সূরাতুল ফাতিহার তাফসীর

                                                            সূরাতুল ফাতিহার তাফসীর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে দুনিয়ার হাজার কন্টেন্টের মাঝে তারই দেওয়া পবিত্র আল-কুরআনের সুরাতুল ফাতিহার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূরার তাফসির ও ফজিলত জানার জন্য ইচ্ছা শক্তি দিয়েছেন। এজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শোকর আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। 

 
পুরা বিশ্বে যত কিতাব আছে ,যত বই আছে সবচাইতে বেশি পঠিত যে কিতাবটা তা হল আল কোরআন আর আল কুরআনের ভিতর সবচাইতে বেশি তেলাওয়াত হয় যে সূরাটা তাহলো সূরাতুল ফাতিহা। আল্লাহ তায়লা এই সূরাকে বলেছেন 'সাবয়ে মাসানী' سبع (সাব উন) অর্থ সাত আর মাসানী অর্থ হল বারবার রিপিট করে তেলাওয়াত করা। এই সাতটি আয়াতের মধ্যে একটি আয়াত হল মুখ্য আয়াত সেই আয়াতটি হল এই সূরা ৫ নাম্বার আয়াত পাঁচ নাম্বার আয়াত কি আপনাদের জানা আছে ইনশাআল্লাহ -তা হল ইহদিনাস সিরাতুল মোস্তাকিম। এই পাঁচ নম্বর আয়াতটি দুনিয়ার মানুষের পক্ষ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে একটি দরখাস্ত। আগের চার আয়াত আছে যা দরখাস্তের মুকাদ্দিমা তথা ভূমিকা আর শেষের দুই আয়াত দরখাস্তের তাতিম্মা তথা সম্পূরক। আর মাঝখানের এই পাঁচ নাম্বার আইটি হলো দরখাস্তের মূল বিষয়।

আয়াত। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন বান্দা এই সব কিছুর আগে যেহেতু সুরায়ে ফাতেহাই কুরআনে কারীম। কুরআন শরীফের তেলাওয়াত শুরু করার আগে তোমাদের ২টা মন্ত্র পাঠ করতে হবে।

)১) এক নাম্বার হলো,اعوذ بالله من الشيطان الرجيم

)২) দুই নাম্বার হলো بسم الله الرحمن الرحيم

এখন কুরআন শরীফ তেলাওয়াত শুরু করার আগে এই দুইটা মন্ত্র কেন পাঠ করতে হবে?

প্রথম মন্ত্রটা পাঠ করার কারণ হলো মানুষ যখন কুরআন কারীম তেলাওয়াত করার মনস্থ করে, তখন শয়তান এসে তাকে ওসওয়াসা দেয়, যাতে কুরআনে কারীম মনযোগ সহকারে তেলাওয়াত করতে না পারে। আর কুরআনে কারীমের ফজিলতের বরকত থেকে যাতে বঞ্চিত হইয়া যায়। এ জন্য আল্লাহ পাক রাব্বুল বলেন,

واذا قرات القرآن فاستعذ بالله من الشيطان الرجيم বান্দা যখন তুমি কুরআনে কারীম তেলাওয়াতের ইচ্ছে করবে

واذا قرات القرآن اي واذا اردت قراءة القرآن

যখন তুমি কুরআনে কারীম তেলাওয়াতের ইচ্ছে করবা তখন তুমি নিজে নিজে শয়তান এর সাথে যুদ্ধ করে শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে বাচতে পারবে না, কারণ এটা বড় শক্তিশালী যন্ত্র তোমার যেখানে রক্ত চলাচল করে, শয়তান সেখানে ঘুরা ঘুরি করতে পারে, সেই সত্যি আমি আল্লাহতায়ালা তাকে দিয়েছি। বিধায় তুমি নিজে নিজে মোকাবেলা করে শয়তানের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। তুমি এক কাজ কর তুমি যখন কুরআন কারীম তেলাওয়াত করা শুরু করি নাই তখন শয়তান থেকে বাঁচার জন্য আমার কাছে আশ্রয় চাও। আর আমি যদি আশ্রয় দেই শয়তান কেন শয়তানের বাবাও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর আশ্রয় কিভাবে যাবে জানাবে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন আশ্রয়ের ভাষা হবে আরবি ভাষায়:
أَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
এর অর্থ: “আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

এই পর্যন্ত বুঝে আসছে তো? জ্বি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ও আমার উম্মত, কুরআন শরীফ তেলাওয়াত সহ আরো যতো ভালো কাজ আছে। এক কথায় গুনাহের কাজ ছাড়া যত ভালো কাজ তুমি শুরু করবা, সকল কাজের শুরাতে বলবা বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। কেন?

قال صلى عليه وسلم كل أمر ذي بال لا يبدأ ببسم الله فهو ابدأ او اقطع او اجزم او كما قال عليه

الصلاة والسلام

আল্লাহর হাবীব বলেন উম্মতেরা যত কাজ তুমি শুরু করবা, বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করবা, বিসমিল্লাহ পড়িয়া যদি শুরু করো তোমার কাজের মধ্যে বরকত হবে, আর বিসমিল্লাহ ব্যতিত যদি কোন কাজ শুরু করো সেই কাজ বরকত শুন্য হবে, সেই কাজের মধ্যে বরকত থাকবে না। আমার উম্মতেরা, সকল কাজের শুরুতে যেভাবে তোমাকে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে, কুরআন কারীমের শুরুতে এই মন্ত্রটা পাঠ করতে হবে-

আরম্ভ করিতেছি ঐ আল্লাহর নামে যিনি দুনিয়ার সকলের জন্য ব্যপক ভাবে দয়ালু, এবং আখেরাতের জন্যও বিশেষ ভাবে দয়ালু, কথা বুঝেছেন কি বুঝেন নাই?আল্লাহর হাবীব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, উম্মত এই দোয়াটা পাঠ করে সকাল বেলা যদি তুমি ঘর থেকে বের হও, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তোমাকে কি করবে জানো?

هدیت و اوکیت و کفیت

উম্মত তুমি সকাল বেলা ঘর থেকে বাহির হওয়ার সময় ডান পা আগে বাহিরে দিয়ে এই দোয়াটা পাঠ করিও, যেখানে যাইতে চাইবা আল্লাহ পাক নিরাপদে তোমাকে তোমার গন্তব্যস্থলে পৌছাইয়া দিবে।

পথ ভুলে অন্য দিকে যাওয়া লাগবে না, আল্লাহর হাবীব বলেন উম্মত, একটা মানুষ ঘর থেকে বাহির হইলে আরেক বার ঘরে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত বিপদের কোনো বিশ্বাস নাই, যে কোনো মূহুর্তে যে কোন ছোট বড় বিপদ আসতে পারে, দোয়াটা পড়ে যদি ঘর থেকে বাহির হও বিসমিল্লাহ সম্বলিত দোয়ার অসিলায় আল্লাহ পাক রাস্তার সব ধরনের বিপদ থেকে তোমাকে হেফাজত করবে। গাড়ী এক্সিডেন্ট হবে কিন্তু তোমার একটা পশমও উঠবে না।

صدق الله و صدق رسوله

রাইফেলের গুলি মিস হইতে পারে আমার নবীজির জবান মিস হইতে পারে না। আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব ওলামায়ে কেরামের সব কথা আপনারা পন্ডিতি মনে করবেন না, ওলামাদের অনেক কথা নিজেদের পরীক্ষা থেকে আপনাদেরকে বলে।

অতএব আল্লাহর হাবীব জনাবে রাসূলূল্লাহ এরশাদ করেন, সকাল বেলা ঘর থেকে বাহির সময় এই দোয়াটা পাঠ করে, যদি তুমি ঘর থেকে বের হও, রাস্তার বিপদ-আপদ থেকে কুদরতের হাতে আল্লাহ পাক তোমাকে হেফাজত করবে। 
আরেকটি পুরস্কার আছে সেটা কি? আল্লাহর হাবিব বলেন তুমি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছোট বড় জটিল কঠিন যেই কোনকাজের নিয়তে বাহির হও, যে কাজটা তোমার জন্য অনেক কষ্টকর। কিন্তু এই দোয়ার বদৌলতে তোমার কাজ সিদ্ধির জন্য আল্লাহ যথেষ্ঠ হইয়া যাবে। ও ভায়েরা দোস্ত আমার, আগামীকাল থেকে এই দোয়া পড়বেন তো ইনশাআল্লাহ-

بسم الله توكلت على الله لا حول

ولا قوه الا بالله العلي العظيم

আল্লাহর হাবীব বলেন যে উম্মত গুনাহের কাজের শুরুতে পড়বেনা, আর যত ভালো কাজ আছে সমস্ত بسم الله الرحمن الرحيم এটা বরকতের বাণী, বিসমিল্লাহ পড়ছে কাজের শুরুতে, কাজের মধ্যে বরকত হবে। বিসমিল্লাহ  
পড়েন নাই কাজের মধ্যে বরকত শুন্য হবে।সময় শেষ হয়ে যাবে সূরা ফতেহা শুরু করা যাবে না, যদি বিসমিল্লাহ নিয়ে আরো কিছু আলোচনা করি, আমার ভায়েরা দোস্ত আহবাব, আল্লাহ পাকের মোট নাম কয়টা? আল্লাহ পাকের মোট নাম একশতটা। এর মধ্যে একটা হলো আল্লাহ পাকের জাতি নাম, আর ৯৯টি হল আল্লাহ পাকের সিফাতি নাম। আল্লাহ পাকের জাতি নাম হল الله।

(2) الله لا اله الا هو الحي القيوم পাকের জাতি নাম আর ৯৯টি আছে সিফাতী নাম।

الرحمن الرحيم الرب الكريم الستار পাকের সিফাতী নাম। এখন আপনাদেরকে আমার বুঝানোর বিষয় হল সকল কাজের শুরুতে যেই দোয়াটা পাঠ করতে হবে, সেই দোয়াটার মধ্যে পাকের ১টা জাতি নাম আর ২টা সিফাতী নাম

কেন? বাকী নাম গুলো কেন নেওয়া হলো না,  امان الله - الرحمن الرحيم

بسم الله الرحمن الرحيم الكريم بسم الله رب رحيم

بسم الله الخالق الرزاق

এই ভাবে তো হইতে পারতো তা না দিয়ে

بسم الله الرحمن الرحيم 
 

হইল। আমার ভায়েরা দোস্ত আহবাব, দুনিয়ার মধ্যে আল্লাহ পাক যত জিনিস বানাইছেন, মানুষ সহ সমস্ত সৃষ্টির ৩ অবস্থা।

ایجاد ابقى احتاج

তাফসীরের পারিভাষিক শব্দ-বাংলায়-জন্ম, জীবন, সফল।

প্রত্যেক জিনিসের জন্ম দামী হওয়ার জন্য জন্মটা  হওয়ার জন্য জীবন লাগবে, জীবন ছাড়া জন্মের ২ পয়সার দাম নেই। আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, এইবার জীবনটা দামী হওয়ার জন্য, জীবনটা সফল হওয়ার জন্য এমতাজ লাগবে, জন্য এবং জীবনের উপরে সুফল প্রবর্তিত হইতে হবে, যদি জন্য এবং জীবনের উপর সুফল না আসে, তাহলে এই জন্য এবং জীবনের মূল্য ২ পয়সারও নাই। আমি ২টা উদাহরণ দিয়া আপনাদেরকে বুঝাই। তাহলে আপনাদের ভালো বুঝে আসবে। জনৈক ব্যক্তি বিয়ে করছে ১০ বছর হইছে সন্তান হয় না, আমার ভায়েরা দোস্ত আহযাব, কতো ডা.এর দ্বারা চিাকৎসা করছে, না বুঝিয়ে কত বাবার মাজারে গিয়ে সেজদা দিচ্ছে, না বুঝিয়া মাজারে গিয়া সন্তান চাইছে, এমন চায় কিনা?

চায়। সন্তান দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা কার? আল্লাহর। يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ أَوْ يُوجُهُ ذرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلْ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا

সন্তান দেওয়ার মালিক কে? আল্লাহ।

দশ বছর হইছে বিয়ে করেছে সন্তান হয় না, আমার ভায়েরা দোস্ত আহবাবেরা শেষ পর্যন্ত বুদ্ধি দিয়েছে। বলে ভাই, তোমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ওমরায় যাও, গিয়ে আল্লাহর ঘর ধরে সন্তানের জন্য দোয়া করিয়া আসো, দেখবা হবে। কথা মানছে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ওমরায় গেছে, গিয়ে আল্লাহর ঘর ধরিয়া বলছে আল্লাহ আমাদেরকে একটা সন্তান দাও, আল্লাহ দোয়া কবুল করছে দোয়াটার মধ্যে ভুল ছিলো না, আল্লাহর কাছে সন্তান চাইছে আল্লাহ সন্তান দিয়েছে আল্লাহ আকবার। ওমরা থেকে আসার পরে উনার ওয়াইফ কনসিফ করেছে গর্ভবতী হইছে, আল্লাহর রহমতে

দশ মাস পরে এই গর্ত ধারন করা সন্তানটা ভূমিষ্ট হইছে, একদিন সকাল সাতটায় আব্দুল করীম সম্ভ্রান ভূমিষ্ট হওয়ার পর হাস্যজ্জল চেহারা নিয়ে বাড়ী থেকে বাহির হওয়ার পর, মানুষ জিজ্ঞেস করে কি ভাই আব্দুল করীম। তোমাকে এতো খুশি খুশি মনে হইতেছে কেন? বলে ভাই, আলহামদুলিল্লাহ দশ বছর হলো বিয়ে করেছি সন্তান হয় না, আল্লাহর রহমতে একটু আগে ৭টার সময় আমার একটা ফুটফুটে সন্তান হইছে, এখন আমি বাজারে যাইতেছি, গিয়া মিষ্টি আনবো, গোটা মহল্লার মধ্যে মিষ্টি বিতরন করবো। আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, যেই আব্দুল করীম সকাল ৭টায় মহল্লার মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করল সেই আব্দুল করীম বিকাল ৩টার সময় বাড়ী থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাহির হয়। মানুষ জিজ্ঞেস করে ভাই আব্দুল করীম আজকে তো তোমার সন্তান জন্য গ্রহণ করছে তোমার খুশি হওয়ার কথা কাঁদছো কেন? আব্দুল করীম বলে, ভাই বলে না, এই সন্তান হওয়ার চেয়ে না হওয়া ভালো ছিলো, এই সন্তানের মুখ দেখার চেয়ে না দেখা ভালো ছিলো, সকাল ৭টায় যে সন্তান জন্য গ্রহণ করেছিলো, একটু আগে পোনে ৩টার সময় আমার ছেলেটা মৃত্যু বরন করেছে, এই ছেলে জন্ম হওয়ার চেয়ে না হওয়াই ভালো ছিলো। এখন আব্দুল করীমের অন্তরে ছেলের জন্মের আনন্দ, না ছেলের মৃত্যুর ব্যাথা? বুঝে বলেন। সন্তান মারা যাওয়ার পরে আব্বা আম্মার অন্তরে জন্মের আনন্দ না মৃত্যুর ব্যথা? মৃত্যুর ব্যথা কেন? বুঝা যায় মৃত্যু এমন একটা জিনিষ, জন্যের আনন্দকে ঢাকনা দিয়ে দেয়। কোনো মায়ের একটা ২২ বছরের সন্তান হঠাৎ রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়, ছেলে মারা যাওয়ার আরো ২০ বছর পরেও রাত্রে ২টার সময় যদি মা বেচারার মনে উঠে ছেলের কথা, এই ছেলের জন্ম স্মরণ করিয়া আনন্দিত হবে? না মৃত্যুর স্মরণে দুঃখিত হবে? মৃত্যুও স্মরণে দুঃখিত হবে কেন? ঐ মৃত্যুর ব্যথা জন্যের আনন্দকে ঢাকনা দিয়ে দেয়।

যেই মানুষটা মৃত ব্যক্তির জন্মেও আনন্দ স্বরণ করিয়া হাসে, মৃত্যুর ব্যথা স্বরণ করিয়া কাদেনা, সাব্যস্ত হবে সামাজিক ভাবে এই মানুষটা আসলে মৃত ব্যক্তিকে
ভালোবাসে না। আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব ১২ই রবিউল আউয়াল মুহাম্মাদ (সা.) এর জন্ম দিবস বটে সাথে সাথে মৃত্যু দিবসও। আপনারা আমাকে একটু বলুন কোনো উম্মত যদি মুহাম্মাদ (সাঃ) কে ভালোবাসে তাহলে এই তারিখে নবীজির জন্মের আনন্দ পালন করবে নাকি মৃত্যুর ব্যথা উদযাপন করবে? আর মৃত্যুর ব্যথা উদযাপনের মাধ্যমে হইলো রোজা। কোনটা করবেন? রোজা।

এখন আশেকে রসূলের কাজ কি হবে? আনন্দ উদযাপন করবে নাকি, রোযা রাখিয়া নবীজির জন্য দুঃখিত হইয়া, নবীজির উপরে বেশী বেশী দরুদ শরীফ পাঠ করবে। কে কাকে বুঝাবে, আমার পীর সাহেব হুজুর (রহ.) হযরত মাওলানা শাহ জমীর উদ্দিন নানুপুরী বাবারা 'যে না বুঝে মনে মনে, তাকে বুঝাইতে পারে কোন জনে। কেউ যদি নিজে বুঝার চেষ্টা না করে, দুনিয়ার মানুষ তাকে বুঝাইতে পারবে না। এবার বুঝে থাকলে বলুন এই যে পোনে ৩টার সময় আব্দুল করিমের ছেলেটা মারা গেল, এখন আব্দুল করিমের ছেলেব জন্মটা দামী হইছে না ব্যর্থ হইছে? ব্যর্থ হইছে, কিসের কারনে? জীবন ধারন না করার কারনে। অথবা ছেলেটা মরে নাই, আল্লাহর রহমতে সযত্নে লালন পালন করতে করতে তিলে তিলে বেড়ে উঠেছে, বেড়ে উঠতে উঠতে এই ছেলেটার বয়স হইছে ১৮ বছর। ১৮ বছর বয়সে ছেলেটা তার উত্তরের বাড়ীর পাশে একটা রিক্সার ড্রইভার আছে, যিনি গরীব মানুষ, আল্লাহু আকবার। একটা কাচা ঘর, ঘরের দরজা বাশের ঠেলা দরজা, এই গরীব রিক্সাওলার ঘরে একটা যুবতী নারী আছে ১৬ বছর বয়সের। এই মেয়েটার উপরে কু নজর পরেছে আব্দুল করীমের ছেলের। রাত্র ২টার সময় আন্তে আছে বাড়ী থেকে বাহির হইয়া ঐ রিক্সার ড্রাইভারের ঠেলা দরজা ঠেলিয়া দরজা খুলিয়া ভিতরে গিয়ে ঢুকেছে। ঘটনাক্রমে রিক্সাওয়ালা পুরাপুরি ঘুম আসে নাই, আল্লাহু আকবার। একটু একটু সজাগ। যখন আপসা আপসা দেখছে ঘরের মধ্যে কে যেন ঐ রিক্সার ড্রাইভার আস্তে আস্তে চুপি চুপি শোয়া থেকে উঠে গিয়ে ছেলেটাকে কোমর চেপে ধরে

ফেলছে। কোমর ধরে যখন চিৎকার দিয়েছে, ঘরের মানুষ সব জেগে গেছে, লাইট জ্বালাইছে। এখন রিক্সাব ড্রাইভার বলে একটা গরুর দড়ি নিয়ে আসো। একে একটু খাটের পায়ার সাথে বাধি। গরুর দড়ি দিয়ে খাটের পায়ার সাথে বাধছে। সকাল ৮টার সময় চেয়ারম্যান সাহেব কে খবর দিয়েছে। গ্রামের গণ্য। মান্য আরো দুই একজনকে খবর দিয়েছে। অতঃপর বাড়ীর উঠানের মধ্যে বিচার বসেছে। চেয়ারম্যান সাহের বলে ভাই আব্দুল করীম। এটা কি সন্তান জন্ম দিলেন, এমন সন্তান জন্ম হওয়ার থেকে না হওয়াই ভালো ছিলো, আপনি এতো চরিত্রবান ভদ্র-সভ্য মানুষ, আপনার নামে তো গ্রামের মধ্যে কোন ক্রাইম নাই কোন স্পট নাই, কোন দূর্নাম নাই। এই ছেলে এমন কেন হইলো, রাত্রের ২টায় লুচ্চামির উদ্দেশ্যে আরেক জনের ঘরে কেন ঢুকলো, আব্দুল করীম বলে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে আর লজ্জা দিবেন না। বিয়ের পর দশ বছর পর্যন্ত কোনো সন্তান হয় নাই, অনেক চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত ওমরায় গিয়ে আল্লাহর ঘর ধরে দোয়া করেছিলাম, হে আল্লাহ আমাকে একটা সন্তান দাও, আমার ভুল হয়ে গেছে, আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে শুধু সন্তান চাইছিলাম, একটা নেক সন্তান দাও এই কথা বলতে পারি নাই। এই জন্য জন্য এবং জীবন দুটাই বেদনা হইয়া গেল, এই একটা উদাহরন মনে রাখবেন।

আরেকটা শুনেন, আপনাদের দেশে কদুর বিচি করে নাকি? জ্বী করে। তাহলে এবার বলুন তো যতগুলি কদুর বিচি রোপন করা হয় সবগুলোর কি গাছ উঠে? না। কিছু পচে যায় না? যায়। তাহলে যে কদুর বিচিটা পঁচে গেল, এই কদুর বিচিটা বেদামী হয়ে গেলো। কারণ গাছের জন্ম হয় নাই, আর একটা কদুর বিচি পঁচে নাই এটার থেকে মাটি ঠেলে একটা কদু গাছ উঠেছে, কিন্তু ২/৪ দিন ৫ দিন সূর্যের কিরণ পড়ার পর আন্তে ঝিমাইয়া গাছটা মরে মাটির মধ্যে পড়ে গেছে, একটা কদুর বিচি পঁচে গেল, গাছ উঠলো না আরেকটা গাছ উঠলো, কিন্তু জীবন ধারন করল না ২/৪ দিনের মধ্যে মরে মাটির মধ্যে পড়ে গেল, আরেকটা গাছ উঠছে মরে নাই একেবারে লম্বা হইতে হইতে ঘরের ৪টা চাল লতায় আর পাতায় ভর্তি হইয়া হইতে হকের মৌসুম শেষ হইয়া গেছে, আস্তে আস্তে গাছের পাতা মরা শুরু হইছে একটা কদুও ধরে নাই। আমার ভায়েরা দোস্ত আহবাব, কদু গাছের জন্য হইল, জীবন ধারন করল কিন্তু আসলো না, মানুষ কি শুদু গাছ রোপন করে লতা পাতা আর খাওয়ার জন্য নাকি কদুর আশায়? নিশ্চয় কদুর আশায়। তাহলে বুঝা গেল কদু গাছটির জন্য এবং জীবনের উপর সুফল আসলো না। এই সুফল না আসার কারণে এই কদু গাছের জন্য এবং জীবন দুটাই বিফল।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন ও দুনিয়ার মানুষেরা কদু গাছ একটার যেমন ৩ অবস্থা, তুমি মানুষেরও তিন অবস্থা, যত মানুষ আমি দুনিয়াতে সৃষ্টি করেছি সব মানুষেরও ৩ অবস্থা। প্রত্যেক মানুষের একটা জনন্ম আছে, জন্ম আছে না নাই? এই জন্মের উপর আবার জীবন আছে না, নাই। আমার ভায়েরা দোস্ত আহবাব, এই দোনোটা হইলো দুনিয়াতে আর একটা হইলো জনন্ম এবং জীবনের উপরে সুফল প্রবর্তিত হওয়া, এইটা হল আখেরাতে। জন্ম এবং জীবনের উপরে সুফল কেমনে আসবে। আমালনামা ডান হাতে আসলে পুলসিরাত বিজলির আকারে পার হইতে পারলে জান্নাতের ফয়সালা হয়ে গেল। বুঝা গেল জন্ম এবং জীবনের উপরে সুফল আসছে।

আর আমলনামা যদি নাউযুবিল্লাহ বাম হাতে আসে পুলসিরাত যদি পাড়ি দেওয়া না যায়, নাউযুবিল্লাহ জাহান্নামের ফায়সালা যদি হইয়া যায় তাহলে জন্ম এবং জীবনের উপরে সুফল নিয়ে আসল নাকি কুফল? কুফল।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন বান্দা এই যে তোমার জীবনের ৩টা অবস্থা, ১নং তোমার জন্ম, তুমি মাওলানা কোথায় থেকে হইতা, মুহাদ্দিস কোথায় থেকে হইতা, মুফতী কোথায় থেকে হইতা, প্রেসিডেন্ট কোথায় থেকে হইতা, ও কম-বখত তমি ইঞ্জিনিয়ার, বৈজ্ঞানিক, বৃদ্ধিজীবি কোথায় থেকে হইতি যদি তোমার জন্ম না হইতো এই দুনিয়ায়।

যদি দুনিয়াতে তোমার জন্য হইতো, তুমি এগুলো কেমনে হইতে। ও বান্দা যতগুলি কাজ করবি, সময় কাজের শুরুতে এই কথাটার স্বাক্ষ দেই, বিসমিল্লাহ আমি আরম্ভ করিতেছি ঐ আল্লাহর নামে যেই আল্লাহর কুদরতে দুনিয়াতে আমার জন্ম। আল্লাহর কুদরত যদি না হইতো আমার জন্ম দুনিয়াতে হইতো না, আমার জন্ম দুনিয়াতে কোনো বিজ্ঞানির কারনে হয় নাই, কোন ডাক্তারের ডাক্তারির কারনে হয়নি, কোনো বুদ্ধিজীবির বুদ্ধির দ্বারা হয় নাই, আমার জন্য হইছে দুনিয়াতে একমাত্র আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের কুদরতে। আমার ভায়েরা দোস্ত আহবাব, আমি আপনাদের জানা কথাকে লম্বা করতে চাইতেছিনা। আল্লাহর কুদরতে কিভাবে আপনার জন্য হইলো এটার বিস্তারিত বর্ণনা সব সময় ওলামায়ে কেরামের থেকে আপনারা শুনেন। আমাদের মায়ের পেটের মধ্যে আল্লাহ পাক বাব্বুল আলামিন আমাদের কিভাবে বানাইছেন। সেখানে আমাদের নির্মান কমপ্লিট হওয়ার পরে, এইবার এই জটিল জায়গার থেকে জটিল কারখানা থেকে জটিল রাস্তায় কিভাবে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে বাহির করিয়াছেন। আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন বলেন, الله اخرجكم হযরত ওলামায়ে কেরাম আছেন ওনাদের জিজ্ঞেস করেন । এটা

رেاخ এর فاعل )কর্তা)। ফায়েলের জায়গা হলো ফেলের পরে কিন্তু এইখানে আল্লাহ তো আল্লাহ ফায়েল এখানে

আরবী رেخ ফেলের আগে নিয়ে আসছে। কেন আগে নিয়ে আসছে,

تقديم ما حقه التأخير يفيد الحصر

সীমাবদ্ধতা বুঝানোর জন্য। ও দুনিয়ার মানুষেরা আল্লাহ বাহির করছে একথা নয়, বরং আল্লাহই বাহিন করছে, আর কেহ বাহির করে নাই। কোথায় থেকে? من يطون امهاتكم তামাদের মায়েদের পেটের থেকে, আল্লাহই তোমাকে করছে। আপনারা বলবেন হুজুর, নরমাল ডেলেভারি হলে এ কথা প্রযোয্য কিন্তু সিজারে যদি ডেলিভারি হয় ডাক্তাররা  কেটে বাহির করে, সেটা আল্লাহ বাহির করলো? না ডাক্তার বাহির করল? ও আল্লাহর বান্দা সেইটাও

আল্লাহই বাহির করছে। আল্লাহর হুকুম যদি না হয়, ডাক্তার সিজার করে বাহির করতে পারে কিন্তু সিজারে সন্তান জীবিত থাকে না। অনেক সিজারে সন্তান মারা যায়, মাও মারা যায়। আল্লাহর হুকুম যদি না হয় ডাক্তারের বাবার ক্ষমতাও নাই জীবিত বাহির করার। বাহির করনে ওয়ালা কে? আল্লাহ।

أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُنْهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا টা وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, বান্দা। মায়ের থেকে তোকে যে আমি বাহির করে আনছিলাম সেদিন তোর মতো অজ্ঞ, মূর্থ, নির্বোধ এই দুনিয়াতে আর কেউ ছিলো না, কিছুই জানতি না তুই সেদিন সমস্ত শরীরের মেশিন গুলো তোর শরীরের সাথে ফিট করা ছিলো, দৃষ্টি শক্তির মেশিন লাগানো ছিলো, বাক শক্তির মেশিন লাগানো ছিলো, শ্রবণ শক্তির মেশিন লাগানো ছিলো, ধারণ শক্তির মেশিন লাগানো ছিলো, চলার শক্তির মেশিন লাগানো ছিলো। আল্লাহ আকবার। ঐ আইকিউর মেশিন তোর মেমোরী নামের মগজ অল্প হইলেও তোর মাথার মধ্যে দেওয়া কিন্তু একটি মেশিন ছিলো না সেটি জ্ঞান আহরণ করার যোগ্যতা, এই মেশিন গুলোকে সক্ষমতা দিল কে? এই চাকরি করার ক্ষমতা দিলো কে? এই মেশিন গুলোকে চালু করলো কে?

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন,

وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ

ও দুনিয়ার মানুষেরা তোমাদের কাছে দেখতে মনে হয় একদম নবজাত শিশু প্রথমে দৃষ্টি শক্তি পায়, এমন এমন করে তাকায় আল্লাহ বলেন, বান্দা তুই জানিষ না এমন এমন তাকাইলেও কিন্তু চোখের মধ্যে দৃষ্টি শক্তি নাই, আমি আল্লাহ একটা নবজাত শিশুকে সর্ব প্রথম শ্রবণ শক্তি দান করি। এর পরে দৃষ্টি শক্তি দান করি, আমার বান্দা নবজাত এই দুইটা

পাওয়ারের উপর ভিত্তি করে জীবন যাত্রা শুরু করে। এইবার দিন যায় আস্তে আস্তে ধীর গতিতে চলার শক্তি আসতেছে, বলার শক্তি আসতেছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত ম্যামোরি ভিত্তি হয় নাই। ভাইয়েরা। দোস্ত আহবাব, দেড় বছর দুই বছর বয়সে একটা মানব সন্তান আল্লাহ

আকবার একটু একটু হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে সমনের দিকে অগ্রসর হইতে পারে। একটা বিস্কিট হাতে ধরতে পারে কিন্তু তখনো পর্যন্ত এই বাচ্চা নিজে প্রসাব করিয়া, নিজে পায়খানা করিয়া, নিজের হাতের প্রসাব-পায়খানা নিজের ধরতে দ্বিধাবোধ করে না। ও দিতে চায়, মা দৌড়ে এসে বলে ছি ছি বাবা এটা খায় না। মা ছাড়াইয়া নেয়, নতুবা পায়খানা-প্রসাব মুখের মধ্যে দিয়া দেয়। ও দুনিয়ার মানুষেরা, ও জ্ঞানীগুণি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বুদ্ধিজীবি অহংকারীরা, আল্লাহ পাক রব্বুল আলামিন বলেন বান্দা, সেদিন দেড় দুই বছর বয়সে তোর পায়খানা তুই তোর হাতে ধরতি কিনা? পায়খানা প্রসাবকে কচলাইয়া মুখে দিতি কিনা? যদি দিতি তাহলে সেদিন তোর জ্ঞান কোথায় ছিলো? তোর বুদ্ধি কোথায় ছিলো? সেদিন তো তোর কাছে এগুলি কিছুই ছিলো না. ৫ বছর যখন শেষ হইছে তোর বয়স ৬ বছর শুরু হইছে আমি আল্লাহ তোর মেমোরীটাকে একটিভ করে দিতে শুরু করেছি, তোমার মগজগুলোর মধ্যে আস্তে আস্তে একটি সক্ষমতা দিতে শুরু করেছি।

এই ৬ বছরের প্রথম দিন থেকে তোমার চোখে যেইটা দেখছো, এটাকে মেমোরী ধারণ করে। ত্বক দিয়া যেটা অনুভব করছো এইটাকে মেমোরী ধারণ করে, নাক দিয়া যেটা ঘ্রান নিয়েছ এটাকে মেমোরী ধারণ করে, জিহ্বা দিয়া যেটা স্বাধ গ্রহণ করোছ এইটাকে মেমেরী ধারণ করে একদিকে ধারণ করে আরেক দিকে সেইভ করে, এই কারণেই তো ৭ বছর বয়সে তোর বাজারে যাওয়ার সময়। টাউনে যাওয়ার সময় ব্রিজের গোড়ায় আব্বার আঙ্গুল ধরা অবস্থায় ইটের সাথে উষ্টা খাইয়া নোখ উল্টাই ছিলি ৭ বছর বয়সে। ৭০ বছর বয়সে আবার ঐ ব্রিজের গোড়ায় গেলে সে কথাটা তোর মনে পড়ে? কেমনে মনে পড়ে? আল্লাহ তোর মেমোরীর মধ্যে সেই দিন সেইটাকে সেইভকরে রেখেছে। ভোর মেমোরী আল্লাহ পাক যেইটা তোকে দিছে, মগজ নামের কুওয়াতে আকলিয়া এটা হাওয়াচ্ছায়ে খামছা থেকে, পঞ্চ ইন্দ্রিয় থেকে জ্ঞান আহরন করে জ্ঞান আহরণ করার সাথে সাথে সেইভকরে। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন বান্দা, তোর দিলের মধ্যে তোর অন্তরের মধ্যে অনুভূতি শক্তি এটা কে দিয়েছে? আল্লাহ দিয়েছি। এই সমস্ত নেয়ামত গুলো আমি তোকে যে দিলাম, কি জন্য ও বান্দা আমার পক্ষ থেকে আমার আহব্বায়ক যখন তোকে আহবান করে,

حي على الصلاة الصلاة خير من النوم

ও বান্দা তখন ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করে আমাকে ৪টা সেজদা দিয়া আমার শোকর আদায় করার জন্য, তুই কতো নিমকহারাম, তুই কতো অকৃতজ্ঞ আমার সমস্ত নেয়ামত গুলো আমার সমস্ত বডিফিকেট মেশিন গুলো তুই ব্যবহার করিয়া আমি আল্লাহকে ২টা সেজদা দিতে তুই পারোছ নাই। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন, ও দুনিয়ার মানুষেরা, তুই স্বীকার কর, প্রত্যেক কাজের শুরুতে তুই স্বীকার করে বলো বিসমিল্লাহ আমি আরম্ভকরিতেছি ঐ আল্লাহর নামে, যার কুদরতে আমার জন্ম আল্লাহর কুদরত না হইলে আমি জন্ম পাইতাম না।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন বান্দা, পাইলে কি হলো জন্ম পাইলি, কিন্তু অনেক সন্তান তো জন্ম গ্রহণ করার ৫ মিনিট পরে মারা যায়, ১ ঘন্টা পরে মারা যায়, ৫ ঘন্টা পরে মারা যায়, ৭ ঘন্টা পরে মারা যায়, ১ বছর পরে মারা যায়, ৫ বছর পরে গাড়ী এক্সিডেন্ট করে মারা যায়, আল্লাহু আকবার। যেই কোন সময় মৃত্যু আসতে পারে, এই জন্মের তো দাম নাই, জন্ম দামী হয় জন্মের উপরে যখন জীবন প্রবর্তিত হয়। আল্লাহ বলেন, বান্দা তুই জন্ম গ্রহণ করছিস আমার কুদরতে, তোর জীবনটা যদি না পাইতি দুনিয়ার আলো বাতাস তো দেখাতনা, মন্ত্রী-এমপি হইতে পারতিনা, আল্লাহু আকবার। এই

জীবনটা যে তুই পাইছোস, এই জিনিসটা সকল কাজের শুরুতে তুই স্বীকার করে বল বিসমিল্লাহির রহমান- আমি আরম্ভ করিতেছি ঐ আল্লাহর নামে যার কুদরতে আমার জন্ম, যার অফুরন্ত নেয়ামতে আমার জীবন, যার অফুরন্ত দয়ায় আমার জীবন। আল্লাহ পাকের অফুরন্ত দয়া যদি না থাকে আমি ফরিদ উদ্দিন দুনিয়াতে এই ৬৩ বছর বয়স পাইতাম না। এটাকে প্রত্যেক কাজের শুরুতে তুমি শিকার কর। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন বান্দা, দুনিয়াতে জন্মও পাইলা, জীবনও পাইলা, কি লাভ হলো যদি জাহান্নামে যাওয়া লাগে যদি বাম হাতে আমলনামা আসে, যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্য সুপারিশ না করে। ওরে রাহমাতুল্লিল আলামীনের হাতে হাউজে কাউসারে শরবতের গ্লাস যদি তোমার ভাগ্যে না জোটে তো দুনিয়ায় জনা এবং জীবন দিয়ে কি লাভ হাইলো? আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন বান্দা, দুনিয়াতে যে রকম তোমার জীবনের জন্য আমার ব্যাপক দয়া লাগছে, আমার সিফাতে রহমানিয়াতের তাকাজা লাগছে তোমার জীবন পাওয়ার জন্য। ঠিক তদরুপ আখেরাতেও সেখানে আমার একটা বিশেষ রহমত থাকবে সেই রহমতটা শুধু ঈমানদারের জন্য হবে, কোন কাফেরের বাচ্চা সেই রহমত পাবে না। আমার সেই রহমত লাগবে তোর জন্য এবং জীবনের উপরে সুফল আসার জন্য, তোমার জান্নাতি হওয়ার জন্য। আমার বিশেষ রহমতের তাকাজা ছাড়া তুমি জান্নাতি হতে পারবে না, তোমার জন্ম এবং জীবনের উপরে সুফল আসবে না। এই কথাটা তুমি সকল কাজের শুরুতে বলো- বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম, আমি আরম্ভকরিতেছি ঐ আল্লাহর নামে যার কুদরতে আমার জন্ম, যার ব্যপক দয়ায় আমার জীবন, যার বিশেষ দয়ায় কেয়ামতের ময়দানে আমার নাজাত।

এবার সকল কাজ শুরু করতে হবে কি দিয়ে? বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহু আকবার, আমি আপনাদেরকে বললাম, এটা বরকতের বাণী, আমি নিজের থেকে বলছি না রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি বিসমিল্লাহ দিয়ে

কাজ শুরু করো তো কাজে বরকত হবে, আর যদি বিসমিল্লাহ না বলে কাজ শুরু কর সেটা বে বরকত হবে। আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, বিসমিল্লাহির রহমানির রহীমের মধ্যে রবকত আসলে। কোথেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজ শরীফ গেছেন, রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাত্রে। কেন উপরে নিলেন আল্লাহ পাক? এই রাত্রে মক্কার কাফেরেরা পরিকল্পনা করছিলো, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিচে পঠানোর জন্য মানে কবরে পাঠানোর জন্য। আল্লাহ পাক রব্বুল আলামিন বলেন, ও কাফেরের বাচ্চারা, তোমরা যেই রাত্রে আমার বন্ধুকে নিচে পাঠানোর পরিকল্পনা করছো, কবরে নামানোর পরিকল্পনা করছোস, সেই রাত্রে আমি আমার বন্ধুকে উপরে উঠাবো।

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজের সফরের থেকে আসার পরে ফজরের নামাজ পড়ে খানায়ে মধ্যে বসেছেন, সাহাবায়ে কেরাম গোপনে গোপনে যেই কয়জন মুসলমান হইছিলেন উনারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনার সাথে আল্লাহ পাকের কথপোকথন হইছে কিনা? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হ্যাঁ আল্লাহ পাকের সাথে আমার কথা হইছে। সাহাবীরা বলেন ইয়া রসূলাল্লাহ, আপনি আল্লাহর কথা শুনেছেন কি না? বলেন, হ্যাঁ শুনেছি। বলে, কেমন শুনেছেন আল্লাহ পাকের কথা কেমন? বলে, এটা এমন এক ধরনের কথা, যেই কথার মধ্যে কোন শব্দ নাই, কথার মধ্যে কোন আওয়াজ নাই, যে কথা শুধু একজন বলে আরেকজন শোনে পার্শবর্তী কেহ শুনে না, আর কেমন কথা? কেমন শুনা এইটা কাউকে বুঝানো যায় না। সাহাবীরা বলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি আল্লাহ পাককে দেখেছেন কিনা? বলে অবশ্যই দেখেছি। বলে ইয়া রাসুললাল্লাহ আল্লাহ দেখতে আপনি কি রকম দেখলেন? আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমার সাহাবীরা এটা দেখা যায়, কিন্তু দৃশ্যটা বর্ণনা করা যায় না, আল্লাহু আকবার। হযরত ফাতেমা (রা.) যখন ঘরের কাজে বেশী ব্যস্ত হইয়া যাইতেন, হাসান-
হুসাইন তো ছোট ছোট দুনোজন দুষ্টামি করতেন, গিয়ে আম্মাকে কাজের মধ্যে বিঘ্ন ঘটাতেন, হযরত ফাতেমা (রা.) বিরক্ত হইয়া ছেলেদেরকে বলতেন বাবা তোমরা দুনোজন এই মুহুর্তে নানাজীর কাছে চলে যাও, নানাজী কোথায়? নানাজী রওযায়ে আকদাসের ভিতর। নানাজী তো কবরের ভিতর, দুনিয়াতে নাই নানাজী আখেরাতে, একথাটা ফাতেমা (রা.) জানে কি জানেনা? জানে। তো জানা সত্ত্বেও ছেলেদের বলে, তোমরা উভয়ে এই মুহূর্তে নানাজীর কাছে চলে যাও, তো নাতীরা দুনোজন নানার জন্য পাগল দেওয়ানা, খালি নানার কথা শুনলেই মারে গল্লা ছুট, এক দৌড় দিয়ে যাইয়া নবীজির রওযার উপরে উঠে বসে যায়। হাসান-হুসাইন (রা.) এর জন্য নানাজীর কবরে উঠা এইটা তো আশ্চার্য্য জনক কিছু না। কারণ কি? এই দুই নাতীতো জীবদ্দশায় রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুই কান্দে উঠে বসে থাকতেন। নাতীরা দুনোজন রওযায়ে আকদাসের উপর উঠে বসে।

আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, ভীতরের থেকে নানাজী কথা বলে, নাতীরা উপর থেকে সেটা শোনে আর উত্তর দেয়। উপর থেকে নাতীরা কথা বলে ভিতর থেকে নানাজী সেটা শুনে আর উত্তর দেয়, আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, রওযায়ে আকদাসের চতুর্দিকে শত শত মানুষ জিয়ারত অবস্থায় দাড়ানো, নানা নাতীর যে কথোপকথন চলতেছে নানা নাতী ঠিকমত জনে আর উত্তর দেয় কিন্তু যেয়ারত কারী মানুষ গুলো কিছুই শুনেনা। লা মাকানের মধ্যে দুই বন্ধুর মধ্যে কথোপকথন হইতেছে, এক বন্ধু বলে আরেক বন্ধু শুনে। আল্লাহ বলে নবীজি শুনে, নবীজি বলে আল্লাহ শুনেন কিন্তু রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কেরামান কাতিবীন যে ছিলো ঐ ফেরেশতা কিছুই শুনেনা। আপনারা বলবেন এই খানে তো আরেক প্যাঁচ বাধাইলেন, জিব্রাইল তো যাইতে পারলোনা, সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত যাইয়া জিব্রাইলের গতীর মধ্যে ব্রেক লাগাইছেন। জিব্রাইল বলেন, আমি যদি আর একটা চুল পরিমান সামনে অগ্রসর হই, আমার ডানা পাখা
আল্লাহর নূরের তাজাল্লিতে জলিয়া পুড়িয়া সারখার হইয়া যাবে। ইয়া রসূলাল্লাহ, এখান থেকে আপনি আল্লাহ পাকের স্পেশাল মেহমান। আপনাকে এখন একা যাইতে হবে, আল্লাহ পাক আপনার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করে বসে আছেন। জিব্রাইল বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহ পাকের স্পেশাল মেহমানদারিতে এখন আপনাকে যাইতে হবে, আমি আর এখন আপনার সাথে যাইতে পারবো না। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় পারলেন না কেরামান কাতেবিন কেমনে গেল? আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, জিব্রাইল নিজস্ব আকৃতিতে ছিল্যে স্বশরীরে ছিলো এজন্য জিব্রাইল যাইতে পারেনাই। কিন্তু কিরামান-কাতেবীন স্বশরীরে ছিলো না, নিজস্ব আকৃতিতে ছিলো না, কেরামান-কাতেবীনের অস্তিত্ব মুহাম্মাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জাতে গেরামির মধ্যে মিশ্রিত ছিলো, আটা আর পানিকে মিলাইয়া যে রকম রুটি বানানোর জন্য খামির বানান্যে হয়। কেরামান কাতিবীন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জাতে গেরামীর মধ্যে ঐ খামিরের পানির মতো মিশ্রিত ছিলো যার কারণে কেরামান-কাতিবীন যাইতে পারছে, জিব্রাইল যাইতে পারে নাই। তো কেরামান কাতেবীন যাইয়াও কি লাভহইছে? দুই বন্ধর কথা বার্তা কেরামান কাতেবীন তো কিছুই শোনেনা।

আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, কথায় কথা লম্বা হইয়া যায়, আমি আপনাদেরকে এখানে নিয়ে আসছিলাম একটা কথা বুঝানোর জন্য, এই মেরাজের রাত্রে আল্লাহ পাকের দরবারে যখন বন্ধু যাইয়া পৌঁছাইছে আল্লাহ পাক তখন জিব্রাইলকে ডাক দিয়ে বলে ও জিব্রাইল, আমার বন্ধুকে বেহেস্ত আর দোযখ একটু ভ্রমন করাইয়া আনো। জিব্রাইল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে লইয়া বাহির হইছেন নবীজিকে বেহেস্ত-দোযখ ভ্রমন করানোর জন্য। আল্লাহর হবীবকে নিয়ে জিব্রাইল প্রবেশ করলেন জান্নাতের মধ্যে সেখানে গিয়ে দেখেন ৪টা নহর প্রবাহিত হইতেছে। সেগুলো হলো-দুধের, পানির, মধুর ও শরবতের। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহ

আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন জিবরাইল। এই যে ৪টা নহর প্রবাহমান এই ৪টা নহরের শুরু কোথায় শেষ কোথায়? জিব্রাইল (আ.) বলে, ইয়া রাসূল (সা.) এই ৪টা নহরের শেষ কোথায় এইটা আমি আপনাকে বলতে পারি কিন্তু শুরু কোথায় আমি নিজেও জানিন নবীজি বলেন শেষ কোথায়? জিব্রাইল (আ.) বলে ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের ময়দানে আপনার উম্মতকে পান করানোর জন্য আল্লাহ পাক যে আপনাকে একটা কূপ দিয়েছে যেই কুপটার নাম হলো কাউসার। এই কাউসারের মধ্যে ৪টা নহর একত্র হইয়া পড়বে এবং এগুলো কাউসারের মধ্যে গিয়ে শেষ হবে।

রসূলে আকরাম (সা.) বল্লেন যে বুঝলাম কিন্তু শুরু কোথায়? জিব্রাইল বলে ইয়া রসুললুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করেন, শুরু কোথায় আমি নিজেও জানিনা। ঠিক এই সময় একটা ফেরেশতা দোনো জনের সামনে এসে দাঁড়ালো, বলে আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ আমার ভাইয়েরা দোস্ত আহবাব, আমি আপনাদেরকে আরেকটা সুদ্ধ কথা বুঝাই, আসসালাতু ওয়াস সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহ পাক আমাকে পাঠাইছেন আপনাকে এই ৪টা নহরের উৎস দেখানোর জন্য। জিব্রাইল নিজেইতো জানেনা, ইয়া রসূলাল্লাহ কষ্ট করে একটু আমার সাথে আসেন, আমি আপনাকে দেখাই এই ৪টা নহরের উৎস কোথায়। যাইতে যাইতে ফেরেশতা দোনো সরদারকে নিয়ে এক যায়গায় নিচের দিকে একটা সিড়ি নামছে ঐ সিড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামাইছে। নামানোর পরে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেন চতুর্দিকে যাওয়ার কোন জায়গা নাই? সামনের দেওয়ালে একটা দরজা আছে কিন্তু দরজাটার মধ্যে বড় তালা লাগানো। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ফেরেশতা তুমি আমাকে দেখানোর জন্য কোথায় নিয়ে আসছো? এমন জায়গায় নিয়ে আসছো যেই জায়গায় চতুর্দিকে যাওয়ার জন্য কোন পথ নেই। সামনের দিকে একটা দরজা আছে কিন্তু দরজার মধ্যে বড় তালা লাগানো, ফেরেস্তা বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা.) দরজায় তালা
লাগানো থাকলে আপনার অসুবিধা কি? চাবিতো আপনার কাছে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই ফেরেশতা কি কথা বলো, আমার কাছে চাবি আসবে কোথেকে, আমি কি জীবনে আর কোন দিন এখানে আসছি না তালা দেখছি? ফেরেস্তা বলে ইয়া রসূলাল্লাহ দরজার উপরে চৌকাঠের দিকে একটু তাকান কি লেখা আছে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন সেখানে লেখা আছে-

بسم الرحمن الرحيم

ফেরেস্তা বলে এইটাই তালার চাবি, কিন্তু হাত ও জবান লাগবে রহমাতুল্লীল আলামীনের। ইয়া রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার রহমতের হাতে আর রহমতের জবানে একটু তালাটা স্পর্শ করেন একটু মুখে বলেন,

بسم الله الرحمن الرحيم

দেখবেন তালা খুলে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালাটাকে হাত মোবারক দিয়ে স্পর্শ করে মুখে বলেন,

بسم الله الرحمن الرحيم

সঙ্গে সঙ্গ তালা খুলে গেছে, ফেরেশতা এক কদম আগাইয়া দরজাটা খুলে দিছে, রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাইলকে নিয়ে ঢুকে দেখে ছোট্ট একটি রুমের চর্তুদিকে দেওয়ালের গোড়ায় ড্রেন করা। পার্শ্বে দিয়ে এই  বাহিরের দিকে একটা ড্রেন করা। এই রুমের মধ্যে ৪টা দেওয়াল, সামনে একটা পিছনে একটা ডানে একটা বামে। হাবীব আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে ঢুকে দেখেন ডান পার্শ্বের দেওয়ালের মধ্যে বড় অক্ষরে লেখা আর রহমান পিছনের দেওয়ালের বড় অক্ষরে লেখা আর বহীম ৪ দেওয়ালের মধ্যে ৪টা কালিমা লেখা। প্রত্যেকটা কালিমার আখেরী হরফ থেকে একটা ঝরনা নিচের দিকে প্রবাহিত হইতেছে। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর মিমের থেকে দুধের নহর
প্রবাহিত হইছে আল্লাহ এর হা থেকে মধুর নজর প্রবাহিত হইছে আর রহমান এর নুনের থেকে পানির নহর প্রবাহিত হইছে আর রহীম এর মিমের থেকে শরবতের নহর প্রবাহিত হইছে। নিচে পড়ে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে পড়ে, ড্রেনের থেকে প্রবাহিত হইয়া ঐ ছিদ্র দিয়া বাহিরের ড্রেনে যায়। সেখান থেকে গিয়ে আল্লাহর হাবীব জনাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাউজে কাউসারের মধ্যে পড়ে। ফেরেস্তা ভিতরে ঢুকে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ কি বুঝলেন? নবীজী বলেন এগুলো কোথায় থেকে প্রবাহিত হইতেছে উৎস দেখলাম। ফেরেশতা বলে ইয়া রসুলাল্লাহ জান্নাতীরা আবদী তথা চিরস্থায়ী। জান্নাতের জীবনের শুরু আছে শেষ নেই। এখন এই আবদী মানুষগুলোর আবদী হায়াতের মধ্যে তাদের খাদ্য লাগবে আবদী। এখন অন্য স্থান থেকে যদি এই নহর গুলো শুরু হয় তাহলে নহর গুলো একদিন শেষ হয়ে যাবে। এজন্য আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তার জাত ও সিফাতের থেকে এটার উৎস করেছেন, যাতে আল্লাহর জাত যেমন আবদী, আল্লাহ পাকের সিফাত যেমন আবদী, এমনি ভাবে জান্নাতের নহর গুলোও যেন আবদী থাকে, জান্নাতীদের খাদ্য কোন সময় যেন না ফুরায়। ফেরেশতা বলে ইয়া রাসূলাল্লাহ, এই জন্য আপনার উম্মতকে ৪টা কালিমার দ্বারা গঠিত যেই বাক্যটি দেওয়া হয়েছে, আপনার উম্মতকে বলবেন, প্রত্যেক কাজের শুরুতেই এই বাকাটা পাঠ করে তবেই তা বরকতের বানী হবে এজন্য হুজুর পাক (সা.) বলছেন,

كل أمر دي بال لا يبدأ بسم الله فهو ابدأ أو اقطع او اجرم

او كما قال عليه الصلاة والسلام

সকল কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়বেন তো ইনশাআল্লাহ। 


কওমি মাদ্রাসায় কেন পড়বো

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ-- "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছন।"



আল্লাহ বাস্তুল আলামিনের শাহী দরবারে অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। এবং আকায়ে নামদার তাজেদারে মদিনা, মাহবুবে কিবরিয়া, জিগার গোশায়ে আমেনা রহমাতুল্লিল আলামিন, রাহমাতুল্লিল আলামিন, মুরাদুল মুস্তাকীন, হাদিয়ে সুবুল, সাইয়েদে উলদে আদম, মুহাম্মাদে আরবী মক্কী, মাদানী, হাশেমী, মুত্তালবী (সা.) এর খেদমতে লাখো কোটি দরুদ ও সালাম এর হাদিয়া, যার আদর্শ আর তরীকার মধ্যে রয়েছে মানব জাতীর জন্য দুনিয়া এবং আখেরাতের কামিয়াবি আর সফলতা। আমি আপনাদের খেদমতে সূরা তাওবার ১১১ নং আয়াত তেলাওয়াত করেছি। এই আয়াতের আলোকে আল্লাহ পাক যতদুর বলার তৌফিক দান করেন, ততটুকু বলা


কুরআন শরীফের প্রতিটা আয়াত প্রতিটা সুরা নাফিল হওয়ার একটা প্রেক্ষাপট আছে, যাকে বলা হয় শানে নুফুল, আমি যেই আয়াতে কারিমা তেলাওয়াত করেছি, এই আয়াত কখন কোন জায়গায়, কোন প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে সেই আলোচনায় আজকে করব। নবীজি নবুওয়াত প্রাপ্ত হওয়ার ১১ তম বছর মদিনা শরীফ থেকে ৬জন লোক এসেছে মক্কা শরীফে হজ্ব করার জন্য, এরা কেন এসেছে? হজ্ব করার জন্য এরা হজ্ব করবে কার নামে? তৎকালীন সময় এরা ছিল মদিনার কাফের, এরা হজ্জ করে লাত, মানাত, জ্জা, মুর্তির নামে, হুবলের নামে, আমরা এবাদত করি কার নামে? আমরা বলতে আমাদের এই যুলের লোকেরা, আল্লাহর নামে। আপনারা বলছেন আল্লাহ অথচ আমি দেখতেছি কেহ করে মায়ের নামে, আর কেহ করে বাবার নামে, আমাদের চার পাশে যত হিন্দু আছে তারা করে মায়ের নামে, মা দুর্গ দুর্গা মা কালি, মা সরস্বতী, মা লক্ষী, মা মনীষা, মা নারায়ন, মা গরু , গরু হিন্দুদের কি? মা। বলেন গরু যদি মা হয়, বাবা কে? ষাড় না গরু? ষাড় হোক, গাভী হোক, বলদ হোক গরুর জাতটাই তাদের মা। তাহলে বাবা কই? 

আমি বলি বাবা তারা পাবে কই , বাবা যত আছে সব আমাদের। বাবা ভান্ডারী, বাবা আটরশী, বাবা দেওয়ান বাগী, বাবা রাজারবাগী, বাবা কুতুব বাগী, বাবা সুরেশ্বরী, বাবা চন্দ্রপাড়া, বাবা এনায়েতপুরী, বাবা সুন্দগঞ্জী, বাবা তালা, বাবা সালা, বাবা গাধা, বাবা ঘোড়া, বাবা বদনা, বাবা কেল্লা, বাবা বালু, বাবা লালু, বাবা লেংটু। হাসবেন না, মা পুজারী হিন্দুরা যেমন জাহান্নামী, বাবা পুজারী মুসলমানরাও জাহান্নামী। পুজা তথা সেজদা পাবে কেবল মাত্র আল্লাহ। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা যত বেশী হোক, যত বড় হোক গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন, কিন্তু শিরক ক্ষমা করবেন না। কেন? আল্লাহ বলেন আমি কেন শিরক ক্ষমা করবো? তুমিতো করনা। তুমি বান্দা হয়ে শিরক ক্ষমা করনা, আমি আল্লাহ হয়ে কেন শিরক ক্ষমা করবো? তুমি গোলাম হয়ে কেন শিরক ক্ষমা করনা, আমি মালিক হয়ে কেন শিরক ক্ষমা করবো, আমরা কি শিরক করি?


ধরেন আপনি বাড়ীতে গেলেন খেতে বসলেন তরকারিতে এতো লবন, খাওয়ার উপায় নাই। চোখ রাঙ্গাইয়া বিবিকে জিজ্ঞেস করলন, রান্না করার সময় তোমার মন কোথায় থাকে? হিসাব করে লবন মরিচ পারো না? এতো লবন হলে কি খাওয়া যায়? বউ ক্ষমা করে দাও, আমি যখন রান্না শুরু করেছি, হঠাৎ বাবু ঘুম থেকে উঠে কান্না শুরু করছে ৪/৫ মাসের বাবু, ওকে সামলাতে গেলাম আগে যে লবন দিয়ে ছিলাম ভুলে গিয়েছে, আর কোন দিন এমনটা হবেনা, আমাকে ক্ষমা করে দাও। বলেন স্বামী যদি ভদ্র মানুষ হয়, বিবির এ অন্যায় ক্ষমা করবে কিনা? হায় আল্লাহ সিমিত কিছু মানুষ বলছে আর সব এখানে জালেম, বউকে এরা ক্ষমা করতে রাজি নাই। বলেন স্বামী যদি ভদ্র মানুষ হয় বউয়ের এতটুকু অন্যায় ক্ষমা করবে কিনা? করবে মাশাআল্লাহ। আরেক দিন স্বামী বাজার থেকে রাত ১২টায় বাড়ীতে গেলে ঘরের দরজায় আওয়াজ দিলো, বিবি দরজা খুলে দিলো, দেখা গেল পাশের বাড়ীর এক বখাটে যুবক ঘর থেকে বের হয়ে গেল, স্বামী গর্জন জিজ্ঞেস করল, আমার অনুপস্থিতিতে যুবক এই ঘরে কেন? স্ত্রী বলে তুমি নাই একা একা ভাল লাগছিলোনা, ওকে এনে সাথে রেখেছি আর রাখব না ক্ষমা করে দাও, বলেন স্বামী ক্ষমা করবে? না। কেন আগেরটা তো ক্ষমা করছে? আগেরটা ছিলো ভুল, পৃথিবীর যেই কোন স্বামীর অধিকারের মধ্যে শরীক, স্ত্রীর সাথে থাকা স্বামীর একক অধিকার, দুনয়িার কোন স্ত্রী যদি সেই একক অধিকারের মধ্যে পর পুরুষকে শরীক করে পৃথিবীর কোন রুচিশীল স্বামী ক্ষমা করতে পারে না। আল্লাহ বলেন বান্দা, ঠিক তেমনী ভাবে সেজদা পাওয়া আমি আল্লাহর একক অধিকার, কেহ যদি এই একক অধিকারের মধ্যে মা অথবা বাবাকে শরীক করে, দেবদেবী কে শরীক করে, আমি আল্লাহ ক্ষমা করতে পারিনা। আল্লাহ আমাদেরকে শিরক ত্যাগ করার তৌফিক দান করেন, বলি আমিন। আপাতত এর বেশী এই লাইনে বলার সুযোগ হাতে নাই। 

মদিনা হতে কতজন এসেছে? ৬জন। মদিনার এই ৬ জনের সাথে নবীজির দেখা, নবীজির সঙ্গে কিছুক্ষন কথা বলার পর, নবীজির ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে এই ৬জন মুসলমান হয়ে গেল এবং এই ৬জন হল মদিনায় প্রথম মুসলমান, এর আগে মদিনায় কোন মুসলমান ছিলো না। এই ৬জন নবীজির দোয়া নিয়ে মদিনায় গিয়ে অতি গোপনে ১ বছর দাওয়াতি কাজ করে নতুন মুসলমান বানালো ৭জন। পরের বছর নতুন ৭জন, পুরাতন ৬জন থেকে ৫জন, ৭+৫=১২ জন। এই ১২জনে পরের বছর আবারো মক্কায় আসলো।


নবীজির নবুওয়াতের বারোতম বছর, মিনায় আকাবা নামক একটা জায়গা আছে, সেই জায়গায় অতি গোপনে গভীর রাতে নবীজি তাদের কাছে আসলো এবং তারা নবীজির হাতে বায়াত হল। এক দল বলে বাইয়াত নাই। বাইয়াত আছে কিনা দেখেন, এই বাইয়াতকে বলা হয়, বাইয়াতে আকাবায়ে উলা, অর্থাৎ বাইয়াতে আকাবায়ে উলা, এই বাইয়াতে আল্লাহর এবাদত বন্দেগীর উপর অটল অবিচল থাকার বাইয়াত।

 বাইয়াত গ্রহন কারীরা নবীজির হাতে বাইয়াত ও দোয়া নিয়ে চলে যাবেন এমন সময় এদের আমির মদিনার খাজরাজ গোত্রের নেতা আসাদ ইবনে যুরারা বল্লেন হুজুর আমরা নতুন মুসলমান, কুরআন তেলাওয়াত জানিনা, মাসয়ালা মাসায়েল জানিনা, আমাদেরকে মক্কা থেকে একজন অভিজ্ঞ পুরো কারী সাহাবী দেন, যিনি আমাদের পড়াবেন ও মাসয়ালা মাসায়েল শিখাবেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নবীজি মক্কায় প্রশিদ্ধ কারী সাহাবী হযরত মুসআব ইবনে ওমায়ের এবং তার সহাযোগী হিসেবে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাখতুম (রা) এই দুই জনকে দিলেন, একজন চোখে দেখে, আর একজন চোখে দেখে না। তারা হলো ১২ জন, নবীজি দিলেন ২জন, মদিনায় আছে একজন, মোট ১৫ জন, ১৩জন ছাত্র, দুই জন শিক্ষক এই ১৫ জনের শিক্ষার জন্য মদিনায় একটা মাদ্রাসা  দরকার । কিন্তু মদিনা তখন কাফের বেঈমান-দের দখলে, কে দিবে জায়গা কে করে দিবে ঘর, এদের আমির বল্লেন হতাশ হওয়ার দরকার নাই। তোমরা আমার ঘরেই মাদরাসা শুরু করে দাও, এখান থেকেই মদিনায় প্রথম মাদরাসা চালু হলো। ঘরে হয়রত আসাদ ইবনে যুরারার বসত ঘরে, এবং মক্কার প্রথম মাদরাসাও ঘরে থেকেই শুরু হয় হযরত আরকাম (রা) এর বাড়ীতে, ক্লাস শুরু হয় এশার পর শেষ হয় ফজরের সময়। মক্কার প্রথম মাদরাসা ঘরে মদিনার প্রথম মাদরাসাও ঘরে, বাংলাদেশের প্রথম কওমী মাদরাসা তথা হাটহাজারী মাদরাস্য এটাও চালু হয়েছে ঘরে, বলবো সংক্ষেপে বলছি । হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ হাবীবুল্লাহ রহ তিনি দেওবন্দ থেকে শিক্ষা অর্জন করে বাড়ীতে আসলেন, এসে দেখলেন ব্রিটিশ বেনিয়াদের ছত্র ছায়ায় সমাজের রন্দ্রে বন্দ্রে শিরিকে ভরে গেছে তিনি তার বাবাকে বল্লেন বাবা  আমি যদি কোন মসজিদে খেদমত করি, নাদরাসায় খেদমতে করি, কমিটির চাপে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে বিদায়াত করা লাগবে, শিরক বিদায়াত করব? এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমাকে এক জোড়া হলেও গরু কিনে দাও, আমি হাল চাষ করব। জিবিকা নির্বাহের জন্য। আর নিজের ঈমান আমল বজায় রাখবো নিজেরটা নিজে। 

"সকাল-সন্ধ্যার মা'মুলাত "

চট্টগ্রাম ফটিক ছড়ি বিবির হাট থেকে ১ জোড়া হালের গরু কিনে আনা হলো এতো বড় আলেম হাল চাষ করবে, পরের দিন সকালে গোয়াল ঘরের দরজা খুলে দেখে দুহাটা গরুই মারা গেছে, কোন কারনে মারা যেতেই পারে, বাবা বললো সমস্যা নাই, পরের হাট থেকে আরো এক জোড়া গরু কিনে আনা হল, মাশায়াখে চাটগাম নামে একটা কিতাব আছে সেখানে দেখবেন, পরের দিনে এই দুইটাও মারা গেছে, এবার বাবা বলে হাবীবুল্লাহ তোকে এতো লেখাপড়া শিখিয়েছি, তুই হাল চাষ করবি, এটা আল্লাহর পছন্দ নয়। মসজিদ মাদরাসায় চাকুরী নিলে বেদআত করা লাগবে, বাদ দাও তুমি আমার ঘরেই মাদরাসা চালু করে দাও। ঐ ঘরের মাদরাসাটা আজ দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ মাদরাসা মঈনুল ইসলাম আটহাজারী মাদরাসা। সুবহানাল্লাহ। মক্কার প্রথম মাদরাসা ঘরে, মদিনার প্রথম মাদরাসা ঘরে, বাংলাদেশের প্রথম কওমী মাদরাসা ঘরে, বালেন মক্কার প্রথম মাদরাসা বেসরকারী, মদীনায় প্রথম মাদরাসা বেসরকারী, সরকার মাদরাসা করাতো দূরের কথা, সরকার তো ইসলামকে সহ্য করতেই পারেনা, আমাদের সরকারের কথ্য বলছিনা, ঐ সময় মক্কা মদিনার সরকারের কথা বলছি, বলেন মক্কার প্রথম মাদরাস্য বেসরকারী, মদীনার প্রথম মাদাসা বেসরকারী, এখন আমাদের দেশে যেগুলো বেসরকারী মাদরাসা আছে সেগুলি মক্কা মদিনার মাদরাসার সাথে মিলে গেছে। তো মক্কা মদিনার মাদরাসার সাথে যেই মাদরাসা মিলবে সেটাই তো খাটি মাদরাসা। মাদরাসা শুরু হয়েছে মদিনায় আসাদ ইবনে যুরারার ঘরে, খবরটা বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ল সারা মদিনায় যে, মদিনায় নতুন ধর্মের নতুন মাদরাসা চালু হয়েছে। মদীনায় আউস গোত্রের নেতা সায়াদ ইবনে মুয়াজ, তার এক বন্ধু উসাইদ ইবনে উবাইর, বড় বাহাদুর এই দুই জন সংবাদ পেয়ে রক্ত চক্ষু নিয়ে আসতেছে, মদিনায় নতুন ধর্মের নতুন মাদরাসা চলতে দেওয়া হবে না। এখনি ভেঙ্গে চুরে গুড়িয়ে দিব। সুই নেতা আসতেছে মাদরাসা ভাঙ্গার জন্য মাদরাসায়।

কাছাকাছি এসে সায়াদ ইবনে মুয়াজ দাঁড়িয়ে গেলো, বন্ধু উসাইদকে বলে তুই গিয়ে দেখ কত জন ছাত্র, কতজন উদ্ভাদ, কতজন পাহারাদার, সেই আন্দাজে হামলা করতে হবে। উসাইদ ইবনে ওবাইর মাদরাসায় প্রবেশ করতেই পাইলো বাড়ীর মালিক আসাদ ইবনে জুরারাহ কে। আসাদ তোর এতো বড় সাহস তোর বাড়ীতে বেদীনের তালীমা ঐ সময় কেহ মুসলমান হইলে কাফেররা বলত বেদীন, এই কারী সাহেবকে কোথায় থেকে এনেছো? মদিনার মানুষকে বেদীনের মন্ত্র শেখায়। একে বারে চিৎকার করে একাকার। কারী সাহেব মুসআব ইবনে ওমায়ের (রা) বলেন, ভাই উসাইদ এতো রাগ হচ্ছো কেন? একটু বসো আমাদের নতুন ধর্ম সর্ম্পকে একটু শুনো, যদি ভাল লাগে মানবা, ভাল না লাগলে তোমার যা খুশি তাই করিও। আগে একটু শেনো, উসাইদ বলে এটা তো ভদ্র লোকের কথা শরীফ লোকের কথা। আমি বিরোধিতা করার আগে তো সে সম্পর্কে জানা দরকার, আচ্ছা বসলাম, বলো তোমাদের এই নতুন ধমের থিউরি কি? মুসআব ইবনে ওমায়ের (রা) তাওহীদ, রিসালত, আখেরাত এই তিন বিষয় কিছু কথা বলিলেন তার পরে কুরআন থেকে তেলাওয়াত শুরু করলেন, কিছুক্ষন তেলাওয়াত শুন্যার পর উসাইদ বলে ভাই তেলাওয়াত বন্ধ করো, আগে বলো আমিও যদি মুসলমান হতে চাই তাহলে আমার কি করতে হবে? সুবহানাল্লাহ। কারী সহেব তোমার চার কাজ করলেই হবে, (১) তোমাকে গোসল করতে হবে, কারন কাফের নাপাক (২) তোমাকে পবিত্র কাপড় পরিধান করতে হবে (৩) তোমাকে কালিমা পড়তে হবে (৪) তুমি যে মুসলমান হইলা আল্লাহ যে তোমাকে দয়া করলো শুকরিয়া তান ২ রাকাত নামাজ পড়বা। উসাইদ ইবনে উবাইর বলে বাহিরে বড় নেতা দাঁড়িয়ে আছে, বাড়ীতে যাব, গোসল করব, আবার আসব? সেই পরিস্থিতি নাই, মাদরাসার ভিতরে কি গোসলের ব্যবস্থা আছে? কারী সাহেব বলল, আছে আছে। এখন উসাইদ গোসল করতে ঢুকছে, গোসল করে পাক হয়ে পবিত্র কাপড় পড়ে মুল্লাম হয়ে গেছে সুবহানাল্লাহ।আসছে

মাদরাসা ভাংতে এখন কালিমা পড়ে ফেলছে। তারপরে বলে শোন আমি গিয়ে ছলে বলে কৌশলে সায়াদকে মাদরাসায় পাঠাবো। আমার বিশ্বাস, তোমারা আমার সাথে যেই ব্যবহার করছো, আমার রাগের বদলে রাগ হও নাই, এরকম ব্যবহার করলে সায়াদও মুসলমান হতে পারে, তবে একটা শর্ত, আমি যে মুসলমান হয়েছি এটা আগেই বলে দিওনা, এটা শুনলে মাথায় রক্ত উঠে যাবে, তখন তার মাথায় আর কিছু ঢুকবে না। এখন উসাইদ বের হয়ে গিয়ে সায়াদের সামনে দাড়াইছে, সায়াদ বলে উসাইদ কি দেখেছে, কয়জন ছাত্র, কয় জন উসতাদ, করজন পাহারা দায়, আর কি পড়ায়, কি বলে, উসাইদ বলে, মাদরাসায় আমি কি দেখেছি না দেখেছি এই বিষয়ে আমি তোমাকে কিছুই বলতে পারবো না, সায়াদ ধমক দিয়ে বলে, তোকে পাঠাইছি মাদরাস্য তদন্ত করতে, তুই মাদরাসা থেকে ঘুরে এসে কিছুই বলবিন্য তো বলবে কে? উসাইদ বলে চিল্লা চিল্লি করে লাভনাই, মাদরাসা সর্ম্পকে জানতে হলে তুমি নিজে যাও, উদ্দেশ্য ভিতরে পাঠানো। সায়াদ বলে উসাইদ একটু আগে আমি যেই উসাইদ মাদরাসায় পাঠিয়েছি, আর এখন যেই উসাঈদ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছো আমি দুই উসাইদের মধ্যে মিল খুজে পাচ্ছি না। কিছু একটা ঘটে গেছে যা তুই আমাকে বলছিস না, ঠিক আছে তোর কাছ থেকে আমি কিছু জানতেও চাই না, আমি নিজেই যাচ্ছি, আজ আমার একদিন আর তাদের একদিন। এবার সায়াদ যাচ্ছে আসাদের বাড়ীর মাদরাসাতে। সম্পকে দুই জন আপন খালাতো ভাই। সোবহানাল্লাহ। এক খালাতো ভাইয়ের বাড়ীতে মাদরাসা আরেক খালাতো ভাই যাইতেছে ভাজার জন্য, এটাও একটা কুদরতের কারিশমা। বাড়ীতে প্রবেশ করতেই পাইলো খালাতো ভাই আসাদ কে, আর দেরী করে নাই, তরবারি কোস মুক্ত করে ফেলেছে, তরবারি নাচাইয়ে নাচাইয়ে বলতেছে, খালাতো ভাই আসাদ, লাত মানাত উজ্জার কসম, তুই যদি আমার খালাতো ভাই না হইতি এখনি তোর মাথা উড়িয়ে দিতাম, কিন্তু পারছি না, তোকে মারলে আমার মা মনে দুঃখ পাবে, তুই মায়ের বোন পুত,


তুই এটা করলি কি আমাদেরকে ধর্ম থাকতে তুই নতুন ধর্ম কেন আনলি, আনসোছ ভালো কথা, তোর ঘরে সেই ধর্মের তালীম? মুসয়াব ইবনে ওমায়ের কথা কেড়ে নিয়ে বললো সায়াদ, তোমার খালার বাড়ী হয়েছে, এতো রাগ হচ্ছো কেন? আগে আমাদের এই নতুন ধর্ম সম্পকে শোনো ভালো লাগলে মানবা, ভালো না লাগলে যা খুশি তাই করবা, সাদ বলল, কথা তো মন্দ নয়। আচ্ছা, আমি বসলাম, আমাকে বুঝাও তোমাদের এই নতুন ধর্মের থিউরি কি? কারী সাহেব তাওহীদ, রেসালত, আখেরাত থেকে কিছু বয়ান, তারপরে কিছুক্ষন তেলাওয়াত করার পর, সাদ বলে ভাই তেলাওয়াত বন্ধ কর, আগে বলো, আমিও যদি মুসলমান হতে চাই আমার কি করা লাগবে? সুবহানাল্লাহ। ইসলাম গ্রহণকারীদের ৪ কাজ করলে হবে, ৪কাজ কাজ করে সায়াদও মুসলমান হয়ে গেল। এসেছিলো মাদরাসা ভাঙ্গার জন্য, যখন মাদরাসা সর্ম্পকে জানত না, মাদরাসায় এসে যখন জানলো, নিজেরাই মাদরাসা ওয়ালা হয়ে গেল, সুবাহানাল্লাহ। এখনো অনেকে দুর থেকে বলে জঙ্গী সন্ত্রাস হয়, আমরা বলব না, কওমী মাদরাসা সম্পর্কে বাহিরে প্রোপাগান্ডা করিও না, কওমী মাদরাসায় আসো, দেখো, কওমী মাদরাসায় জঙ্গী, সন্ত্রাস হয় না, কওমী মাদরাসায় পৃথিবীর সেরা মানুষ তৈরী হয়। কওমী মাদরাসায় কি তৈরী হয়, বলার সময় আমার হাতে নাই। মক্কা শরীফের দশ জন ইমাম এই দশ জন ইমামের থাকার জন্য পরিবার সহ সৌদি আরবের সরকার একটা আবাসিক এলাকা তৈরী করে দিয়েছে, আমাদের মন্ত্রীদের মন্ত্রী পাড়ার মতো। ঐ আবাসিক এলাকায় একটা মসজিদ আছে, ইমামদের আবাসিক এলাকায়, আল্লাহর কসম আমার নিজের চোখে দেখা, ঐ মসজিদের ইমাম বাংলাদেশী কওমী আলেম, বাড়ী সিলেট, জকিগঞ্জ, সিলেট দরগা কওমী মাদরাসার ফারেগ। কলুন মক্কায় কতজন ইমামা দশজন একেক জনে একেত ওয়াক্ত ন্যামজ গড়ায় আর বাকীরা মহল্লায় থাকলে মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ে কিনা? পড়ে। কোন ইমামের পিছনে গিয়ে? কওমী ইমামের পিছে, তাহলে ঘটনা কেমন হলো, কাবার ইমামের ইমাম বাংলাদেশী কওমী মাদরাসার ছাত্র। কওমী মাদরাসায় জঙ্গী, সন্ত্রাস বানায় না কাবার ইমামের ইমাম বনায়। আলোচনায় আসি উসাঈদ ও

সায়াদ দুইজন তো মুসলমান হয়ে গেল, সায়াদ  বাহিরে এসে উসাইদের হাত ধরে বললো চলো আমার এলাকায় যাই। বাড়ীতে প্রবেশ না করে বাহিরে দাঁড়িয়ে বললো আউস গোত্রের লোকেরা শোনো, এখন এই মুহূর্তে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসো, নারী-পুরুষ জোয়ান বুড়ো, শিশু-কিশোর কেহ বাড়ীতে থাকবানা, আমার সামনে আসো। তোমাদের সাথে জরুরী কথা আছে, নেতার চিৎকার শুনে সবাই এসে পড়েছে।

সূরাতুল ফাতিহার তাফসীর

সায়াদ বললো আমি দীর্ঘ দিন ধরে তোমাদের নেতা, আজ তোমাদেরকে কিছু প্রশ্ন করবো, খবরদার কোনো প্রকার চামচামী ছাড়া, তেলবাজী ছাড়া, যেটা সত্য সেটাই বলবা। সবাই বললো আমারা প্রস্তুত যেহেতু তুমি অভয় দিয়েছো, সত্য বলতে সমস্যা কি? সায়াদ বললো আমি জানতে চাই, আমি তোমাদের নেতা হিসেবে কেমন? সবাই বললো খুব ভালো. আমার সভাব চরিত্র কেমন? সবাই বলল, খুব ভালো। লেনদেন ভালো, বিচার আচার কেমন? ভালো, সব প্রশ্নে সবাই বললো, ভালো। সায়াদ বললো আমি যদি তোমাদের দৃষ্টিতে এতোটাই ভালো হয়ে থাকি, তাহলে শোনো, আজ আমি তোমাদের কাছে পৃথিবীর সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ ইসলাম ধর্মের সাওয়াত নিয়ে এসেছি। এবং ইসলাম ধর্মকে ভালো মনে করে, আগে আমি নিজে গ্রহণ করেছি, তোমাদেরকেও দাওয়াত দিচ্ছি। তোমরা যদি মুসলমান হয়ে না যাও আমি আর তোমাদের নেতা থাকবোনা, তোমাদের পথ ভিন্ন আমার পথ ভিন্ন। উসাঈদ বলে আল্লাহর কসম, সায়াদের এক বক্তব্যে পুরো কওম কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলো।


আসছিলো মাদরাসা ভাঙ্গার জন্য, এরন নিজেও মুসলমান হলো, পুরো কওম মুসলামান হল। একজন শুধু বাকী ছিলো, সেই একজনও ওহুদের যুদ্ধের দিনে মুসলমান হয়ে যুদ্ধেই, শয়ীদ হয়ে গেছে, এই অর্থে সায়াদের পুরা কওম মুসলমান। যেইভাবে নবীজি সেদিন কুরআনের কোন আয়ার তেলওয়াত করে প্রস্তাবিত করেন নাই। নবীজিও সেদিন নিজেকে দেখিয়েছেন। ست فیک عمر! ও মক্কা বাসী তোমাদের মাঝে আমি ৪০ বছর অতিক্রম করেছি, তোমরা আমার শিশুকাল, কিশোর কাল, যৌবন কাল, বাকি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন দেখেছো, আমি জানতে চাই ওয় وحدقوق صادق ام তোমরা আমাকে এই ৪০ বছরে সত্য পেয়েছো না মিথ্যা পেয়েছ? নবীজী নিজেকে পেশ করেছেন সবাই কি বলেছেন جريناك مرارا وما رأينا فيك إلا صادق আমরা বার বার আপনাকে পরীক্ষা করেছি, যতবার পরীক্ষা করেছি সত্যই পেয়েছি।

পরের বছর ৭২জন এসেছে মক্কায়, তার মধ্যে ৭০জন পুরুষ, ২জন নারী, মিনার আকাবা নামক জায়গায় গভীর রাতে এই ৭২জন নবীজিকে দাওয়াত করে আনলো, সাথে নবীজির চাচা আব্বাসও আসছে, আব্বাস তখন মুসলমান হয় নাই, এই ৭০জন নবীজির কাছে আবেদন পেশ করলো, হুজুর, আর কতদিন মক্কাতে মার খাবেন, রক্ত ঝরাবেন, আর কত সাহাবীদের জীবন যাবে, মদীনায় এখন ঘরে ঘরে মুসলমান আপনি মদিনায় চলে আসেন, সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে আমরা সর্ব প্রকার সহোযোগিতা আপনাকে করবো। নবীজি বলালন শুনো, আমি মদিনায় যেতে চাই, সাহাবায়ে কেরামদের পাঠাতে চাই কিন্তু তোমরা যে দূর্বল কথা বলেছো এই দূর্বল কথায় আমি যেতে পারবো না। সাহাবিদের পাঠাইতে পারি। মদিনার মুসলমানেরা বললেন হুজুর কি বললে আপনি যাবেন? নবীজি বললেন তোমরা একেক জন আমার হাতে হাত রেখে আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে হবে, তোমরা তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আমার এবং সাহাবায়ে কেরামের হেফাজত করবা, এই শক্ত অঙ্গিকার করলে আমি নিজেও যাবো। সাহাবিদেরও পাঠাবো। ৭২ জন মদিনার মুসলমান বললো আমরা প্রস্তুত যেমনি বলবেন তেমনি ওয়াদা করবো। একজন দাঁড়িয়ে গেলো, থামো কি করতে যাচ্ছ্যো তোমাদেরকি জানা আছে আজ সারা দুনিয়ায় নবীজির শত্রু, নবীজিকে আশ্রয় দেওয়ার অর্থ হলো, সারা দুনিয়ার শত্রু হওয়া। কারণ নবীজির যারা শত্রু অশ্রেয় দেওয়ার কারণে আমরাও হবো তাদের শত্রু। এতো বড় ঝুঁকি মাথায় নিবে?  ৭২জন মুসলমান এক বাক্যে বলে উঠলো যেদিন আলিমা পড়ে মুসলমান হয়েছি, সব ঝুঁকি মাথায় রেখেই মুসলামান হয়েছি। নতুন করে ভাবার কিছু নাই, বায়াত শুরু হবে আরেক জন দাঁড়িয়ে গেল।


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা) সুন্দর সুপুরুষ এবং ধনী, সে দাঁড়িয়ে বলে হুজুর। আমার একটা প্রশ্ন ছিলো, কি প্রশ্ন? আপনার স্বজাতি আপনার স্বগোত্রের লোকেরা আপনাকে মেরে ফেলতে চায়, দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়, আমরা আপনাকে মদিনায় আশ্রয় দিবো, আপনার জন্য সাহাবিদের জন্য জানও দিবো, মালও দিবো সব ঠিক আছে, আমায় প্রশ্ন, বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের কি দিবে? এইটার কি কোন বিনিময় আছে? আবেগী সাহাবি জানতে চাইছেন, এত বড় ঝুঁকি যে নিবো কোনো বিনিময় আছে কিনা, নবীজি মুসকি হাসি দিয়ে বললেন, আব্দুল্লাহ। বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদেরকে জান্নাত দিবে, এটা বলার পর তাড়াহুড়া শুরু হয়ে গেছে কার আগে বায়াত হবে, এই বায়াত চলাকালিন সময় মিনার আকাব্য নামক জায়গায় আল্লাহ পাক সুরা তওবার ১১১ নাম্বার নাজিল করেছেন। 

 "ওয়া আখিরি দেওয়ান া অনিল হামদুলিল্লাহ"

وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ

আল্লাহ তাআলা আমাদের আপনাদের সকলকে বোঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন। ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে কোন এক বরকতপূর্ণ বয়ানের মাধ্যমে। 


সকাল-সন্ধ্যার মা'মুলাত ।

       " সকাল-সন্ধ্যার মা'মুলাত "


-: ভূমিকা :-

আমার পীর সাহেব, মাও: ছামছূল আলম সাহেব তার সালেকিন দের জন্য সকাল সন্ধ্যার মামূলাত নির্ধারণ করেছেন যা শুধু সালেকিন নয় বরং সকল মুসলমান দের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজনীয় আমল।মানবজাতি বিভিন্ন সমস্যায় সম্মুখীন হয়ে আছে। যেমন শারীরিক সমস্যা বিভিন্ন শারীরিক রোগ, বালা মুসিবত, অর্থনৈতিক সমস্যা ,অস্বচ্ছলতা, পেরেশানি শত্রু শত্রুতা অনিষ্ঠতা । এবং নফসের সমস্যার কারণে চাইলেও পাপ হতে বের হয়ে না আসতে পারা।  এ সকল সমস্যা হতে মুক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশিত কিছু আমলের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ইনশাআল্লাহ আমল কারী অবশ্যই  ফলাফল প্রকাশিত দেখতে পাবে। যা প্রতিদিন ফজর এবং মাগরিবের পর আমল করতে হবে। 

১ নং ওযীফাঃ

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের আমলঃ

হযরত মা'কিল বিন ইয়াছার (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলে কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল বেলায় 'আউযুবিল্লাহিসসামী-ইল আলীমি মিনাশ শায়ত্ব-নির রাজীম, তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করবে, আল্লাহ পাক তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেস্তা নিযুক্ত করে দেন, যারা সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর ঐদিনে যদি তার মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে সে শহীদী মৃত্যু লাভ করবে।  কেউ যদি সন্ধ্যা বেলায় একই নিয়মে ঐ আমল করে তাহলে সেও উক্ত ফযীলতের অধিকারী হবে। অর্থ্যাৎ সত্তর হাজার ফেরেস্তা সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে এবং ঐ রাতে যদি তার মৃত্যু হয়ে যায়, তবে সে শহীদী মৃত্যু লাভকরবে। মিশকাত শরীফ ১ম খন্ড ১৮৮ নং পৃঃ 

আমার করাচীর হুজুর হযরত মাওলানা শাহ্ হাকীম মুহাম্মদ আখতার সাহেব (রহঃ) বলেন এখানে দুটি জিনিস লক্ষনীয় (১) ফেরেস্তারা নিষ্পাপ ও বেগুনাহ্, ফেরেস্তারা যদি কারো জন্য ক্ষমা চায় আর স্বয়ং আল্লাহ পাক তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য নির্ধারিত করে দেন তবে আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ তায়ালা অবশ্যই তাকে ক্ষমা করবেন। (২) আমাদের মৃত্যু দিনে অথবা রাত্রে হবে, আর হাদীসের মধ্যে শহীদী মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, শহীদী মৃত্যুর জন্য ঈমান শর্ত, ঈমান ব্যতিত কেউ শহীদ হতে পারবে না, তাহলে বুঝা গেল উক্ত আমলকারীকে আল্লাহ্পাক ঈমানী মৃত্যু নছীব করবেন। ছুবহানাল্লাহ।

هُوَ اللّٰهُ الَّذِىْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ ۚ عٰلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ‌ ۚ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ

هُوَ اللّٰهُ الَّذِىْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ اَلْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلٰمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيْزُ الْجَـبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ‌ؕ سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ

هُوَ اللّٰهُ الْخَـالِـقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ‌ لَـهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰى‌ؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ‌ۚ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ 

২ নং ওযীফা :

জাহান্নাম হতে মুক্তির দু'আঃ


اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ


আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার (৭বার) হযরত মুসলিম তামীমী (রাঃ) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে চুপে চুপে বলেছেন হে মুসলিম তামীমী যখন তুমি মাগরিবের নামায শেষ কর, তখন কারও সাথে কথা বলার পূর্বে সাতবার উপরোক্ত দু'আ পাঠ কর। যদি তুমি পাঠ কর, আর ঐ রাত্রে যদি তোমার মৃত্যু হয়ে যায়, তবে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তিনামা লিখে দেয়া হবে। অনুরুপভাবে ফজরের নামাজের যদি কারও সাথে কথা বলার পূর্বে এই দু'আ পাঠ কর, আর ঐ দিনে যদি তোমার মৃত্যু হয়ে যায়, তবে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তিনামা লিখে দেয়া হবে। আবু দাউদ-৫০৭৯, মুসনাদে আহমদ-মিশকাত শরীফ - ১ম খন্ড ২১০ পৃঃ


৩ নং ওযীফা: ৭বার ।

حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ 

হাসবিআল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আলাইহি তা-য়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশীল আযিম।

হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লহ (সাঃ) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার করে উপরোক্ত দু'আ পাঠ করবে, তার দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত সমস্যা সমাধানের জন্য আল্লাহ পাক জিম্মাদার (যথেষ্ঠ) হয়ে যাবেন।

(আবু দাউদ-৫০৮১, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়ালী-হা:নং-৭১, মিশকাত শরীফ ১ম খন্ড-২১০, আফসীরে রুহুল মাআনী-পারা-১১, পৃঃ ৭৩)

উক্ত আমলের একটি আশ্চার্য ঘটনাঃ হযরত মুহাম্মদ ইবনে কা'ব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার একটি ফৌজি কাফেলা রোমের দিকে যাচ্ছিল। তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে তার উরুর হাড্ডি ভেঙ্গে যায়। সঙ্গীগণ তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার কোন উপায় না পেয়ে বড় বিপদে পড়লেন। শেষে নিরুপায় হয়ে তার জন্য কিছু খাদ্য-পানীর করে ঘোড়াটি তার পাশে বেঁধে রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হলেন। তারা যাওয়ার পর এক গায়েবী লোক এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে তোমার কি হয়েছে? উত্তরে সে বলল আমার উরুর হাড্ডি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমার সাথীরা আমাকে রেখে চলে গেছে। তখন গায়েবী লোকটি বললেন, যে স্থানে ব্যথা অনুভব করছো সেখানে হাত রেখে পড়। 

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

বাংলা অনুবাদ: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করি, আর তিনি মহান আরশের অধিপতি।


আপনি এটি তাসবীহ, দুআ, কিংবা স্মরণ হিসেবে পাঠ করতেপারেন।



তার ক্ষতস্থানে হাত রেখে উক্ত আয়াত খানা পাঠ করার পর সাথে সাথে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন, নিজের ঘোড়ায় আরোহন করে সঙ্গীদের নিকট পৌছে গেলেন। ছুবহানাল্লাহ।

৪ নং ওযীফা: ৩বার।

মানুষ সাধারণত পাঁচটি জিনিসের হেফাজতের কামনা করে থাকে। দ্বীনের হেফাজত, জানের হেফাজত, সন্তানের হেফাজত, পরিবারের হেফাজত, সম্পদের হেফাজত। হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি (তিনবার) করে পাঠ করবে, আল্লাহপাক তার এই পাঁচটি জিনিসের হেফাজত করবেন।

দু'আটি এই

بِسْمِ اللَّهِ عَلَى دِيْنِي وَ نَفْسِي وَ وَلَدِي وَأَهْلِي وَمَالِي

বিসমিল্লাহি আলা দ্বীনি ওয়া নাফসী ওয়া ওয়ালাদী ওয়া আহ্-লী ওয়া-মালী।

(কানযুল-উম্মাল-৩৫০৬,

আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়ালী হা: নং-৫১)


৫ নং ওযীফা: ৭বার।

আজকাল মানুষ খুব দূর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে ,ক্যান্সার রোগ হচ্ছে, ঈমান হারা হচ্ছে, শত্রুর মুখোমুখি হচ্ছে, যারা সকাল সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি (সাতবার) করে পাঠ করবে, আল্লাহ্ পাক তাকে উক্ত ৪টি বিষয় থেকে হেফাযত করবেন। দু'আটি এই-


اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُبِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْء
الْقَضَاءِ وَشَمَائَةِ الْأَعْدَاء -


আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন জাহিদল বালায়ি ওয়া-দারকিশ শাকায়ি ওয়াসূয়িল কাযা-য়ি ওয়া-শামাতাতিল আ'দায়ি। (বুখারী শরীফ-২৪৫১, মুসলিম শরীফ-২৭০৫, মেশকাত ৫ম খন্ড ২২২ পৃঃ)


৬ নং ওযীফা: ৩ বার ।


আজকাল মানুষের প্যারালাইসিস হচ্ছে, কুণ্ঠ রোগ হচ্ছে, পাগল ও অন্ধ হচ্ছে। হাদীস শরীফে আছে, যারা সকাল সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি (তিনবার) করে পাঠ করবে। আল্লাহপাক তাদের এই চারটি মারাত্মক রোগ থেকে হেফাজত করবেন। দু'আটি এই -


سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ وَلَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ


সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়াবিহামদিহী ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ।


(আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়ালী হাঃ নং-১৩৩, তাবারানী হা: নং-৯৪০, মুসনাদে আহমাদ-২০৬০২)


৭ নং ওযীফা: ৩ বার ।

হযরত আবান ইবনে উছমান (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতার যবানে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি তিনবার করে পাঠ করবে, কোন কিছুই তার কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারবে না। দু'আটি এই-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ


বাংলা অর্থ:

আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

এটি প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন, বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা রক্ষাকারী হন। (সূত্র: আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; হা

দীসটি হাসান সহীহ)।



বিসমিল্লাহিল্লাযী লা-ইয়াযুররু মা আছমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামায়ি ওয়াহুয়াছছামীউল আলীম। (আবু দাউদ-৫০৮৮, জামে তিরমিজী-৩৩৮৮, মিশকাত শরীফ-২৩৯১)


৮ নং ওযীফা :৭ বার।

হাশরের ময়দানে হিসাব নিকাশ দিয়ে পার হওয়া বড় মুশকিল। তাই হাদীস শরীফে আছে কোন কোন নামাযের পরে নবীজি নিম্নের দু'আটি পড়তেন (মুসনাদে আহমাদ-২৪২১৫)। যারা নিম্নের দু'আটি পাঠ করবে আশা করা যায়, আল্লাহ তায়ালা ময়দানে তাদেরকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন


اَللَّهُمَّ حَاسِبْنِيْ حِسَابًا يَسِيرًا

আল্লাহুম্মা হা-সিবনী হিসাবাঁই ইয়াসীরা।


৯ নং ওযীফা:৭ বার ।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাকে বলেছেন, হে আবু হুরাইরা


لَا حَولَ وَ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ


বেশী বেশী পাঠ কর, কারণ এটা জান্নাতের রত্ন ভান্ডার। (জামে তিরমিজী-৩৬০১)


ফায়দা : উপরোক্ত ওযীফার মোট চারটিফ জিলত রয়েছে -

(১) এ কালিমাটি আরশের নিচে অবস্থিত জান্নাতের একটি রত্ন ভান্ডার। আর জান্নাতের ছাদ হলো আল্লাহ পাকের আরশ। এ দু'আ পাঠ করলে নেক আমল ও সৎকর্ম করার এবং গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকার তওফীক হয়।

(২) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ - দুনিয়া ও আখেরাত সম্পর্কীয় নিরানব্বইটি ব্যাধির ঔষধ। যার মধ্যে সর্বাধিক হালকা ব্যাধি হলো পেরেশানী। (চাই দুনিয়া সম্পর্কীয় হোক বা আখেরাত সম্পর্কীয় হোক।) মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৫৬৯০১।


(৩) বান্দা যখন এ কালিমা পাঠ করে আল্লাহপাক তার আরশের ফেরেস্তাদের কে সম্বোধন করে বলেন- আমার বান্দাটি আমার অনুগত হয়ে গেছে এবং নাফরমানী ও অবাধ্যতা পরিহার করেছে।


মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৫৬৯১০।


(৪) হাদীস শরীফে আছে শবে মে'রাজে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর মধ্যে সাক্ষাতকালে হযরত ইবরাহীম (আঃ) বলেছেন, হে মুহাম্মদ (সাঃ) আপনি আপনার উম্মতকে বলে দিন তারা যেন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্ দ্বারা জান্নাতের বাগান বৃদ্ধি করতে থাকে।

আমার করাচীর হযরত বলেন যারা গুনাহ্ ছাড়তে পারে না তারা যদি প্রত্যেক নামাযের পর, আগে পরে দরুদ শরীফ পড়ে সাতবার এ কালিমাটি পাঠ করে, আল্লাহ পাক তাকে গুনাহ ছাড়ার তওফীক দান করবেন।


১০ নং ওযীফা:৩ বার ।

হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন নবীজি (সাঃ) ইরশাদ করেছেন অন্ধকার রাত্রিতে কালো পাথরের উপর কালো পিপীলিকার চলা ফেরা যেমন সুক্ষ, তার চেয়েও অধিকতর সুক্ষ ও গোপনভাবে আমার উম্মতের মধ্যে শিরকের গুনাহ প্রবেশ করে। এতদশ্রবনে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) খুবই ভীত ও পেরেশান হয়ে পড়লেন এবং আরজ করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সাঃ) তাহলে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি?


নবীজী (সাঃ) বললেন- আমি কি তোমাকে এমন একটি দু'আ শিক্ষা দিব? যা পাঠ করলে তুমি অল্প শিরক, বেশী শিরক, ছোট শিরক, বড় শিরক এর গুনাহ্ হতে রক্ষা পাবে, তিনি বললেন জী হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সাঃ) অবশ্যই বলে দিন।হুজুর (সাঃ) বললেন তুমি এই দু'আ পাঠ কর-


اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ أَنْ أَشْرِكَ بِكَ شَيْئًا وَأَنَا أَعْلَمُ وَاسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ -


আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা আন উশরিকা বিকা শাইআঁন ওয়া আনা আ'লামু, ওয়া-আছতাগফিরুকা লিমা-লা-আ'লাম। (৩ বার) 

(মুসনাদে আহমাদ-১৯৬০৬, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-২৯৫৪৭, মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৪৬৭০। মিরকাত - ১০ম খন্ড ৭০ নং পৃঃ)



১১ নং অযিফা:৩ বার ।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সাঃ) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি নিম্ন দু'আটি একবার পাঠ করবে, তার ছওয়াব সত্তর জন ফেরেস্তাকে এক হাজার দিন পর্যন্ত ক্লান্ত শ্রান্ত করে দিবে, অর্থাৎ এক হাজার দিন পর্যন্ত লাগাতার তার ছওয়াব লিখতে লিখতে তারা ক্লান্ত হয়ে যায়। দু'আটি এই -

جَزَى ٱللّٰهُ عَنَّا مُحَمَّدًا مَا هُوَ أَهْلُهُ

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা হুওয়া আহলুহু। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১৭৩০৫, হিলয়াতুল আউলিয়া-২০৬৩ ।

১২নং অযিফা:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একদা গভীর অন্ধকার রাত্রিতে বৃষ্টিপাতের মধ্যে আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর খোঁজে বের হলাম, খুঁজতে খুঁজতে এক জায়গায় তিনাকে পেলাম, তখন তিনি বললেন (আব্দুল্লাহ) তুমি পড়। আমি বললাম কি পড়বো? নবীজী (সাঃ) বললেন প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযুবি রাব্বিল ফালাক, কুল আউযুবি রাব্বিননাস, প্রতিটি সূরা তিনবার করে পাঠ করবে, তাহলে তোমার জন্য সর্ব বিষয়ে যথেষ্ট হয়ে যাবে।


(মিশকাত শরীফ - ১ম খন্ড, ১৮৮ পৃঃ)এ কথাটির ২টি অর্থ হতে পারে

(১) যাদু টোনা, বান, মন্ত্র, ভুত-প্রেত, দেও, দস্যু যত কিছু আছে, সব রকমের ক্ষতি থেকে আল্লাহ পাক হেফাজত করবেন। এটা বড় পরীক্ষিত আমল। অনেক বাড়ীতে জ্বিন-পরীর উপদ্রোপ ছিল, এ তিন কুলের আমলের দ্বারা আল্লাহপাক রেহায় দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি মজার কথা হলো করাচীতে আমার হুজুরের নিকট বানে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি আসলে, হুজুর তাকে তিন কুলের আমল দেন। আমল করার ফলে বান উল্টে গিয়ে যে ব্যক্তি বান মেরেছিল তাকে এ্যাটাক করলো। তখন সে তার উস্তাদের নিকট ঘটনা জানালে তিনি বললেন, তুমি যার উপর বান মেরেছো সে এমন একটা দামি আমল করতেছে, যার কারণে তোমার বান তার উপর ক্রিয়া করতে না পেরে তোমাকেই আক্রান্ত করেছে। (২) মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন, অন্য কোন ওযীফা যদি আদায় নাও করতে পারে, এই তিন কুলের ওযীফাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। মেরকাত ৪র্থ খন্ড - ৩৭০ নং পৃঃ ।


১৩ নং ওযীফা:

যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যায় নিম্নের দু'আটি তিনবার করে পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের সওয়াল-জওয়াব সহজ করে দিবেন, অর্থাৎ সে সওয়াল জওয়াবে আটকিবে না। দু'আটি এই-


رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا ورَسُولاً -


রাযীতু বিল্লাহি রব্বাঁও ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনাঁও ওয়াবি মুহাম্মাদিন (ছাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম) নাবিয়্যাওঁ ওয়া রসূলা। (আবু দাউদ-১৫২৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা-২৬৫৪১)


১৪ নং ওযীফা:


সূরা ইউনুসের ৮১, ৮২ নং আয়াত সকাল সন্ধ্যা তিনবার করে পাঠ করলে আল্লাহপাক ছেহের ও যাদু থেকে হেফাযত করবেন। আয়াত-


فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰى مَا جِئْتُمْ بِهِۙ السِّحْرُ‌ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَيُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِيْنَ وَيُحِقُّ اللّٰهُ الْحَـقَّ بِكَلِمٰتِهٖ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ


ফালাম্মা আলকও' ক্বলা মূছা মা-জিই্তুম বিহিচ্ছিহ্-রা ইন্নাল্লাহা ছাইউবতিলুহূ ইন্নাল্লাহা লা ইউছলিহূ আমালাল মুফছিদিনা ওয়া ইউহিক্কুল্লাহূল হাক্কা বিকালিমিতিহি ওলাউ কারিহাল মুজরিমুন ।


মূল :

শায়খুল আরব ওয়াল আজম, রূমীয়ে যামানা, কুত্বে আলম, আরেফ বিল্লাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ হাকীম মুহাম্মদ আখতার সাহেব (রহঃ)

তরজমা :

আলহাজ্ব হযরত মাওঃ শাহ্ মুহাঃ শামছুল আলম সাহেব (দা. বা.)
(পীর সাহেব মোলামগাড়ী)
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শাইখুল হাদীস: জামি'আ ইসলামিয়া এমদাদুল উলুম (মোলামগাড়ী মাদ্রাসা), আখতার নগর, শিবগঞ্জ, বগুড়া। 

খলিফা :আরেফবিল্লাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ হাকিম মোহাম্মদ আখতার সাহেব (রহঃ)