এই টাকার মালিক আপনি না, আপনার প্রয়োজন তো আল্লাহ মিটাইয়া দিছে, তারপরে যে টাকাটা জমা আছে এই টাকাটা আপনার নয় আল্লাহর টাকা। আল্লাহ যদি বলেন তোমার তো প্রয়োজন আমি মিটিয়ে দিয়েছি। তোমার বাড়ী-গাড়ী যা লাগে সব তোমাকে আমি দিয়েছি। এই ১ লক্ষ টাকা পুরাটা মাদরাসায় দান করে দাও। এই কথা যদি আল্লাহ বলতেন, আল্লাহর বলাটা জুলুম হইতো না? কিন্তু আল্লাহ তা বলেননি, অর্ধেক দাও তা বলে নাই, ৪ ভাগের এক ভাগ দাও তা বলেন নাই, বলেছেন যে ৪০ ভাগের ১ ভাগ, শতকরা আড়াই টাকা, হাজারে ২৫ টাকা, লাখে আড়াই হাজার, ৪০ ভাগের ১ ভাগ, তুমি মাদরাসার গরীব দুঃখিকে দান কর, যাকাত দাও তাহলে পুরা টাকা তোমার জন্য হালাল। আর যদি তুমি শতকরা আড়াই টাকা না দাও, ১ হাজারে ২৫ টাকা না দাও, তাহলে এই গোটা টাকা তোমার জন্য হারাম আর নাজায়েজ হয়ে গেলো। কিন্তু এতো সুযোগের পরেও কোটি কোটি টাকা আমার ব্যাংকে, আমার কোন প্রয়োজন নাই, কিন্তু শতকরা আডাই টাকা দেওয়াটাকে জরিমানা মনে করি, যাদের অন্তর ছোট, ১০০ কোটি টাকায় আড়াই কোটি, ৪০ কোটি তে ১ কোটি, ৪০ লাখে এক লাখ, রমজান মাসে ৪০ কোটি টাকা ব্যাংকে আছে, ১ কোটি চকচকে টাকা
তুলে নিয়ে এসে গরীবদেরকে দেওয়া ছোট মোটো আত্মার কাম না, বড় আত্মা লাগবে। টাকা আছে ঠিক, ৪০ কোটি টাকা আমার ব্যাংকে আছে, কিন্তু এই টাকা আমার প্রয়োজন নাই, এটা বাড়তি টাকা, এর মধ্যে হইতে ১ বছর পরে রমজান মাসে ১ কোটি টাকা উঠাইয়া নিয়ে এসে আমি যে গরীবকে ভাগ করে দিবো এটা ছোট অন্তরের কাম না, ছোট অন্তরে পারবে না বড় অন্তর লাগবে। মোয়াজ্জাজ হাজেবীন- তাই আমাদের সমাজে যাকাত বুঝেইনা, যারা বুঝি তারাও ঠিক মত হিসাব করে যাকাত দেই না, ২৫ লক্ষ টাকা যাকাত আসে অথচ ৩ লক্ষ টাকার শাড়ী আর লুঙ্গী কিনে রমজান মাসের ২৭ তারিখে লাইন দেই, গায়ের লাথিতে ২/৪ জন মারাও যায়, এই হালা যাকাত দেওয়া। পাই পাই হিসাব করে যাকাত আমাকে দিতে হবে। তখন গিয়ে আল্লাহকে সাথে পাওয়া যাবে, মালের গুদামের মধ্যে যতো পাহারাদার রাখেন, আল্লাহ যদি সাথে না থাকে তাহলে মাল হেফাজত করা যায় না। দোস্তরা আমার বন্ধুরা আমার, আল্লাহ তাবারকা ওয়াতায়ালা এজন্য বলেন,
وَآتَيْتُمُ الزكاة
তোমারা ঠিকমত যাকাত আদায় করো, হিসেব করে আদায় যাকাত যদি ঠিকমত আদায় করতে পারো, তাহলে আমি আল্লাহকে তোমারা সাথে পাবা, তোমাদের মাল কোনো দিন হারাবে না, হাইজ্যাক হবে না, মাল চুরি হবে না, আমি আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবো, তোমার মালকে হেফাজত করবো, আমি আল্লাহকে তুমি সাথে পাবা, কাল কেয়ামতের দিন কোটি কোটি মানুষের মধ্য হতে আমি আল্লাহ তোমাদের গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দিয়ে আমি নিজের জিম্মাদারিতে তোমাদেরকে ঐ জান্নাত আর বেহেস্ত পর্যন্ত পৌছিয়ে দিব। কিন্তু আমাদের সমাজে যারা মালদার তারা সিঙ্গাপুর আর লন্ডন ঘুরে ঘুরে টাকা নষ্ট করে, মালের যাকাত দেয় না জীবনে একবার হজ্বও করতে পারে না, এরকম আছে না নাই? আছে। আমি তো বলি, যে মক্কা আর মদিনা দেখেছে সে গোটা বিশ্ব দেখেছে, আর যে কানাডা দেখেছে লন্ডন দেখেছে, আমেরিকা দেখেছে অতচ মক্কা দেখে নাই আমি বলি
যে সে কিচ্ছু দেখে নাই। মক্কা মদিনা যে দেখেছে সে গোটা বিশ্ব দেখেছে, আজ মালদারেরা গরীব দুঃখীকে না দিয়ে, মালের যাকাত না দিয়া ঠিক মত হক আদ্যা না করে মালকে খালি অপচয় করছে। এখন তো চাইনিজ কোন হোটেলে জায়গা নাই, সেদিন একজন বলে হুজুর একটা চাইনিজ হোটেল করব্যে, কেন? এতো হোটেল আছে দেশে আবার তুমি হোটেল দিবা। বলে গিয়ে দেখেন কোন হোটেলে জায়গা নাই, মানে এখন একটাই মাত্র ছেলে একটাই মাত্র মেয়ে, স্বামীও চাকুরী করে স্ত্রীও চাকুরী করে এই চাকুরীর পয়সা দিয়ে ভাত পাকায় না সব গিয়ে চাইনিচ হোটেলে গিয়া খায়। ঐ যে চাকুরী শেষ হওয়ার পর পেনশন পায়, টাকা ব্যাংকের মধ্যে রাখছে, আর সুদ তুলে তুলে খায়, আর আসল টাকাটা রেখে মারা যায়, ঐ গুলো ছেলে পেলেরা মদ খেয়ে শেষ করে দেয়। মোয়াজ্জাজ হাজেবীন- এই জন্য মালের যাকাত ঠিকমত আদায় করলে গরীব দুঃখীকে দান করলে, আল্লাহ বলেন বান্দা আমি তোমার সাথে আছি, তোমার মালকে আমি হেফাজত করবো, আমি তোমাকে হেফাজত করবো নিজের জিম্মাদারীতে তোমাকে জান্নাতের মধ্যে পৌছিয়ে দিবো। সোবহানাল্লাহ।
وَآمَنْتُمْ بِرُسُلِي
আমার নবীগন হযরত আদম থেকে নিয়ে আমাদের আখেরী যামানার নবী মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত যত নবী দুনিয়াতে এসেছেন প্রত্যেকটা নবীর উপরে সঠিক ইমান যদি তোমাদের থেকে থাকে, আর এই আমল যদি তোমরা করো তাহলে আল্লাহকে তোমাদের সাথে পাবে, আমি তোমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে তোমাদের সকলকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিবো। ৩নং আমল হলো নবীদের উপরে সঠিক ঈমান। ইহুদি মার্কা ঈমান চলবেনা। ইহুদিরা হযরত মুসা (আ.) কে মানে হযরত ইসা (আ) কে মানেনা, আমাদের নবীকেও নবী বলে মানে না, অন্য নবীকে তারা হত্যা করে দিয়েছে। খৃষ্টানরা হযরতে মুসা (আ.) কে নবী বলে মানে না, আমাদের নবীকেও নবী বলে মানে না, শুধু ঈসা নবীকে নবী বলে মানে, কিন্তু না মুসলমান কারা, যারা প্রত্যেকটা নবীকে নবী
বলে মানে, প্রত্যেক নবী বরহক, প্রত্যেক নবী তাদের দায়িত্ব উম্মত পর্যন্ত ঠিক মত পৌছিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেক নবী বে গুনাহ মাসুম, নবীগনের প্রতি সঠিক ঈমান, আর আমাদের নবীর প্রতি আমাদের ঈমান এমন হবে-
خاتم النبي لا نبي بعدي . আমাদের নবী সর্বশেষ নবী, আমাদের নবীর পরে
আর কোন নবী আসবে না, এই কথার বিশ্বাস আমাদের মধ্যে থাকতে হবে। কেহ যদি বলে আমাদের নবীর পরে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (পায়খানার মধ্যে পড়ে মারা গেছে) শেষ নবী, এটা মানা যাবে? না। এটা মানলে আমরা কাদিয়ানী হয়ে যাব, কাদিয়ানীরা কাফের। তো আমাদের নবীর প্রতি সঠিক ঈমান, আমাদের নবী খাতামুন্নাবীয়্যীন। আমাদের নবী নিশ্ব নবী আগের নবীবা এলাকা ভিত্তিক ছিলো, আর আমাদের নবী বিশ্ব নবী, আমাদের নবী ইমামুল আম্বিয়া, সমস্ত নবীগনের ইমাম, আমাদের নবী নবীউল আম্বিয়া, আমাদের নবী সমস্ত নবীগনের নবী, আগের নবীরা শুধু উম্মতের নবী ছিলো, আমাদের নবী সমস্ত নবীগণের নবী। আমাদের নবী আফজালুল আম্বিয়া সমস্ত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নবী এটা আমাদের নবীর প্রতি ঈমান থাকতে হবে। মোয়াজ্জাজ হাজেরীন- আল্লাহ বলেন তাহলে ৩ নাম্বার হলো আমাদের নবীগণের উপর সঠিক ঈমান, ইহুদি মার্কা না, নাসারা মার্কা না। নাসারারা আর ইহুদিরা নবীদেরকে হত্যা করে, কিছু নবীকে মানে আর কিছু নবীকে মানে না, এই ধরনের মানুষের সাথে আমি আল্লাহ নাই, আল্লাহ কাদের সাথে? যাদের অন্তরে নবীগনের প্রতি সঠিক ঈমান আছে, তাদের সাথে আল্লাহ আছে। ইহুদিদের সঠিক ঈমান নাই নাসারাদের সঠিক ঈমান নাই। ইহুদি নাসারাদের সাথে আল্লাহ নাই, দুনিয়াতে আল্লাহ সব দিলেন কিন্তু মারা যাওয়ার পরে আল্লাহকে সাথে পাওয়া যাবে না।
যারা আমার নবীগণের ডাকে সাড়া দেয়, আমার নবীগনকে ইজ্জত করে, আমার নবীগণকে একরাম করে, আমার নবীগণকে সহযোগীতা করে, আমার নবীগণের পাশে দাড়ায় এই সমস্ত মানুষের সঙ্গে আমি আল্লাহ আছি, আমি তাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করে দিবো, এবং আমি আমার জিম্মাদারিতে তাদেরকে ঐ জান্নাত পর্যন্ত পৌছিয়ে দিবো। এখন কি নবী আছে? না। নবী নাই কিন্তু নবীগণের ওয়ারিস আছে, হক্কানী আলেম আছে, সুতরাং আপনি যদি হক্কানী আলেমের ডাকে সাড়া দেন তাহলে যেনো আপনি নবীদের ডাকে সাড়া দিলেন। এক হাদীসে দেখলাম,
من صلى خلف عالم فقد صلى خلف نبينا و من صلى
خلف نبينا غفر له.
যে ব্যক্তি কোন আলেমের পিছনে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সে যেন নবীর পিছনে নামাজ পড়লো আর যে নবীর পিছনে নামাজ পড়ে তার জীবনের সব গুনাহ খাতা মাফ, সুবহানাল্লাহ। ৫ নং আমল
وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا
আল্লাহর দেওয়া মালের থেকে আল্লাহর বাস্তায় দান কর, এই ৫টি আমল যদি আমরা ধরে রাখতে পারি আল্লাহ বলেন আমি আল্লাহ তোমাদের সাথে আছি, তোমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করবো, আমি নিজের জিম্মাদারীতে জান্নাতে পৌছিয়ে দিবো। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই ৫টি আমল করে, আল্লাহকে সাথে পেয়ে, আল্লাহ আমাদের জীবনের গুনাহ খাতা মাফ করিয়ে আমাদেরকে নিজের জিম্মাদারীতে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিন, সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন
মাওলানা আব্দুস সবুর দা: বা:
সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিল মাদরাসা, বগুড়া